একটি সবুজ ডায়রি। কয়েকটি রহস্যময় খুন! শুভ্র। এক দুর্ভাগা তরুন। জড়িয়ে পড়ল খুনগুলোর সাথে। প্রাচীন বাংলার হারিয়ে যাওয়া এক মূল্যবান প্রত্নসম্পদ! এবং এক ইংরেজ ঠগী! মাঝবয়সী এক প্রফেসর এবং বিদেশী এক যুবক। জড়িয়ে গেল ঘটনাপ্রবাহে! কে খুনী? এতগুলো খুনের মূল উদ্দেশ্যই বা কী?
দেরিতে হলেও পড়ে ফেললাম কাফকা ক্লাব । স্বল্প পরিসরে আগ্রহদ্দিপক প্রচুর তথ্য রয়েছে এই বইয়ে। লেখক ভালো পরিশ্রম করেছেন, সন্দেহ নেই। কিন্তু গ্যাডফ্লাই(যেহেতু সেটা আমার পড়া লেখকের প্রথম বই) তে যা দেখেছিলাম, এখানেও তা-ই দেখলাম; তথ্য সন্নিবেশনে যতটুকু জোর দেয়া হয়েছে, বইয়ের চরিত্রগুলোর প্রতি ততটুকু দেয়া হয়নি। লেখার ধরন আমার কাছে ভালো লেগেছে। আর এই জন্যই ভবিষ্যতে হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার/ফিকশন লিখলে যথাযথ চরিত্র স্ফুরনের কথাটা লেখক বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন আশা রাখি।
প্রচ্ছদ, বাঁধাই, পৃষ্ঠা সবকিছুর মান অনেক উন্নত। প্রচ্ছদের জন্যই বইটার জন্য আলাদা ভাবে আকর্ষণ বোধ হবে। আর হাতে নিয়ে দেখলে সাথে সাথে কিনে নিয়ে পড়তে বসে যেতে মন চাইবে।
আসলে আমি বোধহয় খুব সহজেই ইম্পপ্রেসড হয়ে যাই। যেমন এই বইটা , ১৬০ পেজ এর একটা বই, পড়তে বেশীক্ষন লাগল না। কিন্তু শেষ করার পর!! বই এর ভেতরে এত এত তথ্য!!! সাথে একের পর এক খুনের বর্ণনা । গুগলিং করতে করতে হয়রান হয়ে গেলাম। লেখক বোধহয় অনেক গবেষণা করেছেন লেখার আগে। এটা স্বীকার করতেই হবে।
বাংলা ভাষায় মোলিক থ্রিলার এখন আর নতুন কিছু নয়, আমরা অনেকেই মাশুদুল হক ভাইয়ার 'ভেন্ট্রিলোকুইস্ট' কিংবা শরীফুল হাসান ভাইয়ার 'সাম্ভালা ট্রিলোজি' এনজয় করেছি। যাদের কাছে এগুলো ভালো লেগেছে তাদের কাছে 'কাফকা ক্লাব ' ভালো লাগবে বলেই আমার মনে হয়।
বই এর কাহিনী বিন্যাস একটু জটিল, একই সাথে বর্তমান সময়ে আর অতীতের বর্ণনা । কিন্তু তা পড়তে একটুও অসুবিধা হবেনা লেখকের লেখনীর কারণে।
গল্পের কাহিনী শুরু হয় খুনের মাধ্যমে একটা না দুটা না পাচটা খুনের বর্ণনা একের পর এক। অবশ্যই খুনগুলো একই সুতোয় গাথা। এর পর গল্পের বক্তা শুভর লেখার মধ্যে কাহিনী সামনে আগাতে থাকে। আছে একটা ডাইরীর কথা যেটা একজন ইংরেজ ঠগীর। এই ঠগীরা হচ্ছে আমাদের এই উপমহাদেশ এর একদল খুনে । এরা মা ভবানীর নামে বিনা কারণে মানুষ খুন করে বেড়ায়, কিন্তু এমন ভাবে খুন করে যাতে কোন প্রকার চিহ্ন মাত্র থাকে না। ঠগীদের সম্পর্কে যে লেখক বিস্তর গবেষনা করেছেন তা বোঝাই যায়। তবে ঠগীদের এই কাহিনী গল্পের সাব প্লট কারণ আসল ঘটনা এই বর্তমান সময়ে । আবার কি ঠগীদের আগমন ঘটেছে নাকি এই খুনগুলোর উদ্দ্যেশ্য অন্য কিছু তা জানতে হলে পড়তে হবে কাফকা ক্লাব।
