প্রত্যেকটা মানুষ সারাটা জীবন ধরে নিজের অজান্তেই মনের চারপাশে একটা একটা করে ইট গেঁথে দেওয়াল তোলে। তারপর সেই দেওয়ালের ভেতর বন্দি হয়ে কাটিয়ে দেয় গোটা একটা জীবন। এই উপন্যাসে রিখিয়া, ডাক্তার সিদ্ধার্থ মিত্র, সুপ্রিয়া, চাঁপা, দীপ্ত—কেউই এর ব্যতিক্রম নয়। তারপর একদিন পরিস্থিতি পরিবেশ যখন চারপাশে সত্যিকারের দেওয়াল তুলে দেয়, তখন শুরু হয় আসল যুদ্ধ। এই উপন্যাসের চরিত্ররা স্বরচিত কারাগারে বন্দি করেছে নিজেদের। আবার একসময় তা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করেছে। তাঁরা সেটা পারবে কি না, নাকি তলিয়ে যাবে অন্ধকারে, সেই কাহিনিই বলবে এই উপন্যাস। সব মিলিয়ে ‘ভাঙনভোর’ উপন্যাস ছোটো ছোটো খণ্ডচিত্রের এক কোলাজ, যা মনের চারপাশের দেওয়াল ভাঙার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
সোমজা দাসের জন্ম উত্তরবঙ্গের জেলাশহর কোচবিহারে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সেই শৈশব থেকে। জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং কলকাতায় একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। লেখকের এখন অবধি প্রকাশিত একক বইগুলি হল ‘এক কুড়ি পাঁচ গল্প’, ‘টাপুরদির গোয়েন্দাগিরি’, ‘কৃষ্ণগহ্বর’ ও ‘নিকষিত হেম’, ‘কাল-কূট’ ও ‘মৃতেরা কোথাও নেই’। আনন্দবাজার এছাড়াও পত্রিকা, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, বর্তমান পত্রিকা, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, গৃহশোভা ও আরও অনেক পত্রপত্রিকা ও গল্প সংকলনে লিখেছেন এবং লিখছেন। লেখালেখি ছাড়াও প্রচুর পড়তে ভালোবাসেন তিনি। নিজেকে তিনি লেখকের চাইতে মগ্ন পাঠক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।