Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
একের পর এক খুন হচ্ছে মানুষ। তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই রয়েছে কমন একটা ব্যাপার। তবে কি কোনও সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাব ঘটল এ শহরে?
তদন্তে নামল সিআইডির তরুণ ডিটেক্টিভ মাহফুজ আহমেদ।
অদ্ভুত এক কেস এল এবার তারেক ফয়সালের কাছে।
তিনজন মানুষ। তারা তিনজনই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখাটা অদ্ভুত নয়, অদ্ভুত হল সম্পর্কহীন তিন নারীর রাতের পর রাত সম্পুর্ণ অপরিচিত এক ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা!
তদন্তে নামল তারেক ফয়সাল।
আপাত দৃষ্টিতে সম্পর্কহীন দুটো রহস্য হয়ত সম্পর্কহীনই থেকে যেত, কিন্তু তাদের মধ্যে সূত্রধর হিসেবে আবির্ভূত হল আরো তিন দুর্বোধ্য, রহস্যময় চরিত্র বান্টু, জোছনা আর...আর নীলাঞ্জনা!
এই তিনজনের নাগাল পেতে হন্যে হয়ে উঠল মাহফুজ আর তারেক ফয়সাল, কিন্তু আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে অতিলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী কেউ একজন!

80 pages, Hardcover

First published February 1, 2015

Loading...
Loading...

About the author

Abul Fatah

28 books132 followers
Abul Fatah is a Bangladeshi writer. He become famous by writing story at social networks.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (14%)
4 stars
12 (22%)
3 stars
26 (48%)
2 stars
6 (11%)
1 star
2 (3%)
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
Profile Image for Ësrât .
522 reviews95 followers
December 22, 2020
শুরুটা ঠিকঠাক ছিল , গল্পের বিরিয়ানী তে দেওয়ার মসলাপাতি ও সব প্রস্তুত ছিল কিন্তু মাঝখানে সব মাপ উল্টোপাল্টা হওয়াতে লেজেগোবরে হয়ে ল‍্যাটকা হয়ে গেছে আর কি

রেটিং :🌠🌠🌠
Profile Image for সালমান হক.
Author 80 books2,118 followers
May 15, 2015
একমাত্র ঐরকম একটা এবজার্ড ফিনিশিং এর কারণে বইটার রেটিং কমে গেল। বাকি সব কিন্তু ভালোই ছিল। মূল কাহিনী যথেষ্ঠ থ্রিলিং। একই সাথে তিনজন মহিলা একই স্বপ্ন দেখে এবং স্বপ্নে একই ব্যক্তির উপস্থিতি। সেই সাথে গল্পের আরেক টাইমলাইনে দুই ব্যাক্তি খুন হয় প্রায় একইভাবে। দুটো ঘটনাই এক সাথে মিলে যায় গল্পের শেষে। কাকতালীয়তা একটু বেশী। কাহিনীর বিল্ড আপ বেশ ভালো, আর গল্প আগায় ও বেশ তাড়াতাড়ি। কিন্তু ঐ অতিলৌকিক ফিনিশিং ই কাহিনীর বারোটা বাজায় দিয়েছে। আর যদি এমন ফিনিশিং দিতেই হত তাহলে আরো জটিল করা যেতে পারত শেষ টুকু।