তবে একটা ব্যাপার, যে কারণে বই এর নামকরণ তার বর্ণনা একটু কম ই হয়ে গেছে বলে আমার মনে হয়। আরেকটু বেশী হল আরো জমত। আর বরাবরের মতই অন্য থ্রিলারগুলোর মত এটা তেও কাকতলীয় ঘটনা বেশী , তবে তা মেনে নেয়া যায়। :)
এবার আসা যাক প্রচ্ছদের কথায়, সাম্ভালা শেষ যাত্রার পর এটা আমার দেখা কোন বাংলা বই এর সেরা প্রচ্ছদ। দেখলেই হাতে নিতে ইচ্ছে করে। একটা আদর্শ থ্রিলার হতে যা লাগে - খুন, সাসপেন্স, পারফেক্ট মোটিভ আর এর সাথে যারা থ্রিলার এর মধ্যেও বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান তার সবকিছুই আছে বই টা তে। সময় থাকলে পড়ে ফেলতে পারেন -বেশীক্ষন লাগবে না কারণ একবার শুরু করলে ছাড়তে পারবেন বলে মনে হয় না ।
আর একটা ব্যাপার- বলতে একটু কেমন জানি লাগছে তাও বলি। আমার ধারণা বই টার দাম একটু বেশীই হয়ে গেছে।কারণ নতুন একজন লেখক এর লেখা এত দাম দিয়ে কিনতে অনেকেই আগ্রহী হবেন না। এই বিষয়টা আদী প্রকাশনীর একটু চিন্তা করা উচিত। লেখককে অনেক ধন্যবাদ। আশা করি সামনে আরো ভালো থ্রিলার পাব। :)
আদী প্রকাশনী থেকে বের হওয়া, মুরাদুল ইসলামের কাফকা ক্লাব পড়লাম। মৌলিক থ্রিলার। পাতা ১৫৯, পাতার সংখ্যা উল্লেখ করার কারণ আছে। আপাতত শুধু মনে রাখেন। লেখকের নাম আগে শুনিনি, তবে পরিচিতিতে দেখলাম - কলকাতা থেকে একটি বই বেরিয়েছে। এই ডিসেম্বরেই উনার মৌলিক থ্রিলার, মানে কাফকা ক্লাব বাজারে আসে। দেশী লেখকের মৌলিক থ্রিলার সবসময়ই আগ্রহ জাগায়। তাই পড়ার সুযোগ পেয়ে ছাড়লাম না। ঘটনাটা রহস্যময় কিছু হত্যাকান্ড আর এর পেছনের কারণকে নিয়ে আবর্তিত। রহস্যময় এক (জ্বি, এই বই এর প্রায় সব কিছুই রহস্যময়) সেতারা/দোতারা/ভায়োলিনের সংমিশ্রণে বানানো এক বাদ্যযন্ত্র হাত করার জন্য উঠেপড়ে লাগে একদল খুনী। পথের কাটা সরাতে এদের কোন দ্বিধা নেই। আর কাজও করে প্রাচীণ রহস্যময় খুনে দল ঠগীদের মত। ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পরে এক বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার(এখানে তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীর কোন কারিশমা নেই), এক ইংরেজ যুবক (এ আবার বাংলায় খুবই দক্ষ) আর এক প্রফেসর (আজকাল এধরণের কাহিনীতে প্রফেসরদের জয়জয়াকার - প্রফেসর রবার্ট ল্যাংডন :))। বেরিয়ে আসে ভয়াল এক ষড়যন্ত্র। সিরিয়াসলি বলতে গেলে প্লটটা খুবই ইন্টারেস্টিং ছিল। বেশ মজাই পেয়েছি শুরুর দিকে। বিশেষকরে প্রাচীণ ভারতের বিভিন্ন ঠগীদের কর্মপন্থা বেশ অদ্ভুত লেগেছে। লেখক যথেষ্ট রিসার্চ করেই লিখেছেন, কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যা হল বই এর অর্ধেকের বেশী কাহিনীর উপস্থাপনাতেই শেষ। এর জট খোলা, এর ব্যাখ্যা দিতে