তিন দশক ধরে গল্প লিখছেন সিজার বাগচী। চারপাশের জীবন থেকে উঠে আসে তাঁর গল্প। যার ভাঁজে ভাঁজে ধরা সাধারণ মানুষের পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব-টানাপড়েন। তেমনই পঞ্চাশটি গল্প নিয়ে এই সংকলন। গল্পগুলো প্রকাশিত হয়েছে ‘দেশ’, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’, ‘আরও আনন্দ অ্যাপ’, ‘সানন্দা’, ‘এবেলা’, ‘উনিশ কুড়ি’, ‘কৃত্তিবাস’-এর মতো বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং পত্রিকায়। সিজারের গল্প মুখ্যত শহর-মফস্সলের মধ্যবিত্ত জীবন নিয়ে। সম্পর্কের নানা চোরাস্রোত, ভালবাসার ভাঙাগড়া, আপাতসুখের আড়ালে থাকা অন্তঃসারশূন্য জীবন— এমন অনেক বিষয় জায়গা করে নিয়েছে তাঁর কাহিনিতে। সহজ ভাষায় লেখা গল্পগুলোয় বিশ্বায়ন-পরবর্তী বাঙালি জীবনের অনেক জটিলতা তুলে ধরে। তবে নাগরিক পরিধিতে থেমে থাকেননি তিনি। গানের অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়ার ফেক প্রোফাইল ছাড়াও তাঁর গল্পের পটভূমিতে জায়গা করে নিয়েছে বাঁকুড়ার রাবণকাটা নাচ। ন্যাড়াপোড়া। উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি। হরিদ্বারের তীর্থযাত্রী। তাই গল্পগুলো হয়ে উঠেছে এই সময়ের প্রতিচ্ছবি। যে প্রতিচ্ছবি কখনও চেনা জগতের গভীরে থাকা অচেনা অন্ধকারকে তুলে ধরে। আবার কখনও গাঢ় অন্ধকারের অতল থেকে খুঁজে আনে আলো।
সিজার বাগচী-র জন্ম ১৯৭৭ সালে। দক্ষিণ কলকাতায়। পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। অল্প বয়সে পিতৃহীন। কলেজে পড়ার সময়ে লেখালিখি শুরু। ফিচার, গল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, চিত্রনাট্য, কথিকা, উপন্যাস। সহজ তরতরে ভাষায় লেখা সব গল্প-উপন্যাসের বিষয়ই আলাদা। এবং তা উঠে আসে রোজকার জীবনযাত্রা থেকে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের গল্পও লিখছেন নিয়মিত৷ নানা পেশায় যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার চাকরি করেছেন ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায়। বর্তমানে ‘আনন্দমেলা’য় কর্মরত৷ লেখালিখি ছাড়াও বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন।