যশােরের ইতিহাস শুধু যশাের কেন্দ্রিক নয়-সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে জড়িত। এখনাে পর্যন্ত অতীতের অনেক বিষয় আমাদের কাছে অজানা রয়েছে। সেই অজানাকে জানার জন্যে একার পক্ষে অনুসন্ধান করা সাধ্যাতীত। প্রয়ােজন সমষ্টির প্রচেষ্টা। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গেলে সর্বাগ্রে দরকার শ্রম ও মানসিকতার। এখন দুটিরই অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাতারাতি খ্যাতিমান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নয় আকাঙ্ক্ষা হবে প্রকৃত অবস্থাকে জানা এবং তুলে ধরার।পুরানাে রীতি-পদ্ধতি পরিহার করে নতুন রীতি-পদ্ধতির পথ ধরে হাঁটা-চলা। গতানুগতিক চিন্তা নয়-নতুন ধ্যানধারণার আলােকে ইতিহাসকে পর্যালােচনা করা।
ইতিহাসবিদ, উপন্যাসিক, কবি ও সাংবাদিক হোসেন উদ্দিন হোসেন ১৯৪১ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার অন্তর্গত কৃষ্ণনগর গ্রামে এক বনেদী কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। হোসেনউদ্দিন হোসেনের প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় কৃষ্ণনগর গ্রামে পল্লীমঙ্গল সমিতির প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ঝিকরগাছা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে। দশম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি এই বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধিনে তিনি প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৫৯ সালে একই বোর্ড থেকে প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে আই-এ পাশ করেন। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি তাঁর কোন আস্থা না থাকায় একাডেমিক শিক্ষা তিনি এখানেই শেষ করেন। শৈশবকাল থেকে হোসেনউদ্দীন হোসেন কবিতা লিখতে শুরু করেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি একটি হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে কোলকাতার দৈনিক লোকসেবক পত্রিকায় ছোটদের বিভাগে। হোসেনউদ্দীন হোসেন ৬০ দশকে সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণ করেন। বর্তমানে গ্রামে থাকেন এবং কৃষি পেশায় নিযুক্ত। ২০০৬ সালে হোসেনউদ্দীন হোসেনকে ক্যাম্ব্রিজ, ইংল্যান্ড থেকে Top-100 writers হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। কোলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে বাংলা বিভাগে হোসেনউদ্দীন হোসেনের ইঁদুর ও মানুষেরা উপন্যাসটি এম, এ ক্লাসে পাঠ্যসূচী করা হয়েছে।