লেখক খুব তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন। তাই শেষের দিকে মনে হয়েছে - লেখক কোনরকমে কত কমে সব দিক রক্ষা করা যায়, সেদিকেই নজর দিয়েছেন বেশী। ফিনিশিং একটু বেশীই মেলোড্রামাটিক। ডাবল ক্রস, এর উপর ত্রিপল ক্রস, এর উপর কোয়াড্রুপল ক্রসে সময়(নাকি জায়গা বলব?) লেগেছে ১০ পাতারও কম। আর লাষ্ট তিন পাতা ত মনে হয়েছে, নামকরণের সার্থকতা টাইপের কোন প্রশ্ন যদি ভবিষ্যতে আসে, সেই জন্য লেখা। লেখার ধরণ ভালো, বেশ ভালো। প্লটটাও ভালো ছিল, কিন্তু উপস্থাপনা ভালো হয় নি। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে বেশ লম্বা পরিসর নিয়ে লেখক লেখা উপহার দিবেন (পাতার সংখ্যা উল্লেখের কারণ বুজছেন এবার?)। ও শেষ কথা কাগজ বা বাঁধাইয়ের মান অনেক উন্নত। কিন্তু তাই বলে ১৬০ পাতার বই ২৫০ টাকায় বিক্রি করলে অনেক কম লোকই নতুন একজন অপরীক্ষিত লেখকের বই এর প্রতি আকৃষ্ট হবে। আমার রেটিং - ৩/৫
লেখক আমার বন্ধু মানুষ। আমরা একই ক্লাসে একই কলেজে পড়াশোনা করেছি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অসাধারণ রেজাল্ট নিয়ে ব্যাচেলর করে ভদ্রলোক ঘোষণা দিলেন, এই সকল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কাউকে কিছু শেখাতে পারে না। তিনি নিজে নিজেই অনেক পড়াশোনা শুরু করলেন। এবং অনেকগুলো বই লিখে ফেললেন। মুরাদের কিছু বই আমার যথেষ্ট পছন্দ। যেমন, রাধারমন ও কিছু বিভ্রান্তি। আমাদের দেশে যখন ম্যাজিক রিয়েলিজম নিয়ে লেখালেখি হবে, তখন 'রাধারমন ও কিছু বিভ্রান্তি'-কে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হবে। তবে কাফকা ক্লাব পড়ে জনসম্মুখে তাকে আমি বলেছিলাম- আপনি বাল লিখেছেন।
পুরো বইটা পড়ে আমার যে বিষয়টা খুব অপছন্দ সেই বিষয়টার উপস্থিতি বার বার লক্ষ্য করেছি- লেখক তার অতি উচ্চ জ্ঞানের লেভেল পাঠককে বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে দরকারী-অদরকারী-বেদরকারী তথ্য যেখানে-সেখানে আমদানি করেছেন। পাঠককে তথ্য সাগরে ডুবিয়ে দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি, চুবিয়ে দেয়ারও চেষ্টা করেছেন। এবং তাতে তিনি সফল। ���পনি থ্রিলার লিখছেন স্যার। পাঠ্য-পুস্তক না। জোর করে কিছু খাওয়ানো ঠিক না। বমি আসে।
মূল প্লট খারাপ না। তথ্য সাগরে ডুবিয়ে না দিলে মোটাম���টি ভালোই হতো। কিছু জিনিস চোখে লেগেছে। আপনি নিশ্চয় আশা করেননা ইংল্যান্ডের রাজকণ্যার নাম হবে সখিনা বিবি। লেখক দেখালেন হঠাত দেশি কাপালিকদের আমেরিকান কাল্টদের সাথে যোগাযোগ। ঐ যে বললাম রাজকণ্যার নাম সখিনা।
তবে মুরাদ অসাধারণ মানুষ। তার জ্ঞানের গভীরতাও অনেক বেশি। সে আরো অনেক সুন্দর সুন্দর বই লিখবে- আমার মতো যারা তাকে চিনে, তারা সবাই এটা বিশ্বাস করে না, জানে।
