সমরেশ বসুর কালজয়ী সৃষ্টি ‘দেখি নাই ফিরে’। যে উপন্যাসে শিল্পী রামকিঙ্কর বেজ-এর বহুবর্ণ জীবন ও সাধনাকে তিনি চিত্রিত করেছেন নিজস্ব ভাষা, সংলাপ ও বর্ণনায়। সমরেশের আকস্মিক প্রয়াণের পরে, ‘দেখি নাই ফিরে’ রামকিঙ্করের বহুবর্ণ জীবনকাহিনিরও যেন হঠাৎ সমাপ্তি। দু’জনের যুগলবন্দিতে সেই কীর্তি হয়ে উঠেছিল বিংশ শতাব্দীর শেষদিকের উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক বিষয়। এই গ্রন্থ সমরেশ বসুর প্রয়াণের পঁয়ত্রিশ বছর পরে নবকুমার বসুর ব্যতিক্রমী স্মৃতিতর্পণ তথা আলেখ্য, যা একইসঙ্গে কিংবদন্তি লেখকের শেষজীবন ও তাঁর শেষ না হওয়া উপন্যাস ‘দেখি নাই ফিরে’-র নিবিড় প্রস্তুতি-নিষ্ঠা আর অক্লান্ত শ্রমের দিগন্তকে উন্মোচিত করেছে। সেই অসামান্য কীর্তির অনেক অজানা, অল্প জানা ঘটনা, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বিবরণ, সমরেশের ব্যক্তি জীবনের বিবিধ সময় উঠে এসেছে এই রচনায়। যা চিত্তাকর্ষক, গুরুত্বপূর্ণ, কখনও মজার কিংবা বেদনারও হয়তো। নানা টানাপোড়েন, নির্মাণ, নির্বাণ, বিষয় ও বিষয়ীর কথাও। এই অতীতচারণে পাঠক খুঁজে পাবেন দুই শিল্পীর অপরূপ ছবি। অতুলনীয় এক জীবনশিল্পের অন্দরমহল।
নবকুমার বসু-র জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৯। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে চূড়ান্ত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে শৈশব, বাল্যকাল কেটেছে। স্কুলে ফ্রি অথবা হাফ-ফ্রি হিসেবে পড়াশুনা। পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গীয় মিশ্র সাংস্কৃতিক ধারায় বড় হয়ে ওঠা। পণ্ডিত এবং শিক্ষাব্রতী দাদামশাই যোগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এবং সান্নিধ্যে প্রাথমিক অধ্যয়ন। লেখাপড়া। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন। এমএস পাশ করার পরে শল্যচিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ’৯৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী, সরকারি চিকিৎসা বিভাগে কর্মরত।স্কুলজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশনা। স্কুল-কলেজ ম্যাগাজিনের পরে দেশ-পত্রিকায় প্রথম গল্প ১৯৭৭ সালে। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত, অজস্র ছোটগল্প লেখা চলেছে একই সঙ্গে লিটিলম্যাগ্ এবং প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের গল্প, রহস্য কাহিনী, ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে গল্পগ্রন্থ ও ভ্রমণ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক। প্রবাসেও বাংলাভাষার প্রসার ও চর্চার ব্যাপারে উৎসাহী। ‘চিরসখা’ প্রথম দীর্ঘতম উপন্যাস।