বিশ্ব-রাজনীতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বগণ আমাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। কায়েদে আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন গত শতকের রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্রসমূহের অন্যতম। জিন্নাহকে নিয়ে তুমুল আলোচিত বইগুলোর একটি With the Quaid-i-Azam During His Last Days। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ইলাহি বখশ জিন্নাহর শেষ ষাট দিনের বিবরণী এঁকেছেন চাক্ষুষ অভিজ্ঞতায়। একজন চিকিৎসকের দৃষ্টিতে জিন্নাহর স্বাস্থ্যগত বিষয় প্রাধান্য পাবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সেই দিনলিপিতে ওঠে এসেছে পাকিস্তানের রাজনীতির অনেক অজানা অধ্যায়ও। . বইটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য খুব একটা বিস্তৃত নয়। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে লেখা বইটির ভূমিকাগুলোই বইটিকে কিছুটা বিস্তৃতি দিয়ে মাঝারি আকারের বইয়ে পরিণত করেছে। এই বিস্তৃত ভূমিকাগুলো বইটির ঐতিহাসিক মূল্যমান প্রমাণ করে। ভূমিকাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় বইটির সর্বশেষ প্রকাশিত সংস্করণে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলের অনুসরণে অনুবাদেও এগুলো যুক্ত রাখা হয়েছে। . বইটি বেশ কয়েকবার নিষিদ্ধ হয় পাকিস্তানে। কারণ, পাকিস্তান সরকারকে বিব্রত করবে—এমন অনেক উপাদানই বইটিতে আছে। সত্য তিক্ত হলেও এর মুখোমুখি দাঁড়ানোতে আছে একটি আলাদা স্বাদ। সেই স্বাদ আস্বাদনে পাঠের আমন্ত্রণ—জিন্নাহর জীবনের শেষ ষাট দিন।
কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর শেষ ৬০ দিন মানে দুই মাস উনার সাথে ডাক্তার ছিলেন উনার কথা এই বইটাতে। এই দুই মাসের ডাইরির মত বইটা পড়ে যেটা বুঝা যায় পাকিস্তানের জাতিরপিতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ শেষ সময় সরকার এবং পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ দের থেকে খুব একটা সাহায্য পান নাই। বলা যায় শেষ সময়টা উনি খুব অগোচরেই মারা গেলেন। কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ একজন মানুষ যে কিনা স্বপ্ন দেখেছিলেন মুসলিম দের জন্য আলাদা একটা রাষ্ট্রের। কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জীবনী পড়ার ইচ্ছা ছিলো আমার কিন্তু বইটা পড়তে গিয়ে জানতে পালাম উনার জীবনী আসলে লেখাই হয় নাই কোনদিন।
লেঃ কঃ ইলাহী বখশ একজন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ র শেষ সময়টাতে তিনি তাঁর পাশে ছিলেন। বইটা মূলতঃ জিন্নাহ র শেষ সময়টার চিকিৎসার বয়ান।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ দীর্ঘ সময় ধরে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিলেন। তখন যক্ষ্মার চিকিৎসা দুর্লভ না হলেও তিনি সেটার পরোয়া না করেই কঠোর পরিশ্রম করতে থাকেন। একটা সময় যক্ষ্মার তীব্রতায় তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ শুরু হয়। ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান জন্মের অল্পকাল পরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ চিকিৎসকের বয়ানের মধ্যে উঠে এসেছে সে সময়টাতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। জিন্নাহ্ সে সময়টাতে ছিলেন সদ্যগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রথম গভর্নর জেনারেল। তাসত্ত্বেও তাঁর চিকিৎসার প্রতি তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে সীমাহীন অব্যবস্থাপনা দেখা যায়। এমনকি তাঁকে যখন করাচীতে আনার পরে গভর্নর হাউসে নেয়া হচ্ছে, সেখানে রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে যায়! বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স আসতে অনেক সময় পেরিয়ে যায়!
সে সময়টাতে রাস্তার পাশে থাকা ভারত থেকে সদ্য আগত মুসলমানরা জানতেও পারেনি তাদের পাশেই এ পাকিস্তান রাষ্ট্রের অবিসংবাদিত নেতা ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।
একটা সময় জিন্নাহ র সাথে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলীর টানাপোড়েন শুরু হয়। এতে করে শাসকগোষ্ঠীর সাথে জিন্নাহ র সম্পর্কের অবনতি হয়। বইটাতে এর সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করা হয়েছে।
স্বাধীন হওয়ার পরে পাকিস্তানের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝতে বইটি বেশ সহায়ক।