হিমালয়ের এক গুহায় ত্রিদিবানন্দের আশ্রম। ওর অনেক শিষ্য ওই গুহায় থাকে। ওরা ত্রিদিবানন্দকে অনুসরণ করে চলে এবং ওঁর অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করে। তন্ত্র সাধনা এবং আরো অনেক ধরনের সাধনাই করে থাকে তারা। সেইরকম একটা সাধনা করতে গিয়েই ত্রিদিবানন্দ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেই অসুস্থতার কারণে সে পৌঁছে যায় মৃত্যু মুখে। তাই তাকে সুস্থ করে তুলতে হিমালয়ের ওই গুহায় পৌঁছায় মাহেন্দ্রানী আর ধ্রুব। কিন্তু পৌঁছানোর পর অনেক অদ্ভুত ব্যাপার চোখে পড়ে ওদের। ওই গুহার যে একটা ভয়ঙ্কর ইতিহাস আছে সেটাও জানতে পারে ওরা। সাথে একটা ষড়যন্ত্রেরও আভাস পায়। গুহার ভয়ঙ্কর ইতিহাস আর ষড়যন্ত্র এই দুটোর কারণেই কি সাধনার মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ত্রিদিবানন্দ ? এই প্রশ্নটা যেমন ধ্রুব আর মাহেন্দ্রানীর মনে উঠতে শুরু করে তেমন ওদের মনে প্রশ্ন জাগে যে গুহার মেজে কেন সকাল হলেই গরম হয়ে উঠে ? কী আছে ওই গুহার নীচে ? পাহাড়ি গ্রামের মেয়ে পথিরারও বা কী হয়েছিল ? সত্যিই কি কোনো কাক ভাগাড়ে বসে মৃতদেহের মাংস খুবলে খেয়ে পথিরার মাথার ওপর দিয়ে ডানা ঝাপটে উড়ে গিয়েছিল ? তাতেই কি দোষ পেয়েছিল পথিরা ? এইসব প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে পড়তে হবে ‘স্বেচ্ছা মৃত্যু’।
একটা উপন্যাস গল্প। এই গল্পটি মাহেন্দ্রানীর বাকি গল্প থেকে কিছুটা আলাদা। এ যাবৎ মাহেন্দ্রানীর যত গল্প পড়েছি, সবেতেই ভয়ের পরিবেশ আর তন্ত্র-মন্ত্র-সাধনার বিষয় তাড়াতাড়ি চলে আসে। মানে যেভাবে হোক একটা কারণ দেখিয়ে মাহেন্দ্রানী আর ধ্রুবকে কাজে লাগিয়ে দেওয়া।
এই বইটিতে সেই তাড়াহুড়ো দেখতে পাইনি, আর সঙ্গে দেখতে পাইনি এক ঘটনার বিভিন্ন চরিত্রের মুখে পুনরাবৃত্তি। আমার মতে, সময় নিয়ে গল্পের মূল ব্যাপারটা দাঁড় করানো হয়েছে, তারপর এসেছে অলৌকিক বৃত্তান্ত। গল্পে একটা রহস্য রোমাঞ্চ ব্যাপার পেয়েছি। ভালো লেগেছে।