বিখ্যাত ব্যাবসায়ি লর্ড টোফেল অঢেল টাকা বানিয়েছিলেন সারা জীবনে। আততায়ীর হাতে গুলি খেয়ে মারা যাবার আগে মাত্র একজনকে বলে গিয়েছিলেন টাকাগুলো কোথায় আছে? জীবনে পাপ করেনি হেনরি । একটা কাজই জানে সে- যে কোন সেফটি লক আর সিন্দুক খুলে ফেলতে পারে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার। এমন সময় একজন প্রস্তাব দিল-একটা খালি বাড়ির গোপন এক জায়গাতে আছে অনেক অনেক টাকা । সাহায়্য করলে আধা আধা ভাগ । নতুন বাড়ি কিনে মাত্র উঠে এসেছে লুনা আর ওর অসুস্থ মেয়ে সারা। প্রথম রাতেই ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠে বিপদে পরে গেল। নিরাপদ একটা কামরাতে বন্দি মা-আর মেয়ে। ফোন নেই । খাবার নেই।বাইরে থেকে সাহায়্য পাবার উপায় নেই। বাইরে ওরা তিনজন। ঠাণ্ডা মাথার এক খুনি। অস্থিরমতি এক অপরাধী -যার মনে কোন দয়া মায়া নেই। আর সিন্দুকের জাদুকর হেনরি। টাকাগুলো চাই ওদের। দ্রুত ফুরিয়ে আসছে সময়। তারপর ? জেমস ইলশনের বেষ্ট সেলার উপন্যাস অবলম্বনে...।
রিভিউটি অরণ্যমন থেকে বইমেলা ২০১৮-য় প্রকাশিত সংস্করণের।
চার-তারা রিভিউ থেকে স্পষ্ট হবে, বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। কেন লেগেছে, সেটা একে-একে লেখা যাক। ১) উপন্যাসটা অত্যন্ত গতিময়। লেখা এক মুহূর্তের জন্যও শ্লথ হয়নি। ২) চরিত্রচিত্রণ একেবারে বাস্তবানুগ। ভালো থেকে মন্দ, সবল থেকে দুর্বল, প্রত্যেককেই চোখের সামনে যেন চলতে, ফিরতে, বিপন্ন হতে, রুখে দাঁড়াতে দেখলাম উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে। ৩) ডার্ক হিউমার আর রোমাঞ্চকে মেশানো মোটেই সহজ কাজ নয়। লেখক সেই জায়গায় ভালোমতো সফল। বিশেষত পশ্চিমা লব্জগুলোর এমন সরস ও কথ্য (ক্ষেত্রবিশেষে অকথ্য) বঙ্গীকরণ মোটেই সহজ ছিল না।
একটি তারা খসালাম কিছু অনভিপ্রেত বানান ভুল, আর কয়েকটা বিটকেল অভিব্যক্তির জন্য (যেমন: আজকে সকালে ফোন দিয়েছিল মোনিকা)। এ বাদে এক বসা বা শোয়ায় পড়ে ফেলার মতো আদর্শ একটি রোমাঞ্চকর কাহিনি এটি।
মিলন গাঙ্গুলীর বই পড়লে যেটা মনে হয় এই বুঝি গল্পের মাঝে ভুত-টুত আসে! কিন্তু নাহ! এই বার একখান রোমাঞ্চ উপন্যাস শেষ করলাম! সত্যি অসাধারণ! গল্পের শুরু থেকে শেষে এই বুঝি কিছু হয় রকম অবস্থা! শেষের দিকে আর্থাররে নিয়ে এসে একটা টুইস্ট! তারপর বডি দিয়ে ধোকাবাজি আরেকটা! অনেক লেখকের তাঁর লেখার ধরণের ছাপ থাকে তাঁর লেখাতে যেমন কেউ যদি হরর লিখে যখন সে ক্রাইম স্টোরি লিখতে যায় তাইলেও হরর হয়ে যায়! মিলন গাঙ্গুলী হরর লেখেন এই বইয়ের কোথাও হরর এর ছাপ নাই উল্টো আমি ভাবসিলাম হরর কিছু হইব যদিও বইয়ের ৩য় অধ্যায় এসে ক্লিয়ার হয়ে গেসে!
