নিশি মিয়া হাঁটছে... হাঁটা পথটা বড়ই পঙ্কিল...এই পথে বহুদিন কোন মানুষ আসেনি...কিন্তু ওকে যেতে হবে...স্বপ্নে তাকে ডেকেছে কেউ একজন...একারনে সে যাবে...তাকে যেতে হবে...এখানে মেঘেরা তাকে হাতছানি দিচ্ছে...সেই হাতছানি বড়ই সুন্দর... একবার কিছু মেঘ ওর শরীর ছুয়ে যাচ্ছে- ত আরেকবার মনে হচ্ছে এই সামনেই মেঘ। কিন্তু সেই মেঘ থেকে বেরিয়ে একটু দূরে গিয়ে পেছন ফিরলেই মনে হয় অতোক্ষন তো মেঘেই ছিলাম...নিশির এতকিছু ভাবার সময় নেই। ওকে খুব দ্রুত যেতে হবে। হটাত একটা বাজ পড়ল ওর সামনে... এত সামনে যে সে শব্দের তীব্রতায় মিনিট খানেক প্রায় কালা হয়ে রইল...
Born in Chittagong, a beautiful town in bangladesh which has many stories to tell. He is an architect by profession. Loves to write dreams, some dreams no one could imagine.
প্রথম ২০ পৃষ্ঠা পড়ে বেশ ভাল লেগেছিল। গা নাড়াচাড়া দিয়ে বসেছিলাম নিশির ডাক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানবার জন্য। এরপর থেকেই যা শুরু হলো তাকে ইংরেজিতে বলে BULLSHIT. এরকম বিরক্ত বোধয় বহুদিন আগে নিমাই এর'মেমসাহেব' পড়ে হয়েছিলাম। নিশি মিয়ার প্রেতসাধনা ছেড়ে দুই অপদেবতার মারামারির গল্প পড়তে গিয়ে নেতা দেবীকে মনে হয়েছে WORTHLESS, খারুকে দেখে কিছু শিখতে পারলেও তো হতো! নাহ! বাংলাদেশের লোকজন আর যাই পারুক ভূতের গল্প লিখতে পারেনা...মক্কা এখনো বহুদূর!
সেদিন ছিল শুক্রবার। সময় আনুমানিক রাত সাড়ে বারোটা। রেডিও চলছিল ভূত এফ এম। হরর গল্প পড়ার জন্য পারফেক্ট একটা সময়। তাই হাতে তুলে নিলাম প্রেতসাধক নিশিমিয়া।
আমি সবসময়ই সজজ-সরল-প্রাঞ্জল ভাষার প্রতি গুরত্ব দিই। কোন লেখা যদি ঠিকঠাক মত বোঝার জন্য দুইবার পড়ার দরকার হয়, তবে সে লেখা পড়ে তেমন একটা মজা পাই না। একটানে পড়ে যেতে না পারলে সেটা যত ভালো সাহিত্যকর্মই হোক না কেন, সেটা পড়ে আমি মজা পাই না। কিন্তু প্রেতসাধক নিশিমিয়া পড়ার সময় আমার এক ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে !
বইয়ের ফ্লিপেই বলা ছিল- বইটিতে মোট সাতটা ছোট গল্প আছে। গল্পগুলো একটার সাথে একটা সম্পর্কিত না, কিন্তু একটা না পড়লে অন্যটার কাহিনী ভাল করে বোঝা যাবে না। তাছাড়া ফ্লিপে থাকা আরেকটা তথ্য আমাকে খুব বেশি আকৃষ্ট করেছিল- বইটিতে প্রাচীন ভারতীয় তান্ত্রিকদের প্রেত সাধনা সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে।
কিন্তু বাস্তবে বইটি পড়তে গিয়ে আমি এমন কিছু পাই নি। আমি সারাজীবন সাবলীল লেখা খুঁজে এসেছি, কিন্তু এই বইয়ের ভাষা এত বেশি সাবলীল যে আমি পড়তে গিয়ে চরম বিরক্ত বোধ করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে বইটি ক্লাস ফোর-ফাইভ পড়ুয়া বাচ্চাদের কথা মাথায় রেখে লেখা হয়েছে যাতে তারা বুঝতে কোন অসুবিধা না হয়। প্রতিটা গল্পই খুব সাধারণ। কাহিনীর কোন গভীরতা নেই, ধাক্কা খাওয়ার মত কোন টুইস্ট নেই, এমনকি ভয় ধরানোর মতও কিছু নেই। হরর বই পড়ার সময় ভয়ে গায়ের প্রতিটি লোম দাঁড়িয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু ৭০ পৃষ্ঠার এই বইটা পড়ার সময় আমি দুই দুইবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম !
