বাঙালি জাতিকে কীভাবে স্লো পয়জন করে খু ন করা হয়েছে?
যেমন দুর্দান্ত বিপ্লবী, তেমনই দামাল নিঃস্বার্থ প্রেমিক। মহাবিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত ও তাঁর অবিশ্বাস্য জীবনের আলেখ্যে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ও বাংলার সেই উত্তাল সময় এই গ্রন্থের মূল উপজীব্য। সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি ছিল সেদিন সবার সেরা। রাজনৈতিক জ্ঞান, চেতনা, বুদ্ধিবৃত্তি, লেখাপড়া, বিজ্ঞান, সাহিত্যচর্চা, সবদিকে বাঙালি এগিয়ে।এককথায়, বাঙালিই সেদিন সারা ভারতবর্ষকে পথ দেখাত।
কুমিল্লা থেকে কলকাতা, আন্দামান থেকে আসামের শিলচর, বোম্বাই থেকে বাংলা, বিরাট পটভূমিতে এ এক রোমহর্ষক আখ্যান!
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
"উল্লাসকর" গ্রন্থটি সম্পর্কে পাঠ প্রতিক্রিয়া ********************************
এখন আর আশ্চর্য লাগেনা! বয়সের ভারে, জীবনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে হতে অনেক কিছু এখন মেনে নিতে শিখেছি। নীরবতা সাক্ষী- হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা পরম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা যেন অশ্রুজল হয়ে নিজের কাছেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি রূপে।
প্রতি মুহূর্তে বুঝতে পেরেছি- আমাদেরকে সঠিক ইতিহাস জানতে দেওয়া হয়নি, হয়তো বা সুপরিকল্পিতভাবেই।
মাধ্যমিক স্তরের ইতিহাসের পাতায় সম্ভবত একটি লাইনই পড়েছিলাম- আলিপুর বোমা মামলায় মূল অভিযুক্ত শ্রী অরবিন্দ ঘোষের সাথে আরো যে সকল বিপ্লবী গ্রেপ্তার হন, তাঁদের মধ্যে একটি নাম ছিল শ্রী উল্লাসকর দত্ত, পরবর্তীতে দ্বীপান্তর হয়! ব্যাস এটুকুই, আর আমিও তাঁকে আরোও অনেকের মতো জানার চেষ্টা করিনি, ব্যাস ! পরবর্তীতে যখনই মাস্টারদা, বা বিনয়-বাদল-দীনেশ -এঁদের প্রসঙ্গ এসেছে, তাঁদের উপর ব্রিটিশদের অকথ্য নির্যাতনের কথা পড়েছি, কষ্ট পেয়েছি আর পাঁচটা সচেতন ভারতবাসীর মতোই!
যে মানুষটি হতে পারতেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী, অথবা প্রখ্যাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, অথবা প্রথম সারির জাঁদরেল আইসিএস, নিদেনপক্ষে তৎকালীন সেরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক, নিজের জীবনকে একদম ছকে বাঁধা সুরক্ষার বলয়ে ঘিরে ফেলতে পারতেন, প্রেয়সী বিদুষী মহিলাটিকে সঠিক সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে নিজের ঘর সংসার, প্রতিপত্তি- গুছিয়ে ফেলতে পারতেন সবকিছু, সেই তরুণ তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেম, স্বচ্ছতোয়া পাহাড়ি নদীর মতো সারল্য, দৃঢ়তা, এবং সর্বোপরি কমিটমেন্ট- নিজের সমস্ত স্বাচ্ছন্দ্য, পারিবারিক ও সামাজিক বিধিনিষেধ, ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেম- সবকিছু ত্যাগ করে রুখে দাঁড়ালেন দেশকে স্বাধীন করার ব্রত নিয়ে। অতো বড়ো পরিবারের একটি সুসন্তান একেবারে কাঁচা বয়সে চলে গেলেন দ্বীপান্তরে, কালাপানিতে- সেখানে অকথ্য অত্যাচার, অর্ধাহার-অনাহার, শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা, পরবর্তীতে পাগল সাজিয়ে মাদ্রাজে এসাইলামে পাঠানো, তারপর শাস্তি শেষ হলে কলকাতায় ফেরা, সেখান থেকে প্রেয়সীর খোঁজে বোম্বে, কলকাতা থেকে সাইকেল নিয়ে ঋষি অরবিন্দের সাথে সাক্ষাতের জন্য পন্ডিচেরি যাওয়ার প্রয়াস- এ যেন রূপকথারই গল্প, যা বাস্তবে সম্ভব নয়!
