একের পর এক খুন হচ্ছে মানুষ। তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে কমন একটা ব্যাপার। তবে কি কোনও সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাব ঘটল এ শহরে? তদন্তে নামল সিআইডির তরুণ ডিটেক্টিভ মাহফুজ আহমেদ। অদ্ভুত এক কেস এল এবার তারেক ফয়সালের কাছে। তিনজন মানুষ। তারা তিনজনই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখাটা অদ্ভুত নয়, অদ্ভুত হল সম্পর্কহীন তিন নারীর রাতের পর রাত সম্পুর্ণ অপরিচিত এক ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা! তদন্তে নামল তারেক ফয়সাল। আপাত দৃষ্টিতে সম্পর্কহীন দুটো রহস্য হয়ত সম্পর্কহীনই থেকে যেত, কিন্তু তাদের মধ্যে সূত্রধর হিসেবে আবির্ভূত হল আরো তিন দুর্বোধ্য, রহস্যময় চরিত্র বান্টু, জোছনা আর...আর নীলাঞ্জনা! এই তিনজনের নাগাল পেতে হন্যে হয়ে উঠল মাহফুজ আর তারেক ফয়সাল, কিন্তু আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে অতিলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী কেউ একজন!
শুরুটা ঠিকঠাক ছিল , গল্পের বিরিয়ানী তে দেওয়ার মসলাপাতি ও সব প্রস্তুত ছিল কিন্তু মাঝখানে সব মাপ উল্টোপাল্টা হওয়াতে লেজেগোবরে হয়ে ল্যাটকা হয়ে গেছে আর কি
একমাত্র ঐরকম একটা এবজার্ড ফিনিশিং এর কারণে বইটার রেটিং কমে গেল। বাকি সব কিন্তু ভালোই ছিল। মূল কাহিনী যথেষ্ঠ থ্রিলিং। একই সাথে তিনজন মহিলা একই স্বপ্ন দেখে এবং স্বপ্নে একই ব্যক্তির উপস্থিতি। সেই সাথে গল্পের আরেক টাইমলাইনে দুই ব্যাক্তি খুন হয় প্রায় একইভাবে। দুটো ঘটনাই এক সাথে মিলে যায় গল্পের শেষে। কাকতালীয়তা একটু বেশী। কাহিনীর বিল্ড আপ বেশ ভালো, আর গল্প আগায় ও বেশ তাড়াতাড়ি। কিন্তু ঐ অতিলৌকিক ফিনিশিং ই কাহিনীর বারোটা বাজায় দিয়েছে। আর যদি এমন ফিনিশিং দিতেই হত তাহলে আরো জটিল করা যেতে পারত শেষ টুকু।
প্রধান চরিত্র তারেক ফয়সাল এর বর্ণনা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে যে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর ব্যাপার টা কেমন যেন ক্লিশে হয়ে গেছে, এর থেকে বেরুতে পারলেই ভালো হত মনে হয়। একেবারে খারাপ না। টাইমপাস হিসেবে ভালোই। আর লেখকের লেখার হাত দারুণ ঝরঝরে। পড়তে ভালো লাগে :)
একটানে পড়ে শেষ করলাম বইটি।দুর্দান্ত গতির।এক অধ্যায় শেষ করে পরে পড়বো বলে রেখে দেয়া যায় না।মাঝখানে টুইস্ট আছে কয়েকটা। অনেক লেখকের বই পড়তে গিয়ে দেখি ভিতরে মেদ বেশি দিয়ে দেয়।২০০ পৃষ্ঠার বই টেনেটুনে ২৫০ পৃষ্ঠায় নেয়।কিন্তু এই বইটা লেখার সময় লেখক মনে হয় ডায়েট কন্ট্রোলের চিন্তায় ছিল।৮০ পৃষ্ঠার বইটা অনায়েসে আরো কিছু পৃষ্ঠা হয়তো বাড়ানো যেত। তবে লেখকের লেখায় আমি মুগ্ধ।আরো বড় পরিসরে আরো ভাল লেখা আশা করছি।
এটা আমার এ লেখকের পড়া প্রথম বই । মার্ডার মিস্ট্রি ধর্মী বইটার প্রত্যেকটা পাতায় পাতায় রহস্য দেয়া আছে । প্রত্যেকটা মোড়ে একেকটা টুইস্ট দেয়া আছে যেটা সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটো রহস্যকে এক সুতায় টেনে আনছে । দুটো কেসের একটাতে আছে শখের গোয়েন্দা তারেক ফয়সাল আরেকটাতে আছে তারই বন্ধু সিআইডি মাহফুজ । লেখক খুব ধীরে ধীরে রহস্যের সুতো ছিড়েছে ।বইটিতে বাড়তি কিছু দিয়ে পৃষ্ঠা ভরে নাই । মোট কথা বইটা শেষ পর্যন্ত অনায়সই পাঠককে ধরে রাখতে সক্ষম ।
অসাধারণ হইসে! শেষের দিকের টুইস্টগুলোও বেশ ভাল! একটা নয় দুইটা নয় তিন তিনটা টুইস্ট পর পর! বইটা বেশ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল! :( বই হাতে ধরলাম আর শেষ করলাম!
