স্বামী আতাউরের গোপন প্রেম, এক বিবাহিত নারীর সাথে লুকোচুরি — সবটাই ফারাহর নখদর্পণে। অন্যদিকে, আতাউর নির্বিকার। সে জানে না, তার নীরব অভিনয়, দিনের পর দিন মিথ্যা বলে যাওয়াটা তার স্ত্রী ধরে ফেলেছে। এত কিছু জেনেও ফারাহ চুপ হয়ে আছে। না জানার ভান করে সংসার জীবন চালিয়ে যাচ্ছে আশ্চর্য দক্ষতায়।
তার এই নীরবতার পেছনে লুকিয়ে আছে এক দ্বৈত-সংঘাত।
প্রথমত, এই মর্মভেদী বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কীভাবে সে আতাউরের মুখোমুখি হবে? ব্যাপারটা মনে পড়লেই ক্রোধে তার শরীর অসাড় হয়ে আসে, ঘৃণায় গা গুলিয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, গভীর ভালোবাসার টানে ফারাহ তার প্রাণপ্রিয় স্বামীকে শেষ একটা সুযোগ দিতে চায়। এমন একটা ভুলের জন্য সম্পর্ক ছিন্ন হোক, সে চায় না। ফারাহ দেখতে চায়, আতাউর নিজের ইচ্ছায় আবার তার কাছে ফিরে আসে কিনা।
এটি আতাউরের জন্য সুযোগ, আবার ফাঁদও বটে। যদি সে ফিরে আসে, তো ভালো। আর যদি না ফেরে? ফারাহর মনে এক ভয়াবহ শাস্তির পরিকল্পনা দানা বাঁধতে থাকে- সেই শাস্তির রূপ কেমন হবে, তা ফারাহ নিজেও জানে না।
হঠাৎ একদিন আতাউর প্রস্তাব দেয়— ঢাকার কোলাহল ছেড়ে চায়ের শহর শ্রীমঙ্গলে বসতি গড়ার। ঢাকার এই ব্যস্ত জীবন নাকি আর ভালো লাগছে না। ফারাহ ঢাকা ছাড়ার কথা জীবনেও ভাবেনি। তবু মুহূর্তেই রাজি হয়ে যায় আতাউরের প্রস্তাবে।
কারণ ফারাহ জানে, 'ব্যস্ততা' একটা অযুহাত মাত্র। আতাউর শ্রীমঙ্গল যেতে চায়, কারণ তার প্রেমিকা শিউলি এখন সেখানেই থাকে।
খেলাটা তবে শ্রীমঙ্গলেই শুরু হোক।
ফারাহ তৈরি। শ্রীমঙ্গলের সবুজ শান্ত পরিবেশে শুরু হবে এক ভয়ংকর খেলা।
এ খেলায় কে হবে শিকার? কে শিকারী?
টিউশনি, হেল্পিং হ্যান্ড, প্রবেশ নিষেধ আর প্রাক্তনের পর কয়েস সামীর আরেকটা শ্বাসরুদ্ধকর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার— দ্য গেইম!
যদি কখনো জানতে পারেন আপনার স্বামী পরকীয়া করছে তাহলে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? রাগারাগি করবেন? জিনিসপত্র ভাঙচুর করবেন? নাকি খুন করবেন? কোনও সাধারণ মানুষের পক্ষে কি একটা খুন করে আরেকটা নির্দোষ ব্যক্তির গায়ে দোষ চাপিয়ে শান্তিতে ঘুমানো সম্ভব? একটা খুনের ঘটনা চাপা দিতে গিয়ে আরও একটা খুন করা কি সম্ভব? আর তারপর প্রেমের অভিনয় করাও কি সম্ভব? আজকে যে বইটা নিয়ে কথা বলবো তা হচ্ছে কয়েস সামীর লেখা, অনুজ প্রকাশনী প্রকাশিত “দ্য গেইম”।
গল্পটা বেশ সহজ স্বীকারোক্তি দিয়ে শুরু হয়েছে। ফারাহ এবং তার স্বামী আতাউর শ্রীমঙ্গলে গিয়ে বসবাস করা শুরু করলো। আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনের কারণ বেশ অস্বাভাবিক। আতাউর শিউলি নামে এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে, যে তার স্বামী রায়হানের সাথে শ্রীমঙ্গলে গিয়ে বসবাস করা শুরু করেছে। আর তাই আতাউর তার পিছু পিছু ওখানে গিয়ে পৌঁছেছে। আরো অদ্ভুত ব্যাপার হলো ফারাহ এই পুরো ব্যাপারটা জানে এবং সে তার স্বামীকে শেষ একটা সুযোগ দিতে চায়, হয় সে ভালো হয়ে যাবে অথবা মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হবে।