কিন্তু তিনি যে ছিলেন উল্লাসে মাতোয়ারা, শেষ দিন পর্যন্ত! তাই তো আদরের বেড়াল এবং সংগীতের একখানি সাধারণ যন্ত্র- উদাত্ত কন্ঠের সেই উল্লাসের জীবনীশক্তিকে স্বয়ং প্রকৃতি মা রক্ষা করে গিয়েছেন আজীবন, তাঁকে ক্ষুদ্র পরিসরে বন্দী করে রাখবে কে?
তাই তো তাঁকে ঐরকম আর্থিক দুরবস্থার দিনেও রাজি করানো যায়নি ভাগ হয়ে যাওয়া দেশের সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীর পেনশন নিতে অথবা কলকাতার বাসের রুট গ্রহণ করতে যাতে ভালোভাবে শেষ জীবনটুকু কাটাতে সুবিধা হয়! শেষ দিন পর্যন্ত মাথা রেখেছেন উঁচু!
একজন পুরুষমানুষ হিসাবে আমি বলতে পারি- এরকম পুরুষের কথা আমি কোনদিন শুনিনি, যিনি সিনেমার হিরোদেরকে বলে বলে গোল দিয়ে হারিয়ে দিয়েছেন; পক্ষাঘাতগ্রস্ত সেই প্রেয়সীর সাথে প্রায় বৃদ্ধ বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত আগলে রেখেছেন তাঁকে! সমগ্র শিলচরের মানুষ তাঁকে আজও রেখেছেন হৃদয়ের মাঝে, মাথার উপর, মনের গভীরে পরম শ্রদ্ধায়!
বইটি শেষ করে খালি মনে হচ্ছে যেন অদ্ভূত এক মায়াতে জড়িয়ে গিয়েছি মানুষটির সাথে, বাহ্যিক কোন কিছুই আর ভালো লাগছে না, কেবলই মনে হচ্ছে কী করে দেখা করা যায়, দেখা হলে বসে বসে সামনে কত কথা যেন বলার আছে আমার, ভালো করে মাথায়, গায়ে, পায়ে হাত দিয়ে মানুষটিকে অনুভব কী করে করা যায়, আর খুব জোরে জোরে বলা যায় -"আই লাভ ইউ উল্লাস!" কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা ভক্ত যেরকম সমস্ত জায়গায় কৃষ্ণকে খোঁজেন, তিনি বন্ধু, তিনি সখা, তিনিই আচার্য, আবার তিনিই পথপ্রদর্শক; ঠিক তেমনই আমার মত সাধারণ পাঠকের কাছে আর কোন কিছুই যেন ভালো লাগছে না তাঁর কথা ছাড়া।
শ্রীমতি দেবারতি আমার অনুজ, স্নেহের পাত্রী, ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখিকা। কিন্তু, এই গ্রন্থ লেখিকাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বিষয়ের জন্য। আমি এবং আমার পরিবারের সকলেই স্নেহের দেবারতির প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ- তিনি অসাধ্য সাধন করেছেন, পরম পবিত্র একটি কাজ করেছেন, তা না হলে এই মহাবিপ্লবী সম্পর্কে অন্তত আমি হয়তো কিছুই জানার সুযোগ পেতাম না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি এই মহাপুণ্যের কাজ করার জন্য তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সকলের অনেক মঙ্গল হোক।
প্রকৃত অর্থেই এই গ্রন্থ একটি ঐতিহাসিক দলিল এবং মহাকাব্য। জীবনযুদ্ধে অবিরাম লড়তে থাকা সাধারণ মানুষের পক্ষে বর্তমান সমাজে হয়তো বিশেষ কিছু করার নেই, কিন্তু প্রচুর সচেতন মানুষ এখনো রয়েছেন আমাদের মধ্যে- জাতি, ধর্ম এবং বর্ণ নির্বিশেষে- যাঁরা এই সমস্ত প্রাতঃস্মরণীয় মহামানবের প্রতি একইরকম শ্রদ্ধাশীল, আবেগমথিত।
