সো’দপুরের বাইন্দার বিল। লোকে বলে পৃথিবীর প্রথম থেকে নাকি এই বিল এভাবেই আছে। কালো পানির নীচে ঘুরে বেড়ায় দেড় দুই মণি মহাশোল, শয়তানের বাহন গজার, আর না জানা আরো অনেক কিছু। বলা হয় বিলের পানি অভিশপ্ত, পানির নীচে থাকে হাজার বছরের পুরোনো আদিম জলদানো সিন্দুক। সারা গায়ে শেকলের মত আঁকশী দিয়ে সে টেনে নেয় বিলে নামা মানুষদের। পানিতে তাই নামে না কেউ। অনেকে এমনকী দাবি করে নিজের চোখে দেখেছেও সেই দানো কে। গ্রাম থেকে ঘুরতে আসা আত্মীয়ের মুখে কাহিনী শুনে সেখানে রওনা দিলেন নিহিলিন ক্লাবের দুই সদস্য সাদিকুল হক আর রাদি। দেখা যাক ঘটনা আসলে কী। যেতে না যেতেই খুন হল তাদের গাইড আব্দুল্লা। বিলের পানি ফুঁড়ে উঠে এলো কবিরাজ পিরালী। দানোর কথা কি তাহলে সত্যি??
বাইন্দার বিল একটা জনশ্রুতি আছে।এই বিলের অতলে থাকা সিন্দুক মানুষকে টেনে নেয়।শহর থেকে দুজন লোক অনুসন্ধানে যায়। তারপর যা জানা গেল ও যেসব ঘটনা ঘটলো তার জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না।
ক্লাইম্যাক্স মুহূর্তে ধুম করে বইটি শেষ হয়ে গেল,যা রীতিমত চরম হতাশাজনক। আঁকা খুব ভালো, গল্প আরো দীর্ঘ হলে বেশ লাগতো।
অনেক দিন পর কোনো কমিক্স পড়লাম, একেবারে দেশিও কমিক্স। ঢাকা কমিক্সের সাথে এই আমার প্রথম পাঠ অভিজ্ঞতা হলো। “মীনপিশাচ” কমিক্সটির গল্পের আবহ তৈরি হয়েছে রহস্যে মোড়ানো এক লোককথার পটভূমিতে। একে হরর সাইফাই বলা যেতে পারে। সো’দপুরের বাইন্দার বিল, যেখানে পানির নিচে নাকি ঘাপটি মেরে বসে আছে এক আদিম জলদানব। লোকশ্রুতি, অজানা ভয় আর কৌতূহলের টানে নিহিলিন ক্লাবের দুই সদস্য সাদিকুল হক ও রাদির অভিযান শুরু হলে, পাঠক হিসেবে আমরাও তাদের সঙ্গে এডভেঞ্চার যাত্রায় পা রাখি।
গল্পের শুরুটা আকর্ষণীয় এবং পরিবেশ নির্মাণে লেখক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিলের কালো পানির নিচের রহস্য, কবিরাজ পিরালীর আবির্ভাব এবং গাইড আব্দুল্লার রহস্যজনক মৃত্যু-সব মিলিয়ে কাহিনিতে সাসপেন্স ও থ্রিলের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গল্পটি যখন ঠিক জমে উঠছে, তখনই হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যায়। যেন ক্লাইম্যাক্স আসার আগেই পর্দা নেমে গেল।
আর্টওয়ার্ক অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। চরিত্রগুলোর এক্সপ্রেশন, পরিবেশের গা ছমছমে মুড সবই বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু গল্পের দৈর্ঘ্য ও পরিণতি আরেকটু বড় আশা করেছিলাম। কাহিনিটি আরও খানিকটা বিস্তৃত হলে গল্পটা আরো ভালো লাগত। কাহিনীকার যদি চরিত্রগুলোর ব্যাক স্টোরি, দানবের উৎস এবং বিলের অতীত ইতিহাস তুলে ধরত তাহলে এই কাহিনী একেবারে জমজমাট হত।
আশা করি ভবিষ্যতে এই কাহিনির কোনো সিক্যুয়েল দেখা যাবে।
আর্টওয়ার্ক্স গুলো দারুন। কিন্তু গল্প তেমন জবরদস্ত না। এটার কোনো সিক্যুয়েল বের হয়েছে বলে তো জানা নেই তবে থাকলে ভালো হয়। আরেকটু কিছু থ্রিলিং আনলে গল্প জমবে।
আর্ট খুবি ভাল, অসাধারনই বলা যায়। কিন্তু গল্প বলতে কিছু নাই। মিনিমাম একটা স্টোরি থাকা লাগে, সেটাও নাই। সেটা কি সিকুয়েল এর জন্য রেখে দেয়া হয়েছে নাকি, তাও বুঝলাম না। কনফিউজিং।