তেত্রিশ কোটি টাকার হাই কোয়ালিটি পাকিস্তানী এমারেল্ড নিয়ে উধাও হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়াগামী ফ্রেটার Triton ভারত মহাসাগরে। দুর্ধর্ষ এক জলদস্যুদলের নিষ্ঠুর চক্রান্তের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খেল রানা অনেক। তারপর জটিল এক জাল পাতল সে সাতুলাগির ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি আবর্তে।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
অনেকদিন পর মাসুদ রানা'য় ফিরে এলাম। "রত্নদ্বীপ" মাসুদ রানা সিরিজের ১২তম বই। তখনও বিসিআই হয়নি। তাই এই বইয়ে রানাকে পাওয়া গেল পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্সের অফিসার হিসেবে। সে নেভি ইন্টেলিজেন্সের অনুরোধে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়াতে। আ্যকশন, থ্রিলার এবং সাসপেন্সের এক দারুণ মিশেল "রত্নদ্বীপ"।
আগে গৌরচন্দ্রিকা, পরে আ্যকশন সাধারণত মাসুদ রানা সিরিজের বেশিরভাগ বইয়ে এমনটি হয়। কিন্তু "রত্নদ্বীপ" ব্যতিক্রম৷ এই বইয়ের শুরুতেই শত্রুর জাহাজে উঠে পড়ে রানা। বিরাট আ্যকশনের মাধ্যমে আবার বেরিয়েও আসে। তখন থেকে শুরু মূল কাহিনি।
ভারত মহাসাগর থেকে গত তিনসপ্তাহে তিনটি জাহাজ অদৃশ্য হয়ে গেছে। কোথায় হারিয়ে গেছে জাহাজগুলো তা কেউ জানে না। তিন নম্বর জাহাজটি ছিল পাকিস্তানের। ট্রাইটন নামে সেই জাহাজে ছিল ৩৩ কোটি টাকার এমারেল্ড। জাহাজের নিরাপত্তায় ছিল দুইজন দুর্ধর্ষ পাকিস্তানি এজেন্ট। জাহাজ ছিনতাই করার পর ক্রুদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার এক দ্বীপে। নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে রানার সহযোগী দুই এজেন্টকে।
ট্রাইটনের এমারেল্ড উদ্ধার করতে ইন্দোনেশিয়ার এক দ্বীপে গবেষকের বেশে এসেছে মাসুদ রানা এবং ওজন আলী। গোপনে ট্রাইটনে হানা দেওয়ার ঘটনা বুঝে গেছে ইসরাইলের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন সেই জলদস্যুদল। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ধনাঢ্য পাকিস্তানি ব্যবসায়ী উসমান খান। এদিকে রানাকে মাত্র ৪৮ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন নেভি ইন্টেলিজেন্সের চিফ জুলফিকার। মাসুদ রানা পারবে তা সবাই জানে। কিন্তু কীভাবে সেই ট্রাইটনকে উদ্ধার করলো তা পড়ার মতো।
প্রথমদিকের মাসুদ রানা সিরিজের সবগুলো বই-ই খুব ভালো৷ কাহিনির যৌক্তিক বুনটের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত আ্যকশন লেখাকে আরও আনন্দময় করে তুলেছিল।
ভারি ভারি ফিকশন বা নন-ফিকশন পড়তে পড়তে নাভিশ্বাস উঠে, তাহলে সময়কে উপভোগ করতে পড়ুন মাসুদ রানা'র "রত্নদ্বীপ"।
অসাধারণ গাঁথুনি গল্পের। কাহিনীর মাঝখান থেকে শুরু করে পাঠক। প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার বুঝতে পারবেননা ঠিক কি চলছে। কাহিনী যত সামনে এগোয়, তত পিছনের গল্পও আনফোল্ড হতে থাকে। এই গল্প বলার ধরণটা ইঊনিক ছিল, ভালো লেগেছে। অনেকটা পাজল পিস মেলানোর মতো। প্রচুর একশন এ ভর্তি, টুঈস্ট আছে পরতে-পরতে। সব মিলিয়ে এক নিঃশ্বাসে শেষ করার মতো একটা বই।
অনেক আগের বই। এতদিনে পড়লাম। একটু ভিন্ন ধাচের। কাহিনির খোলাসা হয় ধীরে। একশন + স্পাই দুটোই আছে। আর আছে রানার হাল্কা ধাচের রসিকতা। সব মিলিয়ে উপভোগ্য একটা কাহিনি৷