প্রথমেই আসা যাক চরিত্রায়নে, গল্পের মূল চরিত্র আতাউর, ফারাহ, শিউলি, রায়হান। সবগুলো চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক রূপ বেশি স্পষ্ট করেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গল্পের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন আরো একজন চরিত্রের উপস্থাপন করা হয়েছে সত্য, তবে নতুন চরিত্রের আবির্ভাব গল্পকে অনুপভোগ্য করেনি। এবং গল্পের শেষ অংশটুকু পড়ে মনে হচ্ছিল যে এই বইটার দ্বিতীয় একটা খন্ড আসবে। সত্যিই কি তাই? দেখা যাক। এক কথায় চরিত্রায়ন অসাধারণ।
গল্পের পারিপার্শ্বিকতার বর্ণনা খানিকটা নির্জীব লেগেছে। শ্রীমঙ্গলের বর্ণনা মাঝামাঝি পর্যায়ে ছিল, চাইলে আরো ভালো হতে পারতো, অথবা আরো খারাপ হওয়া সম্ভবনা ছিল। সে দিক থেকে মাঝামাঝি পর্যায়ে মোটামুটি লেগেছে।
তবে যে বিষয়টি বাজে লেগেছে সেটা হল লেখার ধরন। এটা একমাত্র আমার একার কাছেই মনে হয়েছে কিনা জানি না তবে ক্ষণে ক্ষণে অনুভব হচ্ছিল যে লেখাটা বেশ যান্ত্রিক। কথোপকথন থেকে শুরু করে ঘটনার বর্ণনায় সর্বনামের প্রচুর ব্যবহার তো ছিলই, তার সাথে “খাইলাম”, “করলাম” এরকম শব্দের অত্যাধিক ব্যবহার গল্পের বর্ণনাটাকে অমধুর করে তুলেছে। এটা লেখকের সপ্তম লেখা, আমি এর আগে তার আরো দুটো লেখা পড়েছি। একটা অনুবাদ, আরেকটা মৌলিক। এর আগের মৌলিক লেখাটাতে যতটুকু সহজতা আর সরলতা ছিল এই লেখাটাতে তার খানিকটা ব্যত্যয় ঘটেছে। মৌলিক দেখা হওয়া সত্ত্বেও মাঝে মাঝে কেন যেন অনুবাদ অনুবাদ লাগছিল। আপনারা যারা বইটা পড়েছেন তাদের কাছে কি এরকমটা লেগেছে? নাকি আমারই একটা ভ্রম এটা?
গল্পের প্লট ভালো, প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার এই গল্পে বেশ কয়েকটা “বিগ মোমেন্ট” ছিল যেগুলোর এক্সিকিউশন বেশ ভালো করেই করা হয়েছে। গল্পের শেষ পর্যায়ে এসে প্লটকে খানিকটা আটকে রাখা হয়েছে, যেটাকে cliffhanger বলা যেতে পারে। লেখক চাইলে এই গল্পটার দ্বিতীয় খন্ড আনতে পারেন অথবা দ্বিতীয় খন্ড না আনলেও যে গল্পটা অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে ব্যাপারটা এরকম না। প্লট আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের গতি শুরুর দিকে খানিকটা ধীর মনে হলেও শেষের দিকে বেশ দ্রুত এগিয়েছে। আমার মতে এই ধরনের গতিই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে হওয়া উচিত।
গল্পটা কয়েক পাতা পড়লেই বোঝা যাচ্ছিল যে খুন হবেই। প্রশ্নটা হচ্ছে কে খুন করবে, কাকে খুন করবে। আর গল্পের আসল সৌন্দর্য হচ্ছে খুনটাকে কিভাবে পারফেক্ট crime বানানো যায়। গল্পের শেষের অর্ধেক পড়েই গেছি এটা ভেবে যে খুনি কি ধরা পড়বে নাকি পড়বে না।
এবার আসে যাক, গল্পটা কতটুকু উপভোগ্য ছিল। মাঝে মাঝে একই কথা বারবার রিপিট হয়েছে সত্য তবে তার পরিমাণ ছিল পরিমিত। যেহেতু গল্পের মাঝামাঝি এসে গল্পের গতি বেড়ে গিয়েছিল সে হিসেবে উপভোগ করেছি বইকি। গল্পের অনেক অংশে Mind Game এর thrill অনুভব করছিলাম, সে দিক থেকে বেশ ভালো লেগেছে। আবার মাঝে মধ্যে দু একটা ঘটনায় ভ্রু কুঁচকে গিয়েছে। মূলত মেডিকেল রিলেটেড টার্ম, বিশেষত ফরেনসিক এর ব্যাপারগুলোতে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছি। এটা আমি ছাড়া আর কেউ লক্ষ্য করবে বলে মনে হয় না। আমার মতে যারা থ্রিলার লেখেন তাদের প্রত্যেককেই ফরেনসিকের খুঁটিনাটি ব্যাপারে ভালো জ্ঞান থাকা উচিত। একজন মারা গেলে কত সময় পরে দেহের কি কি পরিবর্তন