ইউক্রেনের কিয়েভের ভ্রাতৃসংঘ মঠের এক তরুণ ছাত্রকে পাঠানো হয় এক দুর্গম গ্রামে- এক কুমারীর মৃত্যুর পর তার জন্য প্রার্থনা করার দায়িত্বে। কিন্তু প্রথম রাতেই সে টের পায় এক ভয়াল অশরীরী উপস্থিতি। ভগ্নপ্রায় কাঠের গির্জার অভ্যন্তরে পারলৌকিক অস্তিত্বের সঙ্গে লড়াই নিছক নিয়তি নয়, তার সাথে জড়িয়ে আছে নিজের অতীত! তিন রাত ধরে তিনটি চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হয় সে৷ বাস্তবতা আর ভয়াল অলৌকিকের সীমারেখা যখন মুছে যেতে থাকে, তখনই আবির্ভাব ঘটে 'ভিই'-এর...
People consider that Russian writer Nikolai Vasilievich Gogol (Николай Васильевич Гоголь) founded realism in Russian literature. His works include The Overcoat (1842) and Dead Souls (1842).
Ukrainian birth, heritage, and upbringing of Gogol influenced many of his written works among the most beloved in the tradition of Russian-language literature. Most critics see Gogol as the first Russian realist. His biting satire, comic realism, and descriptions of Russian provincials and petty bureaucrats influenced later Russian masters Leo Tolstoy, Ivan Turgenev, and especially Fyodor Dostoyevsky. Gogol wittily said many later Russian maxims.
Gogol first used the techniques of surrealism and the grotesque in his works The Nose, Viy, The Overcoat, and Nevsky Prospekt. Ukrainian upbringing, culture, and folklore influenced his early works, such as Evenings on a Farm near Dikanka . His later writing satirized political corruption in the Russian empire in Dead Souls.
" গোগলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম কোনটি?" এ প্রশ্ন করা হলে উত্তর আসতে পারে - মৃত আত্মারা, ওভারকোট কিংবা তারাস বুলবা। সম্ভবত কেউই "ভিই" এর নাম উল্লেখ করবে না। কিন্তু একজন প্রধান সাহিত্যিকের লেখা অপ্রধান সাহিত্যও নিজ গুণে হয়ে ওঠে ভাস্বর; "ভিই"ও তেমন একটি লেখা।
বর্ণনাবহুলতা, কাব্যময়তা, রসিকতা, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ, কিছু গল্পে অতিপ্রাকৃতের প্রতি ঝোঁক আর এরই মধ্যে রূঢ় সমাজ বাস্তবতা তুলে ধরা - গোগলের রচনার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। "ভিই" সাদা চোখে ভৌতিক গল্প। এক কসাক সর্দারের মেয়ে মারা যাওয়ার পর তার লাশ রাখা হবে গির্জায় আর মৃতের শেষ ইচ্ছা অনুসারে তার পাপী আত্মার মুক্তির জন্য তিন রাত সেখানে প্রার্থনা করতে হবে নায়ককে - এই হচ্ছে পটভূমি। মূল কাহিনি শুরুর আগে আছে কিয়েভের এক ধর্মীয় স্কুলের প্রাত্যহিক জীবনের সুদীর্ঘ চিত্ররূপময় বর্ণনা। গোগল গল্পের পরিবেশ, তৎকালীন মানুষের জীবনযাত্রা, মানসিক অবস্থা ইত্যাদি সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সেই কঠোর নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে মানুষের স্বাভাবিক বিকাশ যে রুদ্ধ হবে তা সহজেই বোঝা যায়। মুখে বড় বড় নৈতিকতার বুলি কপচানো আর সুযোগ পেলেই অপকর্ম করে বেড়ানো ওই সমাজের মানুষের নিয়মিত অভ্যাস। (অন্য কোনো দেশের মানুষের সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছেন? পেলেও বলার দরকার দেখি না।) বয়সে ছোটদের মধ্যে স্বাভাবিকতা থাকলেও বড়দের জীবন মদ তামাকে চুর হয়ে থেকে। ছাত্ররা থাকে অভুক্ত। তারা ছিচকে চুরি বা অন্য অনেক ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে নিয়মিত । মূল চরিত্র "দার্শনিক" হোমা ব্রুত যখন অশরীরী আত্মার মুখোমুখি হয় তখন তার বাঁচার উপায় হচ্ছে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস অটল রাখা। এই বিশ্বাস সে ধরে রাখতে পারবে কি পারবে না তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে লেখকের বাণী, এবং সতর্কবার্তা। "ভিই" এখানে প্রেতাত্মা বা খোদ শয়তান। বিশ্বাসের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শয়তানের চাইতে বিশ্বস্ত আর কে-ইবা আছে?