প্রধান চরিত্র তারেক ফয়সাল এর বর্ণনা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে যে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর ব্যাপার টা কেমন যেন ক্লিশে হয়ে গেছে, এর থেকে বেরুতে পারলেই ভালো হত মনে হয়। একেবারে খারাপ না। টাইমপাস হিসেবে ভালোই। আর লেখকের লেখার হাত দারুণ ঝরঝরে। পড়তে ভালো লাগে :)
Profile Image for HR Shohag.
64 reviews9 followers
January 14, 2015
একটানে পড়ে শেষ করলাম বইটি।দুর্দান্ত গতির।এক অধ্যায় শেষ করে পরে পড়বো বলে রেখে দেয়া যায় না।মাঝখানে টুইস্ট আছে কয়েকটা। অনেক লেখকের বই পড়তে গিয়ে দেখি ভিতরে মেদ বেশি দিয়ে দেয়।২০০ পৃষ্ঠার বই টেনেটুনে ২৫০ পৃষ্ঠায় নেয়।কিন্তু এই বইটা লেখার সময় লেখক মনে হয় ডায়েট কন্ট্রোলের চিন্তায় ছিল।৮০ পৃষ্ঠার বইটা অনায়েসে আরো কিছু পৃষ্ঠা হয়তো বাড়ানো যেত।
তবে লেখকের লেখায় আমি মুগ্ধ।আরো বড় পরিসরে আরো ভাল লেখা আশা করছি।
Profile Image for Tushi.
59 reviews44 followers
February 17, 2015
এটা আমার এ লেখকের পড়া প্রথম বই । মার্ডার মিস্ট্রি ধর্মী বইটার প্রত্যেকটা পাতায় পাতায় রহস্য দেয়া আছে । প্রত্যেকটা মোড়ে একেকটা টুইস্ট দেয়া আছে যেটা সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটো রহস্যকে এক সুতায় টেনে আনছে । দুটো কেসের একটাতে আছে শখের গোয়েন্দা তারেক ফয়সাল আরেকটাতে আছে তারই বন্ধু সিআইডি মাহফুজ । লেখক খুব ধীরে ধীরে রহস্যের সুতো ছিড়েছে ।বইটিতে বাড়তি কিছু দিয়ে পৃষ্ঠা ভরে নাই । মোট কথা বইটা শেষ পর্যন্ত অনায়সই পাঠককে ধরে রাখতে সক্ষম ।
Profile Image for Omar Faruk.
320 reviews20 followers
July 12, 2021
কাহিনীটা জমে উঠেই যেন শেষ হয়ে গেল! শেষটায় লেখক এতটা তাড়াহুড়ো না করলেও হয়তো পারতেন।
Profile Image for Sejuti Roshnai.
18 reviews2 followers
September 28, 2019
শুরুটা সুন্দর ছিল, শেষটাও সুন্দর হতে পারত। লেখকের লেখার ধরণ অসাধারণ, একটানা পড়ার মতো।
Profile Image for Foysol Ahmed.
32 reviews29 followers
January 4, 2015
অসাধারণ হইসে! শেষের দিকের টুইস্টগুলোও বেশ ভাল! একটা নয় দুইটা নয় তিন তিনটা টুইস্ট পর পর! বইটা বেশ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল! :( বই হাতে ধরলাম আর শেষ করলাম!
Profile Image for Md. Abdullah  Hasib.
44 reviews
September 16, 2026
কাহিনী সংক্ষেপঃ-
দুইজন লোক খুন হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় আলাদা। কারন একজন ছোটখাট ক্রিমিনাল আর অপরজন সাধারণ একজন ভদ্রলোক। কিন্তু পুলিশ ভাবছে এটা একজন সিরিয়াল কিলারের কাজ। কারন দুই লাশের গালে কাটা দাগ ছিল। কুল কিনারা পাচ্ছে না এই কেসের দায়িত্বে থাকা সিআইডির ডিটেকটিভ মাহফুজ। একপর্যায়ে সন্দেহের তীর পড়ে এক কলগার্লের উপর। আসলে কি সে এই জোড়া খুন করেছে। নাকি এর পিছনে অন্য কেউ আছে বা অন্য কিছু। মাহফুজ কি পারবে খুনীকে বের করতে?
.
তারেক ফয়সাল। একজন শখের গোয়েন্দা। পছন্দ না হলে কেস নেননা। এছাড়া আগ্রহ আছে অতিলৌকিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে। তার কাছে একটা কেস নিয়ে আসে ডঃ ফয়েজ নামে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট। তার তিনজন পেশেন্টের ব্যাপারে। তিনজন নাকি স্বপ্ন থেকে। স্বপ্ন দেখা অদ্ভুত না। কিন্তু তিনজন নারী নাকি একি স্বপ্ন দেখে। একজন পুরুষের সাথে তারা রোমান্স করছে। আর স্বপ্নগুলো নাকি অনেক বাস্তব মনে হয়। আর তারচেয়েও অবাক করা বিষয় হলো তারা তিনজন একজন পুরুষকেই দেখছে। এমন অদ্ভুত কেসের কথা শুনে তারিক ফয়সাল কেসটা নিতে রাজি হয়।
কিন্তু কাজ শুরু করে বুঝলেন কেসটা একটু জটিল। আবার এদিকে কেসটা আরো জটিল করে তুলতে গল্পে হাজির হলো নীলাঞ্জনা আর বান্টু নামে দুইটা চরিত্র। কে এরা? এদের সাথে কি সম্পর্ক এই কেসের?
তারেক ফয়সাল আর মাহফুজ শুরু করে তদন্ত। পেরেছিল কি তারা তাদের কেস সমাধান করতে? এটা কি শুধুই একটা মার্ডার মিস্ট্রি?