হয়, রাইগর মর্টিস কখন সেট করে, কখন দেহ পচতে শুরু করে, আর একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ মৃত্যুর সময়কাল কতটুকু নিখুঁতভাবে বের করতে পারেন, এই ব্যাপারগুলোতে সবার জ্ঞান থাকা উচিত। গল্পের একটা পর্যায়ে আতাউর একটা কাগজ লুকিয়ে রেখেছিল, একটা মেডিকেল রিপোর্ট আরকি। যেখানে বলা হচ্ছে যে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। লিভারের এনজাইমগুলো অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এ দুটো রিপোর্ট একই কাগজে থাকে না। হিমোগ্লোবিন থাকে CBC তে, আর লিভারের এনজাইমের জন্য আলাদা টেস্ট আছে। যেটাকে আমরা লিভার ফাংশন টেস্ট বলি। খুবই সামান্য ব্যাপার কিন্তু খুঁতখুঁতে স্বভাবের হওয়ায় এটা আমার চোখে পড়েছে। গল্পের এক পর্যায়ে বলা হয়েছে বেলচা দিয়ে মাথায় এক বাড়ি মেরে খুন করা হলো। বেলচা দিয়ে মাথায় “একবার” বাড়ি মেরে খুন করা সম্ভব না, মাথায় “একবার” বাড়ি মারলে অজ্ঞান হওয়াটাও অতিমাত্রায় অস্বাভাবিক। একবার আঘাত এর ক্ষেত্রে খুব জোরে, মানে প্রচন্ড জোরে না লাগলে মানুষ অজ্ঞান হয় না, দুই তিন বারের প্রয়োজন। সেখানে এক বাড়ি দিয়ে খুন করে ফেলাটা অতিমাত্রায় রঞ্জিত। যাইহোক, প্রতিটা অধ্যায় রহস্যজনক ভাবে শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ব্যাপারটা বেশ ভাল ছিল।
এই গল্পটা যেহেতু সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, তাই কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দিক আমরা ভেঙেচুরে দেখি চলুন। প্রথম কথা হচ্ছে, আতাউর পরকীয়া করেছিল কেন? এমন না যে তার দাম্পত্য জীবনে খুব অশান্তি ছিল। বরং ঠিক তার উল্টো। সে খুব সুখেই ছিল। কিন্তু সুখে থাকলে ভূতে এসে যেরকম দমাদম কিল মারে, ঠিক তেমনি আতাউরও তার শান্ত জীবনের কোন thrill অনুভব করতে পারছিল না। যার কারণে সে পরকীয়া লিপ্ত হয়েছে। এবং এটা একবার না, অতীতেও এরকম ঘটনা আমরা লক্ষ্য করতে পেরেছি। নিষিদ্ধ আপেল খাওয়ার অনিবার্য আকর্ষণ মানুষের যে বরাবরই ছিল তার কারণ এই না যে আপেলটা অনেক সুস্বাদু, বরং কারণ এটাই যে নিষিদ্ধ জিনিসে মানুষের আগ্রহ অসীম। ঠিক এই কারণেই আতাউর পরকীয়ায় জড়িয়ে গিয়েছিল। এটা একটা সামাজিক ব্যাধি আমাদের সমাজ এর প্রবণতা অনেক বেশি।
তবে, এর বিপরীতে তার স্ত্রী ফারাহ এর রিঅ্যাকশন ছিল অতিমাত্রায় অস্বাভাবিক। হ্যাঁ, এটা সত্য যে আমাদের সমাজে পরকীয়ায় লিপ্ত হলে তার পার্টনার যদি সেটা জানতে পারে অনেক ক্ষেত্রেই খুন করে বসে। রাগের মাথায় হোক আর ঝোকের বশেই হোক। তবে সেই খুন নিখুঁতভাবে করা, পরিকল্পনা করে ঠান্ডা মাথায় করা, সযত্নভাবে লুকিয়ে রাখা, খুন করার পরেও বিবেকের দংশনে না ভোগা এবং পার পেয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা সবাই কিন্তু পারে না। এই দিক থেকে গল্পটা ইউনিক ছিল এবং একটা বিশেষ চরিত্রের চরিত্রায়ন উচ্চমাত্রায় নিয়ে গেছে। আর আমি সন্দেহ করছি সেই বিশেষ চরিত্রের অতীত কোনও গোপন ঘটনা আছে, কোনও গোপন গল্প আছে। দেখা যাক পরবর্তী খন্ড আসে কিনা।