লেখকের মূল নজর ছিল মনে হয় পাঠককে তথ্যের সাগরে ভাসানো। কাহিনী নির্মাণ, ক্যারেক্টারগুলোর পারসোনালিটি আরোপ নিয়ে আরো কাজ করা দরকার ছিল। যদিও এটা মৌলিক লেখা তবে বইয়ের ভাষা পড়ে মনে হয়েছে ইংরেজি থেকে আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়েছে।
প্রচুর তথ্য। গল্পটাই তাতে চাপা পড়ে গেছে। ভদ্রলোক প্রবন্ধ না লিখে খুনখারাপি নিয়ে লিখতে গেলেন কেন? ঠগীদের নানা প্রকার, কাফকা, অ্যালকেমি, বাদ্যযন্ত্রের ইতিহাস - এগুলো নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারবেন এই বইয়ে। গল্প? সে-ব্যাপারে কিছু না বলাই ভালো।
বেশ কয়েকটি রহস্যজনক খুন। একটি সবুজ ডায়েরী। এক ইংরেজ ঠগী। এক বিদেশীর আগমন যার আগ্রহ খুন গুলো নিয়ে। এক প্রফেসর যিনি নিজ দায়িত্বে খুন গুলোর তদন্ত করছেন। সর্বোপরি হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন বাংলার এক মূল্যবান প্রত্নসম্পদ।
বইটার কভারে লেখাগুলো দেখে পড়ার আগ্রহ হয়েছিল। লেখকের লেখা আগে কখনো পড়ি নি। তাই একটু দ্বিধায় ছিলাম কিনবো কিনা। কিন্তু এখন আমি জানি বইটা কিনে আমি কোন ভুল করি নি। না পড়লে আপনিও ভুল করবেন। বইটা পড়েই বোঝা যায় এই বইটা লিখতে গিয়ে লেখককে অনেক মাথা ঘামাতে হয়েছে। বহুল তথ্যসমৃদ্ধ ইতিহাস আশ্রিত থ্রিলার। আর মজার ব্যাপার হলো বইটা পরে মনে হবে না এটা একজন নতুন লেখকের বই। অসাধারণ কাহিনীকে লেখক খুব সুন্দর ভাষায় সাবলীল ভাবে বর্ণনা করেছেন। মেদহীন লেখা। কোথাও কোন বাড়তি কিছু নেই। কাহিনী থমকে দাড়ায় নি একবারও। একবারও মনে একটু পরে পড়বো, এখন ভাল লাগছে। উত্তেজনা নিয়েই টানা পড়ে গেছি। যে থ্রিল দিয়ে লেখক কাহিনি শুরু করেছেন, বইয়ের শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পেরেছেন- আমার মতে এটাই লেখকের মূল সার্থকতা। তিন গোয়েন্দাকে খুব মিস করি। সেই থ্রিলটাই যেন অনেক দিন পর ফিরে পেলাম বৃহৎ পরিসরে। লেখককে অনেক ধন্যবাদ এরকম অসাধারণ উপন্যাস দেওয়ার জন্য। এরকম আরো বই আশা করছি।
স্বপ্নে পাওয়া(!) বাদ্যযন্ত্রকে ঘিরেই কাহিনী। যা কিনা হাতে নিলে জগত সংসার ভুলে যেতে হয়। যার মুর্ছনায় সবাই হয় মুগ্ধ। এবং একই সাথে তা একটা রিলেক বা পুরাকীর্তি। যাকে নিয়ে কিনা শুরু হয় ষড়যন্ত্র
হঠাত করেই দেশে শুর হয় সিরিয়াল কিলিং। কিলিং এর ধরনও অনন্য। টিপিক্যাল খুনের সাথে কোন মিল নেই। গলাই ফাস দিয়ে খুন। শরীরের অন্য কোথাও কোন আঘাত বা ক্ষত নেই। এই অভিনব প্রথা অনেকটা প্রাচীন বাংলার (ইংরেজ শাসন আমলের) ঠগী দের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর এই ঠগীদের নিয়ে গবেষনা করতেই দেশে উপস্থিত এক ইংরেজ। ঘটনা আসলে কি ঘটতে চলছে?
