‘আতঙ্ক সমগ্র’ বইতে লেখক কৌশিক মজুমদার নিপুণ হাতে ভয়ের সবকটি রং মিশিয়ে এঁকেছেন পঁচিশটি শিহরন জাগানো কাহিনি।
এর পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে প্রেতাত্মার প্রতিশোধ, সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক অভিশপ্ত গ্রামে শল্লের উপদ্রব, মানসিক হাসপাতালে জুজুমার লোকাতীত নারকীয় দৃশ্য আর এমন কিছু দুঃস্বপ্নের কথা, যাদের কেবল রাতেই নয়, দিনের আলোতেও অনুভব করা যায়।
আচমকা মৃত্যুর গন্ধ পেতে থাকেন হরবাবু, এক পাকা মাছ শিকারি অন্য রকম শিকার শুরু করে, নির্জন বাংলোতে বসে সানির থেকে থেকেই খিদে পায়, প্রাচীন অপদেবতা কুনি বুনি আবার জেগে ওঠে আর কুহু বুঝতে পারে তার মনের কথা পড়ে ফেলছে অন্য কেউ।
লেখকের কলম যেমন আধুনিক এক্সপেরিমেন্টাল হররের কাছে ঋণ স্বীকার করেছে, তেমনই একাধিকবার আপন করে নিয়েছে খাঁটি ভয়-রহস্য গল্পের অন্ধকার পরিমণ্ডল নির্মাণের আদি ধ্রুপদি শৈলীকে। আর এই পথেই তিনি বাংলার ভূতের গল্পের মাটির গন্ধকেও নিজের কাজে লাগিয়েছেন।
বইয়ের পরতে পরতে লেখক ছুঁয়ে গেছেন অলৌকিক, অপার্থিব, অতিলৌকিক আর ভয়ের চেনা-অচেনা সবকটি বিন্দু, সমস্ত ঘরানা। এই বই তাই গড়পড়তা এক ভয়ের গল্পের সংকলন নয়, বরং এমন এক মানসিক যাত্রা, যেখানে প্রতিটি কাহিনি শেষ হওয়ার পর আতঙ্ক আরও নিবিড় হয়ে পাঠককে ঘিরে ধরে। আপনি তৈরি তো?
জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯৮১, কলকাতা। স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পি. এইচ. ডি. তে সেরা ছাত্রের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত। নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া Bacillus sp. KM5 এর আবিষ্কারক। বর্তমানে ধান্য গবেষণা কেন্দ্র, চুঁচুড়ায় বৈজ্ঞানিক পদে কর্মরত এবং হাবড়া মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। জার্মানী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা গবেষণাগ্রন্থ Discovering Friendly Bacteria: A Quest (২০১২)। তাঁর কমিকস ইতিবৃত্ত (২০১৫), হোমসনামা' (২০১৮),মগজাস্ত্র (২০১৮), জেমস বন্ড জমজমাট (২০১৯), তোপসের নোটবুক (২০১৯), কুড়িয়ে বাড়িয়ে (২০১৯),নোলা (২০২০), সূর্যতামসী (২০২০), আঁধার আখ্যান (২০২০) ও নীবারসপ্তক (২০২১) এই সব দিনরাত্রি (২০২২), ধন্য কলকেতা সহর (২০২২), আবার আঁধার (২০২২), অগ্নিনিরয় (২০২২), হারানো দিনের গল্প (২০২৪), সিংহদমন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪), আরও একটি প্রবন্ধ সংকলন (২০২৫) সুধীজনের প্রশংসাধন্য। সরাসরি জার্মান থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন ঝাঁকড়া চুলো পিটার (২০২১)। বাংলাদেশের আফসার ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে ম্যাসন সিরিজের বাংলাদেশ সংস্করণ (২০২২, ২৩), মৃত্যুস্বপ্ন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪) । সম্পাদিত গ্রন্থ সিদ্ধার্থ ঘোষ প্রবন্ধ সংগ্রহ (২০১৭, ২০১৮) ফুড কাহিনি (২০১৯), কলকাতার রাত্রি রহস্য (২০২০) সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে একাই একশো (২০২২), কলিকাতার ইতিবৃত্ত(২০২৩), বিদেশিদের চোখে বাংলা (২০২৪) এবং কলিকাতার নুকোচুরি (২০২৫)
আঁধার আখ্যান,আবার আঁধার দুইটি গল্প সংকলন পড়া থাকায় এই গল্প সমগ্রের অধিকাংশ গল্প পড়া আমার।তবু "মনা", " খিদে" এবং "জুজুমা" তিনটা নতুন গল্পের জন্য আতংক সমগ্র টা পড়লাম।বলতে হলো তিনটা মোটা দাগে ভালো হরর গল্প।বিশেষ করে "খিদে" গল্পটায় নেক্রোনমিকন জিনিসটার হালকা উল্লেখ থাকায় গল্পটা বেশ উপভোগ্য ছিল।জুজুমা পড়ে শিউরে উঠেছি।আর কৌশিক মজুমদারের লিখার জন্য গল্পগুলো একদম সুপাঠ্য হয়ে গেছে।