আবার একই সাথে আগুন এবং ঘি পাশাপাশি রাখলে যেরকম জ্বলে ওঠে ঠিক তেমনি নারী এবং পুরুষ একসাথে কাজ করলে, হোক সেটা অপরাধ, একজন না একজন ঠিকই অপরজনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে এই নির্মম সত্যটা গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। মূল গল্প যেখানে শেষ হয়ে গিয়েছিল সেখানে না থেমে আরও একটা নতুন মাত্রা গল্পের শেষ পর্যায়ে যোগ করা হয়েছে। এটাকে আমি প্রশংসিত পর চোখেই দেখব। কারণ শেষের দিকের নতুন টুইস্ট সামনে না আনলে গল্পটা বেশি সাদামাটা লাগতো। অন্তত গল্পের তিনটা পর্যায় ছিল, “বিগ মোমেন্ট” এরপরেও দুইটি বড় বড় টুইস্ট ছিল। সেটা ভালো লেগেছে।
আরেকটা জিনিস বলার মত, লেখকের “ত্রেতা” গল্পটা পড়ে আমি বলেছিলাম উনি নিজের লেখার easter egg, or foreshadowing বেশি করেন। মানে গল্পের ভেতরেই নিজের লেখা অন্য বইয়ের নাম তুলে ধরেছিলেন। আমি বলেছিলাম- এটা খারাপ না, তবে মাত্রাতিরিক্ত হওয়াটাও ভালো না। এই গল্পে দেখলাম সেটা সংশোধন করা হয়েছে, “ক্রেতা” এর মত ছোট গল্পে যেখানে অনেকবার নাম তুলে ধরা হয়েছিল, সেখানে এই গল্পটাতে মাত্র একবার বলা হয়েছে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
গল্পের দু-এক জায়গাতে নামের ভুল হয়েছে, এক জায়গায় রায়হান শব্দটি ব্যবহার করা হলেও সেখানে প্রকৃতপক্ষে আতাউর শব্দটা ব্যবহার করার কথা ছিল। এক জায়গায় বলা হয়েছে শিউলি মেসেজ দিয়েছে কিন্তু ঠিক তার আগের পৃষ্ঠাতেই বলা হয়েছে আতাউর শিউলিকে মেসেজ দিয়েছে। গল্পের এক জায়গায় বেলচা হুট করে শাবলে পরিণত হয়েছে। আরেকটা বড় প্রশ্ন আপনাদের কাছে করে রেখে যেতে চাই, কোন কলেজের শিক্ষককে কি প্রফেসর বলা যেতে পারে? কলেজ বলতে অনার্স সমতুল্য কোনো কলেজ না, শ্রীমঙ্গল আদর্শ কলেজের শিক্ষক। তাকে কি প্রফেসর বলা যেতে পারে?
বইতে বেশ কিছু ইলাস্ট্রেশন আছে। ছবিগুলি মোটামুটি হয়েছে। তবে একেবারে শেষের ছবিটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার। বিশেষত চেহারার কুটিলতা। বাঁধাই একটু শক্ত শক্ত লেগেছে তবে পড়তে অসুবিধা হয় নাই। ফন্ট সাইজ একেবারে পারফেক্ট। চোখে চাপ পরে না। গল্পের নামটার সাথে গল্পের মিল আছে। “দ্য গেইম”, কোন খেলা? অনেকগুলো অধ্যায়ের শেষে এই খেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার গল্পের শেষ হলেও খেলার কিন্তু সমাপ্তি হয় নাই। বরং অসম্পূর্ণতায় খেলা আর জমে উঠেছে। সুতরাং নামটা লেখক ইচ্ছে করেই দিয়েছেন। ভালোই হয়েছে।
এখন আসা যাক মূল প্রশ্নে। গল্পটা উপভোগ করেছি কিনা। হ্যাঁ, এটা সত্য যে গল্পটার, বিশেষ করে গল্পের বর্ণনায় বেশ কিছু flaw ছিল। তবে তার পরিমাণ আর প্রভাব দুটোই খুবই সামান্য। তবুও কেন আলোচনা করলাম? যেন লেখকের উন্নত হয়, তিনি যেন তার ভুলগুলো শুধরে নিতে পারেন। আমি চাই আমাদের দেশের মৌলিক লেখাগুলো আরও বেশি শক্তিশালী হোক, আরও উপভোগ্য হোক। সেই জায়গা থেকেই বিস্তারিত আলোচনা করা। গল্পটা উপভোগ করেছি কি? হ্যাঁ, করেছি? লেখকের আর লেখা পড়ব? হ্যাঁ, পড়ব।
আপনিও পড়তে থাকুন, বই উপভোগ করুন, পৃষ্ঠার মাঝে হারিয়ে যান। দেখা হবে অন্য কোনও একটা বই নিয়ে, অন্য কোনও একটা গল্পে।