লেখকের মধ্যে বেশ তাড়াহুড়ো ভাব দেখা গেছে। বইটা বেশ দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। তদন্ত প্রক্রিয়া ভালো থাকলেও বেশ দ্রুত সব ঘটে যায় বলে উপভোগ করা যায়নি। এছাড়াও শেষটা তৃপ্তিদায়ক লাগেনি।
মুন্নাভাইর ভাষা নিয়ে কখনো তেমন উচু ধারনা ছিল না আমার। তার লেখায় হুমায়ুনের ছাপ না থেকেও থাকে, মেদহীন লেখা লেখেন সাধারনত। বাড়তি অলংকার বা শ্রুতি মাধুর্যতার ধার ধারেন না।
এ ধারনাটা অবশ্য বেশকিছুদিন আগ পর্যন্ত ছিল আমার। পাল্টাল গতকাল রাতে, আততায়ী পড়ে। ভাষার ব্যাপারে আমার জ্ঞান সামান্যই, তবুও মাধুর্যতা বলতে বোধহয় কিছু একটা আছে। একারনেই সারাবছর কাজী আনোয়ার হোসেনে বুদ হয়ে থাকি, হুমায়ুন আহমেদ তেমন একটা টানে না।
আমি মুন্নাভাইর ফ্যান তার কল্পনাশক্তি আর প্লটের বৈচিত্রতার কারনে, প্রথম পরিচয় "শিল্পপতির মৃত্যু"র মাধ্যমে। কাকতালীয়ভাবে ওটাও তারেক ফয়সাল সিরিজের গল্প। দ্বিতীয়বার মুগ্ধ হই "অবুঝ তুমি" পড়ে। গল্প দুটি অসাধারন ছিল, অন্তত গৎবাঁধা কিছু ছাইপাঁশ জাতীয় মৌলিক লেখাগুলোর মাঝে খানিকটা উৎকৃষ্ট তো বটেই।
পরবর্তিতে তার আরো কিছু লেখা পড়ার সৌভাগ্য হয় আমার। বিশেষ করে নীল খামে বন্দি, একজন অভ্র, মি. অ্যান্ড মিসেস অভ্র, প্রহর শেষে- এসব গল্প-উপন্যাস মুগ্ধ করে আমাকে।
এ ক'টা কারনেই আমি তার ফ্যান, সময়ের সাথে সাথে তার প্রতি আমার ভক্তি শ্রদ্ধাও দিন দিন বেড়েছে। আমি আমার প্রিয় লেখকদের লিস্টে তার নাম রাখব স্রেফ এ কয়টা কারনেই।
তার ভাষার ব্যাপারটা এবারই প্রথম মাথায় গাথে। ব্যাপারটা আমার জন্য উপর্যুপরি পাওনা, এত দারুন আর আকর্ষনীয় ভাষা আমি আশা করিনি। তাই আততায়ী পড়ার পুরোটা সময়ই মুগ্ধতার এক আবেশে জড়িয়ে ছিলাম আমি। আর পড়া শেষে স্বিকার করতে বাধ্য হয়েছি, মৌলিক থ্রিলার সাহিত্যে এরকম লেখনি সত্যিই দুর্লভ।
মাত্র আশি পৃষ্ঠার বই, তাই পুরোটাই খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েছি। লেখকের উপস্থাপনাভঙ্গী প্রশংসার দাবীদার। বিশেষ করে কাহিনিবিন্যাস আর সামনে আগোনোর ধরনটা, পাকা একজন কুশলী লেখকের মতই। স্পষ্ট আর প্রত্যক্ষ বর্ননা, মোটেও অযত্ন বা অপরিপক্বতার ছাপ নেই সেখানে। যেন চোখের সামনেই দেখছি সব, তারচেয়ে বড় কথা কোন রকম আড়ষ্ঠতা নেই লেখায়। একজন মৌলিক থ্রিলার লেখকের কাছে এতগুলো গুনের সমন্বয় আশা করা যায় না। মৌলিকের বেলায় ছাড় দিতে দিতেই ���ভ্যস্ত আমরা।
গল্পের স্টার্টিংটাই ছিল চুম্বক, পাঠককে ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত। আসলে প্রথম অধ্যায়তেই এমন কিছু প্রশ্ন জাগবে আপনার মনে যার উত্তর গিয়ে পাবেন একেবারে শেষে। আকর্ষনটা সেখানেই, শেষ না করে আপনি যাবেন কোথায়!?
