ইয়াকভ পেরেলমানের এলজেব্রা ক্যান বি ফান বইটি থেকে অনুপ্রাণিত এই বইটিকে বীজগণিতের প্রথম পাঠ বলা যাবে না। এটি ঠিক রেফারেন্স বইও নয়। এই বইটি তাঁদের জন্য লেখা, যাঁরা বীজগণিত বিষয়ে স্কুল পর্যায়ে জ্ঞান রাখেন, কিন্তু বীজগণিতের আসল মজাটা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেননি।
আমরা যখন স্কুলে প্রাথমিক পর্যায় থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে উঠি সাধারণত তখন আমরা বীজগণিতের সাথে পরিচিত হই। অনেকে আবার এরও আগেই পরিচিত হয়ে যায়। আর তখন একটা বিমূর্ত ধারণার সাথে আমাদের পরিচয় হয় যেটা হলো "চলক বা x"। আমরা বারবার নিজেদের প্রশ্ন করি কি এই চলক, কেন এটা ব্যবহার করি। কিন্তু বুঝতে পারি না।
আইন্সটাইনও এই চলক নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতেন, কিন্তু বুঝতে পারতেন না। একদিন আইন্সটাইন ও তার চাচা শিকারে বেড়িয়েছেন। তখন তিনি তার চাচাকে প্রশ্ন করলেন, " চাচা বীজগণিতে যে আমরা চলক ধরে, x ধরে অংক করি, কেন চলক ধরে অংক করতে হয়?" তার চাচা বলেন, "আইন্সটাইন এই যে আমরা শিকারে যাচ্ছি আমরা কি জানি আমরা কি শিকার করতে পারবো বা কিছু শিকার করতে পারবো কিনা? আমরা বলতে পারবো না, তাই আমরা এই অজানা বা অনিশ্চিত জিনিসটাকে একটা রূপ দেই। ধরো আমি চিন্তা করলাম আজকে আমরা x শিকার করবো। যদি আজকে আমরা পাখি শিকার করি তাহলে x হবে পাখি, যদি বাঘ শিকার করি তাহলে x হবে বাঘ! আমরা যাতে অজানা কিছু নিয়ে কাজ করে যেতে পারি তাই চলক ধরে নিতে হয়!" কী সুন্দর ব্যাখ্যা! তাই আমরা যারা প্রশ্ন করি, তাদের সাথে আইন্সটাইনের চিন্তার মিল আছে। আমরা কোনো কিছু না বুঝে মেনে নেই না। আর বীজগণিতের এই সুন্দর বিষয়গুলো নিয়ে লেখা হয়েছে, প্রাণের মাঝে গণিত বাজে সিরিজের ২য় বই "বীজগণিতের গান"!
বইটি ইয়াকভ পেরেলমানের বই " আলজেব্রা ক্যান বি ফান" থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। এটি বীজগণিতের একটি সহায়ক বই। "বিজ্ঞান শিখতে হলে সূত্রের চেয়ে সমস্যা অধ্যয়নই বেশি কার্যকর " নিউটনের এই কথাটির দৃষ্টান্ত হলো এই বই! যারা বিজ্ঞান শিখার জন্য সমস্যার চেয়ে তত্ত্বকে বেশি প্রাধান্য দেয়। বইটা তাদের চিন্তায় অনেক বড়ো প্রভাব ফেলবে। এখানে সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে উঠে এসেছে সুন্দর সব তত্ত্ব। আর বইতে তোলা হয়েছে বীজগণিতের তিনটি সুর। পাটিগণিতে ৪টি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর বীজগণিতে রয়েছে আরো ৩টি প্রক্রিয়া। আবার বীজগণিত এটাও দেখায় যে পাটিগণিতের ৪টি প্রক্রিয়ার পিছনে শুধু একটা প্রক্রিয়া যোগের খেলা!
বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে সূচক নিয়ে। এখানে দেখানো হয়েছে সূচক না থাকলে গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদদের কি অবস্থা হতো! আর এই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এই বই পড়তে গেলে যেসব প্রশ্ন তৈরী হবে তার উত্তরও এখানেই দেওয়া হয়েছে। আর বইয়ের প্রথম সমস্যাটাই যেকোনো মানুষকে অবাক করে দিবে। আসলে বইয়ের সমস্যাগুলো কাঠখোট্টা কোনো সমস্যা না। এগুলো সেই প্রাচীনকালের বিখ্যাত সমস্যা থেকে, কখনো আবার বিভিন্ন বিখ্যাত উপন্যাস, গল্পের বই থেকে নেওয়া। এর কারণে যেটা হয়েছে, সমস্যা সমাধানের সাথে সাথে বিভিন্ন মানুষের চিন্তা সম্পর্কেও জানা যাবে। বীজগণিতের ৩টি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা যেমন করা হয়েছে, তেমন বীজগণিতকে অনুভব করানোও হয়েছে!
উৎপাদক, বিভাজ্যতা, দ্বিঘাত সমীকরণ, মৌলিক সংখ্যা, ধারা,অনুসমতাসহ নানান বিষয় নিয়ে লেখা হয়েছে সেখানে। এমন একটা সুন্দর বই উপহার দেওয়ার জন্য লেখককের প্রতি অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা! শেষ করবো অয়লারের একটা সমস্যা দিয়ে, ❝দুই কিষাণী বাজারে ডিম বিক্রি করতে গেল। তাদের কাছে ডিম ছিল ১০০ টি, কিন্তু দুজনের ডিম সংখ্যা সমান ছিল না। দিন শেষে ডিম বিক্রি হয়ে গেলে দেখা যায় উভয়েরই ক্রোইৎজার সমান। তখন প্রথমজন দ্বিতীয়জনকে বললো, আমার ডিম সংখ্যা যদি তোমার সমান হত তাহলে আমার ১৫ ক্রোইজার আয় হতো। জবাবে দ্বিতীয়জন বলেন, আমার ডিম সংখ্যা যদি তোমার ডিম সংখ্যার সমান হতো তাহলে আমার (৬ সমস্ত ২÷৩) ক্রোৎজার আয় হতো। শুরুতে কার কতগুলো ডিম ছিল?❞