আতাউর রহমান একজন কলেজ শিক্ষক। স্ত্রী ফারাহকে নিয়ে তার বেশ সুখের সংসার। আসলেই কি সুখের সংসার? আতাউর আর ফারাহ'র দাম্পত্য জীবনে একটা 'কিন্তু' আছে। ছোটখাটো না, বেশ বড়সড় 'কিন্তু'। আতাউর পরকীয়ায় আসক্ত। দীর্ঘদিন যাবত সে শিউলি নামের এক নারীর সাথে গোপনে প্রেম চালিয়ে যাচ্ছে। আর তার ধারণা, তার এই গোপন প্রেমের ব্যাপারে স্ত্রী ফারাহ কিছু জানে না। ব্যাপারটা আসলে ভুল। ফারাহ সবই জানে। কিন্তু স্বামীর পরকীয়ার ব্যাপারটা জেনেও সে চুপ করে আছে। আতাউরকে সে এই ব্যাপারে কিছুই জানতে দেয়নি। ফারাহ আসলে তাকে একটা সুযোগ দিয়ে চাইছে। সে এখনও আশা করে একদিন আতাউর তার ভুল বুঝতে পারবে। আর তারপর পরকীয়া প্রেমিকা শিউলিকে ছেড়ে সে আবারও ফিরে আসবে ফারাহ'র কাছে।
মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। শিউলির প্রতি আতাউরের প্রেম যেন দিন দিন আরো বেড়ে যেতে লাগলো। হঠাৎ করেই সে তার স্ত্রী ফারাহকে প্রস্তাব দিলো ঢাকার ব্যস্ততম জীবন ছেড়ে শ্রীমঙ্গলের শান্তশিষ্ট পরিবেশে থিতু হওয়ার। আসলে চা-বাগান ঘেরা শ্রীমঙ্গলের শান্ত পরিবেশের প্রতি আতাউরের কোন টান নেই। তার একমাত্র টান শিউলির প্রতি। আর শিউলির বর্তমান নিবাস এখন শ্রীমঙ্গলেই। তাই আতাউর তার প্রেমিকার কাছাকাছি থাকতে চাওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রীমঙ্গলে পাড়ি জমাতে চায়। সব জেনে-বুঝেও ফারাহ আতাউরের এই প্রস্তাবে রাজি হলো। ঢাকা ছেড়ে আতাউর-ফারাহ দম্পতি পা রাখলো শ্রীমঙ্গলে।
নিজেকে অতি বুদ্ধিমান মনে করা আতাউর ভাবছে সব তার পরিকল্পনা মতোই হচ্ছে। কিন্তু স্বামীর পরকীয়ার ব্যাপারে সম্যক ধারণা রাখা ফারাহ'র হাতেও ঘুঁটির সংখ্যা নেহাত কম না। অবিশ্বস্ত স্বামী আর প্রতারিত হতে থাকা স্ত্রীর মধ্যে এক অদ্ভুত খেলা চলতে থাকলো। যে খেলায় শিউলি আর তার হতভাগ্য স্বামী রায়হানও স্বাভাবিকভাবেই জুড়ে গেলো। আতাউর-ফারাহ আর রায়হান-শিউলি, এই দুই দম্পতির ভাগ্যরেখা যেন একইদিকে পরিচালিত হতে লাগলো অদৃশ্য কোন এক ইশারায়। প্রেম, পরকীয়া, অবিশ্বস্ততা আর প্রতিশোধের এক অভাবনীয় আখ্যান রচিত হতে থাকলো নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা ছোট্ট শহর শ্রীমঙ্গলে। অদ্ভুত এই খেলায় কে জিতবে আর কে-ই বা হারবে?
'দ্য গেইম' বইটা আমি কিনেছিলাম অনেকটা হাইপে পড়ে। বইটার লেখক কয়েস সামী'র পূর্ববর্তী কিছু বইয়ের সুনামও অবশ্য বইটা কেনার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আর 'দ্য গেইম'-এর কাহিনি সংক্ষেপ পড়ে ওই সময় বেশ আগ্রহ বোধ করছিলাম বইটার প্রতি। কেনার পর বইটা পড়তে একটু দেরি হলো, কিন্তু পড়ে শেষ করলাম। দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, 'দ্য গেইম' আমাকে হতাশ করেছে। বইটার প্লট যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং ছিলো। কিন্তু কয়েস সামী'র এক্সিকিউশন সেই ইন্টারেস্টিং প্লটটার সাথে যথেষ্ট সুবিচার করতে পারেনি।
'দ্য গেইম'-এর ফার্স্ট হাফ রীতিমতো বোরিং লেগেছে আমার কাছে। এই জায়গাগুলোতে প্রচুর রিপিটেশন লক্ষ্য করেছি। বিশেষ করে উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সংলাপ পড়ে মনে হচ্ছিলো দুটো রোবটের মধ্যেকার কথোপকথন পড়ছি। অ্যামেচারদের মতো লেখার ধরণ। আর ফার্স্ট হাফের প্রত্যেকটা অধ্যায়ের শেষে 'খেলাটা আমার', 'আমিই এই খেলা নিয়ন্ত্রণ করছি', 'এই খেলায় আমিই জিতবো' টাইপ কথাবার্তা প্রচুর বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। এই উপন্যাসটার নাম যে 'দ্য গেইম', সেটা বোঝাতেই বোধহয় কয়েস সামী বারবার এই ধরণের বাক্য ব্যবহার করেছেন।
