তুষার খঞ্জর একটি নন ফিকশন থ্রিলার! এই থ্রিলারে এসপিওনেজ, সিক্রেট সার্ভিস, গুপ্ত হত্যা সবই থাকবে–তবে তা সত্য ঘটনা; কোনো ফিকশন নয়। আর এই থ্রিলারের গল্প কোনো মামুলি ব্যক্তিকে নিয়ে নয়। কার্ল মার্ক্সের পরবর্তীকালে যদি দুইজন কমিউনিস্ট তাত্ত্বিককে গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাবা হয়, তাদের একজন ভ্লাদিমির লেনিন এবং অন্যজন নির্দ্বিধায় লিওন ট্রটস্কি। এই বইয়ের কাহিনী তাদেরই একজনের রাজনৈতিক হত্যাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। এটি একটি রহস্যময় হত্যাকান্ড, প্রতি মুহূর্তে রহস্যের দিক পরিবর্তন হয়। শেষ পাতাতে না-পৌঁছানো অবধি আপনাকে বই থেকে আলাদা হতে দেবে না এই গল্প। থ্রিলার গল্প কম-বেশি আমরা সবাই পড়েছি, যদিও সেগুলোর বেশিরভাগই ফিকশন। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড একদিকে যেমন সত্য, পাশাপাশি এটা এমন একটা ঘটনা, যা নিয়ে বিগত ৮৫ বছরেও বাংলা ভাষায় কোনো বই লেখা হয়নি। ঘটনার তথ্যে যেমন থ্রিলার সুলভ রোমাঞ্চ রয়েছে, তেমনি বইয়ের পাতায় উঠে এসেছে সোভিয়েত রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতির আরও অনেক গোপন দিক; আর অবশ্যই সোভিয়েত সিক্রেট সার্ভিস। স্তালিনের শেষ তুরুপের তাস। দীর্ঘ সময় ধরে সোভিয়েত ইতিহাসকে আতশ কাঁচের তলায় রেখে, গোটা কাহিনীর সূত্র জুড়েছেন কোডনেম বারবারোসা খ্যাত লেখক শোভন চক্রবর্তী।
রুশ বিপ্লবের প্রাণপুরুষদের একজন ছিলেন ট্রটস্কি। লেনিনের পরেই তাঁর স্থান ছিল। লেনিনের মৃত্যুর পরে স্তালিনের সাথে ক্ষমতার লড়াইয়ে হেরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়তে বাধ্য হোন ট্রটস্কি।
ট্রটস্কি সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়লেও স্তালিনের সমালোচনা ও বই লেখা থামাননি। এছাড়া আরেকটা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্যেও তিনি নিবেদিত ছিলেন।
ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করতে স্তালিন রক্তের বন্যা বইয়ে দেন। এক সময়ের বলশেভিক বিপ্লবীদের রীতিমতো কচুকাটা করেন তিনি। অগণিত সোভিয়েত নাগরিক "গুলাগ" নামক কারাগারে নিহত হয়। তবে ট্রটস্কি সবসময় ছিল তাঁর পথের কাঁটা। তাই তাকে সরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন "রেড জার" স্তালিন।
বইটা মূলতঃ মেক্সিকোতে ট্রটস্কির হত্যা অভিযান নিয়ে লিখিত। তা সত্ত্বেও লেনিনের ক্ষমতা গ্রহণ থেকে শুরু করে স্তালিনের উত্থান, ট্রটস্কির অপাংক্তেয় হয়ে পড়া, সে সময়টাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের আর্থ সামাজিক অবস্থা, তথাকথিত "যৌথ খামার" প্রকল্পের নামে দুর্ভিক্ষ সবই এসেছে বইয়ে।
বিপ্লবের পরবর্তী প্রাথমিক অবস্থায় সোভিয়েত ইউনিয়নের অবস্থার চিত্রটা এ বইয়ের বাড়তি পাওনা!