তারানাথের সবকটি গল্পই পড়া হয়েছিল; নতুন যে আরেকটি এসেছে জানতাম না। জানার পর দেখলাম, হাড় হিম-করা একটা গল্প না শুনলে শীতকালটা অপূর্ণই রয়ে যাবে। দুটো কম্বল মুড়ি দিয়ে শুনতে শুয়ে পড়লাম....
অশ্বিনী আর কিশোরীর বহুদিন দেখাসাক্ষাৎ নেই। কিশোরী লাপাত্তা। একদিন খোঁজ পেয়ে তার অন্তর্ধানের কথা জিজ্ঞেস করতেই কিশোরী কেঁদে ফেলল। কাঁদার কারণ, এর আগের গল্পে তারানাথ ওকে বলেছিলেন, রামছাগল ওর প্রতি আকৃষ্ট হবে! সে যাই হোক, দীর্ঘদিন পর তারানাথের গল্প শুনতে গেল তারা। এবারের গল্প স্বপ্ন নিয়ে। এক গ্ৰামে ভয়াবহ এক নৌকাডুবিতে মারা যায় বেশ কয়েকজন মানুষ। কিন্তু এরপরই বিভিন্ন মানুষের স্বপ্নে সেসব মৃত মানুষ জীবিত হয়ে এদিক-সেদিক ভয় দেখাতে থাকে।
▪️▫️▪️
একটা কথা সত্য, তথাগত বন্দোপাধ্যায়ের লেখার ধরন আমার ভালো লাগছে। তাঁর এই গল্পের শুরুটা বেশ আশা-জাগানিয়া। প্রথমদিকে ভূষণের বর্ণনায় ভয়-ভয় করছিল বেশ। আধিভৌতিকের সাথে দর্শন-বিজ্ঞানের সেতুটা নতুন হলেও পছন্দ হয়েছে। কিন্তু গল্পের শেষের দিকে কী যেন হয়ে গেল, ঠিক তৃপ্তিটা পেলাম না। আরো একটু খোলাসা করলে ভালো হতো।
সুবুদ্ধিপুর গাঁয়ে হঠাৎ করেই নদীতে ডুবে মারা যাওয়া মৃত মানুষের দেখা মিলতে লাগলো। কারোর চোখের মনি নেই, কারোর বা ধরের উপর থাকা মাথাটাই নেই, কেও কেও শস্য ক্ষেত বিরান করে দিয়ে বিস্তীর্ণ চরাচরে মানুষের হড্ডিসার দেহ সারি বেঁধে শুয়ে আছে। এসব কিছুর শুরু পরাণ মাঝির সাদা হয়ে যাওয়া চোখের দৃষ্টি ফিকে হয়ে আসার গল্প নিয়ে।
এই ছোট্ট ছোট্ট সব ঘটনার মধ্যে দিয়েই কাহিনী এগিয়েছে। এরপর তারানাথের সেই রহস্য সমাধান প্রক্রিয়া। ভূষণ পুরোকাইস্থের থেকে তার এলাকার অদ্ভুতুড়ে কাহিনীর দাওয়াত পেয়েই দু'দিন বাদে সে যাত্রা করে সুদূর যশোরের সুবুদ্ধিপুর গাঁয়ে। সেখানে পৌছে ঘটনার বিশদ বিস্তারিত দেখে নেমে পরে সমাধানে।
বইখানা পড়ে আমি কিঞ্চিৎ হতাশই হয়েছি। বিভূতি ভূষণের তারানাথ তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় খ্যাতির মুখ দেখছিলো, কিন্তু আসল তারানাথের ছন্দপতন হয়েছে তখন থেকেই। এখন ২৬ এ এসে প্রজন্ম হস্তান্তর হয়ে সেই অতিপরিচিত তারানাথ থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। বিভূতি বাবুর তারানাথ আর তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তারানাথ হুবহু একই ব্যক্তি নন।
যতটা এংগেজিং শুরু থেকে ছিল শেষে তা থাকল না। অলাতচক্রের দেবদর্শন বাবুর অংশের মতো স্পৃচুয়াল সমাপ্তি দিতে চেয়েছেন তবে কতটা সফল তা পাঠকশ্রোতারা ঠিক করবেন। তবে আমার তথাগতবাবু লিখনশৈলি উনার বাবার থেকেও ভালো লেগেছে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
তারানাথের কাছ থেকে যেরকম সুখ চাই লেখক দিতে পারবেন বলেই আশা রাখি। লেখকের কাহিনী বর্ননার ধরন সুন্দর, তন্ত্রে মন্ত্রে সে খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছেনা বলা যায় এমনকি খুব একটা ইচ্ছাও নেই বোঝা যাচ্ছে। তারানাথকে চেঞ্জ না করে এডাপ্ট করাটাই লেখকের সবচেয়ে ভালো দিক। কলম চলতে থাকুক, অনেক ভালো গল্পের আশায়।
তারানাথের ব্রহ্মস্ত্র ২য় পর্ব শুরুটা অসাধারণ, তথাগত বন্দোপাধ্যায়ের লেখাটা ভালো ছিল কিন্তু শেষের দিকটা একে অসাধারণ পঠিত হতে বাধা দেয়। 3.5/5 তৃতীয় পর্ব পড়ুন ব্রহ্মদেব তারানাথ যা অসাধারণ অসাধারণ।