অসুখ করেছে অমিয়র চোখে। জুটেছে হাই পাওয়ারের চশমা। তাতে মানুষ যত না স্পষ্ট হল তার চেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠল না-মানুষের অবয়বগুলো। অমিয় তাদেরই দেখতে শুরু করে যাঁরা আর জীবিত নেই। মানুষের মৃত্যু দেখতে শুরু করল অমিয়। ফলেও গেল সব কথা। আশেপাশের সকলে ভয় পেতে শুরু করল অমিয়কে। একটা টিভি চ্যানেলের সামান্য হাউজ স্টাফ সে। অপয়া বদনামে কাজ বাতিল হল তার। পাবক, সুদেষ্ণা, শ্রুতি, সুজয় সকলে না চাইলেও একজন কলিগের বিয়েতে গাড়ি ভাড়া করে অমিয়কে নিয়ে গেল পশ্চিম মেদিনীপুর। কথা ছিল না। তবু সে রাতেই কলকাতা ফিরতে বাধ্য হল সকলে। কিন্তু ফিরতে পারল না। পথের জঙ্গলে মারণকুঠার হাতে দাঁড়িয়ে ছিল নিঠুর নিয়তি। ইহলোক পরলোকের জাল আগেই ছিন্ন হয়েছিল। এবার আর-জন্মের প্রেম-ভালোবাসা, লোভ-প্রতিশোধ সব কিছু ভিড় করে দাঁড়াল অমিয় ও চার সঙ্গীর সামনে। হাতছানি দিল আদিবাসীদের অপদেবতা। সবাই জানে অমিয় মানেই মৃত্যু। সত্যিই কি তাই?
সকলের জীবন বাঁচিয়ে ইহজীবনের অপবাদ খণ্ডন কীভাবে করবে অমিয়?
Norolok Porolok is a mesmerizing journey that explores the thin veil between the world of humans and the afterlife.গল্পটি বিকশিত হতে সময় নেয়, কিন্তু জঙ্গলে পৌঁছানোর পর এটি অবিরাম রোমাঞ্চকর যাত্রা, উত্তেজনা, প্রতিবার নখ কামড়ানোর পরিস্থিতি সহ। গল্পের এই অংশটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেরা ভৌতিক গল্পের চিত্রায়নগুলির মধ্যে একটি। অমিয়ের নেপথ্য কাহিনী সঠিকভাবে বিকশিত হয়েছে, প্রতিটি চরিত্রের প্রেরণা সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। Through gripping narratives and atmospheric storytelling, Avishek Chattopadhyay dives deep into the unknown, questioning what lies beyond our mortal existence. Rating 4/5
আড়াই দিনে শেষ করলাম অভিষেক চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের নতুন ভয়ের উপন্যাস ' নরলোক পরলোক'। লেখকের লেখা ' ম্যাও' পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম তবে সেটা ছিলো সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রহস্য উপন্যাস, তবে এরপরই লেখকের লেখনীর ভক্ত হয়ে গেছিলাম তাই এবারের বইমেলায় গিয়ে এই বইটি কিনলাম। যথারীতি এই বইটিও হতাশ করেনি। বইটা পড়ার সময় গা শিরশিরানি দিচ্ছিল বারবার, মনে হচ্ছিল আশেপাশে কারা যেনো রয়েছে, গল্পের গাঁথুনি বেশ মজবুত। মাঝে কিছু জায়গায় গল্পের গতি কিছুটা মন্থোর হয়েছে তবে সেটা গল্পের প্রয়োজনেই। বাকী গল্পের প্লট দারুণ, অনেক নতুন কিছু জানলাম, যারা ভয়ের গল্প পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্য সুখপাঠ্য। আমার তো বেশ লেগেছে।
আচ্ছা, আপনার কি ‘সবুজচশমা’ বা ‘কালো ভ্রমর’ গল্প দুটি পছন্দ? আপনি কি প্রেমের গল্প পড়তে ভালোবাসেন? কিংবা ভূত আর হরর থ্রিলার পড়তে কি আপনার ভালো লাগে? যদি এই সব প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আমার মতো আপনিও পড়ে ফেলুন অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বই— নরলোক পরলোক।
বইটির যে দিকগুলো ভালো লেগেছে: ১) সহজ সরল ভাষা।
২) পাঠককে চুম্বকের মতো ধরে রাখার শক্তি।
৩) সিনেমাটিক ওয়ে-তে বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা।
৪) দারুণ হরর সিকোয়েন্স।