তাই ব্যক্তিগতভাবে আমি চাইবো এই মহাকাব্য প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে পাঠ করা হোক, পূজিত হোক।
অশেষ ধন্যবাদ দেবারতি মুখোপাধ্যায় কে এমন একজন বিপ্লবী, প্রানবন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবন কাহিনী নিয়ে এত সুন্দর একটি উপন্যাস আমাদের পাঠকদের উপহার দেবার জন্য। কৃষ্ণসিন্ধুকী পড়ার পর থেকেই মনে হচ্ছিল উল্লাস কর দত্ত সম্পর্কে যদি আরো কিছু জানা যেত যদি তার জীবনী সম্পর্কে আরো কিছু জানতে পারতাম। অবশেষে সে সুযোগ হাতে এলো, "উল্লাস কর বোমা বিপ্লব প্রেম ও দেশভাগের মহাকাব্য "প্রথম ভাগ(লেখিকা বইয়ের সাথে উল্লেখ করেছেন দ্বিতীয় ভাগ পরবর্তী বছরে আসবে)। উল্লাস করে শেষ জীবনের সাথে সাথে একই সিকুয়েন্সে লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন তার ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময় বঙ্গ জুড়ে বিপ্লবীদের নানান ধরনের আক্রমণাত্মক কাজকর্ম। বড় বড় বিপ্লবী বিপিন চন্দ্র পাল,ঋষি অরবিন্দ তার ভাই বারীন্দ্র কুমার ঘোষ, ব্রম্ভবান্ধব উপাধ্যায়, এদের সাথে সাথে উল্লাস কর দত্ত, বিভূতিভূষণ হিন্দু ভূষণ পুলিনবিহারী শচীন্দ্র কুমার উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ,সত্যেন্দ্রনাথ বোস এবং কানাইলাল দত্ত ( যারা আলিপুর বোমা মামলায় রাজ সাক্ষী হতে যাওয়া নরেন গোস্বামীকে পুলিশ হেফাজতেই পুলিশের সামনেই গুলি চালিয়ে হত্যা করে এবং নিজেরাও হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়ে নেয়) । এ শুধু ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গর পরবর্তী সময়ের বিপ্লবীদের কার্য কারিতা নয় শুধু উল্লাস করের জীবনী নয় বিপ্লবীদের জীবন কি প্রচন্ড কষ্টের ছিল বিপ্লবের জন্য টাকা রোজগার করা ফান্ড জোগাড় করা, ভারতকে স্বাধীনতা করার স্বপ্নে নিজেরা একবেলা খেয়ে মশার কামড়ে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে পুলিশের থেকে বাঁচার আর পুলিশের হাতে ধরা পড়লে শুধু মার নয় অকথ্য অত্যাচার। তারই মধ্যে পিস্তল জোগাড় করার চেষ্টা বোমা বাধার জন্য যে কারিগরি শিক্ষার দরকার সেই শিক্ষা কে কাজে লাগিয়ে বোমা তৈরির চেষ্টা বোমা তৈরির মসলাপাতি জোগাড় - স্বাধীন ভারতে আরাম-আয়েশের মধ্যে বসে থেকে যার বিন্দুমাত্র কল্পনাও বর্তমান এই ১৬ থেকে ২৫ বছরের ছেলে মেয়েরা চিন্তা করতে পার�� না। অথচ পরাধীন ভারতে এই 16 থেকে 25 বছরের ছেলে মেয়েরাই দলে দলে যোগ দিয়েছে বিপ্লবী দল এতে, ইংরেজদের অত্যাচার সয়েছে, গুলি খেয়েছে, জেল খেটেছে ফাঁসির দড়িতে হাসিমুখে প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু সত্যিই তো আমরাই বিভক্ত বঙ্গ কে চাইনি, বিরক্ত ভারতকে চাইনি আজ ভারতের যত সমস্যা তার একটা প্রধান কারণ এই বিভক্ত ভারত। বিপ্লবী উল্লাস করের আরেক নাম ভালোবাসা বা প্রেমের দেবতা রাখা যেতেই পারে। লীলার প্রতি তার যে প্রেম যা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লেখিকা এখানে তুলে ধরেছেন সে সম্পর্কে আরও জানতে ইচ্ছা হয় আশা করি পরবর্তী ভাগে আরো সে সম্পর্কে জানতে পারব। এখানে দেখি আরেকটি ভালো বিষয় উল্লেখ করেছেন যা আমার কাছে অজানাই ছিল কিছুটা।। শিলচরের ভাষা আন্দোলন ।