সেকেন্ড হাফে গিয়ে 'দ্য গেইম'-এর কাহিনি কিছুটা গতি পেয়েছে। প্রকৃত থ্রিল আর সাসপেন্স শুরু হয়েছে এই সেকেন্ড হাফের পর থেকেই। রিপিটেশনের ব্যাপারটাও কমে এসেছে এই পর্যায়ে। তবে এই উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে একটা কথা বারবার মনে হয়েছে। আর সেটা হলো, লেখক এটাকে ইলাস্টিকের মতো টেনে লম্বা না করলেও পারতেন। তিনি যদি 'দ্য গেইম'-কে নির্মেদ ও বাহুল্যবর্জিত ভাবে পাঠকের সামনে প্রেজেন্ট করতেন তাহলে এটা বড়জোর একটা বড় গল্প বা উপন্যাসিকা হতো। সেক্ষেত্রে কলেবরে প্রায় অর্ধেক হয়ে যেতো বইটা। তবে এই উপন্যাসের শেষটা আমার কাছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে। অনেকটা ওপেন এন্ডিং ধাঁচে এটাকে শেষ করেছেন কয়েস সামী।
'দ্য গেইম'-এর কিছু ভুলভ্রান্তি নিয়ে কথা বলি। এমনিতে কোন ভুল বানান চোখে পড়েনি। তবে কয়েক জায়গায় চরিত্রদের নাম ওলটপালট হয়ে গেছে। যেমন, রায়হান হয়ে গেছে আতাউর আর আতাউর হয়ে গেছে রায়হান। লেখক পুলিশের ইন্সপেক্টর আর ওসি'র মধ্যেও তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। কিছু জায়গায় ইন্সপেক্টর আল আমিন লিখেছেন তো কিছু জায়গায় আল আমিন সাহেব হয়ে গেছেন ওসি। সবচেয়ে মজার লেগেছে যে ব্যাপারটা সেটা হলো কয়েস সামী শ্রীমঙ্গল শহরকে রীতিমতো একটা গ্রাম হিসেবে দেখিয়েছেন। যাই হোক, 'দ্য গেইম' আমার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তারপরও ভবিষ্যতে কয়েস সামী'র লেখা বই পড়ার ইচ্ছা রইলো। সময়ের সাথে সাথে তাঁর লেখা আরো উন্নত হবে আশা করি।
'দ্য গেইম'-এর প্রচ্ছদটা ভালো লেগেছে। বইটার প্রোডাকশনও ছিলো শক্তপোক্ত। হাতে যদি নষ্ট করার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে তাহলে পড়ে ফেলতে পারেন 'দ্য গেইম'। কে জানে, আপনার ভালোও লাগতে পারে।
গত মঙ্গলবার সকালে কয়েস সামী ভাই ম্যাসেঞ্জারে নক করলেন। ফ্রি থাকলে দেখা করার কথা বললেন। ভাগ্য ভালো—সেদিন কোর্টে তেমন কাজ ছিল না। দুপুর বারোটার দিকে তার ব্যাংকে গেলাম। কফির ধোঁয়া হালকা হয়ে আসতেই ব্যাগ থেকে তিনি বের করলেন দ্য গেইম—উনার নতুন বই। বাজারে এখনো আসেনি; প্রি-অর্ডার চলছে। বই পড়ুয়ার কাছে বই উপহারের আনন্দ আলাদা, আর কয়েস ভাই—উনার হাতে বই দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। থ্রিলার লেখক যদি পাঠককে এভাবে থ্রিল না দেন, সেটা তো রস কমানো চা।
বইটা হাতে পেয়েই হাভাতের মতো গিলেছি। পড়া শেষ বহু আগেই, কিন্তু পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখছি-লিখবো করে সময় নষ্ট করছিলাম। আগামীকাল ছুটি থাকায় ভাবলাম—না, আজই আমার ফেসবুকীয় পাঠকবন্ধুদের সঙ্গে দ্য গেইম খেলি। --- ‘দ্য গেইম’ — সারসংক্ষেপ
এটা বই নয়—এটা চোখে ঘুষি।
ফারাহ, আতাউর আর শিউলিকে ঘিরে দাঁড়ানো এক ভয়ংকর বোর্ড—যেখানে কেউই খেলোয়াড় নয়, সবাই গুটি। ফারাহর নিঃশব্দ শক্তি, আতাউরের বিকৃত অহংকার, আর শিউলির অন্ধকার মোহ—সব মিলিয়ে এমন এক বাস্তবতার দরজা খুলে যায়, যেখানে পাঠক নিজের মুখেই চপেটাঘাত খায়।
কয়েস সামী দেখিয়ে দেন—মানুষ যতটা সৎ ভেবে বাঁচে, তার ভেতরে তার চেয়েও বড় ধোঁয়াশা, গোলমাল আর অদৃশ্য চাপ লুকিয়ে থাকে।
