আর্য, অসুর, ঋষি, দাস, দস্যু—এই শব্দগুলোর প্রকৃত তাৎপর্য কি? বেদে বর্ণিত ‘অশ্ব’ কি আধুনিক ঘোড়াই? বেদ কি নিছক ধর্মীয় মন্ত্রগ্রন্থ, না কি এর ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে আছে প্রাচীন কালের বাস্তব ইতিহাস? আর সেই ইতিহাস কি ভারতবর্ষের, না কি বাইরের কোনো ভূখণ্ডের?
রজত পাল তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘বৈদিক ভারত: তথ্য, প্রমাণতত্ত্ব ও ইতিহাস’-এ এসব প্রশ্নেরই সুসংবদ্ধ, তথ্যনির্ভর এবং যুক্তিসম্মত উত্তর খুঁজেছেন। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ও নানান প্রত্নক্ষেত্র বিশ্লেষণের আলোকে তিনি বেদের ছায়ায় গড়ে ওঠা ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ভিন্ন চোখে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন পাঠককে।
গ্রন্থটি শুধু বেদের মৌলিক ব্যাখ্যা নয়, বরং তার অন্তর্নিহিত প্রেক্ষাপট, সামাজিক নির্মাণ, জাতিগত দ্বন্দ্ব ও ধর্মীয় ভাবনার গভীর স্তরগুলোকে তুলে ধরেছে সুসংগঠিত আলোচনার মাধ্যমে। বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বেদের নারী, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন, বেদের দর্শন এবং বিজ্ঞানভাবনা। পাশাপাশি আলোচিত হয়েছে বেদের দেবতা, ঋষি, আচার, শিল্প ও সংস্কৃতি, যা প্রাচীন ভারতবর্ষের ঐতিহ্যের অনবদ্য দলিল।
এটি নিছক কোনো পুরাতাত্ত্বিক বা সাহিত্য বিশ্লেষণ নয়, বরং একাধারে ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের সংমিশ্রণে তৈরি এক দৃষ্টিনন্দন ও পাঠযোগ্য গ্রন্থ। পাঠকের মনে বহু প্রচলিত ধারণার ভেতরে যুক্তির আলো ফেলবে এই বই। ইতিহাসপ্রেমী, গবেষক ও জ্ঞানান্বেষীদের কাছে এটি একটি অনন্য সংগ্রহযোগ্য কাজ।