আমরা ভাষা আন্দোলন বলতে বাংলাদেশের ঘটা বা একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে জানি। বইয়ের শেষে লেখিকার কৈফিয়তের জায়গাতে লেখিকা আছে তুলে ধরেছেন সেটি আমল সত্য বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের থেকেও সব জায়গায় বাংলা ভাষায় কথা বলা যায় না এমনকি সরকারি জায়গাতেও এর তীব্র প্রতিবাদ করি আমি। নিজের মাতৃভূমিতে থেকে নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারব না এবং সেখানে যারা বাইরে থেকে এসেছে তারা তাদের ভাষাকেই প্রধান ভাষা হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাবে যদিও বা বলতে নেই তো সেখানে আমি হয়ে যাব অসম্মানিত। এমন সম্মান এর আমার দরকার নেই। আমি বাঙালি আমার বাংলা ভাষা মাতৃভাষা সেই ভাষাতেই আমি আমার বক্তব্য সব জায়গাতে প্রকাশ করতে চাই।। লেখিকার কাছে অনুরোধ পরবর্তী পরবর্তী ভাগে চাই উল্লাস করের মাদ্রাজা জীবন তিনি কিভাবে লিলাকে খুঁজে পেলেন তার সাথে লীলার বিবাহ তারপর তিনি শিলচর কেন চলে গেলেন কেন বঙ্গতে থাকলেন না পশ্চিমবঙ্গে থাকলেন না। সে সম্পর্কে তুলে ধরুন।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় বিরচিত 'উল্লাসকর' উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে মনে হয় ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। যাঁর নাম আমরা শুধু পাঠ্যবইয়ে পড়েছি, সেই বিখ্যাত বোমা বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত–ইতিহাসের অন্ধকারে চাপা পড়ে যাওয়া এক উজ্জ্বল নায়ক, এক উত্তাল প্রেমিক, বাঙালির বীরত্ব, পৌরুষ ও প্রেমের অনন্য প্রতীক। তাঁকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হলেও এই গ্রন্থে আছেন ঋষি অরবিন্দ, সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, বিপিন পাল থেকে টহলরাম গঙ্গারামের মতো বহু বিস্মৃতপ্রায় দেশপ্রেমিক।
উল্লাসকর’ শুধু বাংলার গৌরবের বিবরণ নয়, শুধু নিপীড়নের ইতিহাসও নয়—এটি এক দুর্দমনীয় বিপ্লবী ও এক অনন্য প্রেমিকের জীবনগাঁথা।
আন্দামানের সেলুলার জেলে অজস্র অত্যাচার, নির্যাতনের তাণ্ডব—সবকিছুর মাঝেও তার অদম্য মন চূর্ণ হয়নি। অথচ এই সাহসী বিপ্লবী ইতিহাসের মঞ্চে প্রাপ্য স্থান পাননি। হয়তো সমীকরণের জটিল যোগফল তাকে কখনো শেখায়নি, হয়তো সমাজও তাকে সেই ছকে মানায়নি। তবু তার জীবন যেন আজও আমাদের মনে প্রশ্ন জাগায়—দেশ কি এমন নিঃস্বার্থ সন্তানকে কখনও সত্যিকারভাবে অবলোকন করেছে?