প্রতিক্রিয়াঃ-
লেখক আবুল ফাতাহের দ্বিতীয় থ্রিলার বই পড়লাম। এর আগে 'দ্য এন্ড' পড়েছি। যদিও এটা আগে বের হয়েছে।
বইয়ের প্লট দুর্দান্ত ছিল। এমন দুর্দান্ত প্লট এই দেশের খুব কম থ্রিলার বইতে আছে। তিনজন নারী একজন পুরুষকে দেখছে স্বপ্নে। তার সাথে তারা রোমান্স করছে আবার একি সময়ে গালে দাগ ওয়ালা লোকরা মারা যাচ্ছে। এদের মধ্যে কি সম্পর্ক?
প্লটের ব্যাপারে বললে খুব ভালো লেগেছে প্লট। ব্যতিক্রম ছিল।
.
ক্যারেক্টার বিল্ডাপ যে খুব বেশি ভালো হয়েছে বলা যাবেনা। তারেক ফয়সাল যদি আগে থেকে পরিচিত না হয় তাহলে তার কর্মকাণ্ড একটু অন্যরকম লাগবে। ওর ব্যাপারে আরেকটু বেশি লিখলে ভালো হতো। এছাড়া আরেকটি প্রধান চরিত্র মাহফুজকে খুব অনুজ্জ্বল লেগেছে। বান্টু একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র এই বইতে। অথচ তার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। যা এসেছে তার অতীত নিয়ে তা খুব অল্প। অথচ এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
.
আসলে বইয়ের সাইজ অল্প। গল্পটা অল্পতে শেষ করে দিয়েছে। তাই গল্পে দুইটা আলাদা কেস হওয়া বা এত সাব প্লট থাকা সত্ত্বেও বইয়ের সাইজ ছোট।
.
গল্পে কাকতালীয়তা একটু বেশি ছিল। এত সহজে মাহফুজ পেয়ে যাচ্ছিল। তারেক ফয়সাল বুঝে যাচ্ছিল। শহিদুল যে খুন হয়েছিল তার বা জয়নাল যেও খুন হয়েছিল এদের খুনের ব্যাপারটাও একটু বেশি কাকতালীয় ছিল।
.
আগেই প্লটের কথা বলেছি। খুব ভালো ছিল কিন্তু ফিনিশিং ভালো লাগেনি। বড্ড তাড়াহুড়া ছিল। এমন ফিনিশিং আশা করেনি। ব্যাখ্যাও খুব ভালো লাগেনি। বইটা পড়ার মজাটা অনেকখানি নষ্ট করে দিলো এই ফিনিশিং। তারেক ফয়সাল কাজ করতে পছন্দ করে অতিলৌকিক বিষয় নিয়ে। আমার মনে হয় লেখক বই লেখার সময় এই বিষয়ের প্রতি বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। ফিনিশিং এমন দিতে চেয়েছেন। তাই এই অবস্থা ফিনিশিং এর। তবে অতিলৌকিকতা রেখে লেখক যদি অন্যরকমভাবে ফিনিশিং টানতেন তাহলে আমার মনে হয় আরো ভালো হতো। এছাড়া প্রাইভেট ডিটেকটিভ এর ব্যাপারে নতুনত্ব নাই। সে একই ধরনের ডিটেকটিভ। একটু নতুনত্ব আনা যেত প্রাইভেট ডিটেকটিভ এর উপরে। তারেক ফয়সাল নয়। এর বিশেষত্ব হলো অতিলৌকিক বিষয় নিয়ে আগ্রহ।
.
তবে লেখকের লেখনী খুব ভালো। পুরো বইতে একটা উত্তেজনা ছিল। কেমন হবে পরের ঘটনা। আর ছোট সাইজ, প্লট আর দারুণ লেখনীতে আপনি এক বসায় শেষ করতে পারবেন। তবে বলা ভালো শেষ করে উঠতে হবে। গতিশীল লেখনী ছিল। যে কাহিনী ছিল তাতে আরেকটু বড় সাইজের থ্রিলার লিখতে পারতেন।
আমি লেখকের লেখনীতে মুগ্ধ হয়েছি।
.
বইয়ের নামটা ভালো ছিল। কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর বইটা আমি পিডিএফ ভার্সন পড়েছি। লেখকের 'দ্য এন্ড' পড়ার পর এই বইটা খোজ করি অনলাইন শপে। কিন্তু পাইনি। পরে একদিন পিডিএফ পেলে ডাউনলোড করে রেখে দিয়।
.
এই বইটা পড়তে পারেন এর লেখনী, থ্রিল এর জন্যে আর অবশ্যই এর প্লটের জন্যে। আর ফিনিশিং আমার ভালো লাগেনি এর মানে এই না যে আপনার ও ভালো লাগবেনা। এই রিভিউতে আমি আমার মতামত লিখেছি। আপনার মতামত অন্যরকম ও হতে পারে। তাই আমি বলবো আগে নিজে পড়ুন।
একটা বইকে কখনো সম্পূর্ণরুপে তুলে ধরা যায়না রিভিউতে। তাই বলবো আগে পড়ুন তারপর নিজের মতামত ব্যক্ত করুন। আর অন্যকে বই পড়তে উৎসাহিত করুন।
নিচে এই বইয়ের কয়েকটা লাইন দেয়া হলো।

