ছোটদের জন্য লেখা মানেই তাদের জ্ঞান দেওয়া নয় কিংবা কৌতূহল নিবৃত্তি নয়। বরং তাদের সুকুমার বৃত্তি কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে খুব সূক্ষ্মভাবে তার হদিশ দেওয়া। গল্প তখনই ছোটদের ভালো লাগবে যখন নিজেদের ভাবনার প্রেক্ষাপটে খুদে বা কিশোর পাঠক তার আনন্দ খুঁজে পাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। তাই শিশু মন কখনও ভাববে বাঘ আগে নাকি বিরিয়ানি আগে, বাঁদরের নাম বিপত্তারণ কীভাবে হল, কিংবা বদন চরিত্রের মতো বালকের পড়াশুনাতে বুদ্ধি না থাকলেও গাছকে যে গভীর মমতা দিয়ে ভালোবেসে গাছবাবু হওয়া সেটাই বা কীভাবে সম্ভব। আবার দেখা যাবে মাননীয় মন্ত্রীমশাই ঠিক করলেন তার প্রজাদের জন্য জঙ্গলে গিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন প্রজাদের রক্ষা করার জন্য। এরকমই কয়েকটি গল্পের মধ্যে ছোটরা যদি কিছুটা আনন্দের খোরাক পেয়ে যায় ক্ষতি কী!
নবকুমার বসু-র জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৯। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে চূড়ান্ত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে শৈশব, বাল্যকাল কেটেছে। স্কুলে ফ্রি অথবা হাফ-ফ্রি হিসেবে পড়াশুনা। পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গীয় মিশ্র সাংস্কৃতিক ধারায় বড় হয়ে ওঠা। পণ্ডিত এবং শিক্ষাব্রতী দাদামশাই যোগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এবং সান্নিধ্যে প্রাথমিক অধ্যয়ন। লেখাপড়া। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন। এমএস পাশ করার পরে শল্যচিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ’৯৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী, সরকারি চিকিৎসা বিভাগে কর্মরত।স্কুলজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশনা। স্কুল-কলেজ ম্যাগাজিনের পরে দেশ-পত্রিকায় প্রথম গল্প ১৯৭৭ সালে। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত, অজস্র ছোটগল্প লেখা চলেছে একই সঙ্গে লিটিলম্যাগ্ এবং প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের গল্প, রহস্য কাহিনী, ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে গল্পগ্রন্থ ও ভ্রমণ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক। প্রবাসেও বাংলাভাষার প্রসার ও চর্চার ব্যাপারে উৎসাহী। ‘চিরসখা’ প্রথম দীর্ঘতম উপন্যাস।