( পুনশ্চ ১ :শামসুদ্দোহা তৌহীদের অনুবাদ বেশ সাবলীল। গোগলকে নিয়ে লেখা তার সুদীর্ঘ ২৪ পাতার তথ্যবহুল ভূমিকাটি পড়ে ঋদ্ধ হলাম। ইয়েভগেনি ভিক্তোরোভিচ স্পিরিনের উত্তরভাষ গল্পের মর্মার্থ বুঝতে সহায়ক হবে। পুনশ্চ ২ : পাঠ প্রতিক্রিয়া বিবিধ কারণে লিখি। এটা লিখলাম সম্পূর্ণ নিজের জন্য যাতে গল্পটা আরো ভালোভাবে আত্মস্থ করতে পারি।)
খোদ রুশ ভাষা থেকে অনুবাদ। এবং তা সুখপাঠ্য, ভালো অনুবাদ। অনুবাদকের বহু পরিশ্রমে লেখা দীর্ঘ ভূমিকা ও এক রুশ বিশ্লেষকের লেখা উত্তরভাষ এর মূল্য বাড়িয়েছে।
কিন্তু প্রকাশকের তরফে ভেতরের অযত্ন দেখলে খুব মন খারাপ হয়। গোড়ার ভূমিকাংশ ও শেষের টীকা-উত্তরভাষ অংশে খোদ পৃষ্ঠাঙ্কই উধাও। মেকআপের, বানানের সমস্যা তো বাদই দিলাম। ভালো বই মানে শুধু আকর্ষণীয় মলাট, অর্ধেক দামে প্রি-অর্ডার বা নিছক ভালো কাগজ আর বাঁধাই নয়।
অনুবাদক শামসুদ্দোহা তৌহীদের কাজ আগে আমার পড়া হয়নি। তবে এই প্রথম পাঠেই মনে হলো, রুশ সাহিত্য বিষয়ে তিনি আন্তরিক প্যাশন ও ভালোবাসা ধারণ করেন । সেই হিসেবে আরো ভালো কিছু তাঁর প্রাপ্য।
মনে করুন আপনি রাতের বেলা একটা গির্জায় বসে আছেন একাকী। পাশে একটা কফিনে লা*শ রাখা। যার জন্য আপনি প্রার্থনা করে যাচ্ছেন একটানা বাইবেল থেকে। তখন যদি কিছু একটা ঘটে যায় আপনার সাথে পবিত্র জায়গাতেও তাহলে কী হবে? কথা বলছিলাম ভিই নিয়ে। গল্পটা খুব ছোট পরিসরের। গল্পটা শুরু হয় মঠের এক তরুণ ছাত্র হোমা কে নিয়ে। তরুণ বিদ্যান ছাত্রের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা খুবই কম তবে নিজের শিক্ষক বা গুরুর হুকুমে তাকে যেতে হয় দূর এক জায়গায় যেখানে এক শবদেহের জন্য প্রার্থনা করতে হবে। সেখানে গিয়েই ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। সেগুলো বলতে গেলে স্পয়লার দেওয়া হয়ে যাবে। কল্পনা ও বাস্তবতার সেতুবন্ধনে পাঠকের মাঝে প্রশ্ন তৈরী হবে যা ব্যাখা পাওয়া যাবে বইটা শেষ করে। তাছাড়া বইটায় আছে একটা সুন্দর বার্তা যেটা প্রায় সকলের সাথে মিলে যাবে। এবার আসি অনুবাদ নিয়ে। শামসুদ্দোহা তৌহীদ ভাইয়ের অনুবাদ এই প্রথম পড়া হলো। রুশ থেকে সরাসরি অনুবাদ করেছেন তিনি। অনুবাদ অনেক ভালো হয়েছে। তর তর করে পড়া গেছে এক টানা গল্পটা। ভূমিকাতেও এতো বিস্তর লেখাও বেশ আগ্রহী করেছিল উনার লেখায়। সর্বোপরি উনার কাছে আরো অনুবাদের প্রত্যাশা রাখা যায়। বইয়ে অনেক নতুন নতুন শব্দ ছিল যেগুলো ফুটনোট আকারে দিলেই ভালো হতো। বার বার শেষ পাতা গিয়ে তার অর্থ বের করে পড়তে হচ্ছিল যার জন্য পড়ার মনোযোগ চলে যাচ্ছিল। শুভকামনা রইল শামসুদ্দোহা ভাইর জন্য। রুশ সাহিত্য নিয়ে আরো দারুণ সব বই আসুক উনার হাত ধরে।
তোমার পাপ থাকতে পারে, দুর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু যদি তুমি জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করো, তাহলে সেই ত্যাগ সবকিছু পুষিয়ে দেয়। -নিকোলাই গোগল প্রসঙ্গে ইয়েভগেনি ভিক্তোরোভিচ স্পিরিন
সাহিত্যের কিছু কিছু বইকে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না, এক-দু পাতায় পুরো গল্পকে বিশ্লেষণ করা যায় না। সচরাচর এসব গল্প বা বই কালের পরিক্রমা উত্তীর্ণ করে বছরের পর বছর ধরে টিকে থাকে সাহিত্যপ্রেমীদের উচ্চশিখরে। এসব গল্প সাহিত্য গবেষকদের গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। সাহিত্য নিয়ে যারা পড়াশোনা করছে তাদের “টেক্সট বই” হয়ে দাঁড়ায়। চাইলেই এসব গল্প নিয়ে পাতার পর পাতা লেখা যায়, বিশ্লেষণ করা যায় প্রতিটা বাক্য, প্রতিটা অনুচ্ছেদ, প্রতিটা চরিত্র। আজকে তেমনই একটা বই নিয়ে কথা বলবো। যা বলবো তা খুবই সামান্য, বৃহৎ দীঘিকে একফোঁটা শিশির দেওয়ার মতো। আজকে কথা বলব প্রথম সার্থক রুশ ভৌতিক গল্প “ভিই” নিয়ে।
