একটি মেয়ে নিয়ে ঘটনা। রমনা পার্কে পাওয়া গেছে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবতীকে অজ্ঞান অবস্থায়। হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে আসতেই দেখা গেল স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছে সে। ও জানে না ও কে, কোথায় বাড়ি, কোত্থেকে এসেছে, কোথায় যাচ্ছিল - কিচ্ছু না। রানাকে বানিয়ে দেয়া হলো ওর নকল স্বামী।
সবার সন্দেহঃ মেয়েটা স্পাই হাস্না কাওসার। যদি তাই হয়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে তার কাছে। শুরু হলো এসপিওনাজ। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ - তিন দেশের তিনটি গোপন সংস্থা প্রচন্ডভাবে তৎপর হয়ে উঠল।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
কতো সময় কতো বেওয়ারিশ লাশ কিংবা অসুস্থ মানুষই তো এদিকে সেদিকে পড়ে থাকে। ভাগ্য ভালো হলে সেই অভাগাদের একটা না একটা ব্যবস্থা হয়। অচেতন হয়ে পার্কে পড়ে থাকা মানুষটি যদি একজন নারী হয়.. তবে মানুষের মনযোগ পেতে বাধ্য! আর যদি তার উপর নারীটি হন সুন্দরি যুবতী... তাহলেই হয়েছে। তবে ঘটনা সেটা না, ঘটনা হল এই নারীর পরিচয় নিয়ে ঘিরে উঠেছে রহস্য! মেয়েটিকে পেতে কিংবা মারতে মরিয়া ভারত, পাকিস্তান। বাংলাদেশ চাইছে তাকে প্রটেকশন দিয়ে রহস্য উদঘাটনের। শুরু হলো বিভিন্ন মহলে তৎপরতা। এবারে সেই সুন্দরি নারীর দায়িত্ব নিলো মাসুদ রানা :v
অনেকদিন পর... :D মাসুদ রানার অতিমানবীয় দিক নিয়ে এলার্জি আছে বলে সহজে মাসুদ রানা পড়ি না। গতকাল গুডিতে জমজমাট একটা রিভিউ দেখে মনে হলো পড়া উচিত! পড়েও ফেললাম। আসলে এসপিওনাজ নিয়ে তো এরকমই লেখাই হওয়া উচিত! ভাল্লাগসে!
গত কদিন ধরে তাড়িয়ে তাড়িয়ে পড়েছি। এত চমৎকার লেখা, মনেই হচ্ছিল না যে এডাপটেশন। প্রতিটা ক্যারেকটার এত্ত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে যে সব্বাইকে ভালো লাগছে, এমনকি নিজাম, কবিতা, সিকান্দার বিল্লাহকেও। আর লাইনে লাইনে প্রচুর কোয়ালিটি হিউমার তো আছেই, যেটা এখন দুষ্প্রাপ্য প্রায়। ইভেন নিজামের ডায়লগ গুলাও, গালি পড়েও হো হো করে হেসে ফেলতেছি। পুরান ঢাকাইয়া একসেন্ট কি সুন্দর ফুটিয়ে তুলছে! পাশার সাথে রানার খুনসুটি, রাবেয়াকে তো ভালোই বেসে ফেলেছি। আবার রফিকুল হকের ক্যারেক্টারেইজেশনটা!
