ট্যাটু করানোর নেশায় বৃষ্টি বন্ধুদের সাথে গিয়েছিল একটা ট্যাটুর পার্লারে। তারপর একটা নকশা পছন্দ করে সেটা তুলেছিল ডান হাতের কবজিতে। কিন্তু এরপরেই ওর জীবনে ঘনিয়ে এসেছিল বিপদের কালো মেঘ। কিন্তু কেন? কেন ট্যাটু করানোর পরেই বৃষ্টির জীবনে বিপদ ঘনিয়ে এসেছিল? এরকম তো সচরাচর হয় না। তাহলে কেন বৃষ্টির সাথে এমন হল? কীভাবে ওর জীবন জুড়ে গেল পরীর সাথে? কে এই পরী? কী ঘটেছিল ওর সাথে? আর মধুবনগ্রামেই বা কী ঘটেছিল? কেন বৃষ্টি চোখ বুজে দেখতে পেয়েছিল অনেকগুলো কাটা মাথা? কেনই বা মধুবনগ্রামের একটা বাড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেছিল সে? সে তো কখনোই যায়নি মধুবনগ্রামে। তাহলে চোখ বুজে এইসব কী করে দেখলো ও? রাতাতুলের বিয়েবাড়িটাকেই বা কীভাবে দেখলো ও? এইসব কিছুর সাথে কি ওই ট্যাটুর কারণেই জুড়ে গিয়েছিল বৃষ্টি? কিন্তু কেন? কী ছিল ওই ট্যাটুতে? এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে গেলে পড়তে হবে ‘ট্যাটু রহস্য’। যার পরতে পরতে আছে রহস্য, চমক, ভয় এবং উত্তেজনা…
ট্যাটু রহস্য- মাহেন্দ্রানী মহুয়া ঘোষ শব্দ প্রকাশন মম: ২২৫/-
তন্ত্র-মন্ত্র-সাধনা ভিত্তিক গল্পে মাহেন্দ্রানী সিরিজ আমার অন্যতম প্রিয়।
এই সিরিজের অন্যান্য বইয়ের চেয়ে মূল ফারাক এটি একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস। উপন্যাসটির কাহিনী খুব দ্রুত এগিয়েছে। আমার ভালো লেগেছে তিনটে ভিন্ন কাহিনীকে এক যোগসূত্রে বেধে থ্রিল আর হরর ব্যাপারটা সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করা। কাহিনী বিন্যাস, ভৌতিক ব্যাপারগুলো সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা, রাতে পড়তে আমার একটু হলেও গা ছমছম করেছে। এমনকি সকালে পড়ার সময়েও হঠাৎ কোনো শব্দে চমকাচ্ছিলাম।
মাহেন্দ্রানী সিরিজের গল্পগুলো পরিনত হয়েছে। প্রথম দিকের গল্পে তন্ত্র-মন্ত্র জাকজমকের আভরণ ছিল বেশি। সেটা কমে যাওয়ায় গল্পের গতি বেড়েছে।
একটাই নেগেটিভ point বলতে চাই, এতদিনের পরিচিত মাহেন্দ্রানীর ধ্রুবকে "ধ্রুব বাবু" আর "আপনি" বলে সম্বোধন করাটা একটু কেমন লাগছিল।