নীরেন ভাদুড়ি সমগ্রের ৩য় খণ্ডে রয়েছে মোটে দুটো গল্প। এরমধ্যে একটা বহুল আকাঙ্ক্ষিত মহাসিন্ধুর ওপার থেকে এর একটা অংশ। সত্যি বলতে, এই গল্পটির শেষ জানার জন্যই বইটা কেনা। কিন্তু লেখক এটাকে এই খণ্ডেও শেষ করেননি। এটা কেবল মধ্যপর্ব।
এক উপন্যাসে কী আসেনি! মিথ, ইতিহাস, ম্যাজিক, ধাঁধাঁ, রোমান্স, রাজনীতি, ধর্ম সবই পুরে দিয়েছেন এক উপন্যাসে!
তিতাসকে উদ্ধারের জন্য এবার ইরাক আর সিরিয়াতে যেতে হয় অপালা আর সঞ্জয়কে। এদিকে পল্লব আর রোশনিও অন্য ব্যবস্থায় ইরাক যেতে চায় কিন্তু মাঝপথে জ*ঙ্গিদের কবলে পড়ে।
সাবপ্লট হিসেবে তারিকের কাহিনী এসেছে। অন্য একটা মিথে গিলগামেশের গল্পও চলে এসেছে! হালাকু খাঁ, যিনি বাগদাদ ধ্বংস করেছিলেন, এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
অনেক কিছুর মিশেল থাকলেও গল্পটা আমার মতে ঠিক জমেনি, রসের অভাব রয়েছে। এই মধ্য পর্ব, যেখানে কেবল ইনান্নার দণ্ড খুঁজে বের করতে ব্যায় হয়েছে প্রায় ৩০০ পাতা, সত্যিই এতটা দরকার ছিল কি না তা ভাবার বিষয়।
আর প্রথম নভেলাটার নাম হচ্ছে, কে প্রথম কাছে এসেছি।
এটা নীরেন ভাদুড়ির ব্যাকস্টোরি। কী করে তাঁর গুরু রামদাস ঠাকুরের সাথে দেখা হল, সেই গল্পই লেখক ফেঁদেছেন দার্জিলিং এর লেবং উপত্যকার পটভূমিতে। ছোট্ট, সরল প্লট। রামদাস ঠাকুরের মধ্যে যেন কিছুটা রামকৃষ্ণের ছায়া পেলাম। আর নীরেনের মধ্যে বিবেকানন্দের! খারাপ লাগেনি।
দুইয়ে মিলে রেটিং ৩.৫/৫
বইটা দীপ প্রকাশনের।
লেখক: সৌভিক চক্রবর্তী