মনু মাস্টারকে যে কখনো মসজিদের নামাজের কাতারে দেখবে এই ধারণা শিহাবের কখনোই ছিল না। কিন্তু একদিন রাতে এশার জামাতে মনু মাস্টারের সাথে দেখা হলো তার। কথায় কথায় মনু মাস্টার শিহাবকে বোঝালেন ফকিরির সাথে ধর্মের যোগ, আর সেই সাথে এসে উপস্থিত হলো এই সম্পর্কিত লাল মিয়া ফকিরের এক উপাখ্যান। কমলগঞ্জের অভিজাত খাঁ বাড়িতে নেমে এসেছে কালো ছায়া। একের পর এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটছে সেখানে। পোষা প্রাণী মারা যাচ্ছে, বাড়ির লোকের সামনে আচমকা বেরিয়ে আসছে একের পর এক অদ্ভুত প্রাণী। কেউ বলছে জিনের আছর, কেউ আবার মত দিচ্ছে কালো জাদুর পক্ষে। কিন্তু এসব ঘটনার সাথে আলিম খাঁয়ের মেয়ে নুরীর কি সম্পর্ক? কোন উপায়েই কাজ হলো না। দোয়া পড়ানো হলো, তার মধ্যেই ঘটলো অশুভ ঘটনা, তান্ত্রিককে আনা হলো, কিন্তু তান্ত্রিক নিজেই নিজের বাণে অসুস্থ হয়ে পড়লো। শেষ পর্যন্ত লালকে আসতে হলো বাবা আর গুরুদেবের সাথে। কিন্তু যেসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তেমন ঘটনা কেউ কখনো না শুনেছে, না দেখেছে।
লাল বুঝতে পারলো, সে এখন পর্যন্ত অনেক কিছুই শিখেছে বটে, কিন্তু এখানে যা ঘটছে, সেই জ্ঞান তার এখন পর্যন্ত লাভ করা হয়ে ওঠেনি।
*** স্পয়লার আছে *** ঝটপট পড়ে ফেললাম দিবাকর দাসের ‘লাল মিয়া ফকির’ সিরিজের একদম টাটকা প্রকাশিত বই ‘সিয়াহ্’। এবার বেশ ভিন্ন প্লটে লেখক লিখতে চেয়েছেন। ইসলাম ধর্মে কিভাবে কুরআন কে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কুফরি কালাম চালানো হয় তার উপরই লেখকের দৃষ্টি ছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে গিয়ে গল্পের মূল চরিত্র লাল মিয়া ফকিরের ফকিরি কেরামতির কোন নিদর্শন এবার নেই। ফকিরি বিদ্যায় তাকে ডাহা ফেল করাইয়াছেন লেখক মশাই। তাই কিছুটা হতাশ। তবে গল্পের গাঁথুনি দারুণ ছিল। ঝরঝরে লেখা। দিবাকর দাসের লেখা তাই নিয়মিত পড়া হয় ইদানিং।
তয় গল্পের মূল কনসেপ্ট এবং অন্য কিছু ব্যাপার নিয়ে আমার ঘোরতর আপত্তি আছে। কুরআন পুরোপুরি সঠিকভাবে, সহিহ উচ্চারণে পড়তে না পারলে কুরআন পড়া উচিত নয় (শেষ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) এটা একদমই ঠিক না। ইভেন সহিহ বা সঠিক উচ্চারণে না পড়তে পারলে আল্লাহ রুষ্ট হবেন এটাও খুব বড় একটা ভুল। যারা জিহ্বার জড়তার জন্য আরবি সঠিক উচ্চারণ করতে পারবে না তাদের জন্য আল্লাহ্র বিধান কি হবে? কুরআনের মতো এতো বড় নিয়ামত থেকে কি তারা বঞ্চিত হবে? উত্তর হচ্ছে না। বরং কেউ যদি কুরআন পড়তে চেষ্টা করে এবং তাতে ভুল হয় তাহলে ঐ ব্যক্তি দ্বিগুণ পরিমাণ সওয়াব পাবে। এবং আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তির উপর খুশি হয়ে যাবেন। এবং আল্লাহ কুরআনে নিজেই বলেছেন, ‘তিনি কারো ওপর এমন কোনো কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৬)। এছাড়া গুগল করলেই সহিহ বুখারী এবং সহিহ মুসলিমের বেশ কিছু হাদিস পাওয়া যাবে এব্যাপারে।
তো কেউ যদি না বুঝে কুরআনকে অশুদ্ধ কিংবা উল্টা করে পড়ে ফেলে তাতে সে কোনভাবেই শয়তান হয়ে যাবে না। চলুন গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র নুরীর ক্ষেত্রে এটা চেক করি। নুরী কুরআনের অর্থ জানে না। তাই কেউ যদি তাকে ভুল শেখায় এবং উল্টোও শেখায় সেটার দায়ভার সম্পূর্ণ শিক্ষকের। নুরী এখানে শয়তান হয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসবে না। নুরী যদি বুঝে শুনে সজ্ঞানে এই কাজ করতো তবেই না তার দ্বারা কুফরি কালাম প্রয়োগ সম্ভব, শয়তান হওয়া সম্ভব। কিন্তু গল্পে নুরীর তো সেই বোধ বুদ্ধিই নেই। ঠিক এইখানেই গল্পের মূল কনসেপ্টে গোলমাল বেঁধে যাচ্ছে।
আরেকটা ব্যাপারেও একটু দ্বিমত ( অন্য কেউ দ্বিমত নাও হতে পারেন)। কুরআন উল্টা পড়া টা কিছুটা অযৌক্তিক (গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত ধারণা আছে)। তাতে কোন বিপরীত অর্থই তৈরি হয় না (যেকোন ভাষার যেকোন বাক্যের বর্ণ বা শব্দ উল্টালেই তা অর্থ প্রকাশ করতে পারে না)। তাই উল্টা পড়লেই কুফরি কালাম হয়ে যাবে এটা নেহাত গাল গপ্পো। বরং কুরআনটাকে এমনভাবে পড়তে হবে যেন তাতে অর্থটা কুরআনের বিপরীতে যায়। যা আল্লাহর বন্দনার পরিবর্তে হয়ে যাবে শয়তানের বন্দনা। এবং সেটা সজ্ঞানে। এছাড়া বিভিন্ন চক্র কাগজে এঁকে তার মধ্যে আরবি বিভিন্ন সুরাকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করাটাকেও কুফরি কালাম হিসেবে ব্যবহার করতে দেখেছি।