সত্যি বলতে কি, নিশিমিয়া আমাকে চরম ভাবে হতাশ করেছে। বইটা হরর ক্যাটাগরিতে না রেখে 'বাচ্চাদের জন্য' কথাটি লিখে রাখলেই বোধহয় ভাল হত।
শুরুতেই লেখক ও বই সম্পর্কে কিছু কথা লিখা, আমি ভাবসি প্রকাশক এর লেখা! পড়ে দেখি এটা মিলন গাঙ্গুলী'র লেখা! রিভিউ এর জন্য কিছু বাকি রাখেন নাই সব কিছু লিখে দিসেন! মিলন দাঁ যে রকম বলেছেন অনেকেই Horror লিখছেন তাও ঘুরে-ফিরে কবর, চার্চ, প্রেতাত্মা! দেশী HORROR কেউ লিখতে পারে না বা লিখা কষ্টকর! মিলন দাঁ যে রকম বলেছেন নিশি মিয়া পুরোপুরি একটা দেশী ভৌতিক উপন্যাস! নিশির ডাক সম্পর্কে অনেক কথা আছে কিন্তু বই এ সম্ভবত রাজীব ভাই প্রথম নিয়ে আসছেন! আর রাজীব ভাই এর লিখায় মিলন গাঙ্গুলী এর প্রভাব আছে যেমন প্রথম গল্পেই শুরুটা কানাফকির এর মত!অসাধারণ একটা বই হইসে! সর্বশেষ রাজীব ভাই পুরো গল্পটা সিরিয়াস হয়ে লিখছেন! গল্পের মাঝে একটু হাসি ডুকাইতেন মন্ত্রগুলো দিয়ে! যাতে পাঠক খারুর সাথে যুদ্ধে কে বাঁচে কে মরে এমন অবস্থায় একটু হাসল!! আশা করি নিশি মিয়ার পরবর্তী সিকুয়াল পাব! কারণ নেতার সাথে যে দেনা-পাওনা বাকি আছে!
যেখানে অধিকাংশ অতিপ্রাকৃত গল্প গুলো হয় বিদেশী গল্পের ছায়া অনুসারে সেখানে নিশি মিয়া একটা অন্যন্য-সাধারন বই যেখানে আছে মৌলিকতা ! পড়ার পর একটা কথাই কেবল বলা যায় যে প্রেত সাধক নিশি মিয়ার সাথে সময় ভাল কেটেছে । লেখক কে ধন্যবাদ !