অবশ্য প্রথম পাতার পর যে শেষ পাতা পড়ে সব জেনে নিবেন- তেমনটাও সম্ভব নয়। কারন এর মাঝেই কাহিনি এরকম কিছু ঘাত প্রতিঘাতে বদলে যাবে যেগুলো আপনার কল্পনার অতীত।
মুন্নাভাই বলেছিল, প্লটের দিক দিয়ে এটা নাকি তার সবচেয়ে বাজে উপন্যাস। তার দৃস্টিভঙ্গিতে কথাটা হয়ত মিথ্যা নয়। তবে তিনি তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতার প্রমাণ এই বইটাতেই রেখেছেন। থ্রিলার লেখা মোটেও সহজ কাজ নয়, সবার হাতে ফুটেও না। তবে মুন্নাভাইয়ের হাতে ফুটে। জনৈক প্রকাশকের মন্তব্য মিথ্যে নয়, শুধু থ্রিলার লেখার জন্য জন্ম না হলেও তার হাতে সবচেয়ে ভালো উঠে আসে থ্রিলার।
এই বইটা নিয়ে হাতেগোনা অল্প যেকয়টা নেগেটিভ ফিডব্যাক পেয়েছি তার সবই আসলে এর সাথে অতিলৌকিকতার সম্পৃক্ততার কারনে। তবে এতটুকু স্বিকার করবেন নিশ্চয়ই আগা-ছে-গোড়া পুরো বইটাই রহস্যে মোড়া ছিল?
লেখকের খুত চোখে পড়েছে খুব সামান্যই, তবে সবচেয়ে বেশি দৃস্টিকটু লেগেছে "গুরু"র ব্যাপারটা।
মাহফুজ আর তারেক বন্ধু, তুই তোকারীর সম্পর্ক। এদের মাঝে একজন আরেকজনের দ্বারা কোনো ভাবে প্রভাবিত হতেই পারে। বা একজনের কাছে আরেকজন ঋনি থাকতেই পারে। যেমন মাহফুজ গোয়েন্দাগিরির বেশ কিছু ব্যাপার শিখেছে তারেকের কাছ থেকে। তাই বলে তারেককে গুরু বলে উল্লেখ করা হবে কেন? বেশ কয়েকজায়গার প্রায় শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের মত উল্লেখ করা হয়েছে তারেককে। কিন্তু ওদের সম্পর্কটা আবার দেখানো হয়েছে খুব স্বাভাবিকভাবে, গুরু মুরু কোন সম্বোধন নেই। সেক্ষেত্রে উক্ত উল্লেখনই বা কেন? ব্যাপারটা আসলেই দৃস্টিকটু। আর গুরু ওয়ার্ডটার প্রতি আমার নিজেরও ব্যাক্তিগত এলার্জি আছে।
বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিল আরো কিছু অসামঞ্জস্য সম্ভবত আছে। তবে শেষ পর্যন্ত তার সবই নিরসিত হয়েছে। কাহিনির ঘাত প্রতিঘাত আর অপ্রত্যাশিত বাক- সবকিছু মিলেই আসলে অসাধারন একটা উপন্যাস।
ছোট খাটো বেশ কয়েকটা ব্যাপার প্রেডিক্টেবলই ছিল, তবে শেষটা যে এরকম হবে তা কখনো মাথায় আসেনি। আন্তর্জাতিক মানের মাথা খারাপ করে দেওয়া টুইস্ট নয়, তবে বাঙালী পাঠকের জন্য যথেস্ট।
লেখার শেষটা পড়ে মনে হলো, কাহিনির জের আবারো টানা যায়। তবে অতিলৌকিকতার ব্যাপারটা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