৫) কলকাতার অফিস কালচার নিয়ে গল্প।
৬) POSH (Prevention of Sexual Harassment)-এর ধার না ধেরে অফিস প্রেম ও সিনেমাটিক রোমান্স। ৭) অফিস বন্ধুত্ব।
৮) পুরোনো পাপের ফল।
৯) ওকাল্ট চর্চা।
১০) মানবিক শিক্ষা।
১১) দারুণ ইলাস্ট্রেশন আর কভার।
সব মিলিয়ে ভয়! এটি একটি অসাধারণ ভয়ের এবং নৃশংস উপন্যাস যেটা পড়ার জন্যই বইটি কেনা।
বইটি আমাকে যা শেখালো: পেশাদারিত্ব: সেই জোকার সিনেমার উক্তি— "If you're good at something, never do it for free." এই গল্পের নায়কের রেটিনাতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে চোখে কম দেখতে শুরু করে, আর তাতেই সে এমন কিছু গুরুতর জিনিস লক্ষ্য করে যেটার গুরুত্ব অন্য কেউ বোঝে না।
উপকার: যেচে কারোর ভালো করতে যেও না।
বাস্তবতা: আমরা কেউ অপরিহার্য (indispensable) নই। আজ যাকে আপনি সব কিছু মনে করছেন, সেই মানুষটিই কাল বদলে যেতে পারে। সুতরাং বাউন্ডারি রেখে ভালোবাসুন, অতিরিক্ত অ্যাটাচ (attach) না হয়ে ভালোবাসুন।
অন্তর্দৃষ্টি: নিজের গাট ফিলিং (gut feeling)-কে ইগনোর করবেন না।
লেখকের কাছে কিছু প্রশ্ন: ১) আচ্ছা, এই গল্পটি লেখা হয়েছে Chat GPT-র যুগে, তাহলে পাবককে ফুল কেনার জন্য বন্ধুর কাছ থেকে দোকান জানার দরকার পড়ল কেন? গুগল সার্চ করে কি জানা যেত না?
২) ২৭ নম্বর পেজে রয়েছে— ‘ভাইকে নিয়ে মা পুড়ে গেল’, এটা কি টাইপিং মিস্টেক?
৩) গল্পের শুরুতে অমিয়কে যখন বর্ণনা করা হলো তখন যে ক্যাজুয়াল টোন ব্যবহার হলো, পরে সেটা পাল্টালো কেন? যেহেতু অমিয়র মধ্যে অন্য কেউ ছিল, তাই কি এই পরিবর্তন?
একটা ছোট খামতি: বইটির একটা দিকই একটু খটকা লেগেছে— প্রথম ৬০ পাতা গল্পের গতি একটু মন্থর। তবে লেখক পরে সেটা দারুণভাবে পুষিয়ে দিয়েছেন।
সবশেষে বলি: বইটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। বিজয়ার গল্পটি পড়ে চোখে জল এসে গিয়েছিল, মন ভিজে গেছে। খুশি হলাম এটা জেনে যে মৃত্যুর পরেও বিচার পাওয়া যায়; যদি বাস্তবেও এমন হতো, হয়তো কত অপরাধীর শাস্তি হতো!
বইমেলাতে এই বছর একটা খুব ‘গরম টপিক’ ছিল যে পাঠক কেন তন্ত্র-মন্ত্রের বই পড়ে? কেন পড়ব না দাদা? এমন ভালো লিখলে রোজ পড়ব, ১০০ বার পড়ব। প্রকাশককে বলব, আপনারা দিন দিন এক্সপেকটেশন বাড়িয়ে দিচ্ছেন এত ভালো বই উপহার দিয়ে!
‘নরলোক পরলোক’ একটি শক্তিশালী প্লট নিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখতে সক্ষম। গল্পের রিদম দ্রুত, ফলে পড়তে পড়তে মন পুরোপুরি গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। execution-এ লেখকের দক্ষতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে—কাহিনির গাঁথুনি, চরিত্রের প্রেক্ষাপট এবং ঘটনাপ্রবাহ খুবই সুসংগঠিতভাবে সাজানো।
তবে ভৌতিক বা অলৌকিক ঘটনার উপস্থাপনায় আরও কিছুটা পরিপক্কতা থাকলে গল্পের প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারত। কিছু অংশে ভৌতিক ঘটনাগুলো আরও বাস্তবসম্মত এবং রহস্যময়,টানটানভাবে উপস্থাপনা করা গেলে গল্পের প্রভাব আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারত।। তবু সামগ্রিকভাবে এটি একটি engaging read, যেখানে প্লট, গতি এবং রহস্যের ধরণ একসাথে ভালোভাবে কাজ করেছে।
যারা মনস্তাত্ত্বিক ভৌতিক গল্প, লোকবিশ্বাস ও অদ্ভুত রহস্য পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘নরলোক পরলোক’ একটি must-read বই।