Jump to ratings and reviews
Rate this book

ধর্মনিরপেক্ষতা

Rate this book
মুক্তিযুদ্ধের পরপর সংবিধান প্রণয়নের আগে আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ে তিনদিনব্যাপী "ধর্মনিরপেক্ষতা"র উপর একটি সিম্পোজিয়াম হয়। সেটারই লিখিতরূপ এই বইটি।

166 pages, Hardcover

First published November 1, 1973

Loading...
Loading...

About the author

আলী আনোয়ার

2 books1 follower

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
6 (85%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (14%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
September 1, 2016
বাংলাদেশের সংবিধান শুরু হয়েছে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম দিয়ে, এদেশের মূলনীতির মধ্যে আছে ধর্মনিরপেক্ষতা আবার রাষ্ট্রধর্মও আছে! মুসলমান ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষরাও তো এদেশের মানুষ, তারা কেন আল্লাহর নাম নিয়ে সংবিধান পড়া শুরু করবে, আর সংবিধান কি ধর্মগ্রন্থ নাকি যে এটাতে বিসমিল্লাহ থাকতে হবে? রাষ্ট্রভাষার ব্যাপারটা বুঝি কিন্তু রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারটা কি? এটা দিয়ে করে কি? রাষ্ট্রধর্মের ব্যাপারটা দিয়ে রাষ্ট্র তুমি কি বোঝাতে চাচ্ছো? আমি একটা ব্যাপার বুঝি, তুমি যখন একটা বিশেষ ধর্মের পৃষ্টপোষকতা করছো, তখন প্রকারান্তরে অন্য ধর্মের মানুষগুলোকে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হিসেবেই দেখছো।

বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা কেন রাষ্ট্রের মূলনীতি হল? এই মানুষগুলিইতো ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান তৈরী করেছিল। তাহলে কেন মাত্র ২৩ বছর পর ধর্মনিরপেক্ষতাকে গ্রহণ করল? উত্তরটা খুব সহজ। সে যখন দেখল যে ধর্ম তাকে একটি রাষ্ট্র এনে দিল সেই ধর্মই হাতিয়ার হল শোষণের তখন তার দর্শন অন্যরকম হয়ে গেল। আচ্ছা বাংলাদেশ কি ধর্মীয় রাষ্ট্রই হতে পারতো না? পাকিস্তানের মতোই ব্যর্থ রাষ্ট্র হতো বা ধর্ম শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার নাও তো হতে পারতো! হুঁ হয়তো তাই হতে পারতো। কিন্তু ওই যে অন্য ধর্মের মানুষদেরকে অন্য শ্রেণির মানুষ হিসেবেই যে দেখা হয় এতে।

ধর্মনিরপেক্ষতা কি? এটা কি ধর্মহীনতা নাকি সব ধর্মের জগাখিচুরী? নাকি ধর্ম ও ধর্মহীনতার মাঝামাঝি কিছু একটা? ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে ধর্ম ও ধর্মহীনতার মধ্য-পথ। রাম ও রহিমের সহাবস্থান। খানিকটা ধর্ম দু-পক্ষকেই ছেড়ে দিতে হবে। অর্থাৎ গোঁজামিল। গোঁজামিল চলতে পারে না। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলেছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। বাহাত্তর সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে একটা সিম্পোজিয়াম হয়, তিনদিন ব্যাপী। প্রথম দিনের বিষয় ছিল ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা, দ্বিতীয় দিনের ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাংলাদেশ এবং শেষ দিনের বিষয় ছিল ধর্মনিরপেক্ষতার ভবিষ্যৎ। বেশ প্রাণবন্ত আলোচনাই হয়েছে এটা বলা যায়। বক্তব্য হয়েছে, বক্তব্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য হয়েছে। কয়েকজনের ক্ষেত্রে দেখা গেল তারা ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে লাফালাফি করলেও আসলে তারা নিজেরাই ধর্মনিরপেক্ষতা চরিত্রের না! এই বইয়ের খোঁজ পাওয়ার পর প্রথমেই মনে হয়েছিল, ওয়াও এরকম একটা আলোচনাও হয়েছিল ওইসময়? ঈশ আমি যদি থাকতে পারতাম!

