এক যুগ পেরিয়ে গিয়েছে লর্ড ডালহৌসির ষড়যন্ত্রে, কলকাতার নিকটস্থ মেটিয়াবুরুজে নির্বাসনে আছেন অবধের প্রাক্তন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ। তাঁর প্রিয় মুল্ক লখনউতে ফের ফিরতে পারবেন না জেনেই নবাব মেটিয়াবুরুজেই তৈরি করেছেন আস্ত একটা লখনউ, ছোটা লখনউ। কেবল গাইয়ে-বাজিয়ে-বাইজিরা নন, নবাবের পিছু পিছু হাজির কবি ও শায়ের তাঁদের মুশায়েরা নিয়ে। নবাব নিজে কবিতা লেখেন। বিচ্ছিন্ন ফিরিঙ্গি সংস্কৃতির বিপরীতে তিনি বিশ্বাস করেন গঙ্গা-যমুনা তহজিব, হিন্দু-মুসলমানের যৌথ কৃষ্টিতে। এদিকে বিলেত থেকে ব্যারিস্টার হয়ে সদ্য কলকাতা ফিরেছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বিলেত যাওয়ার আগে বাংলা সাহিত্যের আকাশে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়ে একের পর এক নাটক-প্রহসন-মহাকাব্য রচনা করে তিনি তখন মহাকবি। কিন্তু বিলেত থেকে ফিরে আইনব্যবসা বা কাব্য, কোনও ক্ষেত্রই তেমন জুতের হচ্ছে না, তবে কি দেবী লক্ষ্মীর মতো দেবী সরস্বতীও তাঁর বরপুত্রের থেকে মুখ ফেরালেন?
দেবতোষ দাশ-এর জন্ম ১১ জানুয়ারি ১৯৭২। মা-বাবা-স্ত্রী-কন্যাসহ থাকেন দক্ষিণ শহরতলি সুভাষগ্রামে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। রাজ্য সরকারের ভূমি ও ভূমি-সংস্কার দফতরে কর্মরত। প্রথম গল্প প্রকাশ ১৯৯৫ সালে ‘অপর’ পত্রিকায়। গল্প প্রকাশিত হয়েছে দেশ, রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকা, শারদীয়া প্রতিদিন, শিলাদিত্য, কিশোরভারতী পত্রিকায়। লেখেন নাটকও। নান্দীকার তাঁর নাটক ‘বিপন্নতা’ মঞ্চস্থ করে ২০১৪ সালে। নাটক ‘ওচাঁদ’ লিখে পেয়েছেন সুন্দরম পুরস্কার। প্রকাশিত উপন্যাস: ‘বিষকন্যা’, ‘বিন্দুবিসর্গ’ এবং ‘সন্ধ্যাকর নন্দী ও সমকালীন বঙ্গসমাজ’। সিনেমা, সংগীত আর খেলাধুলোয় আগ্রহী।