১. অতি ধনীরা থাকে টাকার ধান্দায় এবং অতি দরিদ্ররা থাকে পেটের ধান্দায়, এদের মাঝামাঝি শ্রেণি থাকে 'খবর' এর ধান্দায়।
২. একজন নারী তার সঙ্গীর প্রতি যতটা বিশ্বস্ত থাকতে পারে, একজন পুরুষ তার সঙ্গিনীর প্রতি ততটা বিশ্বস্ত থাকতে পারেনা। চরিত্রহীন একজন নারীকে সমাজ যতটা অচ্ছুৎ মনে করে, চরিত্রহীন প্লেবয়দের মানুষ ততই ঈর্ষার চোখে দেখে।
এই লাইনটা পড়ার পর আমার 'সাঞ্জু' মুভিটার কথা মনে পড়ে। যেখানে রানবীর তার প্রেমিকার সংখ্যার ব্যাপারে বলার পর আনুশকা কেমন রিয়েকশন দিয়েছিল। কিন্তু এই ব্যাপার কোন নারীর ক্ষেত্রে হলে ব্যাপারটা অন্যরকম হতো।
৩. পৃথিবীতে আসলে কেউই ভালো মানুষ নয়। সবাই খারাপ। তবে তারা ভালো হয়ে থাকে। কেউ সৃষ্টির ভয়ে, কেউ স্রষ্টার ভয়ে।
Profile Image for Sarah Haque.
467 reviews106 followers
October 17, 2019
ভালোই আগাচ্ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত জমলো না ব্যাপারটা...!
Profile Image for MD Sifat.
131 reviews
October 3, 2024
লেখকের মধ্যে বেশ তাড়াহুড়ো ভাব দেখা গেছে। বইটা বেশ দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। তদন্ত প্রক্রিয়া ভালো থাকলেও বেশ দ্রুত সব ঘটে যায় বলে উপভোগ করা যায়নি। এছাড়াও শেষটা তৃপ্তিদায়ক লাগেনি।
September 7, 2015
বুক রিভিউ:- আততায়ী
লেখক:- আবুল ফাতাহ
সিরিজ:- তারেক ফয়সাল
জনরা:- মার্ডার মিস্ট্রি, সাইকো থ্রিলার, ডিটেক্টিভ থ্রিলার
প্রকাশকাল:- বইমেলা ২০১৫
প্রকাশনী:- জাগৃতি