এই চমৎকার অথচ ভয়াবহ অতিপ্রাকৃতিক গল্পটা বেশ হাস্যরসাত্মকভাবেই শুরু হয়েছিল। কিয়েভে ভ্রাতৃসংঘ মঠের ছাত্রদের নিয়ে গল্পের সূচনা। ওরা প্রচন্ড লোভী, ঝগড়াটে, কখনো-সখনো চোরও বটে। গোগল প্রায় স্নেহভরে বর্ণনা করেছেন, কীভাবে সকালের ক্লাসের আগে তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করত। ধরা পড়লে বয়সভেদে তাদের ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি দেওয়া হতো, আর এই ধরা পড়ার ব্যাপারটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারই ছিল। তাদের চিরস্থায়ী ক্ষুধা মেটাতে তারা আশপাশের ক্ষেত থেকে কুমড়ো, তরমুজ চুরি করত। কারণ অধিকাংশই ছিল দরিদ্র ও অপুষ্ট। প্রতি বছর জুন মাসে, স্কুলের সমাপ্তিতে, তারা যেন পঙ্গপালের ঝাঁকের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত, নিজ নিজ গ্রামে ফেরার উদ্দেশ্যে।
এমনই তিন ছাত্র, দার্শনিক হোমা ব্রুত, ধর্মতত্ত্ববিদ হালিয়াভা ও অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ গরোবেৎস এক রাতে বাড়ি ফেরার পথে পথ হারায়। গান গাইতে গাইতে রাতের আহার ও আশ্রয় জোগাড়ের আশায় তারা এক খামারবাড়িতে পৌঁছায়। দরজা খুলে দেওয়া এক বুড়ি প্রথমে তাদের প্রত্যাখ্যান করে, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেয়েই আরকি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের অনুনয়ে তিনি নরম হন, তবে আলাদা আলাদা ঘরে তাদের জায়গা হয়। দার্শনিক হোমা ব্রুতের জায়গা হয় খোয়াড়ে, ধর্মতত্ত্ববিদ হালিয়াভার জায়গা হয় ফাঁকা গুদামঘরে আর অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ গরোবেৎসের জায়গা ঘরেই হয়। কিন্তু এটাই কাল হয়ে দাড়ায় তাদের জন্য। হটাৎ করেই আমরা বুঝতে পারি ওই ছোকড়ার দলকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণই নেই, বরং বুড়িই ওদের ভয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গোগল যে শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন, তা এই গল্পেই স্পষ্ট করে ফুটে উঠেছে। মাঝে মাঝে তার লেখার ভিতরে লুকিয়ে থাকা ব্যাঙ্গকে চট করে ধরা যায় না। দুরন্ত গতিতে না পড়ে হালকা ব্রেক কষতে হয়। চিন্তা করতে হয় তিনি সত্যিই কি বোঝাতে চেয়েছেন। “ভিই” সত্যিকার অর্থেই এক শিহরণ জাগানো গল্প, দানব ও শয়তানে পরিপূর্ণ। আর উত্তেজনা ও আবহ নির্মাণে গোগল একেবারে সিদ্ধহস্ত। ডাইনির পিঠে চেপে হোমার সেই রাত্রিকালীন উড়াল একেবারে ভয় ও সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ তৈরি করেছে। আর তার সাথে উপযুক্ত ইলাস্ট্রেশন বইটিকে আরেকধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। কসাক গ্রামের ও গির্জার চারপাশে যে পচনশীল, স্তব্ধ পরিবেশ, তা নিখুঁতভাবে অনুভব করা যাচ্ছিল।
