সুপ্রিয়া-উত্তম কি লিভ-ইন করতেন, না তাদের ছিল বিবাহিত জীবন? কেমন ছিল সেই জীবন? আপামর বাঙালীর অদম্য নানা কৌতুহল এই যুগলকে নিয়ে। নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে তারা। সেই সব প্রশ্নের জবাবেই যেন সুপ্রিয়া তথা উত্তমের 'বেণু' স্বয়ং কলম ধরেছিলেন- লেখেন আত্মজীবনী, সেখানে বাঙালীর সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি অকপট আন্তরিকভাবে। কোথাও কোনও গোপন করেননি। খোলাখুলি লিখেছেন উত্তমের সঙ্গে তাঁর প্রণয় কাহিনী। প্রেক্ষাপট হিসেবে অবশ্যই এসেছে বাংলা ছবির সোনার সময়ের নানা অকথিত কাহিনী। এছাড়া খুব স্বাভাবিকভাবেই এসেছে সুপ্রিয়ার আত্মকথন। বর্মার এক উদ্বাস্তু মেয়ের সুপার নায়িকা হবার অজানা কথা, যা যে-কোনও থ্রিলারের চেয়ে রোমাঞ্চকর।
সুপ্রিয়া দেবী-এর জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৩৩, বার্মায়। বাবা গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মা কিরণবালা দেবী। বাবা-মায়ের কাছেই তাঁর লেখাপড়া, শিক্ষা। পরবর্তীকালে নাচের তালিম নিয়েছেন। ১৯৪৯ সাল থেকে স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস। ১৯৫০ সালে অভিনেত্রী চন্দ্রাবতী দেবীর সহায়তায় ‘নাগপাশ’ ছবিতে সুপ্রিয়া দেবীর প্রথম আত্মপ্রকাশ। যদিও তাঁর অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বসু পরিবার’ (১৯৫২)। ‘আম্রপালী’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ও ‘কোমল গান্ধার’ ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন। তারপর উত্তমকুমারের অন্যতম নায়িকা হিসেবে কমবেশি তিরিশটি ছবিতে অভিনয়। এবং খ্যাতির শিখরে অবস্থান। কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেন। তার মধ্যে কিশোরকুমার পরিচালিত-অভিনীত ‘দূর গগন কী ও ছাঁও মে’ উল্লেখযোগ্য। পেশাদারি নাট্যমঞ্চ, যাত্রা এবং বহু সিরিয়ালে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বহু পুরস্কারে সম্মানিত সুপ্রিয়া দেবী দু’ দু’বার বি এফ জে এ পুরস্কার পেয়েছেন। এখনও তিনি অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর নানা শখের মধ্যে অন্যতম রান্নাবান্না।