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ গল্পটা আরো অনেক বেশী সিম্পল করা যেত(হয়ত)। কিন্তু এত বেশী তথ্যের অবতারনা করা হয়েছে যে তথ্যের জোয়ারে পাঠাককে ভাসিয়ে মজা নিয়েছেন লেখক বলে মনে হয় :P
লেখকের লেখা আগে কখনো পড়া হয়নি। সেক্ষেত্রে বলা যায় প্রথম লেখাতেই মন ভরে গেছে। তা সত্ত্বেও একটা ব্যাপার নিয়ে কথা উঠতে পারে, সেটা হলো লেখক প্রচুর তথ্য দিয়েছেন বইতে যেটা থ্রিলারের ক্ষেত্রে কিছুটা বিরক্তির সৃষ্টি করতে পারে। আমি তথ্যপিপাসু মানুষ তাই আমার বিরক্ত লাগেনি। আর তাছাড়া প্লট, লেখকের বর্ণনা ভঙ্গি এবং ডায়েরী লেখার ভঙ্গি সব কিছু মিলিয়ে বইটা আমার বেশ ভালোই লেগেছে বলবো।
প্রথমে মনে হচ্ছিল কোনো রচনা পড়ছি। বাক্যগঠনটা একটু ম্যাড়ম্যাড়ে লাগছিল৷ ঠগী নিয়ে এর আগে 'ঠগীর জবানবন্দি' বইটা পড়েছিলাম দেখে এইটা অতটা ভালো লাগে না। টুইস্টও ঠিকমতো পেলাম না। তবে বইটা ছোট, কেউ রিডার্স ব্লকে থাকলে পড়ে দেখতে পারেন৷ আর হ্যাঁ, 'ঠগীর জবানবন্দি' কিংবা 'থাগস অব হিন্দুস্তান' না পড়ে থাকলে এইটা পড়ে দেখুন, ঠগী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবেন।
২০১৫ তে যতগুলো বই পড়েছি তার মধ্যে সেরা। প্রথম এবং শেষে কিছু বর্ণনামূলক রচনা হয়ে গেছে, তবুও পড়ে ভাল লেগেছে। অনেক কিছু নতুন করে জানলাম। ইনফরমেটিভ একটা বই। এই বই লেখার জন্য যে লেখক রীতিমত গবেষণা করেছেন তা সহজেই বোঝা যায়। লেখকের আরেকটা বই গাডফ্লাই পড়ার তাগিদ অনুভব করছি।
আধুনিক প্রযুক্তি দুনিয়ার ডার্ক ওয়েব থেকে প্রাচীনকালের ঠগীদের বর্ণনা! যাকে ভাল ধরে নিলাম সে খারাপ তারপর বই যখন প্রায় শেষ তখন দেখি এখনও শেষ হয়নি!বই এর ভেতরে অসংখ্য তথ্যে ভরা! এক কথায় অসাধারণ!
