শিকাগোর হিলো বারে পরপর কদিন ধরে মদ খাচ্ছে রানা, চিৎকার করছে; সুসানকে খুন করবে ও, করবেই। হ্যানোভার পাগলা-গারদে ভরে দেয়া হলো ওকে। সেখানে আত্মগোপনকারী দু'জন খুনীর খোঁজ নিতে গিয়ে উল্টো নিজেই খুনী সাব্যস্ত হলো রানা। আটকে দেয় হলো ওকে হাইলি ডেঞ্জারাস সেলে। শুরু হল ভুল ইঞ্জেকশন।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
এই কাহিনি রানায় না হয়ে সেবার অন্য কোন সিরিজে হলে মানাতো বেশি। বারবার ভুল ডিসিশন, অসংলগ্ন আচরণ, অকারণ নার্ভাসনেস, এগুলো আসলে চিরাচরিত রানার সাথে কখনও যায় না। এমনিতে মূল গল্পটা সুন্দর, তবে রানা সিরিজের জন্য আরোপিত। সেবার রহস্য উপন্যাস সিরিজের ব্যানারে বের হলে ঠিক এই গল্পকেই ৫ এ ৪ দেওয়া যেত।
দুই বৃদ্ধের অনুরোধ রক্ষা করতে গিয়ে (রাহাত খানেরও মৌন সম্মতি ছিল) অ্যালকোহলিক হিসেবে মানসিক হাসপাতালে স্বেছারোগী হিসেবে ঢুকল রানা। ওর মূল কাজ ছিল, মানসিক রোগী রোহলার এবং তার ডাক্তার বোরচের্তের উপর নজর রাখা। কিছুদিনের মধ্যেই রানা টের পেল, ডাঃ বোরচের্ত কেবল মানসিক রোগের ডাক্তারই নন, একজন আবেগহীন ম্যানিয়াক/স্যাডিস্ট। তার প্রয়োগ করা ওষুধের সাহায্যে যে কোন সাধারণ রোগীও হয়ে উঠতে পারে হিংস্র মানসিক রোগী। রানা টের পেল ফাঁদে পড়ে গেছে আর ডাঃ বোরচের্তের ফাঁদ থেকে রক্ষা পাওয়াটা অনেক কঠিন হবে।
বেশ ভাল লেগেছে বইটা। গতানুগতিক স্পাই থ্রিলারের মত ধুন্ধুমার অ্যাকশন না থাকলেও যথেষ্ট উপভোগ্য ছিল।