মুন্নাভাইর ভাষা নিয়ে কখনো তেমন উচু ধারনা ছিল না আমার। তার লেখায় হুমায়ুনের ছাপ না থেকেও থাকে, মেদহীন লেখা লেখেন সাধারনত। বাড়তি অলংকার বা শ্রুতি মাধুর্যতার ধার ধারেন না।

এ ধারনাটা অবশ্য বেশকিছুদিন আগ পর্যন্ত ছিল আমার। পাল্টাল গতকাল রাতে, আততায়ী পড়ে। ভাষার ব্যাপারে আমার জ্ঞান সামান্যই, তবুও মাধুর্যতা বলতে বোধহয় কিছু একটা আছে। একারনেই সারাবছর কাজী আনোয়ার হোসেনে বুদ হয়ে থাকি, হুমায়ুন আহমেদ তেমন একটা টানে না।

আমি মুন্নাভাইর ফ্যান তার কল্পনাশক্তি আর প্লটের বৈচিত্রতার কারনে, প্রথম পরিচয় "শিল্পপতির মৃত্যু"র মাধ্যমে। কাকতালীয়ভাবে ওটাও তারেক ফয়সাল সিরিজের গল্প। দ্বিতীয়বার মুগ্ধ হই "অবুঝ তুমি" পড়ে। গল্প দুটি অসাধারন ছিল, অন্তত গৎবাঁধা কিছু ছাইপাঁশ জাতীয় মৌলিক লেখাগুলোর মাঝে খানিকটা উৎকৃষ্ট তো বটেই।

পরবর্তিতে তার আরো কিছু লেখা পড়ার সৌভাগ্য হয় আমার। বিশেষ করে নীল খামে বন্দি, একজন অভ্র, মি. অ্যান্ড মিসেস অভ্র, প্রহর শেষে- এসব গল্প-উপন্যাস মুগ্ধ করে আমাকে।

এ ক'টা কারনেই আমি তার ফ্যান, সময়ের সাথে সাথে তার প্রতি আমার ভক্তি শ্রদ্ধাও দিন দিন বেড়েছে। আমি আমার প্রিয় লেখকদের লিস্টে তার নাম রাখব স্রেফ এ কয়টা কারনেই।

তার ভাষার ব্যাপারটা এবারই প্রথম মাথায় গাথে। ব্যাপারটা আমার জন্য উপর্যুপরি পাওনা, এত দারুন আর আকর্ষনীয় ভাষা আমি আশা করিনি। তাই আততায়ী পড়ার পুরোটা সময়ই মুগ্ধতার এক আবেশে জড়িয়ে ছিলাম আমি। আর পড়া শেষে স্বিকার করতে বাধ্য হয়েছি, মৌলিক থ্রিলার সাহিত্যে এরকম লেখনি সত্যিই দুর্লভ।

মাত্র আশি পৃষ্ঠার বই, তাই পুরোটাই খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েছি। লেখকের উপস্থাপনাভঙ্গী প্রশংসার দাবীদার। বিশেষ করে কাহিনিবিন্যাস আর সামনে আগোনোর ধরনটা, পাকা একজন কুশলী লেখকের মতই। স্পষ্ট আর প্রত্যক্ষ বর্ননা, মোটেও অযত্ন বা অপরিপক্বতার ছাপ নেই সেখানে। যেন চোখের সামনেই দেখছি সব, তারচেয়ে বড় কথা কোন রকম আড়ষ্ঠতা নেই লেখায়। একজন মৌলিক থ্রিলার লেখকের কাছে এতগুলো গুনের সমন্বয় আশা করা যায় না। মৌলিকের বেলায় ছাড় দিতে দিতেই অভ্যস্ত আমরা।

গল্পের স্টার্টিংটাই ছিল চুম্বক, পাঠককে ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত। আসলে প্রথম অধ্যায়তেই এমন কিছু প্রশ্ন জাগবে আপনার মনে যার উত্তর গিয়ে পাবেন একেবারে শেষে। আকর্ষনটা সেখানেই, শেষ না করে আপনি যাবেন কোথায়!?

