সবুজ কেন চোখ বুজে দেখতে পাচ্ছিল ওর নিকট আত্মীয়দের ভয়ঙ্কর মৃত্যু ? কেন অলোক মর্গে গিয়েছিল মৃতদেহ থেকে একটা দাঁত বার করে আনতে ? ওরা দুজনই কি কারুর জালে জড়িয়ে পড়ছিল ? দাশগুপ্ত কেমিক্যালস এর মালিক দেবপ্রিয় দাশগুপ্ত এইসব দেখে সাহায্য চেয়েছিল ধ্রুব আর মাহেন্দ্রানীর কাছে। কিন্তু দেবপ্রিয় দাশগুপ্তকে সাহায্য করতে গিয়ে মাহেন্দ্রানীও জড়িয়ে যাবে না তো জালে ? ধ্রুবর বারণ করা সত্ত্বেও মাহেন্দ্রানী নিজের রক্ষাকবচ খুলে দিয়েছিল নীলাকে। এটা মাহেন্দ্রানীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াবে না তো ? এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে পড়তে হবে বইয়ের প্রথম উপন্যাস আহ্বান। অমোঘনগরের জঙ্গলে তান্ত্রিক রুদ্রাংশ অরুন্ধতীর সাথে কী করেছিল ? কেন রুদ্রাংশ অরুন্ধতীর ঋতুস্রাব হওয়ার অপেক্ষা করেছিল ? তন্ত্র সাধনার মূল দাঁড়িয়ে আছে পঞ্চ-ম এর ওপর। সেই পাঁচটা ম এর একটা হল মৈথুন। তান্ত্রিক রুদ্রাংশ জানতো এর গুরুত্ব। কিন্তু ধ্রুবর কথা না মেনে কেন মাহেন্দ্রানী রুদ্রাংশের নিয়ম মানতে গেল ? সে তো কখনোই রক্ত, মদ, মৎস্য, মাংস ব্যবহার করেনি পুজোয়। তাহলে এবার কেন করলো সে ? রক্ত মাখা কলা খেয়েছিল রুদ্রাংশ তন্ত্র সাধনা চলাকালীন। মাহেন্দ্রানীও কি তাই করলো ? যখন মৃত্যু সামনে এসে দাঁড়ায় তখন মানুষ যেভাবে একের পর এক ভুল করে মাহেন্দ্রানীও কি ঠিক সেভাবেই ভুল করছিল ? তাহলে কি মাহেন্দ্রনী… এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে পড়ুন মৃত্যু মুখে মাহেন্দ্রানী।
মৃত্যু মুখে মাহেন্দ্রানী মহুয়া ঘোষ বসাক বুক স্টোর মম: ৩০০/-
এই বইতে দুটো উপন্যাস রয়েছে। আহ্বান আর মৃত্যু মুখে মাহেন্দ্রানী।
গল্প বলার মতো ঝরঝরে ভাষায় লেখা, তাই পড়তে বেশ ভালোই লাগে। দুটো গল্পেই অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের জীবন বাঁচাতে মাহেন্দ্রানীর জীবন-সংকট দেখা দিয়েছে। গল্পগুলো ভালো। মাহেন্দ্রানীর গল্প যত পড়ছি, গভীরতা পাচ্ছি, বর্তমান তন্ত্র-মন্ত্র ঘরানার গল্পে তার বিশেষ অভাব। দুটি গল্পেই লালসা, নৃশংসতার ছাপ রয়েছে ভালো, গল্পের প্রয়োজনে যা যথাযথ। অযথা বা অতিরিক্ত নয়।
দুটি গল্পের মধ্যে একটা সূক্ষ্য যোগ রয়েছে। তবে তার পরিণাম ভালো। মাহেন্দ্রানীর গল্পগুলো পড়তে পড়তে বারবার ভাবি এই মেলবন্ধন কি হবেনা, কোনো ট্রাজিক থাকবে তাহলে, কিন্তু অবশেষে তা হলো। এবার অন্য রসায়নে মাহেন্দ্রানীর নতুন গল্পের অপেক্ষায় রইলাম।