সারাটা রাত্রি করুণা বাড়ি না ফেরা সত্ত্বেও, করুণার বাড়ি না ফেরা নিয়ে খানিকটা কথা, খানিকটা জিজ্ঞাসাবাদ, খানিকটা ভয় বা কৌতূহল ও শেষপর্যন্ত কিছুটা খোঁজাখুঁজি শেষ হতে পরদিন সকাল নটা সাড়ে নটা বেজে যায়। করুণার বাড়ি না-ফেরা-ঘটিত এই সব সামাজিক কাজকর্মের আয়ু বেশিক্ষণ হতে পারে না, শুধু এইটুকু কারণে যে, অফিস কাছারিতে হাজির দেয়ার সময় সকাল দশটা থেকে শুরু, কোনো কোনো অফিসে সাড়ে দশটা, এগারটার ভেতর সই করলে হাজিরা খাতায় লাল দাগ পড়ে না—তাই নটা থেকে করুণাদের বাড়ির সামনের ছোট মাঠটাতে বা সিঁড়িতে বসা দাঁড়ানো জটলা আধঘণ্টা যেতে না যেতেই পাতলা হতে থাকে৷
দেবেশ রায়ের জন্ম ১৯৩৬ সালে অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পাবনা জেলার বাগমারা গ্রামে। ১৯৪৩ সালে তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি চলে আসেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময় প্রত্যক্ষ বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতির সূত্রে শিখেছিলেন রাজবংশী ভাষা। কলকাতা শহরেও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সে একজন গবেষণা সহকর্মী ছিলেন। তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে জলার্ক পত্রিকায়। প্রথম উপন্যাস ‘যযাতি’। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এক দশক পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৯০ সালে ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ উপন্যাসের জন্যে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০২০ সালে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে দেবেশ রায়ের জীবনাবসান হয়।