কেমিস্ট্রির জ্ঞান দিয়ে বোমা বানানো যার পেশা, সেই মানুষই বুকে তুলে নিয়েছেন পক্ষাঘাতে জর্জরিত বাল্যপ্রেমিকাকে; তেষট্টিতে বিবাহ করেছেন প্রৌঢ়া প্রেয়সীকে।
আলিপুর বোমা মামলার সাহসী বিপ্লবী, প্রেসিডেন্সির মেধাবী ছাত্র, যিনি ভারতবিদ্বেষী অধ্যাপককে জুতোপেটা করেছিলেন—সব পরিচয়ের বাইরে উল্লাসকর ছিলেন প্রাণময় ব্যক্তিত্ব। ফাঁসির আদেশ শোনার পর আদালতে তাঁর গাওয়া রবীন্দ্রসংগীতে ইংরেজ বিচারকও আবেগাপন্থ হয়েছিলেন। ‘উল্লাস’ নামটিই যেন তাঁর প্রকৃত শক্তি।
একজন প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা বিখ্যাত বোমা বিপ্লবীর পাশাপাশি তিনি সর্বাগ্রে একজন প্রেমিক—যে খেজুর রস মাথায় করে শিবপুর থেকে সুকিয়া স্ট্রিটে হাঁটতে পারে লীলার জন্য, যে আন্দামানে যাওয়ার আগে বলে যেতে পারে, “অপেক্ষা করবে? আমরা স্বাধীন দেশে বিয়ে করব।”
উল্লাসকর দত্তের চেতনাকে ছাড়া, যে সকল মহান বিপ্লবীর আত্মত্যাগের কাহিনী এই উপন্যাসে উদ্ভাসিত হয়েছে—প্রফুল্ল চাকি, ক্ষুদিরাম বসু প্রমুখ—তাঁরা দেশের মুক্তির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের গৌরবময় পথ আজও ইতিহাসের স্বর্ণমণ্ডিত পাতায় উজ্জ্বল। সত্যেন্দ্রনাথ বোস ও কানাইলাল দত্তের একত্রিত সাহসী প্রচেষ্টায় নিহত হন বিশ্বাসঘাতক নরেণ গোস্বামী। এই ঘটনাই যেন সেই যুগের মানুষদের অগ্নিময় প্রেরণা ও স্বাধীনতার প্রতি অটল প্রেমের উজ্জ্বল প্রদীপ, যা তাদের দেশের মুক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার অমোঘ প্রতিজ্ঞাকে জীবন্ত রাখে।
উপন্যাসটি পড়তে পড়তে প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে আমি একাকার হয়ে গিয়েছিলাম, আর শেষের পৃষ্ঠায় তাঁদের মুখমণ্ডল দেখে যেন ফিরে গিয়েছিলাম সেই জ্বলন্ত সময়ে, যেখানে দেশপ্রেমের শিখা চিরন্তনভাবে দ্যুতিমান।
এই উপন্যাস কেবল ইতিহাসের পাতাগুলোর শূন্যরেখা নয়; এটি এক বিপ্লবীর হৃদয়স্পন্দনের অনূভূতি, এক দীপ্ত জাগরণের প্রতিধ্বনি। উল্লাসকর দত্তের জীবন ও আদর্শের সূক্ষ্ম রেখাগুলি এখানে এমনভাবে ফুটে উঠেছে যে, পাঠক শুধু ঘটনার শৃঙ্খলাবলি নয়, বরং তার আবেগ, ত্যাগ এবং অদম্য সাহসের স্রোত অনুভব করতে পারে। ভারতীয় বিপ্লবী আন্দোলনের গহীনে প্রবেশ করতে এবং সেই উত্তাল ইতিহাসের উত্তাপ অনুভব করতে হলে, এই কাহিনী পাঠ করা এক অনিবার্য অভিজ্ঞতা। এটি কেবল জ্ঞান অর্জনের জন্য নয়—এটি আত্মার কাছে ডাকা এক আহ্বান, যেখানে প্রতিটি শব্দের সাথে জাগ্রত হয় এক বিদ্রোহী মননের প্রতিধ্বনি।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় বরাবরই আমার এক অত্যন্ত প্রিয় এবং পছন্দের লেখিকা, ঈশ্বর প্রদত্ত তার মেধা এবং ক্ষমতা। তার প্রতিটি লেখাই আমার ভীষণ ভালো লাগে এবং একপ্রকার মুখিয়ে থাকি তার নতুন বই প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায়।
তবে তার লেখা এই "উল্লাসকর: বোমা বিপ্লব প্রেম ও দেশভাগের মহাকাব্য" উপন্যাসটি আমার অন্তরাত্মাকে স্পর্শ করেছে। এতদিনেই ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া এক সুযোগ্য দাবিদার তার প্রাপ্য মর্যাদা পেলেন। লেখিকার সুনিপুণ লেখনী উল্লাসকরের জীবনকে কি সুন্দর ভাবে অতীত ও বর্তমানের খেলায় বয়ে নিয়ে গেছে গোটা উপন্যাস জুড়ে!! তার একদিকে দেশপ্রেম অন্যদিকে প্রিয়তমার প্রতি তার চিরন্তন প্রেম .... সত্যই এই চরিত্রের মানুষ সে সময় হয়তো হাতে গোনাই কয়েকজন ছিলেন ।
