কলকাতা থেকে ভাটপাড়া, সেখান থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চৌগাছা - সবখানেই রানার আশে পাশে রয়েছে সে, প্রতিটি কার্যকলাপ লক্ষ করছে ওর, শুনছে সব কথা, অথচ দেখা যাচ্ছে না তাকে। কে এই অদৃশ্য শত্রু?
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
রানার আরও একটি মৌলিক। এবারও বরাবরের মতই ভালো লাগলো। অ্যাডাপ্টেশনের চাইতে রানার মৌলিকগুলোই পড়তে বেশি ভালো লাগছে। তাছাড়া রানার একটু গোয়েন্দা গোয়েন্দা ভাব স্পাইগিরির চাইতে অনেক বেশি উপভোগ করছি।
গভীর ষড়যন্ত্র চলছে । জাল নোট ছাপিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি । একদল পাকিস্তানি আর ভারতীয়র সাথে হাত মিলিয়েছে দেশীয় অনেক বিশ্বাসঘাতক । সবকিছু জেনেশুনে ওদের দলে যোগ দিল বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এর অবৈতনিক তথ্য সরবরাহকারী দেবাশীষ দত্ত । কিন্তু কেন ? একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হয়ে এ পথে কেন পা বাড়াল সে ? কি তার উদ্দেশ্য ?
চীফের নির্দেশে কলকাতায় গেল রানা । কিন্তু দেবাশীষের সাথে দেখা হল না তার । রানার আগেই সেখানে পৌছে গেছে শত্রু । খুন করে পালিয়ে গেছে দেবাশীষ কে । দেবাশীষের কাছ থেকে কিছুই জানা হল না রানার । কি করবে এখন সে ? ঘটনার কিছুই আঁচ করতে পারছে না ।
কলকাতা থেকে ভাটপাড়া,বেনাপোল,খুলনা,যশোর,ঝিনাইদহহ,চৌগাছা - সবখানেই রানার সাথে আঠার মত লেগে আছে লোকটা । ভীষণ ধুরন্ধর এবং ভয়ংকর । কি চায় সে রানার কাছে ?
রিতাকে আটকে রেখেছে শত্রুরা । মুক্তিপণ হিসেবে চায় ঐ প্লেটদুটো,আর চায় রানার জীবন । কিন্তু রানা নিজেও জানেনা কোথায় সেই প্লেটদুটো ।
অবশেষে বহু চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে রানা মুক্ত করে আনল রিতাকে । এবং ঘায়েল করল শত্রুপক্ষকে । সকল ষড়যন্ত্র গুড়িয়ে দিল আর পাকড়াও হল দেশীয় বিশ্বাসঘাতকের দল । এবং সবকিছুর মূল হোতাও রেহাই পেল না ওর হাত থেকে । একটু দেরীতে হলেও অদ্রশ্য শত্রুকে চিনতে ভুল হয়নি রানার ।
দারুন থ্রিল এবং অ্যবশনে ভরপুর মাসুদ রানার এই বইটি । সত্যিই অসাধারন ।