দুই মোড়কের মাঝে মাত্র আশি পৃষ্ঠায় দারুন কাজ দেখিয়েছেন তিনি। এবইটা তার কাছে এক্সপেক্টেশান্স আরো বাড়িয়ে দিয়েছে আমার। তবে সেই সাথে আরো একটা অনুরোধ থাকবে আমার, বইয়ের সাইজ বড় করলে হয়ত পাঠকের মনে আরো ভালো দাগ কাটা যাবে। কারন এরকম চমৎকার, আকর্ষনীয় লেখা পড়ার সময়টা যতটা বৃদ্ধি পাবে পাঠকের ভালোলাগার পরিমানও ততো বাড়বে। এতে হয়ত পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী একটা নির্ভরতা সৃস্টি হবে আবুল ফাতাহ'র সৃস্টিকর্ম নিয়ে।
আমার রেটিং- ৪.৬/৫ আকারে পাঁচ গুন বড় হলে পাঁচে পাঁচই দিতাম।
তিন জন পরষ্পর অপরিচিত নারী, প্রায় একই সময়ে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। গালে কাটা দাগওয়ালা এক কদাকার ব্যক্তির সাথে তারা সেই লেভেলের রোমান্সে ব্যস্ত ! এই তিন জনের মাঝে একজন আবার ভুয়া আইডেন্টিটি ব্যবহার করেছে ! সমস্যার সমাধান করতে না পেরে তাদের সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. ফয়েজ শরণাপন্ন হন শখের গোয়েন্দা তারেক ফয়সালের।
শহরের দুই মাথায় দুটো খুন হয়। একজন ছোটখাট ক্রিমিনাল, অন্যজন নিপাট ভদ্রলোক। আপাত দৃষ্টিতে খুন দুইটির মাঝে কোন সম্বন্ধ না থাকলেও সি আই ডি অফিসার মাহফুজ একটা অদ্ভুত ক্লু পান - খুন দুইটি প্রফেশনাল কেউ করে নি, কিন্তু কাঁচা হাতের কাজের মত কোন প্রমাণও ছেড়ে যায় নি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার নিহত দুইজনেরই গালে ছিল কাটা দাগ !
একজন শখের গোয়েন্দা অন্যজন সি আই ডি অফিসার, দুজন আলাদা আলাদা ভাবে নেমে পড়েন রহস্যের সমাধানে। এবং এক সময় বেরিয়ে আসে অবিশ্বাস্য এক তথ্য - এসবের পিছনে কলকাঠি নাড়া ব্যক্তিটি সাধারণ কেউ নয় !
প্রথম মৌলিক থ্রিলার হিসেবে লেখক আবুল ফাতাহ যথেষ্ট মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন তার লেখায়। ভাষারীতি খুবই সাবলীল, বর্ণনা আকর্ষণীয়। তবে আক্ষেপের বিষয় হল উপন্যাসের সাইজ। পুরোটা শেষ করতে আমার ৩০-৩৫ মিনিট সময় লেগেছিল মাত্র। আরেকটু বড় হলে ভাল হত।
নভেলার স্টার্টিংটা খুব সুন্দর ছিলো। মাঝখান পর্যন্তও গল্পটা বেশ জমে উঠেছিলো। কিন্তু শেষটা কেমন যেন খাপছাড়া লাগলো। লেখায় অপরিণত ছাপটা ছিলো যেটা মুন্না ভাই 'দ্য এন্ড' খুব সুন্দরভাবে কাটিয়ে উঠেছিলেন।
একটা উক্তি ভালো লেগেছে। সেটা হলো, 'অতি ধনীরা থাকে টাকার ধান্দায় এবং অতি দরিদ্ররা থাকে পেটের ধান্দায়, এদের মাঝামাঝি শ্রেণী থাকে 'খবর'-এর ধান্দায়।'