তবু গল্পটির সার্থকতা এখানেই শেষ নয়, আমরা দেখতে পেয়েছি হোমার মতো একজন মানুষ ডাইনির মুখোমুখি হলে প্রকৃতপক্ষে কেমন অনুভব করতে পারে। রূপকথার প্রচলিত রাজকুমার কিংবা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার গল্পের বাহিরে এসে গোগল দুর্ভাগা ছাত্রটির চরিত্রে বাস্তব জীবনের বহু উপাদান বুনে দিয়েছেন। আর তার অস্বস্তি ও ক্রমবর্ধমান আতঙ্ক গল্পজুড়ে প্রবাহিত হয়ে পাঠককে শিহরিত করবেই। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই গল্পের সব উপাদান কিন্তু স্লাভীয় লোককথায় পাওয়া যায় না। অর্থাৎ কিছু অতিপ্রাকৃত চরিত্রের সৃষ্টি লেখক নিজেই করেছেন।
আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে লেখকের জীবন। শুরুতে লেখককে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকায় রুশ সাহিত্যে তার প্রভাব আর অবদান সম্পর্কে বেশ স্পষ্ট একটা ধারণা পাবেন। তিনি রুশীয় নাকি ইউক্রেনীয় এই নিয়েও বেশ ইন্টারেস্টিং একটা বিতর্ক আছে। সেখানে নাহয় নাই গেলাম, বইতে পাবেন। আরেকটা ব্যাপার, এমনকি সোভিয়েত যুগেও গোগলের প্রতিভা অস্বীকার করা যায়নি, সোভিয়েতরা তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করেছে। এতটাই প্রবল প্রভাব তার প্রতিভার যে প্রথম সোভিয়েত ভৌতিক চলচ্চিত্রই ছিল “ভিই” (১৯৬৭)।
দেখেন শুরুতে যেমন বলেছি, এই গল্পটাকে চাইলে ভেঙ্গেচুড়ে অনেক কিছু বিশ্লেষণ করা সম্ভব। স্টাডি করার কত অনেক অনেক উপাদান এই ছোট্ট বইটিতে আছে। এখন সেই বিস্তারিত আলোচনায় গেলে লেখা অনেক অনেক বড় হয়ে যাবে, তাই সে আলোচনায় যাবো না। এতটুকু বলে রাখি স্বয়ং অনুবাদকই ভূমিকা লিখতে গিয়ে গোগলের জীবনী আর লেখা সম্পর্কে অনেক দীর্ঘায়িত আলোচনা করেছেন। সে আলোচনার সাথে সাথে আবার দেড় পাতার অনুবাদ প্রসঙ্গও আছে। তবে সত্যিকার অর্থে ওগুলো পড়তে মোটেই বিরক্তবোধ করিনি। বরং বেশ ভালোই লাগছিল। অনেক নতুন নতুন জিনিস শিখতে পেরেছি। আবার বইয়ের একেবারে শেষে ইয়েভগেনি ভিক্তোরোভিচ স্পিরিন এর কথা আছে। এই ভদ্রলোক “মিনি রাদুগা প্রজেক্ট” নিয়ে কাজ করছেন। রুশ সাহিত্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার এক বৃহৎ প্রয়াস। তিনি নিজেও “ভিই” গল্পটা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, প্রশ্নের আকারে কিছু ভিন্নদিক তুলে ধরেছেন। সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব না স্পয়লার হয়ে যাওয়ার ভয়ে। শুধু এতটুকুই বলব, বইটা পড়েন। অনেক কিছু জানতে পারবেন, অনেক কিছু শিখতে পারবেন।
আমার সেলফে একটা আলাদা তাক আছে। যেখানে আমি এমন কিছু বই গুছিয়ে রেখে দিয়েছি যেগুলো বারবার পড়া যায়, বারবার পড়তে হয়। প্রতিবার পড়ার সময় একেকটা ভিন্ন ভিন্ন দিক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়। “ভিই” সেলফের সেই জায়গায় নিজেকে স্থান করে নিলো।
অনুবাদ প্রসঙ্গে বলবো, একেবারে যথার্থ অনুবাদ। সরাসরি রুশ ভাষা থেকে অনুবাদ করেছেন শামসুদ্দোহা তৌহিদ। এবং বইটা পড়ে স্পষ্ট বুঝছিলাম তিনি বেশ যত্ন করে অনুবাদ করেছেন। রুশ সাহিত্য, বিশেষ করে গোগল তার কাছে প্যাশনের একটা জায়গা। আর এই প্যাশনের সাথে যোগ হয়েছে তার মেধা এবং গবেষণা। সরাসরি রুশ ভাষা থেকে অনুবাদ করায় “রুসালকা” বা “সোৎনিক” এর মতো কিছু কিছু টার্ম সম্পর্কে নতুন জানতে পেরেছি যেগুলো ইংরেজি বইতে পাইনি। সে অর্থে ইংরেজি অনুবাদের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে এই অনুবাদখানা।
