কয়েক শতাব্দী ধরে হিন্দুস্থানের বৃহত্তর অংশ মুসলমান শাসনের অধীনে ছিল, [ফলে] এ দেশের মূল অধিবাসীদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্রমাগত পদদলিত হয়েছিল... কিন্তু মুসলমান শাসকদের রাজত্বকালে বাংলার অধিবাসীরা দৈহিক অপটুতা ও সক্রিয় পরিশ্রমের অনীহা হেতু শাসকদের প্রতি একান্তভাবে বিশ্বস্ত ছিল, যদিও তাদের ধনসম্পদ প্রায়শই লুণ্ঠিত হয়েছে, ধর্মের অবমাননা হয়েছে এবং যথেচ্ছভাবে তাদের হত্যাও করা হয়েছে। অবশেষে অশেষ করুণাময় জগৎপিতা, সেই অত্যাচারীদের কবল থেকে নিপীড়িত বাংলার অধিবাসীদের উদ্ধার করে নিজের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ করার জন্য ইংরেজদের অনুপ্রাণিত করেন। এসব বিষয়গুলি বিবেচনা করে এবং এ দেশের কল্যাণের জন্য [ইংরেজদের] সচেষ্ট হওয়ার কথা মনে রেখে... আপনার কর্তব্যপরায়ণ প্রজাবৃন্দ ইংরেজদের কখনও বিজয়ী দল হিসেবে দেখেনি, বরং পরিত্রাণকর্তা হিসেবে দেখেছে; মহারাজকে কেবল একজন শাসক হিসেবেই দেখেনি, পিতা ও রক্ষক হিসেবেও দেখেছে। — সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য ইংল্যান্ডের রাজদরবারে প্রেরিত রামমোহনের আবেদনের কিয়দংশ
বইয়ের নামটা আসলে ক্লিকবেট এর মতো। রামমোহনকে নিয়ে প্রথম পর্বে বেশ ভাল আলোচনা আছে (টোটাল ১৩৮ পেজ)। কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব হলো রামমোহনের সময়ে কি কি হয়েছে সেই সব আলোচনা। নবীন পাঠকদের জন্য এই আলোচনা অবশ্যই দরকারি, কিন্তু অধিকাংশ ঋদ্ধ নন-ফিকশন পাঠক এখানে নতুন কিছু পাবেন না। ঘুরে ফিরে এসব তথ্য প্রমথনাথের 'কলিকাতার কথা', সিরাজুল ইসলামের 'বাংলার ইতিহাস', সুপ্রকাশ রায়ের 'ভারতের কৃষক বিদ্রোহ' ; এসব বইয়ের থেকে টুকে নেয়া। লেখক ইচ্ছে করলে হয়তো এসব রিপিটেশন বাদ দিয়ে রামমোহনের অজানা বিষয়ের আরো সুলুকসন্ধান করতে পারতেন। অথবা বিভিন্ন তথ্য থেকে তুলনামূলক আলোচনা করলেও খারাপ হতো না। অহেতুক টেনে বইটা লম্বা করার কোনো দরকার ছিল না। রামমোহনকে নিয়ে যতটুকু আলোচনা আছে তা রীতিমতো বিস্ফোরক। বাবা রামকান্ত দীর্ঘ ১৭ মাস এবং ভাই জগমোহন ২ বছর দেনার দায়ে কারাগারে ছিলেন, কিন্তু রামমোহন সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে তাদের মুক্ত করেননি। ওই সময়ে রামমোহন ব্যস্ত ছিলেন সুদি কারবার ও নতুন নতুন জমি কেনায়। কি অদ্ভুত কান্ড,আমরা এই রকম ভন্ডকে আইডল মেনেছি শত বছর ধরে!