সাক্ষাৎকারে কি লেখকের সেইসব অন্তর্লীন কথা উঠে আসে, যেসব তিনি নিজেরই রচনার শব্দ-বাক্য-যতিচিহ্নের কোথাও ব্যক্ত করে উঠতে পারেননি? নাকি সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ইচ্ছা ও প্রত্যাশার ক্রীড়নক হয়ে ওঠেন লেখক? গ্রহীতা যে কথা শুনতে আগ্রহী, অথবা লেখক তার জীবনের আলস্য ও আবেগের গোপন গুহায় যেসব অভিনিবেশ লুকিয়ে রেখেছিলেন তারই দু-এক টুকরো বুদবুদ জানার জন্য পাঠকের অদম্য কৌতূহলই এর নেপথ্যে কাজ করে? কথার সঘন করতল সংকলনটির অন্তর্ভুক্ত সাক্ষাৎকারগুচ্ছ যেন এসব প্রশ্নের একখণ্ড উত্তরপত্র। কেননা, গ্রহীতা যেহেতু স্বতন্ত্র ব্যক্তি, সম্ভবত সে কারণেই দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় প্রতিটি সাক্ষাৎকারে রয়েছে একই কথার প্রতিধ্বনি। তবে এসব কথোপকথনে যেমন উঠে এসেছে ব্যক্তি মাহমুদুল হকের অন্তর্জীবন, লেখকসত্তার সৃষ্টি-অভিনিবেশ; অন্যদিকে ষাট-সত্তরের দশকে বাংলাদেশের সাহিত্য-আড্ডার বিপুল বৈচিত্র্য। এবং রয়েছে একটি স্বাধীন জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র শিল্পকলা নির্মাণের সুচিন্তিত প্রয়াস-প্রসঙ্গ। এই সংকলন সে কারণেও গুরুত্বপূর্ণ।
তাছাড়া সংকলনটিতে যুক্ত হয়েছে মাহমুদুল হকের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি, তাঁর পঠিত বই, দুর্লভ চিঠি ইত্যাদি বিষয়ক অনেক অজানা তথ্য ও দুষ্প্রাপ্য ছবি। ফলে মাহমুদুল হকের সৃষ্টিসত্তার বিকাশ অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাঁর কথাসাহিত্যের পাশাপাশি এই সংকলনটিও উচ্চারিত হতে পারে।
Mahmudul Haque (Bangla: মাহমুদুল হক) was a contemporary novelist in Bangla literature. He was born in Barasat in West Bengal. His family moved to Dhaka after the partition in 1947. His novels deal with this pain of leaving one's home.
Mahmud gave up writing in 1982 after a number of acclaimed novels. Affectionately known as Botu Bhai and always seen as a lively figure in social gatherings, the rest of the time he was said to lead a solitary life.
প্রথমে শুদ্ধস্বর ও পরে পেন্ডুলাম পাবলিশার্স থেকে বের হওয়া মাহমুদুল হকের সাক্ষাৎকারের বই দুটির সবগুলোর সঙ্গে আরও কিছু অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার নিয়ে এ বইটি। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীকে মাহমুদুল হক বলে দিতেন কিছু কথা যেন তাঁর মৃত্যুর অন্তত দশ বছর পরে লেখা হয়। হয়তো তাই কিছু বিস্ফোরক তথ্য এবার পাওয়া গেল, যেগুলো আগে পাইনি।
পুনরাবৃত্তি আছে। আর তা খুবই স্বাভাবিক। শৈশব, লেখালেখি শুরুর গল্প, দেশভাগ/দেশত্যাগের কথা, ষাট ও সত্তর দশকে ঢাকা শহরে কবি-সাহিত্যিকদের বিখ্যাত সেইসব আড্ডা, ‘অনুর পাঠশালা’র ‘যেখানে খঞ্জনা পাখি’ হয়ে আবার পুনরায় ‘অনুর পাঠশালা’ হওয়ার ঘটনা, আর দশটা মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস থেকে ‘জীবন আমার বোন’ ও ‘খেলাঘর’-এর ভিন্নতা, আর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় মাহমুদুল হকের ভাষা—এসব নিয়ে প্রশ্ন এসেছে ঘুরেফিরে। আর উত্তরও একই থেকেছে।
পুরো বইয়ে অসংখ্যবার শহীদ কাদরীর প্রসঙ্গ এসেছে। আস্ত একটা সাক্ষাৎকারই আছে শহীদ কাদরীকে নিয়ে। প্রিয় কথাসাহিত্যিক কথা বলছেন প্রিয় কবিকে নিয়ে, পাঠক হিসেবে এ এক বিরাট পাওয়া।
কথাপ্রকাশের বইয়ের মান নিয়ে কোনো কথা নেই। আলোকচিত্র ও টীকাটিপ্পনী বইটিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। পূর্বের সাক্ষাৎকারগ্রন্থ দুটি পড়া থাকলেও ‘কথার সঘন করতল’ তাই সংগ্রহে রাখার মতোই এক বই।