জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৬ জানুয়ারি, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। বাবা সরোজকুমার বসু। মায়ের নাম অনিমা বসু। স্কুলের পাঠ, বারাসত প্যারীচরণ সরকার রাষ্ট্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে। তারপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্ববিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। নাটক রচনা দিয়ে লেখালেখি শুরু। প্রথম মৌলিক নাটক ‘রিয়েলিটি' প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এই নাটকের জন্য জাতীয় স্তরে একটি একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ নাট্যকারের পুরস্কার পান। পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে লেখকের অনেকগুলি কিশোর উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের কথা জানেন না, বাংলা সাহিত্যের এমন পাঠক নেহাতই হাতেগোনা। সেই গ্রাম-গঞ্জ গোছের কোনও জায়গা, একগাদা বিটকেল চরিত্র, মজাদার সংলাপ, সবকিছুর আড়ালে গজিয়ে ওঠা একটা রহস্য, সবশেষে সেই রহস্যের সমাধান — এই একই ছাঁচে অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বহু উপন্যাস আমরা পেয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, এখন শীর্ষেন্দুবাবুর কলম থেকে অদ্ভুতুড়ে সিরিজ তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তবে এরকম গপ্পো কি আর আসবে না? — এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই নিজেদের মতো চেষ্টা চালাচ্ছেন বেশ কিছু লেখক। শান্তনু বসু-র নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। এবং আলোচ্য বইটিও সেই অদ্ভুতুড়ে সৃজনেরই একটি উদাহরণ।
কাহিনি বিন্যাসের যে ছাঁচের কথা একটু আগে বললাম, এই বইয়ের গপ্পোও সেইভাবেই এগিয়েছে। অকুস্থল হাতিপোতা। সেখানে ভুতুড়ে কাণ্ড, চোর, ডাকাত, পাগল, পুলিশ — সব্বাই এসে জুটেছে। মহিমরাজার গুপ্তধন খুঁজে পাওয়া নিয়ে রেষারেষি, ধুন্ধুমার। শেষ অবধি যদিও ঘটনাক্রম মোড় নেয় কল্পবিজ্ঞানের দিকে।
বেশ লাগল। তবে অদ্ভুতুড়ে সিরিজের টেমপ্লেট মুখস্থ হওয়ায় নতুনত্বের অভাববোধও হল খানিকটা। কিন্তু পড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সুখপাঠ্য। একটু আজগুবি কার্যকারণ আছে অবশ্য, তবে সেটা অদ্ভুতুড়ে উপন্যাসের ক্ষেত্রে মেনে নেওয়াই চলে।