অবশ্য প্রথম পাতার পর যে শেষ পাতা পড়ে সব জেনে নিবেন- তেমনটাও সম্ভব নয়। কারন এর মাঝেই কাহিনি এরকম কিছু ঘাত প্রতিঘাতে বদলে যাবে যেগুলো আপনার কল্পনার অতীত।

মুন্নাভাই বলেছিল, প্লটের দিক দিয়ে এটা নাকি তার সবচেয়ে বাজে উপন্যাস। তার দৃস্টিভঙ্গিতে কথাটা হয়ত মিথ্যা নয়। তবে তিনি তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতার প্রমাণ এই বইটাতেই রেখেছেন। থ্রিলার লেখা মোটেও সহজ কাজ নয়, সবার হাতে ফুটেও না। তবে মুন্নাভাইয়ের হাতে ফুটে। জনৈক প্রকাশকের মন্তব্য মিথ্যে নয়, শুধু থ্রিলার লেখার জন্য জন্ম না হলেও তার হাতে সবচেয়ে ভালো উঠে আসে থ্রিলার।

এই বইটা নিয়ে হাতেগোনা অল্প যেকয়টা নেগেটিভ ফিডব্যাক পেয়েছি তার সবই আসলে এর সাথে অতিলৌকিকতার সম্পৃক্ততার কারনে। তবে এতটুকু স্বিকার করবেন নিশ্চয়ই আগা-ছে-গোড়া পুরো বইটাই রহস্যে মোড়া ছিল?

লেখকের খুত চোখে পড়েছে খুব সামান্যই, তবে সবচেয়ে বেশি দৃস্টিকটু লেগেছে "গুরু"র ব্যাপারটা।

মাহফুজ আর তারেক বন্ধু, তুই তোকারীর সম্পর্ক। এদের মাঝে একজন আরেকজনের দ্বারা কোনো ভাবে প্রভাবিত হতেই পারে। বা একজনের কাছে আরেকজন ঋনি থাকতেই পারে। যেমন মাহফুজ গোয়েন্দাগিরির বেশ কিছু ব্যাপার শিখেছে তারেকের কাছ থেকে। তাই বলে তারেককে গুরু বলে উল্লেখ করা হবে কেন? বেশ কয়েকজায়গার প্রায় শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের মত উল্লেখ করা হয়েছে তারেককে। কিন্তু ওদের সম্পর্কটা আবার দেখানো হয়েছে খুব স্বাভাবিকভাবে, গুরু মুরু কোন সম্বোধন নেই। সেক্ষেত্রে উক্ত উল্লেখনই বা কেন? ব্যাপারটা আসলেই দৃস্টিকটু। আর গুরু ওয়ার্ডটার প্রতি আমার নিজেরও ব্যাক্তিগত এলার্জি আছে।

বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিল আরো কিছু অসামঞ্জস্য সম্ভবত আছে। তবে শেষ পর্যন্ত তার সবই নিরসিত হয়েছে। কাহিনির ঘাত প্রতিঘাত আর অপ্রত্যাশিত বাক- সবকিছু মিলেই আসলে অসাধারন একটা উপন্যাস।

ছোট খাটো বেশ কয়েকটা ব্যাপার প্রেডিক্টেবলই ছিল, তবে শেষটা যে এরকম হবে তা কখনো মাথায় আসেনি। আন্তর্জাতিক মানের মাথা খারাপ করে দেওয়া টুইস্ট নয়, তবে বাঙালী পাঠকের জন্য যথেস্ট।

লেখার শেষটা পড়ে মনে হলো, কাহিনির জের আবারো টানা যায়। তবে অতিলৌকিকতার ব্যাপারটা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।

