Jump to ratings and reviews

অথ সংকর্ষণ কথা

মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাধিক প্রভাবশালী ক্রান্তিকালের মধ্যে একটি হল, মানুষের পশুপালক তথা খাদ্যসংগ্রাহক থেকে কৃষিজীবী তথা খাদ্যউৎপাদক হয়ে ওঠা। আমাদের পুরাণ ও মহাকাব্যের পাতায় এমন একজন মানুষের উল্লেখ আছে, যিনি এই ক্রান্তিলগ্নের প্রতীকপুরুষ হিসাবে পরিকল্পিত হয়েছিলেন। ইতিহাস বলে, একদা তিনি বিষ্ণুর অবতার হিসেবে পূজিত হয়েছেন; ভারতীয়দের কৃতজ্ঞতা জানানোর যা সরলতম ভাষা। তারপর এক সময় বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যান তিনি। তিনি বলরাম। বাসুদেব বলরাম; একদিন যিনি অতুল কীর্তির বলে হল ধর ও সংকর্ষণ রূপে পূজিত হয়েছেন। কে তিনি? কী তাঁর কীর্তি,যা একদিন বদলে দিয়েছিল মানব সভ্যতার ধারাকে? কেন এল বিস্মরণ?

এই উপন্যাস সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছ আজকের প্রশ্নাতুর মন নিয়ে।

400 pages, Hardcover

Published September 5, 2025

Loading...
Loading...

About the author

Raja Bhattacharjee

33 books12 followers

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (100%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 1 of 1 review
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 45 books1,949 followers
August 18, 2026
আমাদের মানসপটে বলরাম এমন এক চরিত্র যিনি সর্বার্থে অদ্বিতীয় হয়েও নানা কারণে দ্বিতীয় স্থানেই থেকে গেছেন। তাঁর অসামান্য ভাইটির সঙ্গে কস্মিনকালেও প্রতিযোগিতা না করলেও, কেন যেন আমরা তাঁকে কৃষ্ণের পাশে খাটো চোখেই দেখে এসেছি। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মদ্যপ হিসেবে তাঁর নানা দুর্নাম এবং হঠকারী হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা নানা কিংবদন্তি। এই পটভূমিতে মানুষটিকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিতে উদ্যোগী হয়েছেন লেখক। সে-কাজের জন্য তিনি ভাগবতকে অবশ্যই উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে হলধারী বা সংকর্ষণ হিসেবে বলরামের পরিচিতি— যা ছড়িয়ে আছে জৈন পুরাণে এবং অন্য নানা সাহিত্যে।
এই কাহিনির শুরু থেকেই আমরা দেখি, ছোটো ভাইটির কল্যাণার্থে বলরাম কতটা সচেতন। তারই সঙ্গে আমরা দেখি, ভাইয়ের প্রতি ক্ষোভ না থাকলেও তার জন্য অভিভাবক ও অন্যদের পক্ষপাতিত্ব ও অতিরিক্ত স্নেহ এই অসমশক্তিশালী মানুষটির মনের আকাশে মেঘ জমিয়েছে আশৈশব। এই দুই মহাতারকার যাত্রাপথের প্রতিটি স্তরেই দেখা যায়, যেখানে বলরাম সোজা কথা স্পষ্ট করে বলায় ও সেটিকেই বাস্তবায়িত করায় বিশ্বাসী, কৃষ্ণের কক্ষপথ কিন্তু অসরলরৈখিক এবং অনেক বেশি কূটনৈতিক। যুগাবতার মানুষটি ধীরে-ধীরে অলৌকিকত্বে আবৃত হয়ে এক অন্য স্তর পেলেন ক্রমে। কিন্তু পশুচারণের স্তর পেরিয়ে মানুষকে কৃষির কৌশল ও সেচব্যবস্থা শিখিয়ে সমৃদ্ধির সন্ধান যিনি দিলেন, সেই বলরামের পথ কিন্তু অমসৃণ ও মেঠোই থেকে গেল।
হ্যাঁ, রেবতীর সঙ্গে ভারি সুন্দর এক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর। কিন্তু কাহিনির শেষে বলরাম এসে দাঁড়ান সেই বিন্দুতে— যেখানে তাঁর এবং তাঁর ভাইটির পথ একেবারে আলাদা হয়ে গেছে। মহাভারতে এই পর্যায়টি ঘটতে থাকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় থেকেই। কিন্তু এই উপন্যাসে লেখক এই ছেদবিন্দুটিকে দেখিয়েছেন কিংবদন্তির বদলে ইতিহাস ও স্বপ্নকল্পনার এক মেলবন্ধন ঘটিয়ে— যেখানে ভূমির অধিকার নিয়ে দেখা দেয় এক গণজাগরণ।
আর তার পুরোভাগে থাকেন বলরাম— সহজ অথচ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, বুদ্ধিমান অথচ মাটির মানুষ।
কুৎসা ও লাঞ্ছনার অন্তরাল থেকে ঐতিহাসিক চরিত্রদের উদ্ধার করার ক্ষেত্রে এর আগেও অতুলনীয় দক্ষতা দেখিয়েছেন লেখক। দ্বারকানাথ, রামমোহন, মাইকেল, বিদ্যাসাগর...
লক্ষ্মণ...
এবার বলরাম!
জানি না সেই মানুষটি (হ্যাঁ, তাঁর রাগ ও কল্যাণকারী সত্তার স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে রুদ্রের অবতার বলা হলেও তিনি নিজের মনুষ্যত্ব কখনোই ভোলেননি) এই লেখা পড়লে রোমাঞ্চিত হতেন, নাকি হেসে উঠতেন। তবে আমি, বলরামের এক স্বঘোষিত ফ্যান, এই কাজটির জন্য লেখকের কাছে কৃতজ্ঞ রইলাম।
বইটির মুদ্রণ ভারি চমৎকার। তবে পত্রিকায় প্রকাশকালে এই লেখার সঙ্গে থাকা সবক'টি অলংকরণ ফিরে পেলাম না বলে একটু দুঃখ রয়ে গেল আর কি।
Displaying 1 - 1 of 1 review