নিশি মিয়া একজন সাধক। সাধারণ কোন সাধক নন, প্রেতসাধক। তার উদ্দেশ্য মহৎ, সে মানুষের উপকারার্থে প্রেতসাধনা করে। অসুস্থ মানুষের সুস্থতার জন্য নিশি মিয়া উপমহাদেশীয় প্রাচীন প্রেতসাধনার পদ্ধতি ব্যবহার করে। যেমন রাতের আঁধারে নিশি ডাকে, মানুষের দোরে যেয়ে। এই নিশি ডাকে কেউ সাড়া দিলে সেই ব্যক্তি বেঘোরে মারা পড়ে আর অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠে। নিশি মিয়া-কে নিয়ে লেখক রাজীব চৌধুরী তিনটি বই লিখেছেন – প্রেতসাধক নিশি মিয়া, নিশি মিয়া আধোচক্র এবং নিশিমিয়া মানুষখেকো। প্রথম বই ‘প্রেতসাধক নিশি মিয়া’ আলাদা সাতটি গল্প নিয়ে, সবগুলোর কাহিনি আলাদা, যদিও একের পর এক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে। এই বইতে নিশি মিয়া অপদেবতা খারুর সাথে লড়াই করে। এক পর্যায়ে ঘটনাচক্রে নিশি মিয়ার নিজের দেবী নেতা তার বিরুদ্ধে চলে যায়। দ্বিতীয় বই ‘নিশি মিয়া আধোচক্র’ প্রথমটির মতই কয়েকটি গল্প নিয়ে। এখানে নিশি মিয়ার সাথে নেতা দেবীর দ্বৈরথ, মাহারু নামে অপর একজন অপদেবতার আগমন এবং এক পর্যায়ে ওলা বিবি-র মুখোমুখি হয়, গ্রাম-বাংলায় যে পরিচিত কলেরা এবং স্মলপক্সের বাহক হিসেবে। তৃতীয় বই ‘নিশিমিয়া মানুষখেকো’ উপন্যাস – যেখানে তিনটি কাহিনী সমান্তরালে চলেছে। একদিকে নিশি মিয়ার ভক্ত নিতিনের পাগলামি, অন্যদিকে লেডি গাগা নামে শয়তানের উপাসক চিরযৌবনা এক নারী যে দেশের বিশিষ্ট কয়েকজনকে সাথে নিয়ে চাইছে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে। একদল কিশোরও যুক্ত হয়ে যায় যারা এফএম রেডিওর অনুষ্ঠানের জন্য ঘোস্ট হান্টিং করে, যাদের উদ্দেশ্য মৃতকে জীবিত করা। প্রথমে খাপছাড়া মনে হলেও বইয়ের শেষে এসে বোঝা যায় সবগুলো ঘটনার সমাপ্তি একই স্থানে। নিশি মিয়া বিভূতিভূষণ-এর তারানাথ তান্ত্রিক হতে অনুপ্রানিত বলে মনে হয়। উপমহাদেশের প্রাচীন প্রেতসাধনা-�� বিস্তারিত, ভয়াবহতা লেখক তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। বইগুলোতে ভয়ের উপাদানের কমতি নেই, তবে শুধু ভয় পেতে নয়; প্রেতসাধনা, প্রেতসাধক, অপদেবী-দের নিয়ে লেখক অনেক অজানা তথ্য দিয়েছেন, এজন্যেও বইগুলো পড়া প্রয়োজন। সিরিজের প্রথম বইটি আমার কাছে সবথেকে সেরা লেগেছে। শেষ বইটি আরেকটু সময় নিয়ে লিখলে আরো পূর্নতা পেতো ধারণা করি। কিছু ভুল-ভ্রান্তি পীড়া দিয়েছে, বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নিতিন চিকিৎসক যদিও চিকিৎসা-পদ্ধতি ঠিক সেই সুলভ ছিলনা। মূমুর্ষূ প্রাণীকে চিকিৎসা-র শুরুতেই অতিরিক্ত অঙ্গহানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রাণীটিকে মৃত্যুমুখে আরো ঠেলে দেবার নামান্তর। রক্তপড়া বন্ধ করতে বার্নার নয়, ইলেক্ট্রোকটারি ব্যবহার করা হয়। র্যাবিস –এর বাংলা জলাতঙ্ক, সুতরাং দুইটি একই রোগ। তিনটি বই-ই প্রিয়মুখ প্রকাশন থেকে বের হয়েছে। অতিপ্রাকৃত এবং হরর প্রেমী-দের জন্য নিশি মিয়া ট্রিলজি অবশ্যপাঠ্য। নিশি মিয়া যেন ট্রিলজি-তে আটকে না থাকে, লেখকের কাছে দাবী রাখবো আবারো নিশি মিয়া-কে পাঠকদের মাঝে ফিরিয়ে আনার জন্য।