এই বই পড়া মানে নিজের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলা। বুঝে যায়—যে সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে এতদিন বুক ফুলিয়ে হাঁটা হত, তার অর্ধেকই ছিল অনুচ্চারিত বাইরের চাপের নির্মাণ। দ্য গেইম শেষ হলে পাঠক টের পাবেন—তিনি চালক নন; তাকে চালানো হয়েছে।
শেষে দাঁড়িয়ে পাঠকের মনে শুধু একটাই বাক্য ঘোরে— গেইমটা শুরু হয়েছিল ভেতর থেকেই।
আমার কপিতে কয়েস ভাই নিজের হাতে লিখে দিলেন— “প্রিয় পাঠক, এই গেইমের একটাই নিয়ম— কাউকে বিশ্বাস করবেন না।”
রিজন ভাইয়ের চমৎকার প্রচ্ছদ আর অনুজ প্রকাশনের স্বাতন্ত্র্যময় ইলাস্ট্রেশন বইটিকে আরও জীবন্ত করেছে। ১৮৭ পৃষ্ঠার এই বই পড়তে বসলে সময় যে কোথা দিয়ে পালিয়ে যাবে—পাঠক টেরই পাবেন না। আর ৪০০ টাকায় এই গেইম খেলে কেউ হারবেন—এমন সন্দেহ আমার নেই। আর বেশি লিখলে মজাটাই নষ্ট হবে। তাই রিভিউ পর্ব এখানেই শেষ।
কামনা করি—কয়েস ভাই যেন প্রতি মাসেই এমন থ্রিলার উপহার দেন।
"দ্য গেইম" বইটি পড়ার প্রথমে তেমন একটা ভালো লাগেনি। গতানুগতিক বইয়ের মতোই লাগছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত পড়ার পরও ততটা ভালো লাগেনি যতটা মনে হয়েছিল। এবং নাম দেখে ভেবেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল শহরের আধুনিক আদলে এক জটিল গেইমের সম্মুখীন হতে চলেছি। যখন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বললো তখন মনে হয়েছিল সাইকোলজিক্যাল বিষয়টা খুব দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠবে৷ তেমনটা যদিও হয়নি। তবে গল্পটা মন্দ নয়। আমি কিছু পৃষ্ঠা পড়ার পরে লেখকের অটোগ্রাফ টা খেয়াল করি। এর আগে চোখে পড়েনি। যেখানে লিখা ছিল, "এখানে কাউকেই বিশ্বাস করা যাবে না।" তারপরই আমি কিছু টুইস্ট বুঝে গিয়েছিলাম। আমার কাছে তখন মনে হচ্ছিল পরবর্তীতে কী হবে তা আমি আন্দাজ করতে পারছি। হলোও তাই। আমি যা ভাবলাম কিছুটা তাই ঘটলো। তবে একদম শেষের টুইস্ট টা আমার মাথায় একদমই আসেনি। এটা ছিল দারুণ! তবে ফারাহ'র জীবনটা আবার সেই ভান ধরার মধ্যেই রয়ে গেল। এভাবে একটা জীবন সুখে কাটানো যায়? ভান ধরে আর কত? নাকি এটাই তার কৃতকর্মের শাস্তি? শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাকে এভাবেই বাঁচতে হবে? এর তো কোনো নিস্তার লেখক দেখাননি শেষ পর্যন্ত।
বইটা চাইলে আরেকটু তাড়াতাড়ি আগানো যেত। এগিয়ে আনা যেত কাহিনি গুলোকে। তবে এটাও মন্দ হয়নি। আমার পড়তে পড়তে অস্বস্তি লাগছিলো। কখন মূল গেইমে পৌঁছাবো সেই অপেক্ষায়। অন্যদের যদি ধৈর্য বেশি থাকে নিঃসন্দেহে তাদের কাছে বইটা ভালো লাগবে। তবে আমার ধৈর্য কিছুটা কম। তাই মনে হচ্ছিল দ্রুত যেন ক্লাইমেক্সে পৌঁছাতে পারি।
সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে শেষটার জন্য। আমি লেখকের "প্রাক্তন" বইটা পড়েই মনে হচ্ছে এটার থেকেও বেশি আগ্রহ পেয়েছি। ওটা অনুবাদ বা বিদেশি গল্প থেকে আশ্রিত হলেও দারুণ লেগেছিল। হয়তো এই বইয়ে লেখক কিছুটা এআই এর সাহায্য নিয়েছেন শুরুর দিকটায়। সেজন্য হয়তো আরও ভালো লাগছিল না। কারণ একটা কৃত্রিমতার ছোঁয়া চলে এসেছিল। এর চেয়ে উনি পুরোটাই নিজের কথাগুলোই বইয়ে রাখলে বইটা আরও প্রাণবন্ত, জীবন্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ গেইমে পরিণত হতো। যত যাইহোক একটা টুল ও একজন মানুষের লিখার অনেক পার্থক্য থাকে। প্রাণহীন মনে হয়।
আমার সব মিলিয়ে এভারেজ লেগেছে।
রেটিং : ৩.৫/৫