কৌশিক মজুমদারের ম্যাসন সিরিজের ভক্ত আমি। কিন্তু ম্যাসন সিরিজ বাদেও বেশ কিছু ছোটগল্প বিভিন্ন সংকলনে আমি পড়েছি। আলাদা করে 'আঁধার আখ্যান' এবং 'আবার আঁধার' দুটোও পড়া ছিল। গপ্পো মীরের ঠেক থেকেও যথারীতি 'জুজুমা', 'মনা', 'খিদে' গল্পগুলো স্বাদ গ্রহণ করেছি আগেই। ফলে আতঙ্ক সমগ্রে আমার জন্য নতুন কিছু তেমন ছিল না। তবুও কয়েকটা গল্প আবার ঝালিয়ে নিলাম। সময়টা বেশ জম্পেশই কাঁটলো।
আতঙ্ক সমগ্র’ নিয়ে প্রত্যাশা ছিল বেশ, বিশেষ করে বইটির প্রচার আর গপ্পো মীরের ঠেকের জন্য। কিন্তু পড়া শেষে অভিজ্ঞতাটা খুব একটা আহামরি হলো না। কয়েকটি গল্পে পরিবেশ তৈরির চেষ্টা আছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই আতঙ্ক মন পর্যন্ত পৌঁছায়না। ‘মনা’ গল্পটি নিয়ে অনেক আলোচনা/সমালোচনা লেখক নিজেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতেন, এমনকি গপ্পো মীরের ঠেকে এর অডিওস্টোরিও হয়েছে, লোকের অ্যাপারেন্টলি ঘুম উড়ে গেছে- এসব কিছুই আমার মনে হয়নি। বরং গল্পটি ভীষণ মোটা দাগের লেগেছে। তুলনায় ‘জুজুমা’ গল্পটি মন্দের ভালো, অন্তত সেখানে একটা অস্বস্তিকর আবহ তৈরি হয়েছে।
অনুবাদকাহিনীগুলো সবচেয়ে হতাশ করেছে। যেহেতু ওই গল্পগুলোর কয়েকটার আসল লেখাটা আগেই পড়া ছিল, তাই অনুবাদগুলো আরও দুর্বল লেগেছে। ভাষার স্বাভাবিকতা নেই, ভাবটা কৃত্রিম লাগে, আর বাংলার ভয়ের নিজস্ব টানটান অনুভূতিটাও কাজ করেনি। আলাদা করে খারাপ লেগেছে 'ভোজ কয় যাহারে'- Charles Baeumont এর Free Dirt কে মাগনার ময়লা নাম দিয়ে সত্যিই ময়লা করা যায় এ আমি ভাবতেও পারিনি।
সব মিলিয়ে, ‘আতঙ্ক সমগ্র’ আমার কাছে গড়পড়তা একটা ভয়ের গল্পের সংকলন। একেবারে খারাপ নয়, কিন্তু যে গভীর আতঙ্ক বা মানসিক নাড়া দেওয়ার কথা বলে লোভ দেখানো হচ্ছিলো, সেটা আমি পাইনি। হালকা ভয়ের গল্প পড়তে ভালোবাসলে একবার পড়ে দেখা যেতে পারে, তবে প্রত্যাশা খুব বেশি না রাখাই ভালো।
এই বইয়ের অধিকাংশ গল্প পড়া হলেও গল্পগুলো অসংখ্য ভালো লেগেছে। জুজুমা, খিদে, আর মনা এই তিনটি গল্প পড়ে গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেছে। জুজুমা পড়ে ভাই আমি স্বপ্নে দেখেছি,কি না ভয় লেগেছিল। কৌশিক মজুমদারের লেখনি এমনিতেই অনেক ভালো লাগে আর এই ছোট গল্পগুলো অনেক সুপাঠ্য হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিককালে সমসাময়িক কোন লেখকের হরর জনরার বই পড়ে এতটা ভয় পেয়েছি সেটা মনে পড়ছে না। তবে কৌশিক মজুমদার মহাশয়ের কলমের জোর আছে বলতে হবে। বইয়ের প্রায় প্রতিটি গল্প পড়ে ভীষণভাবে ভয় পেয়েছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু গল্প হলো: জুজুমা, মনা, শল্লের নাভি, পেডিকিওর, অপদেবতা, প্রেতিনী। বইতে কিছু অনুবাদ গল্পও আছে। লেখকের অনুবাদ খুবই সাবলীল। তবে ওঁর অনুবাদ গল্পগুলির থেকে মৌলিক গল্পগুলো সব থেকে ভালো লেগেছে। স্ন্যাপচ্যাট, সাজাঘর, জন্মদিন- এই অনুবাদ গল্পগুলি বেশ ভালো লেগেছে। তবে আমার মতে বইয়ের সেরা গল্প হলো 'জুজুমা'। এর পরেই থাকবে 'মনা'। বাকি গল্পগুলিও বেশ ভয়ের তবে এই দুটি মনে হয়েছে সব থেকে ভয়ের। লেখকের ম্যাসন সিরিজের খুব নাম শুনেছি। বইগুলিও সংগ্রহে আছে। তাই লেখকের এই সিরিজটিও খুব তাড়াতাড়ি শুরু করার ইচ্ছা আছে।
অনবদ্য একটা বই । অন্যান্য 5 টা ভূতের বইয়ের থেকে onek গুণ এগিয়ে । JUJUMA, MANA , KHIDE, SHALLER NAVI, bourab kaal,EKANORE ARE MY FAVOURITES SOME ARE SPINE CHILLING বইটা এককথায় অসাধারণ৷ গল্পগুলোতে Horror এর চেয়েও বেশি Psychological Thriller এর মতো উপস্থাপন আমার খুব ভালো লেগেছে৷ KAUSHIK SIR s writing mesmerizing.