ডিটেক্টিভ আসিফ কে মনে আছে তো? হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের সেই তুখোড় গোয়েন্দা? অদ্ভুত দক্ষতা আর অসাধারণ বিশ্লেষণী ক্ষমতা- এই দুইয়ের চমৎকার কম্বিনেশন হল ডিটেক্টিভ আসিফ। খুব অল্প দিনেই জটিল কিছু কেইস সমাধানের মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট এ নিজের একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি করে নিয়েছে। আর আসিফের সর্বক্ষণিক সঙ্গী হল জিয়া।
এই দুই গোয়েন্দার রহস্য সমাধানের জগতে আপনাকে স্বাগতম।
Kishor Pasha Imon is a famous Bangladeshi crime writer.
Musa Ibne Mannan, known by the pen name KP Imon, is an accomplished writer who initially gained recognition through his short stories on social media. Over the course of his career, he has written over 220 short stories, captivating his online audience with his vivid imagination and storytelling skills. Building on his success in the digital realm, Imon went on to establish himself as a prominent novelist, with his works being published in both Bangladesh and India.
His regular publishers are Batighar publications, Abosar Prokashona Songstha, and Nalonda in Bangladesh. Abhijan Publishers solely publish his books in India. He is the author of 13 novels and translated 9 books to Bengali till date (5/10/23).
He graduated from the Department of Mechanical Engineering at Rajshahi University of Engineering & Technology. Presently, he resides in Dallas, TX, focusing on his PhD studies in Mechanical Engineering at UT Dallas after completing his MS at Texas State University.
His other addictions are PC gaming, watching cricket, and trekking.
না, ভুল পড়েন নি। সত্যিকার অর্থেই বইটির মূল্য ০০ টাকা। কারণ বইটি কোনো হার্ডকপি নয়। একটু ইবুক। সেঁজুতি পাবলিকেশন্স (একটি অনলাইন প্রকাশনা) থেকে বইটি ২০১৪ সালে ই-বুক আকারে অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং বইটিকে বিনামূল্যে ডাউনলোডের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
অনেকে হয়ত লেখকের নাম দেখে কিছুটা ভ্রু কুচকে ফেলেছেন৷ বইটির লেখক কিশোর পাশা - ৩গোয়েন্দার কিশোর পাশা নন। মিথস্ক্রিয়া, মৃগতৃষা, যে হীরকখন্ডে ঘুমিয়েছে কুকুরদল, ছারপোকা-খ্যাত কিশোর পাশা ইমন। অনেক আগে থেকেই অনলাইনে ছোট গল্প ও থ্রিলার লিখেই তার লেখালেখির শুরু। তখন তার লেখা ডিটেক্টিভ আসিফ সিরিজ বেশ জনপ্রিয় ও ছিল! তাই সেই গল্পগুলোকে একসাথে করে ই-বুক প্রকাশ করে ফেলা হয়!
"ডিটেকটিভ আসিফ সিরিজ"- ২২৪ পৃষ্ঠার বইটিতে ১০+১ = ১০টি গল্প রয়েছে। কিভাবে? সেটিও ব্যাখা করছি। লেখক তার কোনো গল্পের ই আলাদা করে কোনো নাম দেন নি। নামের পরিবর্তে ক্রম ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ "গল্প ১", "গল্প ২"... এভাবে। গল্প ৯ - এরপর আরেকটি গল্প রয়েছে ক্রমবিহীন! ক্রমবিহীন গল্পের পরের গল্পটি আবার " গল্প-১০"। অর্থাৎ ১০টি গল্প, ১টি ফাও!
এবার আসি গল্পে। ডিটেক্টিভ আসিফ সিরিজের গল্পগুলো আরো বাকি ১০টা ডিটেক্টিভ গল্পগুলোর মতোনই! আসিফ আহমেদ হোমিসাইডের সবচেয়ে সফল ডিটেকটিভ। তাঁর সহকারি জিয়া এবং সহকর্মী তৃণা - এই ৩ চরিত্রই কেবল পুরো সিরিজে ধ্রুব।
১১টি গল্পের সবগুলোই ইউনিক। একেক গল্প আপনাকে একেক রকম করে চিন্তা করাবা। চিন্তা করতে করতে যখন আপনার মনে হবে যে কে খুনি আপনি ধরে ফেলেছেন... তখনই গল্প আপনাকে ভুল প্রমান করে বসবে। প্রথম ৪টি গল্পের প্লট কিছুটা একই রকম। তাই খানিকটা এক ঘেয়েমিতা চলে এসেছিল। প্রেম/ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ। দ্বন্দ থেকে খুন। যদিও প্রতিটি গল্পের ই স্টোরি লাইন আলাদা। তবুও কিছুটা বিরক্তি এসে পড়তে পারে।
পঞ্চম গল্প থেকেই ভিন্ন রঙের খেলা শুরু। সমুদ্রের বুকে থাকা ছোট্ট একটি দ্বীপ দানিয়ার চর। টুরিস্ট স্পট হিসেবে ভ্রমনপিপাসুদের কাছে যখন এর চাহিদা বেড়েছে, তখনি চাহিদার যোগান দিতে বিভিন্ন কোম্পানি তৈরি হয়েছে, ট্রিপের ব্যবস্থা করে দিতে। তবে প্রতি ট্রিপেই রহস্যময় চরে খুন হচ্ছে কেউ না কেউ। এই খুনগুলোর পিছনে কার হাত রয়েছে? কোম্পানিগুলোর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী? নাকি দানিয়ার চর দ্বীপেই ঘাটি গেড়ে বসেছে কোনো গোপন শক্তি?
