যে গোপাল ভাঁড়কে আপনি চেনেন, এ গোপাল সে গোপাল নন। দেশে-বিদেশে স্বনামধন্য গোপাল ভাঁড় চরিত্রটি কি সম্পূর্ণ কাল্পনিক? একটি ‘মিথ’ মাত্র? নাকি গোপাল ভাঁড় আক্ষরিক অর্থেই বাংলার নবাবি আমলের একটি জলজ্যান্ত ঐতিহাসিক রাজসভাসদ চরিত্র? বাংলা তথা গোটা ভারতবর্ষের রসসম্রাট এবং নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম গোপাল হাস্যার্ণবের শিকড় খুঁজে বার করার একটি গবেষণালব্ধ মহতী প্রচেষ্টা গোপাল ভাঁড়ের সন্ধানে। সমকালীন ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলি ছানবিন করে নতুন আলোকপাত তৎকালীন সমাজ ও নদিয়া-ভূপতির ওপরও। গোপাল ভাঁড়ের সন্ধানে বেরিয়ে এই কলকাতা শহরের বুকেই সন্ধান মিলেছে গোপাল ভাঁড়ের অধুনা বংশধরদের যাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় লেখক জড়িয়ে নিয়েছেন পাঠক-পাঠিকাদেরও। গোপাল ভাঁড়ের অনুসন্ধানে এরকম দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা এই প্রথম।
বইটিতে গোপাল ভাঁড়ের সম্বন্ধে তথ্য বলতে আছে এইক'টি কথা~ ১. 'নবদ্বীপ কাহিনি' ছাড়া গোপালের সম্বন্ধে আর একটিও লিখিত ঐতিহাসিক উপাদান নেই। ২. কিংবদন্তি এবং প্রচলিত গল্প (যার অধিকাংশই বীরবল, তেনালি রামা, নাসিরুদ্দিন প্রমুখ ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গেও চলে) ছাড়া গোপালের কোনো অস্তিত্ব নেই। ৩. গোপালের জন্মস্থান হিসেবে ঘূর্ণি বা তাঁর দাদা'র বংশধর হিসেবে কলকাতার একটি পরিবারকে ভাবা স্রেফ ইচ্ছেমতো কল্পনার ফসল। এই বইয়ের বাকি সবটাই একই কথার পুনরাবৃত্তি, গোপালের নামে প্রচলিত নানা গল্প, আর বিদূষক বা Jester সম্প্রদায়ের তথা হাসির সমাজতাত্ত্বিক ও শারীরবৃত্তীয় ব্যাখ্যায় ভর্তি। এর তুলনায় 'তবুও প্রয়াস' পত্রিকার 'গোপাল ভাঁড় সংখ্যা'-টি অনেক বেশি ভারসাম্যযুক্ত এবং বৈচিত্র্যময় আলোচনায় সমৃদ্ধ। এটা 'ঠিকাছে' গোছের।