দশ বছরের অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে নতুন বাড়িতে উঠলেন ডিভোর্সি লুনা ফ্রোড |কিন্তু তখন কি জানতেন তাদের জন্য এখানে ওঁৎ পেতে আছে বিপদ ?প্রথম রাতেই ভয়ানক সব ঘটনার মুখোমুখি হলেন তারা |
বাড়িটা ছিল এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী লর্ড টোফেলের |পুরনো আমলের বাড়ি হলেও এখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন কমতি ছিলনা |বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি রেখে যান এই বাড়ির সেইফ হাউজ বা নিরাপদ কামরায় |মৃত্যুর আগে নিজের ড্রাইভার জুনকে বলে যান তার গচ্ছিত টাকার ঠিকানা |আর কেউ জানে না এ কথা |
লোভাতুর সেই ড্রাইভার এক রাতে চলে এল সেই টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়ার জন্য |সাথে এক তালা চাবির মিস্ত্রী হেনরি আর এক নিষ্ঠুর ভাড়াটে মাস্তান রাউল |
ওরা ভেবেছিল খুব সহজেই টাকাগুলো নিয়ে যেতে পারবে |কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়াল লুনা ও তার মেয়ে সারা|সেইফ হাউজে গিয়ে অবস্থান করল দুজনে | কার্য হাসিলের জন্য দরকার হলে এই মা-মেয়েকে খুন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল ওরা |
অন্য দিকে নিশ্চিত বিপদের মুখে মেয়েকে বাচাঁনোর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন লুনা ফ্রোড | রাতভর চলল তিন ডাকাতের সাথে তার বুদ্ধিমত্তার লড়াই |
কি হল শেষ পর্যন্ত ?
মিলন গাঙ্গুলীর লেখার সাথে আগে থেকেই পরিচিত ছিলাম । এই বইয়ের প্রতি তাই প্রত্যাশার পাল্লাটাও বেশ ভারী ছিল । আমি হতাশ হইনি । অসম্ভব রকমের শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনীর সাথে ঝরঝরে সাবলীল লেখনীর চমৎকার মিশ্রণে দারুন কেটেছিল আমার একটা বিকেল । যতক্ষন ধরে বইটি পড়েছি,পুরোটা সময় জুড়ে স্নায়ু টানটান হয়ে থেকেছিল উত্তেজনায় । সেই উত্তেজনার রেশ ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত । সত্যি বলছি,প্রতিটি পাতায় এমন থ্রিল আর সাসপেন্স আমি অন্য কোন বইয়ে কখনো পাইনি । রহস্য-রোমাঞ্চপ্রিয় পাঠকদের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য বই এটি । পড়েই দেখুননা বইটি,আমি এক বিন্দু বাড়িয়ে বলছি কিনা ?
প্রথম ঘটনা: লর্ড টোফেল প্রচুর রোজগার করেছিলেন জীবনে। তারপর আততায়ীর হাতে খুন হন তিনি। খুনের সময় মাত্র একজনকেই জানিয়ে গেছিলেন টাকা কোথায় আছে। জাম্প কাট দ্বিতীয় ঘটনা: লুনা বিবাহবিচ্ছিন্না। লর্ড টোফেলের বাড়িটা কিনে রুগ্ন মেয়ে সারাকে নিয়ে চলে এসেছেন এখানে। দালাল এর আগেই দেখিয়েছে এ বাড়ির বিশেষত্ব: তিন তলার স্টেনলেস স্টিলের নিরাপদ কামরা তথা সেফ রুম। জাম্প কাট তৃতীয় ঘটনা: তিনজন অপরাধী। একজন জানে লর্ড টোফেলের টাকা কোথায় আছে, অন্যজন অস্থিরমতি খুনী। তৃতীয়জন জীবনে কোনো অপরাধ না করা সিন্দুকের যাদুকর। তারা উপস্থিত হয়েছে লর্ড টোফেলের বাড়ির সামনে। উদ্দেশ্য? লর্ড টোফেলের টাকা হাতানো! কিন্তু সে বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে বাড়িতে লোকজনের উপস্থিতি দেখে সকলেই হতবাক। এখান থেকেই শুরু হয় গল্প। লুনা মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে লুকোয় সেফ রুমে। অন্যদিকে অপরাধীরা বাড়ি তোলপাড় করছে। অবশেষে কী হল? মাত্র একটা রাতের ঘটনা নিয়ে এক অসাধারণ সিনেমা দ্য প্যানিক রুম। পরবর্তী কালে সেই ছবি নিয়েই বই হয়। লিখেছিলেন জেমস ইলশন ও ডেভিড কুপ। তার এক অসম্ভব সুন্দর অনুবাদ করেছেন লেখক মিলন গাঙ্গুলী। কোথাও মনে হয়নি যে লেখাটা আড়ষ্ট। কিছু কিছু জায়গায় বাংলাদেশী কিছু কথার টান কানে লাগলেও সেটা ইগ্নোরেবল। লেখকের লেখনী আরও এগিয়ে যাক, এই কামনা রাখি।
The Bangla adaption was great but the mom acted stupidly at first just to act bravely later. Cooperating with the police was such an easy and obvious alternative!!!!!