বই - কাফকা ক্লাব। লেখক - মুরাদুল ইসলাম। প্রকাশনী - আদী প্রকাশন।
ম���ু মিয়া পৈত্রিক সূত্রে একটি বাদ্যযন্ত্র পান। কথিত এই অদ্ভূত বাদ্যযন্ত্রের সুর শুনতে পরীরা চলে আসতো। কিন্তু এই বাদ্যযন্ত্রই মনু মিয়ার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। লোকের প্ররোচনায় পড়ে এই যন্ত্র বিক্রি করতে শহরে চলে আসে সে। কিন্তু এই যন্ত্রের বাজারমূল্য বুঝতে পেরে বিভিন্ন জনের কাছে হাতবদল হয় যন্ত্রটি।পুরনো এক পদ্ধতিতে খু*ন হয় তাদের প্রত্যেকে এবং প্রতিটি লাশের পাশে "দি ট্রায়াল" ল��খাটি পাওয়া যায়। শহরে বসবাসকারী শুভ্র এই খুনগুলো সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে উঠে।তার সাথে পরিচয় হয় প্রফেসর প্রশান্ত কুমার নামের এক রহস্যময় ব্যক্তির ,যিনি খু*নের কিনারা করতে উঠেপড়ে লাগেন। এছাড়া শুভ্রের বিদেশি বন্ধু জর্জ মিলার হঠাৎ হাজির হয়,যার এই রহস্যময় খুনীদের ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া তার কাছে রয়েছে একটি পুরনো ডায়েরী , যেখানে তার পূর্বপুরুষ জর্জ ক্রেয়াগের দুর্ধর্ষ তুসুমবাজ হয়ে উঠার গল্প লেখা আছে। জর্জ মিলার ও প্রফেসর প্রশান্তের সাথে সাথে শুভ্রও জড়িয়ে পড়ে খুনগুলোর তদন্তে।যখন মিলার ও প্রশান্ত একে অপরকে খু*নী বলে দাবী করছে তখনই আবির্ভূত হয় কাফকা ক্লাবের।কী সম্পর্ক এই খু*নগুলোর সাথে কাফকা ক্লাবের ?
বইতে ঠগীদের সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ একটি বর্ণনা আছে। অনেক প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বইটি ভারী করা হয়েছে।ফলে অপ্রয়োজনীয় তথ্য গুলো বারবার গল্পের মনযোগ নষ্ট করেছে। এছাড়া অহেতুক তথ্য না দিয়ে সমাপ্তি অংশ লেখক আরো কিছুটা বড় করতে পারতেন।
শহরে রহস্যজনকভাবে একের পর খুন হচ্ছে, খুনের জন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে না,শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হচ্ছে, খুন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও কোনো সম্পর্ক নেই,অর্থ লুটপাটের ঘটনাও নয় তাহলে খুন কেন হচ্ছে?
খুনের তদন্তে ঘটনাক্রমে জড়িয়ে পড়ে ইন্জিনিয়ারিং পড়া এক তরুণ। সে ঘটনাগুলো লিখে রাখতে শুরু আর ডায়েরি আকারেই পুরো বইটা লেখা হয়েছে। ছেলেটির সাথে পরিচয় হয় এক বিদেশীর যারও একটা পুরোনো ডায়েরি রয়েছে। সেই ডায়েরি থেকে জানা যায় "ঠগী" নামের এক গোষ্ঠীর কাহিনী যারা বিশেষ পদ্ধতিতে খুন করে থাকে।তাহলে কি এখনো ঠগীদের অস্তিত্ব আছে?নাহলে এই খুনগুলো কে করছো?