... এখনকার রানা গুলো এক একশন দিয়ে পাতার পর পাতা ভরিয়ে রাখে। এটা একটা ওল্ড জেম, ক্লাসিক রানা। ❤️ এত চমৎকার রানা বহুদিন পড়ি না। এটা পড়তে গিয়ে আবার ওই সময়ের সব রানা পড়তে ইচ্ছে করছে। হাইলি রেকমেন্ডেড।
সম্মানজনক মিসোজিনি টের না পাওয়ার মতো ছোট আর নই, তাই হজমে কিছুটা কষ্ট হলো। মেয়েদের স্কুলগুলোতে কেন তিন গোয়েন্দা অধিকতর জনপ্রিয় ছিল, তারও একটা আঁচ পাওয়া যায়। তবে ইন্ডিয়া–পাকিস্তান স্পাই মুভি নিয়ে এই দশকে বলিউডে যে পরিমাণ হুলুস্থুল, ১৯৭৫ সালে বসে বাংলাদেশসহ ত্রিদেশীয় স্পাই থ্রিলারের প্লট নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ।
প্রথমেই বলে রাখি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাসুদ রানার বইগুলো অসাধারণ লাগে। মুক্তিযুদ্ধের পর যখন প্রতিপক্ষ কোনো দেশ রইলো না তখন ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মাসুদ রানা সিরিজ লিখা হতো। অনেকদিন পর অন্য একটা দেশকে অপনেন্ট হিসেবে ধরে বইটা লিখা হলো। তাই অনেক ভালো লাগলো।
আমার পড়া এই বইয়েই সোহেল আহমেদকে এত কাজ করতে দেখলাম। খুব ভালো লেগেছে বলতে হবে। তবে ভিলেন হিসেবে নিজাম চরিত্রকে আরেকটু শক্তিশালী করা যেত। বয়সটা কম হয়ে গেছে। এই বয়সেই কবিতার সাথে ইটিস পিটিস টা একটু অন্যরকম লেগেছে। আর পান্না কাওসারকে নিয়েই যেহেতু গল্প এগিয়েছে তাই ওর বলার স্কোপ কম। কিন্তু শেষে ভালো একটা টুইস্ট দিয়েছে।
আর লোকেশনটা খুব ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছিল আমি সেখানে গিয়ে বইটা পড়ছি। আকাশ,সমুদ্র,পাহাড় এই তিনের সংমিশ্রণ। আহা! এখনো এরকম নিরিবিলি জায়গা আছে কিনা কে জানে?
তবে এই বইটা কাজী আনোয়ার লিখেছে নাকি অন্যকেও বলতে পারবো না কিন্তু যেই লিখুক এর পরের বইটাও ওনার হাতে লিখা। এই বইয়ে মাসুদ রানা মার্টিন শেফিল্ড এর ‘দা রেড হিল' পড়ছিল। ওই ঘটনাটা চট্টগ্রামকে নিয়েই। এরপর মাসুদ রানার আরেকটা বই ‘লাল পাহাড়' এই গল্পের উপর নির্ভর করে লিখা হয়েছে। এই বইয়ের শিরীন কাওসার, জামান, মাসুদ রানা ওই বইতেও আছে। এবং খুবই ইন্টারেস্টিং একটা স্টোরি। মনেই হবে না বাংলাদেশে এমনটা আছে। Goodreads এ বইটা নেই বলে অ্যাড করতে পারি নাই।
This entire review has been hidden because of spoilers.
মেয়েটার নিতম্বে থাকা ট্যাটুর অস্তিত্ব ফাঁস হতেই বাংলাদেশ পাকিস্তান আর ভারতে ঝড় বয়ে গেল। তিন দেশেরই মাথার ঘায়ে কুত্তাপাগল অবস্থা। এই ট্যাটু নাকি ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিজস্ব সব জিনিসে সিলের মত মেরে দেয়! তাহলে মেয়েটা তার রক্ষিতা? রমনা পার্কে অজ্ঞান পড়ে ছিল সে। চেতনানাশক পাওয়া যায় দেহে। সেখান থেকে মেয়েটা পিজি হাসপাতালে গেল কী করে? ট্যাটুর কথা পত্রিকার রিপোর্টার কীভাবে জানে? কবিতা রায়ের আসল পরিচয় কী? গাঙ্গুলীদা আসলে কে? ওয়ারীর হোটেলে আড়ালে কোন নাটক চলে? নিজামকে কেন সাংঘাতিক বিপজ্জনক বলে ভারতীয় স্পাইরা? ওদিকে পাকিস্তানি স্পাই সিকান্দার বিল্লাহ এখন পুরোই বেপরোয়া! কলকাতা থেকে এক লাফে ঢাকায় সে। তথ্যের জন্য বিসিআইয়ের এক সেক্রেটারিকে অপহরণ করল। ওদিকে রানাকে পেতে মরিয়া পাকিস্তানী টর্চার ওম্যান শাকিলা মির্জা। রানার উপর প্রতিশোধ নিতে হবে। ভারত পাকিস্তান আর বাংলাদেশের স্পাইরা ছুটল পিজি হাসপাতালে। মেয়েটাকে কব্জা করতে না পারলে সর্বনাশ হয়ে যাবে! "এসপিওনাজ" মাসুদ রানার একটা আন্ডাররেটেড মাস্টারপিস। যারা পড়েননি তারা দুনিয়ার সবকিছু ফেলে রেখে আপাতত এই বইটা পড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। :P