১৯৭১ সনের মধ্য-ডিসেম্বরে ঢাকার উপকণ্ঠের এক বধ্যভূমি থেকে ১৯৭৫ সনের মধ্য-আগস্টে সংঘটিত ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বর সড়কের বধ্যভূমি পর্যন্ত এ উপন্যাসের কাহিনী বিস্তৃত। উপন্যাসের নায়ক তার পলায়নপর মনোবৃত্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। কিন্তু সে স্বাধীনতাবিরোধী নয় । একজন অমুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশ ও দেশের মানুষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেকে সর্বদা অপরাধী মনে হয়েছে তার। তবু অন্তরে সতত প্রবহমান দেশপ্রেমে স্নাত হয়ে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছে সে। পঁচাত্তরের মধ্য-আগস্টের কালরাত্রিতে জাতির জনকের নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রতিহত করতে গিয়ে সে আত্ম-উৎসর্গ করেছে। এ উপন্যাস কেবল জনজীবনের কাহিনী নয়, সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশের সাড়ে তিন বছরের দলিলায়ন। বাংলাদেশের গণহত্যার পর অসংখ্য হত্যা, আত্মহত্যা, গুপ্তহত্যা, রাজনৈতিক হত্যার প্রেক্ষাপটে নিরুদ্ধ-নিঃশ্বাস ঘটনাপ্রবাহে সৃজিত হয়েছে এই কথাশিল্প 'বধ্যভূমি'।
মাহবুব তালুকদার নেত্রকোনা জেলার (তৎকালীন মহকুমা) পূর্বধলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের সূচনায় ষাটের দশকের প্রারম্ভে তিনি ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক-এর সাংবাদিক। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের তথ্য বিভাগে যোগদান করেন। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গভবনের কার্যকালে তিনি চারজন রাষ্ট্রপতির অধীনে সরাসরি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। তিনি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহকারি প্রেস সচিব ছিলেন। এক সময়ে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় নিয়োজিত ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নির্বাচন কমিশনার পদে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ লাভ করেন এবং দায়িত্ব পালন করেন।
মূলত সৃজনশীল লেখক মাহবুব তালুকদার বিগত ৬৫ বছর যাবৎ নিরলসভাবে সাহিত্যচর্চা করছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে আছে উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, কাব্যগ্রন্থ, শিশুসাহিত্য, ছড়ার বই ও ভ্রমণকাহিনি। তিনি ২০১২ সালের বাংলা একাডেমি পুরষ্কার লাভ করেন।