নতুন লেখক তাই খুব একটা এক্সেেক্টটেশন নিয়ে পড়তে বসেছিলাম না। তবে পড়ার পর বলতে হচ্ছে মোটামুটি ভালোই লিখেছেন যদিও আরও ইমপ্রুভ করা যেতো। কেমন যেন ছন্নছাড়াভাবে প্রফেসর,শুভ্র আর মিলারকে পরস্পরের দেখা করিয়েছেন । ছোট বই পড়তে থাকলে বোর হবেন না তাছাড়া মাঝে মাঝে কিছু ইন্টারেস্টিং তথ্যের অবতারণা করেছেন যেটা অনেকের ভালো লাগবে আবার এটার জন্য অনেকে বিরক্ত হবেন।
প্লটটা খুবই ভালো ছিল। ইতিহাস আর বর্তমানের মেলবন্ধনও খুব ভালো ছিল। ঠগীদের ইতিহাস এসেছে, এসেছে বাদ্যযন্ত্রের গল্প।
একের পর এক খুন এবং সে খুনের সাথে দৈবিকভাবে জড়িয়ে পড়ে এক সদ্য পাস করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। সাথে এসে যোগ হয় তার বিদেশী বন্ধু মিলার এবং প্রফেসর।
শেষটা খুবই চমকপ্রদ হলেও এতো দ্রুত টেনে নিয়েছেন যে ঠিক উপভোগ করতে পারিনি। অনায়াসে আরও বিশ ত্রিশ পৃষ্ঠা লেখা যেত। জমানো যেত আরও। কাফকা কে উনি ব্যাখ্যা করতে পারতেন আরও।
তারপরও চমকপ্রদ লেগেছে। লেখকের ইউনিক প্লট চিন্তা আকর্ষনীয়। উনি যে উপাদান নিয়ে কাজ করেছেন- বিশেষত কাফকা, এটা আমার কাছে একদমই নতুন। শেষের তাড়াহুড়ো না থাকলে আরও জমে উঠতো।
বইটি নিয়ে কয়েকটি নেগেটিভ রিভিউ পেয়েছি। যেখানে অধিকাংশের লেখাতেই এটা ছিল যে, এ বইটিতে নাকি প্রচুর পরিমাণে তথ্য দেওয়া হয়েছে। লেখক নাকি পাঠকদের তথ্যের সাগরে ভাসাতে চেয়েছেন! তাদের কাছে তথ্যের সাগরে ভাসতে ভালো লাগে নি। তথ্যের সাগরে ভাসা যারযার টেস্টের উপর নির্ভর করে। আর মূলত এ লাইনগুলো পড়েই বইটি হাতে তুলে নেওয়া। কারণ তথ্যে ভরপুর বই আমি বেশ আগ্রহ নিয়ই পড়ি।
- বইয়ের প্লট খব আকর্ষণীয় লেগেছে আমার কাছে। তথ্যে যেমন ভরপুর ছিল আবার সাথে রহস্য-রোমাঞ্চেরও অভাব চোখে পড়ে নি। মোটামোটি গুছিয়েই লিখেছেন লেখক। লেখার স্টাইলটা আরও সুন্দর করার সুযোগ ছিল।
বইয়ের ঘটনা যতটা সুবিস্তীর্ণ, তার তুলনায় বইয়ের কলেবর ছোটো। তার ফলে ঘটনার ঘনঘটা এতটাই অকস্মাৎ যে পড়ার গতিতে থমকে যেতে হয় ক্রমাগত। সত্যি বলতে বইটা কমসে কম তিন-চারশ পাতার একটা দারুণ বই হতে পারতো।
আমি রাস্তায় বসে বইটা পড়েছিলাম , পুরো রাস্তায় বিরক্তবোধ করি নি। বোঝাতে চাচ্ছি যে বইটা সুখপাঠ্য। আর লেখকের লেখার হাত ভালোই , অন্তত পাঠককে আটকে রাখতে পারে। বইয়ে বেশকিছু কবিতা বা অনু-কবিতা ব্যবহার করা হয়েছে , সেগুলো খুবই চমৎকার এবং অর্থবহ। বইটা ভালো লাগার এটাও অন্যতম একটা কারণ। কাহিনি তেমন আহামরি কিছু মনে হয় নি। স্পয়লার দিচ্ছি না , তবে পাঠক বিচক্ষণ হলে আগেই বুঝে ফেলবেন অনেক গল্প। সবশেষে ক্লাইমেক্সে একটি টুইস্ট দিয়ে বইটা ওপেন এন্ডেড রেখে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টা ভালো লেগেছে।