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের চরিত্র কি হবে? রাষ্ট্র তো অবশ্যই কোন ধর্মের প্রতিই বিশেষ পক্ষপাতিত্ব দেখাবে না? আর কিছু? নাগরিকের শিক্ষার দায়িত্ব সরকারের। তাহলে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার স্বরূপ কিরকম হতে পারে? সেটা কি পুরোপুরি অভিভাবকের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে? ওরা কি শুধুই নিজের ধর্ম সম্পর্কে জানবে? রাষ্ট্রের কি এ বিষয়ে কোন দায়িত্ব নেই? প্রশ্ন এসেছে, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ কেন আরব দেশগুলোর স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টায় বলছে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র? প্রশ্ন এসেছে রাষ্ট্র যদি ধর্মকে উৎসাহিত না করে তবে কি নিরুৎসাহিত করবে? জটিলাকার ধারণ করেছে যখন কিনা বলা হল বঙ্গবন্ধু তো কথায় কথায় ইনশাআল্লাহ বলে, এটা কি অন্য মূলনীতির বিরুদ্ধে যাচ্ছে না? (মূল প্রশ্ন আসলে আমার যেটা মনে হয়, ব্যাক্তিগত ধর্মাচরণ এবং রাষ্ট্রাচরণ কিভাবে পৃথক হবে?)

রাষ্ট্রীয় আচরণে ধর্মনিরপেক্ষতা আসছে না এটা নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। একটা ক্যাডেটদের শিক্ষা সমাপনী শুরু হয় কোরান তেলাওয়াত দিয়ে, যেখানে যুদ্ধের পুরো সময় জয় বাংলা বলে অনুষ্ঠান শেষ হত সেখানে এখন খোদা হাফেজ বলে শেষ হয়। অথবা ওটার কথা, কোরান হাদিস পন্থী কোন আইন প্রণয়ন হবে না?

কথা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতা এই টার্মের সাথে কতটুকু পরিচিত ছিল সেসময় বা এখন? ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে মানুষ এখনও কি বোঝে? সেসময় ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করেই কি রাষ্ট্র তার দায়িত্ব শেষ করে ফেলেছিল? একজন বলেছিল, ভবিষ্যতে ধর্মের কি হবে জানি না, কিন্তু এ দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা যে বহাল থাকবে তা নিশ্চিত। হায় উনি যদি ১৯৭৫ সালের ১৬ অগাস্টের রেডিও ঘোষণা শুনতেন?

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার মধ্যে যদি নেগেটিভ কিছু থেকে থাকে তবে সেটা অবশ্যই এর তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়াটা। মানুষ বুঝলোই না, মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা আসার আগেই দেশটা মুক্ত হয়ে গেল। এজন্যই তো মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা মনে করে। আফসোস!

অধ্যাপক দিলীপ নাথের ছোট্ট কথাটি যে কত কিছু বলে দেয় একসাথে!
একই সমাজে একাধিক ধর্মাবলম্বীর লোক বাস করলেই সেক্যুলারিজমের প্রয়োজন এটা ঠিক নয়, সেক্যুলারিজম মানে ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু নয়, চিন্তার মুক্তিও বটে। যে সমাজে শুধুমাত্র একটি ধর্মের লোক বাস করে সেখানেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রয়োজন আছে।


বাংলাদেশের মানুষ কবে সচেতন হবে, কবে এমন একটা সরকার আসবে যারা ধর্মনিরপেক্ষতা মূলনীতি হিসেবে রাখবে আবার রাষ্ট্রধর্ম বলে কিছু রাখবে না? আমি সেদিনের আশায় বসে আছি।
Profile Image for Nabila Chowdhury.
397 reviews287 followers
January 24, 2015
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ১৯, ২০ এবং ২১ আগস্ট ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ক একটি সিম্পোজিয়াম আয়োজিত হয়। তিনদিন ব্যাপী এই সিম্পোজিয়ামের প্রথম দিন আলোচিত হয় 'ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা', দ্বিতীয় দিন 'ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাংলাদেশ' এবং তৃতীয়দিন 'ধর্মনিরপেক্ষতার ভবিষ্যৎ', সেই আলোচনার সংক্ষেপণ এই গ্রন্থটি।