শিরোনাম : দ্য গেইম লেখক : কয়েস সামী প্রকাশন : অনুজ প্রকাশন পৃষ্ঠা : ১৯২ মুদ্রিত মূল্য : ৪০০/-
মানুষের যখন সুখে থাকতে ভুতে কিলায় সেটা আতাউরের মতো মানুষকে দেখলেই বোঝা যায়।কাহিনী ছিলো দুই দম্পতি নিয়ে, আতাউর-ফারাহ এবং রায়হান-শিউলি।
★আতাউর নিজের এতো সুন্দর স্ত্রীকে রেখে শিউলির সাথে পরকীয়া করে।দিনের পর দিন নিজের স্ত্রী ফারাহকে লুকিয়ে এই প্রেম চালিয়ে যায়।সে মনে করে ফারাহ কিছুই জানে না,ও কিছুই বুঝে নি।তবে ওর ধারণা ভুল।ফারাহ সব জানতো আর আতাউরের সাথে সব জেনেও নির্বিকার ভাবে সংসার করে গেছে।
★ফারাহ ওর স্বামীকে একটা সুযোগ দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলো।যদি আতাউর ওর কাছে ফিরে আসে তাহলে ভালো নয়তো ওর খেলা শুরু করবে। কয়েকদিন পর আতাউর বলে ওরা শ্রীমঙ্গল যাবে কারণ ও এতো কাজের চাপ নিতে পারছে না।কিন্তু ফারাহ জানতো আতাউরের শ্রীমঙ্গল যাওয়ার আসল কারণ।কারণ সেখানে ওর প্রেমিকা শিউলি আছে।গল্পে একটা যে খুনাখুনির ব্যাপার ঘটবে এটা প্রথম প্রথম পড়েই বোঝা যাচ্ছিলো।তবে খুনটা কার হবে?কে করবে?কে শিকার আর কে শিকারী আসলে?এটাই দেখার পালা!
★বইয়ের শেষটা দেখে মনে হয়েছে দ্বিতীয় খন্ড হয়তো লেখক নিয়ে আসবেন। আবার না আসলেও সমস্যা না কারণ লেখক এমন ভাবেই শেষ করেছেন যে এটা অসমাপ্ত ও বলা যায় না।
★এবার আসি মূল কথায়, লেখার ধরণ নিয়ে।প্রথম প্রথম কাহিনী মনে হচ্ছিল বারবার রিপিট হচ্ছে।তবে শেষে এমনভাবে টানটান উত্তেজনা ছিলো আমি এক বসায় শেষ করেছি।আমি লেখকের অন্য কোনো বই পড়িনি।এই বইটাও লেখকের পক্ষ থেকে ঈদের উপহায় পেয়েছিলাম।
★একটা বিষয় নিয়ে আমি খুব হতাশ আর ডিস্টার্ব হয়েছি।এই বইটা লেখকের মৌলিক বই।উনি আগেও কিছু বই অনুবাদ করেছেন যতটুকু জানি।কিন্তু লেখার অনেক জায়গায় পড়ে মনে হয়েছে আমি কোনো অনুবাদ বই পড়ছি।জানি না আর কারো কাছে এমনটা মনে হয়েছে কিনা!
অভারঅল সাইকোলজিকাল থ্রিলার বই হিসেবে আমার ভালো লেগেছে।লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো💙
' দ্য গেইম ' - বইয়ে সমস্ত কাহিনী পরকীয়াকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। কেন্দ্রীয় চরিত্র ফারাহ। যাকে গল্পে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু পার্শ্বচরিত্র আছে তবে তাদের বর্ণনা খুব বেশি ফুটে উঠেনি গল্পে। কিন্তু গল্পে তাদের প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। কাহিনী সুন্দর, সাবলীল ভাবে বলে গেছেন লেখক। চরিত্রের প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে একটু গড়মিল চোখে পড়েছে। শিক্ষামূলক বিষয় হচ্ছে মানুষের পাপ সেটা যাই হোক কখনো চাপা থাকে না। আর অন্ধবিশ্বাস বা অতি ভক্তি সবসময় ভয়ংকর। মানুষ নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নিজের বিবেক বিসর্জন দিতে নূন্যতম সময়ও নেয় না।
ওভারঅল, যারা নতুন থ্রিলার পড়ছেন বা শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে বইটা উপযোগী। যারা থ্রিলার পড়ে অভ্যস্ত তাদের কাছে এভারেজ মনে হবে। আংশিক ১৮+ দৃশ্য আছে এক পাতায়।
আর হ্যাঁ,কিছু চরিত্র উলটপালট হয়ে গেছে আর একটু বানান ভুল আছে।
রেটিং: ৪/৫
বই : দ্য গেইম লেখক : কয়েস সামী জনরা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রকাশনী: অনুজ প্রকাশন