বইটি সম্পর্কে এতদিন অনেক ভাল ভাল কথা শুনেছি। কিন্তু সত্যি বলতে কি, পড়তে গিয়ে আমার অতটা আহামরি কিছু মনে হয়নি। শুরুটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল, মাঝামাঝিটা বিরক্তিকর, আর শেষের অংশটায় বড় তাড়াহুড়া ছিল। প্রথম দিকের অংশটা পড়ে যে ভাল লাগার সৃষ্টি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত এসে তা থাকেনি।
বইয়ের অর্ধেকেরও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে একটা ডাইরীর বর্ণনা। ইতিহাসটা ইন্টারেস্টিং বটে, কিন্তু থ্রিলার বইতে বেশিক্ষণ ইতিহাসের কচকচানি কারোই ভাল লাগবে না। শেষের টুইস্টগুলো ভাল ছিল, কিন্তু বড় তাড়াহুড়োয় শেষ হয়ে গেছে। পড়ে মনে হয়েছে পরীক্ষার হলে শেষ পাঁচ মিনিড়ে তাড়াহুড়ো করে লেখা কোন উত্তরের মত, মূল কথাটা বোঝা গেলেই হল, বিস্তারিতের কোন প্রয়োজন নেই!
সব মিলিয়ে বইটা খুব একটা খারাপ ছিল না, আবার প্রত্যাশানুযায়ী ভালও হয়নি, মোটামুটি আরকি! তবে বইয়ের দাম নিয়ে একটা 'কিন্তু' কিন্তু থেকেই যায়।
প্রথমে দেখন দুয়ারী তারপর গুন বিচারি। ওকে মন ভাল করে দেবার মত এক প্রচ্ছদ। গল্পটাও অন্য ধরনে। প্রিয় লেখক কাফকার নাম দেখেই বইটা কেনা। ৩টা জিনিস কিছুটা বিরক্তি লেগেছে ১ পুরাতন ডায়েরী নামের অংশটা সাধু ভাষায় তাই কেমন কেমন জানি লেগ���ছে। অবশ্য সময়কাল হিসাবে সাধু ভাষাটাই গ্রহনযোগ্য। ২ কাফকার অংশ খুবই কম। যার নামে বইটার তাকে অন্তত আরেকটু জায়গা জুড়ে রাখা উচিত ছিল।
৩ঠগী -ঠগীরা মা ভবানীর নামে কোন চিহ্ন ছাড়াই মানুষ খুন করে রাখত, লেখক ঠগীদের নিয়ে ভালই পড়াশুনা করে লিখেছেন তবে এই অংশে মনে হয় ঠগীদের নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত বললে ভাল হত।
পাতার দিক থেকে হিসেব করতে গেলে বইটা খুবই ছোট। কিন্তু এতো এতো ইনফরমেশন বইয়ের মধ্যে দেয়া আছে, যা না পড়লে বিশ্বাস করা যাবে না। অন্যরকম একটা থ্রিলার। যেটা দুম করে শুরু হয়ে, দুম করে শেষ হয়ে গেল। কাফকা নিয়ে যা লেখা আছে, তা যদি সত্যি হয় তাহলে আমিও কাফকা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা পেশন করছি। অসাধারণ বই।
ইতিহাস কিংবা ইনফো. এর বিভিন্ন জায়গায় আমার মনোযোগ এ ফাটল ধরেছিল। এছাটা এটার থ্রিল আর সাসপেন্স অনেক ভালোই ছিল। দ্রুত গতির বই অবশ্যই। :) হ্যাপি রিডিং। এটা মাত্রই পড়ে শেষ করেছি আমি।
লেখক বইটা লিখতে গিয়ে পরিশ্রম করেছেন। বইতে অনেক অজানা বিষয় উঠে এসেছে। সবই ঠিক আছে। কিন্তু সমস্যা হল বইটা মনে ধরেনি। বোরিং লেগেছে অর্ধেকের বেশি সময়। ঠিক ভেতরে ঢুকতে পারিনি।