সম্পাদনায় টুকটাক ভুল ছিল তবে that was within the limit. টীকাগুলো বইয়ের শেষে না দিয়ে সম্পৃক্ত পৃষ্ঠার ফুটনোটে দিলে ভালো হতো। বারবার পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখতে কার ভালো লাগে বলুন। তবে টীকায় থাকা তথ্যগুলো বেশ চমৎকার ছিল, গল্পটাকে বুঝতে কাজে লেগেছে। প্রচ্ছদটা বেশ পছন্দ হয়েছে। তবে তারচেয়েও বেশি পছন্দ হয়েছে বইয়ের পুস্তানিটা। অনেকক্ষণ চেয়ে চেয়ে দেখলাম। বইয়ের ভিতরে বেশ অনেকগুলো ইলাস্ট্রেশন ছিল। সেগুলোও যথার্থ লেগেছে। বইয়ের সাথে দুটো ভিউকার্ড ছিল। বেশ শৈল্পিকই বটে।
আজকে এ পর্যন্তই, অলৌকিতার সীমারেখা ধরে হাঁটতে চাইলে এই বইটা হাতে নিন। তবে সাবধান, “ভিই” জিনিসটা কি সে সম্পর্কে সতর্কভাবে এড়িয়ে গেলাম। খুঁজে বের করুন “ভিই” আসলে কি।
রুশ সাহিত্য আমার তুলনামূলক ভাবে বেশ কম পড়া হয়েছে। ছেলেবেলায় পড়েছি রুশ রূপকথা; কৈশোরে বিচ্ছিন্ন ভাবে পড়া হয়েছে রুশ ছোটগল্প; আর একটু বড় হওয়ার পর পড়া হয়েছে হাতে গোনা কিছু উপন্যাস। তবে রুশ হরর জনরার কিছু পড়া হয়ে ওঠেনি। হরর থ্রিলার লাভার হওয়ায় নিকোলাস গোগলের 'ভিই' বইটির ব্যাপারে আগ্রহী হই ঠিক এই কারণেই। ১৮৩৫ সালে রচিত এই গল্পটি প্রথম সার্থক রুশ হরর জনরার গল্প। এটাও বইটি পড়তে আগ্রহী হবার অন্যতম কারণ।
ছোট পরিসরে রচিত গল্পটির কাহিনী আবর্তিত হয় হোমা ব্রুত নামের এক দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রকে ঘিরে যে তার আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে এক রাতে পথ হারিয়ে এক বৃদ্ধার কুঁড়েঘরে আশ্রয় নেয়। কিন্তু এক সময় হোমা বুঝতে পারে সেই বৃদ্ধা আসলে একটা ডাইনী যে কিনা হোমার পিঠে চড়ে তাকে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। পরবর্তীতে হোমাকে এক ধনী কসাক নেতার সুন্দরী মেয়ের শেষকৃত্যে তিন রাত ধরে প্রার্থনা করার আদেশ দেয়। কিন্তু গির্জায় গিয়ে মৃতদেহকে ঘিরে প্রার্থনা করতে গিয়ে বুঝতে পারে, এই মেয়েটিই সেই ডাইনি যে প্রতিশোধ নিতে চায়। তিন রাত ধরে গির্জার ভেতরে হোমার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয় এবং ঘটে এক পরিণতি।
হরর জনরার বই হিসেবে চরম পর্যায়ের ভৌতিক গল্প মনে হয়নি। তবে বইটি পড়ে ভালো লেগেছে। বিশেষ করে অনুবাদের কথা আলাদা করে বলতে হয়! ঝরঝরে সুন্দর অনুবাদ হয়েছে বলে পড়ে আরাম লেগেছে। তবে বইয়ের নতুন নতুন শব্দগুলো বইয়ের শেষে টিকা হিসেবে না দিয়ে প্রতি পাতায় ফুটনোট হিসেবে দেওয়া যেতো। বার বার বইয়ের শেষের পাতায় গিয়ে গিয়ে শব্দের অর্থ উদ্ধার করতে বিরক্তির উদ্রেক হচ্ছিলো।
নটিলাসের বাকি বইগুলোর মতো এই বইয়ের প্রোডাকশনও অত্যন্ত ভালো হয়েছে। প্রচ্ছদখানাও খুব ভালো লেগেছে। রুশ সাহিত্য যারা পছন্দ করেন কিংবা হরর জনরার বই তারা নিঃসন্দেহে হাতে তুলে নিতে পারেন বইখানা।
খুব ভালো ভৌতিক অনুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে এই বইটা আমি পড়া শুরু করি নাই। যেহেতু আমার আগে কখনো নিকোলাই গোগলের কোনো লেখা পড়া হয় নাই, তাই নিকোলাই গোগলের সাহিত্যে প্রবেশ করার জন্যই মূলত এই বইটা বেছে নেওয়া। অবশ্য ভিই বেছে নেওয়ার আরো একটা কারণ ছিল। কারণটা এই যে— ননী ভৌমিক, মশিউল আলম, অরুণ সোমদের অনুবাদ তো পড়া হয়েছে, এবার নাহয় একটু দেখা যাক শামসুদ্দোহা তৌহীদের রুশ সাহিত্য অনুবাদ কেমন লাগে। এবং বলতেই হচ্ছে, খুব চমৎকার অনুবাদ করেছেন তিনি।
রাশিয়ান উপকথার ভক্ত আমি সেই ছোটবেলা থেকেই। যদিও ওইভাবে আলাদা করে রুশ সাহিত্য পড়া হয় নি। তাই এই বইটা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠি। ১৮৩৫ সালে রচিত এই গল্পটি প্রথম সার্থক রুশ ভৌতিক গল্প।