সিম্পোজিয়ামের সময়টা লক্ষ্য করলে দেখা যায় তখন মাত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং ধর্মের নামে যে গণহত্যা পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসররা চালিয়েছে তা তখন বাঙালি কাছে সবচেয়ে বড় বাস্তব। তাই হয়তো সেদিন এই আলোচনা চক্রটি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছিল। তা না হলে আমার অভিজ্ঞতা যা বলে তা হল বাঙালি মনে প্রাণে সাম্প্রদায়িক এবং এটাই নির্মম সত্য। আমাদের দেশে ধর্মে ধর্মে ভেদ, জেলায় জেলায় ভেদ, থানায় থানায় ভেদ, ঘরে নিজের সন্তান ছেলে আর ভাইয়ের সন্তানের মাঝে ভেদ, নিজের সন্তানের মাঝে আবার ছেলে-মেয়েতে ভেদ, এমনকি নিজের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মাঝে ভেদ, হাত আর পায়ের মাঝে হাত কুলীন, আবার হাতের মাঝে ডান হাত কুলীন। দুই যুগ পাকিস্তানের সাথে থেকে যা সয়েছি, আর নয়মাসে ধর্মের নামে যা দেখেছিলাম তার ধাক্কায় আসলে আমাদের রাষ্ট্রের মূলনীতিতে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' কথাটা আছে। তা না হলে আমার ধারণা, হাতেগোনা গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া না রাজনীতিবিদ, না সাধারণ জনতা কারোরই 'ধর্মনিরপেক্ষতা' নিয়ে আগ্রহ আছে। আর সময়ের সাথে স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যাওয়াতে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' নীতি সর্বস্বই রয়ে যাচ্ছে, এর প্রয়োগ তেমন আর নেই।

যাই হোক, বাদ দিই নিজের ক্ষোভের কথা, ফিরে আসি সেই সময়ে যখন আমরা 'ধর্মনিরপেক্ষতা' প্রয়োজন উপল���্ধি করেছিলাম, তাকে রাষ্ট্রের মূলনীতিতে স্থান দিয়েছিলাম, তা নিয়ে সিম্পোজিয়াম আয়োজন করেছিলাম। সিম্পোজিয়ামে আলোচিত ব্যাপার গুলোকে দেখি কিভাবে আলোচিত হয়েছিল তার আলোকে। কেউ কেউ বলছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ হতে হলে ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন হবে আবার কেউবা বলছিলেন সকলের ধর্মের সহবস্থান-ই ধর্মনিরপেক্ষতা। অন্যরকম চিন্তা যারা করে তাদের চিন্তা সম্পর্কে সহনশীল থাকা, তাদেরকে সম্মান করাই ধর্মনিরপেক্ষতা। কেউ বলছিলেন রাষ্ট্রের কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি প্রণোদনা না থাকাই সেই রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ আচরণ, আবার কেউ বলেছিলেন তাত্ত্বিক সংজ্ঞার চেয়ে ব্যবহারিক সহনশীলতাই সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে ধর্মনিরপেক্ষতাকে। সবাই যেহেতু বেশ জ্ঞানী মানুষ ছিলেন, কারোরই প্রমাণ এবং যুক্তির কোনো অভাব ছিল না। তাই সবার উন্মোচিত দিকগুলোই ভেবে দেখবার মত করে উপস্থাপন করছিলেন। বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রয়োজন হিসেবে সেই উঠে এসেছে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তানের জন্ম, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, ধর্মের নামে শোষণ-গণহত্যা, বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ইত্যাদি কিভাবে আমাদের 'ধর্মনিরপেক্ষতা' নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। 'ধর্ম' এবং 'ধর্মনিরপেক্ষতা'কে ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন দিক থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন আলোচকরা। বাংলাদেশে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'কে প্রাকটিস করতে হলে করণীয় ব্যাপারগুলো এখানে আলোচিত হয়েছে। মুক্ত বুদ্ধির চর্চা, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা কিভাবে 'ধর্মনিরপেক্ষতাকে' স্থিত করতে পারে সেটাও উঠে এসেছে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত বা কি ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা 'ধর্মনিরপেক্ষতা'কে উৎসাহিত করবে তা নিয়েই আলোচকরা বলেছেন। 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র মূলনীতিকে সফল করবার জন্য কী কী করতে হবে, কী কী না হলে একে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে স্থান দেয়াটা ব্যর্থ হয়ে যাবে তাও বলা হয়েছে। এই সবকিছু বলা হয়েছে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে। কাউকে কাউকে তার বক্তব্যের জন্য প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে, নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।

নানা মানুষের নানা মত, কিছু সমর্থক, কিছু বিপরীতার্থক কিছু হয়তো সমান্তরাল। বইটি পড়ে আমার লাভ এমন কিছু নতুন দিক আমার কাছে উন্মোচিত হয়েছে, যা নিয়ে হয়তো আগে আমি কখনো ভাবি নি।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews