শুধু বুদ্ধি আর মেধা দিয়ে কি অতিপ্রাকৃতর মুখোমুখি হওয়া সম্ভব? কী হয় যদি আপনার চেনা জগতের পর্দা সরিয়ে, আপনার বিশ্বাস-অবিশ্বাস, বিজ্ঞান-অপার্থিব-র সমস্ত ধারণাকে ভেঙেচুরে দিয়ে উঁকি দেয় এক অন্ধকার জগৎ?
প্রফেসর অতীন্দ্র ব্যানার্জি আপনাকে বার বার সেই প্রশ্নের সামনেই দাঁড় করাবেন। তিনি আপনার-আমার মতোই সাধারণ মানুষ। তাঁর কোনো বিশেষ ক্ষমতা নেই। শুধু আছে এক সূক্ষ্ম অনুভূতি যা জানান দেয় অতিপ্রাকৃতর উপস্থিতি। মৃত্যুর ওপার থেকে, এক চরম মূল্যে কেউ ফিরিয়ে আনতে চাইছে তার প্রিয় মানুষকে। এক অপার্থিব সত্তা ভুলে গেছে তার প্রকৃত পরিচয়। স্বয়ং মৃত্যুকে ভৃত্য বানিয়েছে এক অপরাধী। প্রাচীন মন্দিরে বন্দি রয়েছে কোনো অপদেবতা। মুক্তি পেয়েছে অশুভ, অতিপ্রাচীন শক্তি। আর, এই সকল ঘটনার মাঝখানে রয়েছেন প্রফেসর। পারবেন তিনি এই অসম যুদ্ধে জয়ী হতে?
Dr. Abhigyan Ganguly holds a PhD degree in Nano-Electronics, while taking time out of his busy schedule to write a little and read a lot more. His first solo book "Hatyashastra" was published in 2022, which is a historical/detective fiction in Bengali and was an instant hit among Bengali readers.
এই বইতে মোট পাঁচটি কাহিনী রয়েছে। প্রথম কাহিনী কালো দরজায় দেখানো হয় যে মৃত্যুর ওপার থেকে কোন মৃত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনতে গেলে, পৃথিবীতে কি চরম অমঙ্গল নেমে আসতে পারে। দ্বিতীয় কাহিনী কুপজীবিতে দেখানো হয়েছে, এক ব্যক্তি, যে ৫ বছর বয়সে কুয়োতে পড়ে গিয়েছিল, তার আগের স্মৃতি ভ্রংশ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু সে যেন তারপর থেকে তার আশেপাশে কোন এক অশরীরির অনুভূতি টের পায়। কিন্তু কেন? কি হয়েছিল তার সাথে আসলে? তৃতীয় গল্প শিনিগামীতে দেখানো হয়েছে, মৃত্যুর দেবতাকে হাতের মুঠোয় রাখতে চাইলে তার প্রতিদান কেমন হতে পারে? চতুর্থ গল্প ঈকপার মঠে তে দেখানো হয়েছে, প্রাচীন মন্দিরে বন্দী কোন অপদেবতা, মানুষকে কী করে এক নৃশংস পশুতে পরিণত করে দিতে পারে। শেষ গল্প পেরেকে দেখানো হয়েছে অশুভ কোন প্রাচীন শক্তি যদি মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে মানবতার ওপর কী ভয়ানক বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে।
পজিটিভ: প্রতিটা গল্প চেনা প্লটে এগোলেও আলদা হয়ে যায় মুখ্য চরিত্রের অ্যাপ্রোচের কারণে। এখানে জানা রয়েছে যে এরকম সুপারন্যাচারালকে হারানো সাধারণ মানুষের কর্ম নেয়, কিন্তু নিজের বিদ্যা বুদ্ধির ওপর ভরসা করে, যথা সম্ভব লজিকাল ওয়েতে সেগুলোর সামনা সামনি হওয়া, অন্যান্য তন্ত্র বা সুপারন্যাচারাল ক্যারেকটারদের থেকে নিজেকে আলাদা করে দেয়। যার ফলে পড়তে গিয়ে প্রতিটা কাহিনী ফ্রেশ মনে হয়। তার সাথে অভিজ্ঞান বাবুর তুখোড় লেখনী গল্পের থ্রিলকে যেমন বজায় রাখে, তেমনই গতিবেগকেও এক মুহূর্তের জন্যও কমতে দেয় না। তার সাথে ৫টি গল্পের প্রতিটা প্লট একে অন্যের চেয়ে আলাদা হওয়ার ফলে কোন কাহিনীকেই রিপিটেটিভ মনে হয় না। এছাড়া বিভিন্ন যে সমস্ত অপশক্তি বা সুপারন্যাচারাল যে সমস্ত জিনিস রয়েছে এতে, তার তথ্যগুলিকেও এত সুন্দর ভাবে দেওয়া হয়েছে যে, একদম কোন নতুন পাঠক যদি সেই সব জিনিস পড়ে, তাহলে সেই রিলেটেড সমস্ত জ্ঞান যাতে সে পেয়ে যায়। ফলে সেই শক্তি গুলো বুঝতে কারোরই কোন অসুবিধা হবে না। আর সব শেষে প্রতিটা গল্পের যে তথ্য সূত্র দেওয়া রয়েছে, যার ফলে লেখকের রিসার্চ সম্পর্কেও পাঠকদের ধারণা তৈরি হয়ে যায়, যেটা পার্সোনালি আমার খুব ভালো লাগে। এবং যেটা না বললেই নয়, সেটা হল অলমোস্ট প্রতিটা কাহিনীই একে অপরের সাথে একটি অদৃশ্য সূত্র দিয়ে গাঁথা, যা কাহিনীগুলি পড়ার বিষয়টিকে আরো রোমাঞ্চিত করে তুলেছে।
নেগেটিভ: গল্প বা লেখনী ওয়াইজ কোন নেগেটিভ পয়েন্ট আমার নজরে পড়েনি, তবে হ্যাঁ গল্পে ভয়াবহতা অনেকটাই কম আর হ্যাঁ যারা এই ধরণের গল্প অনেক পড়েন, তারা মোটামুটি এন্ডিং প্রেডিক্ট করে নিতে পারবেন।
আমি আমার তরফ থেকে সমস্ত সাহিত্য প্রেমী বন্ধুদের অতি অবশ্যই এই পড়ার জন্য রেকমেন্ড করছি, কারণ আমার পাঠ শুভ হয়েছে আর হ্যাঁ প্রতিটা গল্পের প্লট আলাদা হলেও, কাহিনীগুলি যেই অর্ডারে বইতে সাজানো রয়েছে, সেই ক্রমানুযায়ীই পড়বেন, কারণ প্রতিটা গল্পের সাথে প্রতিটা গল্পের সূক্ষ্ম কিছু কানেকশন রয়েছে।
একদম অন্যরকম একটা ভূতের গল্পের বই পড়লাম । চাণক্য সিরিজের তিনটে বই পড়ার পর লেখকের থেকে expectation এমনিতেই বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি যে এইভাবে চাওয়ার থেকেও বেশি কিছু দিয়ে দেবেন আমাদের পাঠক পাঠিকাদের সেটা ভাবিনি। প্রত্যেকটা গল্প আমাদের এক এক নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যায়। কিন্তু কোথাও না কোথাও সেগুলো সবই interconnected। দেশি বিদেশি বিভিন্ন বিশ্বাস অবিশ্বাস মিলে মিশে যেন এক হয়ে গেছে এখানে। তার উপর too much informative । কিন্তু সেটা একটুও বোর করবে না। উল্টে interest বাড়িয়ে দেবে। আমার ব্যক্তিগতভাবে শিনিগ্যামি আর পেরেক গল্পদুটো best লেগেছে যদিও সবকটা গল্পই অনবদ্য। আর প্রফেসর তার প্রথম বইতেই মন জয় করে নিয়েছে। আর জয় করেছেন একজন .... কাশীনাথ পণ্ডিত। লেখককে অনেক ধন্যবাদ আমাদের এমন একটা অসাধারণ বই আর তার সাথে আরও একটি অসাধারণ চরিত্র উপহার দেওয়ার জন্য।🙏🙏🙏
এই বইটি কেবল ভৌতিক গল্পের একটি সাধারণ সংকলন নয়। এখানে বিজ্ঞান, রহস্যময়তা, ইতিহাস এবং মানুষের মনের অদৃশ্য অন্ধকার দিক একসূত্রে গাঁথা। বইটিতে পাঁচটি আলাদা কাহিনি থাকলেও পড়তে গিয়ে কখনোই সেগুলো বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয় না। প্রতিটি গল্পেই কোনো না কোনোভাবে মানুষের সীমা অতিক্রম করার প্রবণতা উঠে এসেছে—মৃত্যুকে অস্বীকার করার আকাঙ্ক্ষা, প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে ফেলার চেষ্টা, কিংবা আবেগ ও লোভের প্রভাবে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত।
এই বইয়ের ভয় হঠাৎ চমকে দেওয়ার জন্য তৈরি নয়; বরং ধীরে ধীরে এক ধরনের অস্বস্তি গড়ে তোলে, যা পড়া শেষ হওয়ার পরেও মনে রয়ে যায়। লেখক দক্ষতার সঙ্গে ভয় ও যুক্তির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখেছেন। যখন মনে হয় গল্প পুরোপুরি অতিপ্রাকৃতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বিজ্ঞান বা ইতিহাসের উপাদান এসে পাঠককে বাস্তবতার মাটিতে ফিরিয়ে আনে। অ্যালকেমি, বজ্রযান কিংবা বৌদ্ধ দর্শনের মতো বিষয়গুলো গল্পের সঙ্গে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে।
প্রফেসর অতীন্দ্র ব্যানার্জি একজন যুক্তিবাদী চরিত্র হলেও তিনি সংকীর্ণ নন। তিনি কোনো কিছুকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করেন না, আবার একেবারে উড়িয়ে দিয়েও দেন না। গল্পে উপস্থিত কিছু পার্শ্বচরিত্র কাহিনিতে আলাদা গভীরতা যোগ করে এবং ইঙ্গিত দেয়—জগতের সবকিছু যুক্তির কাঠামোর মধ্যেই ব্যাখ্যা করা যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে পড়া বাংলা ভৌতিক ও থ্রিলার ঘরানার বইগুলোর মধ্যে প্রফেসর সিরিজ – ১ নিঃসন্দেহে আলাদা করে মনে রাখার মতো।
VERY GOOD BOOK STORIES ARE CRISP AND PAGE TURNER, PROFESSOR ATINDRA BANERJEE EXPLOITS THE DARKNESS WITH HIS SHEER DETERMINATION AND SHARP INTELLECT. I LIKED SHINIGAMI KALODARJA AND PEREK 4.5/5
গল্পগুলোতে নতুন খুব একটা কিছু নেই, কিন্তু ওয়েল রিটেন। পড়তে ভালই লাগে। প্রোডাকশন, প্রচ্ছদ, অলঙ্করণ - সবই ভাল।
দ্বিতীয় গল্প, "কুপজীবী" এই বইয়ের বেস্ট। হুমায়ূন আহমেদের "মিসির আলি" সিরিজের প্রভাব স্পষ্ট (প্লটে নয়, লেখার স্টাইলে আর আবহ নির্মাণে), যেটা লেখক পরোক্ষে স্বীকারও করেছেন কাহিনীর শেষে। গল্পটা কিন্তু কোনো চমকের জন্য বেস্ট নয়। গল্পটা বেস্ট ন্যারেশনের জন্য, আবহ নির্মাণের জন্য, আর কনক্লুশনের জন্য। মিসির আলির স্পিরিট এই গল্পে সঠিকভাবেই ধরেছেন লেখক।
দুঃখের বিষয়, এর পরের তিনটে গল্পে, লেখক এই স্টাইল বিসর্জন দিয়ে পুরোপুরি ফরমুলাতে গেছেন। তবে, পড়তে ভালই লাগে।
লেখক, আজই পড়ে শেষ করলাম প্রফেসর সিরিজ | দারুন লাগলো প্রত্যেকটা গল্প 🔥 | বিশেষ করে শেষ গল্পে অল্পের ওপর দিয়ে কাশিনাথ পন্ডিতের backstoryটা দারুন ছিল| অপেক্ষায় রইলাম দ্বিতীয় পার্টের জন্য | প্রফেসর অতীন্দ্র বানের্জীর ওপর একটা উপন্যাস হলেও বেশ ভালো হয় | একজন সাধারণ মানুষ বুদ্ধি এবং মেধার জোরে যখন গল্পের নায়ক হন, তখন তার সাথে নিজেকে relate করতে ভালো লাগে, সেই মানুষ আমার মতো পাঠকগনদের উৎসাহ দেন , অনুপ্রেরণা দেন | প্রফেসর অতীন্দ্র বানের্জীর চরিত্রটা আমার কাছে এভাবেই থাক ❤️