যাইহোক, শুধুই গল্প হিসেবে ঠিক আছে। কিন্তু কুরআন ও কুফরি কালাম নিয়ে লিখতে গেলে আরেকটু জানা শোনার দরকার ছিল। ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে স্পর্শকাতর যায়গা কুরআন। তাই এ ব্যাপারে লিখতে গেলে আরো সজাগ থাকতে হবে। না হলেই ঘটে যাবে বিকৃতি। যেটা কোনভাবেই একজন প্রতিষ্ঠিত লেখকের জন্য কাম্য নয়। পাঠকের জন্যও সুখকর নয়।
একটা ভালো বইয়ের গুণাবলী কি? প্রথমত , বই টা শেষ করার পরেও তার রেশ না কাটা। আর সেই অনুভূতিই হলো দিবাকর দাদার " সিয়াহ" পড়ে। দাদার কালজয়ী সৃষ্টি বলবো আমি লাল মিয়া ফকির কে। আমার কাছে ঈশান রায়ের চেয়েও লাল মিয়া সিরিজ এগিয়ে থাকবে। এই সিরিজের প্রতিটি বই, প্রতিটি কাহিনী জাস্ট অ্যামেজিং এন্ড মাইন্ড ব্লউইং। বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শেষ বাক্য পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখে, বেড়িয়ে নিয়ে আসে অপার্থিব এক জগতে। আর এবারের এই বইতে কুফরী কালামের বিষয়টা এতো নিদারুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে তা সবার জন্য শিক্ষণীয়। আর শেষে যখন লাল মিয়া সূরা ইখলাস পড়ে আর দোআ করে , তা যে কাউকে গুজবাম্প দিতে বাধ্য। যারা অতিপ্রাকৃতিক বা হররের অন্ধ ভক্ত আমার মতো , তাদের জন্য এটা মাস্ট রিড।
শেষ করলাম লাল মিয়া ফকির সিরিজের তৃতীয় বই। সত্যি বলতে শুরুতে আগ্রহ জাগানিয়া হলেও শেষমেশ ঠিক জমেনি। বিশেষত এন্ডিং এ
স্পয়লার** নূরী এক বাচ্চা মেয়ে যার পাপ পূণ্যের কোনো বোধই নেই, তাকে জ্বিনের আছর করাটা যতটা বাস্তবসম্মত, উল্টো কালাম শিক্ষা দিয়ে শয়তানে পরিণত করা ততটাই বাস্তবতা বিবর্জিত। "প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"। যারা কুফরি কালাম চর্চা বা শয়তানের সাধনা করে, তারা জেনে-বুঝে করে। অজান্তেই একজনকে শয়তানে পরিণত করা যায় না। লেখক যথেষ্ট পড়াশোনা করেছেন আমার ধারণা। তার থেকে এমন বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অতি নাটকীয় এন্ডিং আশা করি নাই। সিরিজের প্রথম বইয়ে লালের যেমন বুদ্ধি আর ক্ষমতা ছিলো, দিনদিন যেন কমছে। সিরিজের তৃতীয় বইয়ে তো একেবারেই অনুপস্থিত বলা যায়।
If you’ve read even a small number of horror books, you can easily guess the ending of this one right from the beginning. A story like this shouldn’t rely only on predictability. Every time something happens, it feels too coincidental and completely illogical. How can luck keep helping the characters over and over again?
At the very end, when Nuri helps Lal Mia, it just shouldn’t have been her. In every book, Lal Mia’s father is shown as a man who does nothing, come on, he’s the father, let him take some action for once! And then there are always two or three Tantriks or Fakirs who never manage to do anything useful. Why include them at all? Just to make Lal Mia look smarter? Even though he himself doesn’t actually do anything, just keeps guessing things. That’s honestly funny, not impressive.
And there’s also a major plot hole, at the beginning, the family is deeply sad about Nazif’s mama’s death anniversary. It’s shown as if he was a very important person to them. But where’s his story? Did I miss it? Since this book is part of a series, maybe his story will appear in a future book, but a plot hole like this really k!lls interest in continuing the series. I’m about 80% sure I’ll give up on it.
And I haven’t even mentioned the main story yet, because it’s simply not that interesting.