গল্পটি গড়ে উঠেছে হোমা ব্রুত নামের এক দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রকে কেন্দ্র করে। সে এবং তার দুই বন্ধু এক রাতে পথ হারিয়ে এক বৃদ্ধার কুঁড়েঘরে আশ্রয় নেয়। সেই বৃদ্ধা আসলে একজন ডাইনি, যে হোমার পিঠে চড়ে তাকে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। পরবর্তীতে হোমাকে এক ধনী কসাক নেতার সুন্দরী মেয়ের শেষকৃত্যে তিন রাত ধরে প্রার্থনা করার আদেশ দেওয়া হয়। হোমা বুঝতে পারে, এই মেয়েটিই সেই ডাইনি যে প্রতিশোধ নিতে চায়। তিন রাত ধরে গির্জার ভেতরে হোমার যে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়, সেটিই গল্পের মূল ভিত্তি।
ক্লাসিক হরর হিসাবে এই গল্পটা পড়ার পর সত্যি বলতে আমার অনুভূতিটা অন্যরকম। কাহিনী অনেক প্রেডিক্টেবল এবং আমি কোন ভয়ই পাইনি। কিন্তু পড়ার সময় মনে হয়েছে কুয়াশাচ্ছন্ন কোনো ইউক্রেনীয় গ্রামে আমি নিজেই দাঁড়িয়ে আছি।
১৮শ শতকের রাশিয়ান জনজীবন, সেখানকার ছাত্রদের জীবনযাপন, কসাকদের কালচার, তাদের কুসংস্কার, এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার যে চিত্র, গোগল এত চমৎকারভাবে এঁকেছেন যে মনে হচ্ছিল ওই সময়ের ভেতরে ঢুকে গেছি।
গোগল খুব সাধারণ বর্ণনা দিয়ে শুরু করলেও ধীরে ধীরে ওই গুমোট এবং রহস্যময় পরিবেশকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে পাঠকের মনে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়।
এই গল্পটার সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দিক হলো লোকগাথার ব্যবহার। 'ভিই' চরিত্রটি ইউক্রেনীয় লোকগাথা থেকে নেওয়া। এটি এমন এক দানব যার চোখের পাতা মাটি পর্যন্ত ঝুলে থাকে এবং সে একবার তাকালে কেউ বাঁচতে পারে না। গোগল এই মিথলজিকে চমৎকারভাবে আধুনিক সাহিত্যে জায়গা দিয়েছেন।
অনুবাদ অনেক সাবলীল। অনুবাদকের আরও কাজ পড়ার ইচ্ছা রাখি।
যারা ভয়ের চেয়ে ক্লাসিক লিটারেচারের কালচারাল ভ্যালু বেশি পছন্দ করেন, তারা একবার ট্রাই করতে পারেন।
ইউক্রেনের কিয়েভের ভ্রাতৃসংঘ মঠের এক তরুণ ছাত্র বোমা ব্রুতকে পাঠানো হলো এক দুর্গম গ্রামে। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন কুমারীর মৃত্যুর পর তার জন্য শেষকৃত্যের তিনরাত ধরে প্রার্থনা করার। কিন্তু প্রথম রাতেই সে বুঝতে পারে মৃতা কুমারী মেয়েটি কোনো সাধারণ মেয়ে নয় বরং একজন ডাইনি। মেয়েটি লাশ অতি প্রাচীন এক গির্জার ভেতরে যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে সে প্রার্থনা করার জন্য উপস্থিত হয়ে দেখতে পায় এক ভয়াল অশরীরীর উপস্থিতি। ভগ্নপ্রায় কাঠের গীর্জার অভ্যন্তরে পারলৌকিক সেই অস্তিত্বের সাথে সে তরুন ছাত্রের লড়াই নিছক নিয়তি ছিল না বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে নিজের অতীত জীবনের বহু অপকর্ম আর অসংখ্য নোংরা কাজের ফিরিস্তি! তিন রাত ধরে তিনটি চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হয় সে। বাস্তব ও অলৌকিকতার মাঝে সীমারেখা যখন অবশেষে মুছে যেতে থাকে, তখনই আবির্ভাব ঘটে সীমাহীন ক্ষমতার ভৌতিক চরিত্র ‘ভিই’-এর। কে এই ভিই? কী তার পরিচয়? ভয়াল পরলৌকিক এই অস্তিত্বের আবির্ভাবের সাথে গির্জার ভেতরে শেষ পর্যন্ত কী ঘটলো সেটা জানতে হলে পড়তে হবে রাশিয়ান হরর সাহিত্যের অসাধারণ অনুবাদের এই বইটি!
আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নেমেছে, ভাবলাম এইটাই ভূতের গল্প পড়ার সময়! হাতে নিলাম সরাসরি রুশ থেকে অনুবাদ করা ভিই। কিছুক্ষণ পড়েই মনে হল ঠিক জমছে না। এইটা কি অনুবাদের সমস্যা, না গল্পটাই ভাল লাগছে না?
এক জায়গায় বেশ খটমট লাগলো: "এরকম লড়াইয়ে একবারের জন্য হলেও যদি অধ্যাপক অংশ নিয়ে থাকতেন, তাহলে শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই ছাত্রদের মারমুখী ভঙ্গি দেখে বুঝে ফেলতেন লড়াইটা মন্দ হয়নি।" কথাটা পরিষ্কার লাগছে? আসলে ইংরেজিতে ভাবটা হচ্ছে “একজন অধ্যাপক, যিনি নিজে একসময় এই ধরণের লড়াইয়ে অংশ নিতেন।” অর্থটাই পাল্টে যায়। একবার এই চিন্তাটা মাথায় ঢুকলে পরে সব জায়গাতেই চোখ ওই দিকেই চলে যায়... এখন বলতে পারেন যে অনুবাদক রুশ থেকে সরাসরি অনুবাদ করেছেন তাই ইংরেজির সাথে হয়তো মিলেনা বা কিছুটা খটমট? আমি এইটা চেক করার জন্য Claude দিয়ে নিজে অনুবাদ করালাম সরাসরি রুশ ভার্শন থেকে। সেখানেও অনুবাদ আসলো এরকমঃ "অধ্যাপক ঢোকেন, এমন কোনো লড়াইয়ে নিজেও একদা যোগ দিয়েছিলেন বলে এক ঝলক চোখ বুলিয়েই বুঝে যেতেন বিষয়টা " আরেক জায়গায় দেখা গেল, ক্যারেক্টার নাকি “মৌন মুহূর্তের সুযোগ পেয়ে ছুটে বেরিয়ে এল”, যেখানে ইংরেজিতে ছিল কোন কথা না বলে শান্তভাবে বেরিয়ে যাওয়া আর ঠিক পরের লাইন “হোমা দৌড়াতে দৌড়াতে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে নেমে…” কিন্তু ইংরেজিতে: “Lost in thought, he descended the steep flight of steps” আমার AI দিয়ে করা সরাসরি রুশ ভাষা থেকে অনুবাদঃ "বিচার-ভাবনায় ডুবে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল" মানে লোকটা দৌড়াচ্ছে না, চিন্তা করতে করতে নামছে। আবার রুম থেকে 'ছুটেও' বের হয়নি।
আমি Creative liberty হিসাবেও মানতে পারলাম না কারণ এইটুক কারণে দৃশ্যের অর্থই পাল্টে যাচ্ছে। literary translation-এ atmosphere খুব important। ভূতের গল্পে তো আরও বেশি। সেখানে “চুপচাপ বেরিয়ে যাওয়া” আর “সুযোগ পেয়ে ছুটে বেরিয়ে আসা” completely different emotional beat তৈরি করে।
রাশিয়ান বাথহাউস বা ‘বানিয়া’-তে বার্চ গাছের ডাল দিয়ে শরীরে আঘাত করে এক ধরনের স্টিম-ম্যাসাজ নেওয়ার ঐতিহ্য আছে। মূল বইয়ের এই ডার্ক জোকটাকে অনুবাদক শুধু “স্নানঘর যাওয়ার আর দরকার হবে না” লিখে দিয়েছেন। ফলে “এমন মালিশ করবো যে পরে আর স্নানঘরে যেতে হবে না” এই কথার প্রেক্ষাপটটাই হারিয়ে গেছে, বাঙালি পাঠকের কাছেও ব্যাপারটা খানিক অর্থহীন লাগে (কচি গাছের ডাল দিয়ে পিটালে স্নানঘরে কেন যেতে হবেনা?)। এখানে ‘স্নানঘর’এর বদলে ‘হাম্মাম’ শব্দটা ব্যবহার করলে অন্তত ওই স্টিমবাথের সাংস্কৃতিক ধারণাটা অনেক ভালোভাবে ফুটে উঠত (যদিও এক না কিন্তু শর্টকাটে অন্তত বুঝানো যায়)।
আরেকটা উদাহরণ হলো Latin seminary title “Domine”কে “প্রভু” হিসেবে অনুবাদ করা। প্রসঙ্গ অনুযায়ী এটা বেশ বেমানান শোনায়। শব্দটা সরাসরি “ডোমিনে” হিসেবেই রেখে দিলেও বরং মূল পরিবেশ আর টোনটা বেশি বজায় থাকত। আমার এই দিয়ে করা অনুবাদেও দেখলাম 'ডোমিনে' রেখেছে।
এরকম আরও টুকিটাকি কিছু ব্যাপার পছন্দ হয়নি। শেষ পর্যন্ত কাহিনীতেও আর মন বসাতে পারিনি তাই কিছুটা বিরক্ত হয়েই শেষ করলাম। অল্প যা কিছু রিভিউ দেখলাম, অনেকেই অনুবাদটা সাবলীল বলেছে। হয়তো আমার সাথেই ঠিক ক্লিক করেনি। হয়তো ভালো অনুবাদ হলে গল্পটা অন্যরকম লাগতো...