শ্রীযুক্ত অরবিন্দ ঘোষ এবং শ্রীযুক্ত বারীনকুমার ঘোষ - আমার এই দুটি চরিত্র নিরূপণে একটা ধোঁয়াশা থেকে গেছিল মনে, তা এই উপন্যাসটা অনেকটাই কাটাতে সফল হয়েছে।
লিখিকা-কে শতকোটি প্রণাম। এই বইটি দীপ প্রকাশনা-র কাছে একটি অ্যাসেট তা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। লেখিকার স্বাক্ষরিত কপি পাওয়া-কে আমি একটি পরম প্রাপ্তি বলে মনে করি এবং 'তৃতীয় ভাগ: উল্লাসকরের কালিকচ্ছ জীবন' আসার অপেক্ষায় রইলাম প্রবল উৎসাহের সঙ্গে। - সাথে লেখিকার কাছে একটি আবদার, যদি আপনার একটা বই বাঘাযতীন-কে উৎসর্গ করতেন। কারণ সেটি আমার বেশ প্রিয় একটি চরিত্র। Debarati Mukhopadhyay
বইয়ের পৃষ্ঠা নং ৩৭৯-৩৮২ পৃষ্ঠায় লেখিকার বাংলা ভাষার প্রতি যে ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ পেয়েছে, সে কথা না বললেই নয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ইত্য��দির ইংরেজি নিয়ে মাতামাতি না করে নিজেদের মাতৃভাষার প্রতি গভীর সম্মান ও প্রাধান্য দেওয়ার কথা যেভাবে লেখিকা স্মরণ করিয়ে দিলেন, সেটি আমার মনেও সেই প্রশ্নকে তুলে দিল যা এসেছে দেখি কার মনেও - "আমরা কি পেরেছি বাংলা ভাষাকে এই মর্যাদা দিতে ?" - আরেকটি লাইন আজকালকার মানুষ অর্থাৎ আমাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে অর্থবহ - " ৯০% বাংলা সিনেমা বা সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট আজ লেখা হয় রোমান হরফে, ami valo achi প্যাটার্নে। আমি নিজে দেখেছি এখন 'achi' লেখারও ধৈর্য মানুষের থাকছে না তারা লিখছে 'a6i', good night কে Gd n8!... কি হাস্যকর!! - একটা কথা গভীরভাবে মনে হচ্ছে, নিজেরাই যদি নিজের ভাষাকে সম্মান না দিই, তবে অন্যরা কেন দেবে ? অন্যের ভুল সংশোধনের পরিবর্তে নিজের ১% ভুল থাকলেও সেটা সংশোধনে মন দেওয়া উচিত। সবকটি মানুষ এই একরকম ভাবলে তবেই সমাজের পরিবর্তন সম্ভব বলে আমি মনে করি। যেটা সত্যিই অসাধ্য।
মনের সব আবেগের কথা লিখতে চাইলে আর কারোরই পড়ার ধৈর্য থাকবে না। তাই এখানেই শেষ করলাম।
কলম তরোয়ালের চেয়েও ধারালো .... প্রমাণিত ।
উল্লাসে মাতলাম, উল্লাসে থাকলাম।।🙏❤️
জানিনা এই লেখা লেখিকা অব্দি পৌছাবে কিনা !! ভগবানের কাছে প্রার্থনা যেন পৌঁছায়।🙏
'উল্লাসকর' এক বিস্মৃত বিপ্লবীর অকথিত মহাকাব্য দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের কলমে... প্রেম, বিপ্লব, আত্মত্যাগ এবং যন্ত্রণার এক অবিস্মরণীয় চিত্র হলো এই বইটি। এই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু হলেন বাঙালির গর্ব , নির্ভীক উল্লাসকর দত্ত । দেবারতি দিদি নিপুণভাবে তাঁর দুটি সত্তাকে তুলে ধরেছেন এই বইতে। উপন্যাসের একটি বড় অংশ জুড়ে শুধুই রয়েছে বাংলার সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের গল্প। আলিপুর বোমা মামলা, মুরারিপুকুর বাগানবাড়ির বোমা তৈরির আঁতুরঘর এবং তারপর কালাপানির অমানুষিক নির্যাতন। এই সমস্ত ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লাসকর দত্তের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উঠে এসেছে এই বইতে। এছাড়াও অন্য ধারে বিপ্লবের কঠিন পথের পাশাপাশি তাঁর জীবনে ছিল এক অতুলনীয় প্রেমের কাহিনী। 'উল্লাসকর' গ্রন্থটি শুধু এক বিপ্লবীর গল্প নয়, এক পাগল প্রেমিকেরও গল্প, যিনি তাঁর ভালোবাসার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলেন সর্বদা।