দুই মোড়কের মাঝে মাত্র আশি পৃষ্ঠায় দারুন কাজ দেখিয়েছেন তিনি। এবইটা তার কাছে এক্সপেক্টেশান্স আরো বাড়িয়ে দিয়েছে আমার। তবে সেই সাথে আরো একটা অনুরোধ থাকবে আমার, বইয়ের সাইজ বড় করলে হয়ত পাঠকের মনে আরো ভালো দাগ কাটা যাবে। কারন এরকম চমৎকার, আকর্ষনীয় লেখা পড়ার সময়টা যতটা বৃদ্ধি পাবে পাঠকের ভালোলাগার পরিমানও ততো বাড়বে। এতে হয়ত পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী একটা নির্ভরতা সৃস্টি হবে আবুল ফাতাহ'র সৃস্টিকর্ম নিয়ে।

আমার রেটিং- ৪.৬/৫
আকারে পাঁচ গুন বড় হলে পাঁচে পাঁচই দিতাম।
Profile Image for ফরহাদ নিলয়.
191 reviews61 followers
March 5, 2015
তিন জন পরষ্পর অপরিচিত নারী, প্রায় একই সময়ে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। গালে কাটা দাগওয়ালা এক কদাকার ব্যক্তির সাথে তারা সেই লেভেলের রোমান্সে ব্যস্ত ! এই তিন জনের মাঝে একজন আবার ভুয়া আইডেন্টিটি ব্যবহার করেছে ! সমস্যার সমাধান করতে না পেরে তাদের সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. ফয়েজ শরণাপন্ন হন শখের গোয়েন্দা তারেক ফয়সালের।

শহরের দুই মাথায় দুটো খুন হয়। একজন ছোটখাট ক্রিমিনাল, অন্যজন নিপাট ভদ্রলোক। আপাত দৃষ্টিতে খুন দুইটির মাঝে কোন সম্বন্ধ না থাকলেও সি আই ডি অফিসার মাহফুজ একটা অদ্ভুত ক্লু পান - খুন দুইটি প্রফেশনাল কেউ করে নি, কিন্তু কাঁচা হাতের কাজের মত কোন প্রমাণও ছেড়ে যায় নি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার নিহত দুইজনেরই গালে ছিল কাটা দাগ !

একজন শখের গোয়েন্দা অন্যজন সি আই ডি অফিসার, দুজন আলাদা আলাদা ভাবে নেমে পড়েন রহস্যের সমাধানে। এবং এক সময় বেরিয়ে আসে অবিশ্বাস্য এক তথ্য - এসবের পিছনে কলকাঠি নাড়া ব্যক্তিটি সাধারণ কেউ নয় !

প্রথম মৌলিক থ্রিলার হিসেবে লেখক আবুল ফাতাহ যথেষ্ট মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন তার লেখায়। ভাষারীতি খুবই সাবলীল, বর্ণনা আকর্ষণীয়। তবে আক্ষেপের বিষয় হল উপন্যাসের সাইজ। পুরোটা শেষ করতে আমার ৩০-৩৫ মিনিট সময় লেগেছিল মাত্র। আরেকটু বড় হলে ভাল হত।
Profile Image for তান জীম.
Author 5 books299 followers
March 2, 2019
নভেলার স্টার্টিংটা খুব সুন্দর ছিলো। মাঝখান পর্যন্তও গল্পটা বেশ জমে উঠেছিলো। কিন্তু শেষটা কেমন যেন খাপছাড়া লাগলো। লেখায় অপরিণত ছাপটা ছিলো যেটা মুন্না ভাই 'দ্য এন্ড' খুব সুন্দরভাবে কাটিয়ে উঠেছিলেন।

একটা উক্তি ভালো লেগেছে। সেটা হলো, 'অতি ধনীরা থাকে টাকার ধান্দায় এবং অতি দরিদ্ররা থাকে পেটের ধান্দায়, এদের মাঝামাঝি শ্রেণী থাকে 'খবর'-এর ধান্দায়।'
170 reviews63 followers
December 16, 2015
এবজার্ড ফিনিশিংয়ের জন্যে বইটা একদম নষ্ট হয়ে গেছে।
Profile Image for Shaon Arafat.
131 reviews35 followers
May 11, 2019
সাইকোলজির মিশেলে বইটি খুবই উপভোগ্য একটা মার্ডার মিস্ট্রি হতে পারতো, শেষটায় এসে সব গুলিয়ে গেলো!!
Displaying 1 - 15 of 15 reviews