“ভিই” গল্পটিকে প্রায়শই রাশিয়ান সাহিত্যের প্রথম সফল বা সার্থক হরর গল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গল্পে বাস্তব এবং অলৌকিকতার এক ভয়ংকর মিশ্রণ দেখা যায়। কিয়েভের ভ্রাতৃসংঘ মঠের একজন তরুণ ছাত্র,হোমা ব্রুত।ছুটির সময় হোমা ব্রুত এবং তার দুই বন্ধু(হালিয়াভা,তিবেরি),সেমিনারির ছাত্র পথ হারিয়ে এক প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছায় এবং রাত কাটানোর জন্য একটি পুরনো খামার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।সেখানেই হোমার সাথে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে।পরবর্তীতে গল্পের মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছে তারই অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা’র বর্ণনা। এই আধিভৌতিক গল্পের মাধ্যমে নিকোলাই গোগল কিছু গভীর বার্তা তুলে ধরেছেন। জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে, যখন যুক্তি ও বিশ্বাস রক্ষা করা জরুরি, তখন মানুষের দুর্বলতা ও ভয়ই তার পতনের কারণ হয়। “ভিই” গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলোঃ“মানুষ তার নিজের ভয় ও কৌতূহলের কাছেই পরাজিত হয়, এবং সেই মানসিক দুর্বলতাই তাকে নিয়তির কাছে টেনে নিয়ে যায়।”
➡️বইটিতে অনেক রুশ এবং ইউক্রেনীয় শব্দের ব্যবহার হয়েছে। সে হিসেবে একেবারে বইয়ের শেষে টীকা-টিপ্পনী না দিয়ে; প্রতি পৃষ্ঠার শেষে ফুটনোট আকারে টীকা গুলো দিলে ভালো হতো। এর ফলে পড়তে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে,কেননা এসকল অপরিচিত শব্দগুলো’র অর্থ খুঁজতে গিয়ে বার বার পিছনের পাতা উল্টানো লাগছিল!
সবশেষে বলতে চাই,কেবলমাত্র হরর উপন্যাস ভেবে বইটি পড়তে যাবেন না।মূলত হরর এর হালকা মিশেলে ভিন্ন মেসেজ দেয়াই ছিল গোগল এর এই গল্পটির মূল উদ্দেশ্য।
গল্প ১০/১০। গোগল ১০/১০। তাহলে ৩/৫ কেন? কারণটা হলো অনুবাদ। প্রাঞ্জলতার কমতি ছিল এমন না তবে রুশ ও ইউক্রেনীয় সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে রাখতে একটু বেশিই ধরে রাখা হয়েছে যেটার জন্য পড়তে সময় বেশি লেগেছে এবং পড়ার ফ্লো টাও কমে গেছে। কিছু কিছু যায়গায় সহজবোধ্য শব্দের জায়গায় অনেক কঠিন শব্দ যা এখন আর কেউ তেমন একটা ব্যবহার করে না সেইসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। টীকা টিপ্পনী গুলো বইয়ের শেষে দেয়াটা ছিল এই বইয়ের সবচেয়ে বড় ডিজাস্টার। বারবার পৃষ্টা উলটিয়ে উলটিয়ে এই টীকা টিপ্পনী দেখাটা বেশ বিরক্তিকর ছিল। আগের দিনের রুশ বইগুলোতে সুন্দর যে পৃষ্টার টীকা সেটা সেই পৃষ্টার নিচে ছোট করে লেখা থাকতো, এখানেও সেটা করলে মানানসই হতো বেশি। ওভারঅল আ গুড রিড বাট এই অনুবাদটা মেবি নট।
একটা গথিক হরর বড় গল্প যেখানে তৎকালীন চার্চের ছাত্রদের অবস্থা ফুটে উঠেছে, সাথে উপরাশিয়ান কসাকদের সামাজিক হালচাল।
গল্পটা মোটামুটি ভালো তবে এখানে অনুবাদের জন্য কোনো রেটিং দিই নাই, অসংগতিপূর্ণ লেগেছে। ননী ভৌমিক, অরুন সোমের মত অনুবাদের অযথাই চেষ্টা ছিল কিন্তু কেন ছিল? রাশান গল্প বলে? নাকি অনুবাদক প্রথা থেকে বের হতে চাননি।
ভিই নামকরণ কেন? গোগল এখানে নতুন একটি ভৌতিক উপাদান এনেছেন এটা হয়ত বলা যায়। গল্পটার শেষে আসলে ভৌতিক ব্যাপারটা ছাপিয়ে নৈতিক চরিত্র বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হয়েছে।