উপন্যাসটির পটভূমি শুধু বাংলা বা আন্দামানে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশভাগ এবং ১৯৬১ সালে আসামের শিলচরে বরাক উপত্যকার মর্মান্তিক ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকেও স্পর্শ করে, যা উপন্যাসটিকে এক আলাদা মাত্রা দিয়েছে। বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার দরুন লেখিকার নিজস্ব কথায় যতদূর জানতে পেরেছি তাই হলো, 'কৃষ্ণসিন্ধুকী'-এর prequel হলো 'উল্লাসকর'। পাঠকদের কাছে এই তথ্যটি 'কৃষ্ণসিন্ধুকী'-তে আন্দামানের মহিলা বন্দিদের মর্মান্তিক জীবনের আলেখ্য ছিল, যেখানে উল্লাসকর দত্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 'উল্লাসকর' উপন্যাসে লেখিকা সেই মহাবিপ্লবীর সম্পূর্ণ জীবনকে কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছেন। দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের লেখার অন্যতম শক্তি হলো তাঁর নিবিড় গবেষণা। এই উপন্যাসেও তার সত্যিই কোনো খামতি নেই। তিনি প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার এই উপন্যাসে শতাধিক দুষ্প্রাপ্য দলিল এবং ছবির ব্যবহার করেছেন। তাঁর গভীর গবেষণা বইটিকে একটি ঐতিহাসিক দলিলের মর্যাদা দিয়েছে। এছাড়াও উল্লাসকর দত্তের মতো একজন জটিল এবং প্রায়-বিস্মৃত চরিত্রকে লেখিকা অত্যন্ত যত্ন সহকারে নির্মাণ করেছেন। তাঁর নির্ভীক বিপ্লবী সত্তা এবং সংবেদনশীল প্রেমিক সত্তা দুটি দিকই সমান গুরুত্ব পেয়েছে। সবশেষে দেবারতি দিদির জন্য অনেক ধন্যবাদ ,ভালোবাসা রইলো এই বইটির জন্য এবং শুভকামনা রইলো পরবর্তী আরও ভালো ভালো লেখার জন্য। অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তীর উপন্যাসের....
দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের “উল্লাসকর” উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে মনে হলো—ইতিহাস যেন হঠাৎ করে রক্তমাংসে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। যে বিপ্লবীর নাম আমরা শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় পড়েছি, তিনি যেন এই উপন্যাসে এসে দাঁড়িয়েছেন এক সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে—স্বপ্ন, সাহস, যন্ত্রণা ও আত্মবলিদানে ভরপুর এক অনন্য সত্তা।
লেখিকা অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে দেখিয়েছেন, কীভাবে উল্লাসকর দত্তের বোমা-তৈরি থেকে শুরু করে তাঁর আত্মত্যাগ—সবই ছিল দেশের স্বাধীনতার প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। উপন্যাসে তাঁর নিঃসঙ্গতার মুহূর্ত, অন্য বিপ্লবীদের সঙ্গে মানসিক বন্ধন—সব কিছুই এত সংবেদনশীলভাবে ফুটে উঠেছে যে পাঠক অনায়াসে তাঁর যন্ত্রণা স্পর্শ করতে পারেন।
আর যেটা না বললেই নয় সেটা হলো তিনি উল্লাসকর এর অমর ভালোবাসার গল্প গাঁথা যেভাবে সাজিয়ে তুলেছেন তাঁর নিপুন হাতের ক্ষমতায় তা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। সেই যুগের এইরকম অমর প্রেমকাহিনী, ভালোবাসা আর আত্মত্যাগ আজকের এই ভার্চুয়াল দুনিয়ার ভালোবাসা কেও হার মানায়।
দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত প্রতিটা শব্দ এখানে যেমন সাবলীল, তেমনি কবিতার মতো মাধুর্যময়। গবেষণা, কল্পনা এবং ভালোবাসার এক অনবদ্য মিশ্রণে তিনি উল্লাসকর দত্তকে আমাদের চোখে নতুন করে তুলে ধরেছেন।