( এই গল্পের প্লট'টা দারুন ছিল। তবে এন্ডিং কিছুটা কনফিউজিং ছিল। আরেকটু ভালো হতে পারতো। )
গল্প- ৬ এ বিষক্রিয়ায় মারা যান সদ্য বিবাহিত কেমিস্ট ফারুক। তবে রহস্যের কোনো কূল কিনারা খুজে পায় না কেউ। কিছুক্ষন পরেই খবর আসে, একই পদ্ধতিতে মারা যায় পাশের বাসার এক দারোয়ান! দুইটি খুনের সম্পর্ক কোথায়? আদৌ কি কোনো যোগসুত্র আছে?
(এই গল্পের ফিনিশিং ছিল সবচেয়ে চমৎকার।)
গল্প ৭ঃ মার্ডার কেসের রহস্য উদঘাটন করতে ফেনীতে ছুটে যায় আসিফ আহমেদ এবং তার সহকারী জিয়া। নিজেদের বাসায় খুন হয়েছেন এক শিক্ষক দম্পত্তি। যারা কিনা মাটির মানুষ। তাদের কোনো শত্রু থাকতে পারে এটাই বিশ্বাস করতে পারে না কেউ! তাহলে কে থাকতে পারে তাদের হত্যাকান্ডের পিছনে? আসলেই কি তাদের কোনো শত্রু ছিল না? তাহলে খুনটা করবেই বা কে?
(পুরো বইয়ে এই গল্পটিই একটু দুর্বল লেগেছে।)
গল্প ৮ঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে খোদ আসিফের সহকারী জিয়া! ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে এই দশা - হোমিসাইডের এই অফিসারের৷ ছিনতাইকারীদের পিছনে ছোটা হোমিসাইডের কাজের আওতায় পড়ে না৷ তাই বলে কি এত সহজেই হাল ছেড়ে দিবে আসিফ? তবে এমন ছিনতাই তো ঢাকা শহরেই রোজই হাজার হাজার হচ্ছে। কিভাবে পাবে এই ছিন্নমূল ছিনতাইকারীর খোজ?
( ১২ পেজের ছোট এই গল্পটি, এই বইয়ের অন্যতম সেরা একটি গল্প!)
গল্প ৯ঃ নিজ বাসায় খুন হয় ব্যবসায়ী খন্দকার হোসাইন। খুন করতে একইসাথে ব্যবহার করা হয়েছে ছুরি এবং বন্দুক! তবে খুনি ধরা ছোয়ার বাইরে। হোমিসাইড অফিসার আসিফ নেমেছে রহস্য উন্মোচনে। গল্পের শেষের টুইস্টটা আপনাকে চমক লাগিয়ে দিবে নিশ্চিত!
ক্রমবিহীন গল্প: সারোয়ার তাহমিদ খুন হয়েছেন ঘুমন্ত অবস্থায়৷ কেউ ঘুমন্ত সারোয়ার তাহমিদের বুকে ছুরি বসিয়ে দিয়েছে। মিসেস দীনা তাহমিদ ঘুম থেকে উঠে এমন অবস্থায় দেখতে পান তার স্বামীকে! তবে বাসার দরজা জানালা সব ভিতর থেকে বন্ধ। দীনা তাহমিদ ছাড়া অন্য কোনো জীবিত ব্যক্তিও নেই বাসায়। সব সন্দেহের তীর দীনা তাহমিদের দিকেই চলে যায়। তবে কে আসল খুনি? দীনা তাহমিদ নিজেই? তবে তার মোটিভটা কি? নাকি পর্দার আড়ালে আছে অন্য কেউ?
(ক্রমবিহীন গল্পটিও ছোট৷ তবে নিঃসন্দেহে বইটির আরেকটি অন্যতম সেরা গল্প!)
গল্প ১০ঃ এই গল্প নিয়ে তেমন কিছুই বলব না! কারণ পুরোটাই সারপ্রাইজ আপনাদের জন্য৷ আমার কাছে পুরো বইয়ের সবচেয়ে ফেভারিট এই গল্পটি!
তবে এই গল্প হয়তো এই সিরিজের নয়৷ কারণ এখানে আসিফের পুরো নাম আসিফ আহমেদ নয় আসিফ জামান৷ আর এখানে আসিফ হোমিসাইড অফিসার নয়। প্রাইভেট ডিটেক্টিভ৷
সবশেষে, বইটি ভালো লেগেছে৷। শার্লকের কিছুটা ফ্লেভার ছিল। যা প্রায় সব ডিটেক্টিভ গল্পেই পাওয়া যায়। ফেলুদা, ব্যোমকেশ... ইত্যাদি ডিটেক্টিভ গল্প এখন আর অনেকের ভালো লাগে না। যুক্তিসঙ্গত কারণও আছে। সেই সময়ের ক্রাইম, ইনভেস্টিগেশন, টেকনোলজি... এখন আর কিছুই তেমনটা নাই! সেদিক থেকে এই সিরিজের গল্পগুলো সেসব পাঠকদের ভালো লাগবে।
বইয়ের আরেকটি জিনিস ভালো লেগেছে, লেখকের মধ্যে কোনো গল্পকেই টেনে অতিরিক্ত বড় করার প্রবণতা দেখা যায় নি৷ গল্পগুলো ছিল Short, simple & Cool!
ই-বুকটি সুন্দর ছিল। বানান ভুলগুলো আরেকবার রিচেক করা যেতো৷ বেশকিছু বানান ভুল ছিল। তবে পাঠকের বইটি পড়তে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়৷।