এই বই শুধু ইতিহাস নয়, এক বিপ্লবীর হৃদস্পন্দন। পাঠ শেষে মনে হয়—স্বাধীনতা শুধু অর্জিত নয়, অর্জনকারীদের রক্তে লেখা।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, উল্লাসকর দত্তকে বুঝতে চাইলে কিংবা ভারতীয় বিপ্লবী আন্দোলনের গভীরতা অনুভব করতে চাইলে—এই উপন্যাসটি অবশ্যই প্রত্যেক পাঠক থুড়ি আমাদের মত বই পাগলদের পড়া উচিত।
আমি অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই আমার অন্যতম প্রিয় লেখিকা দেবারতি ম্যাম কে, যে তিনি ইতিহাসের এক অনবদ্য দলিল রূপে এই বই আমাদের মত বই প্রেমীদের উপহার দিয়েছেন।
একদম ছোটবেলায় যখন ক্লাস ওয়ান এ পড়ি তখন থেকে মা হাতে গল্পের বই তুলে দিয়েছিলেন খেলার সঙ্গী হিসাবে । সেই থেকে একজন বইপোকা হিসাবেই পরিচিত ।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় ম্যাডাম, সত্যি কথা বলতে কি আপনার লেখা "উল্লাস কর" একমাত্র উপন্যাস যেটা আমি পড়লাম, সমৃদ্ধ হলাম এবং মুগ্ধ হলাম।
এতটাই উল্লাস ময় আছি যে বাধ্য হচ্ছি আপনার লেখা বই গুলোর লিস্ট বের করতে এবং আবারও মুগ্ধ হতে।
চারশো পাতার এই উপন্যাস ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত কিন্তু পড়তে পড়তে নিজেকে সেই সময়ের শরিক বলে মনে হয়।
যেই মানুষদের রক্তের বিনিময়ে আজ এই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি, এখন নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে "উল্লাস কর" তার প্রথম সারিতে আছেন, কিন্তু কিছুদিন আগে পর্যন্ত এই সম্পর্কে স্বচ্ছ কোন ধারণাই ছিল না ।
আপনার ভাষা সংযত অথচ তীক্ষ্ণ । উল্লাসের প্রতি হয়তো আপনি একটু বেশিই আবেগপ্রবণ কিন্তু আমি মনে করি, "উল্লাস কর" নিজের যোগ্যতায় সেই জায়গা দখল করেছেন l
উল্লাস কর পাঠককে ভাবতে শেখায়। অন্য বিপ্লবীদের প্রতি ও শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে ।
লীলার সংবেদনশীল মন, নারী চেতনা, দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি ��ই উপন্যাসকে অনন্য সাধারণ করে তুলেছে।
মনটা কেঁদে উঠেছিল যখন বোম দাদু বললেন, "প্যাঁকাটি ও চলে গেল, ওই তো কটা হাড়গোড় ছিল, কোথায় গুলি করল ওরা ? "
উল্লাস ময় হয়ে থাকতে চাই। উল্লাস থাকবে আমার মননে আজীবন।
"উল্লাস কর" এবং "লীলা" প্রণাম আর একবার বাঙালিকে গর্বিত করার জন্য ।
সব বাঙালিদের অনুরোধ উল্লাস কর কে চিনুন, উল্লাস করকে জানুন।
Book ta porar por theke e ekta odvut ghorer modhye royechi. Ekhon bujhte parchi keno madam sedin bolechilen j in future tini jai likhun na keno konodin e ullaskar er provab theke berote parben na. Ei book e jevabe parallel way to duto tike k tule dhora hoyeche seta sottyi e osadharon. Hemchandra Thik e bolechen j netara valo lawyer r religion er chador gaye diye mukti pabe r jail e jabe sadharon chelera. Ullaskar k o tini ekdm thik chinchilen tai hoyto bolechilen j tumi khati sona. Tomar ei dol e asa uchit hoyni. Bhabte o kharap lage j arobindo ekbar dekha o korenni unar sathe pondicherry te. Ei episode ta r o details e janar jonyo obboshoyi next part er jonyo opekhhar chara upai nei.