হাসনাত আব্দুল হাই (English: Hasnat Abdul Hye) একজন বাংলাদেশি লেখক এবং প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তিনি ঢাকা, ওয়াশিংটন, লন্ডন ও কেমব্রিজে লেখাপড়া করেন। তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, জগদীশ চন্দ্র বসু পুরস্কার, শের-ই-বাংলা পুরস্কার, এস.এম. সুলতান পুরস্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল পুরস্কারে ভূষিত হন।
লেখক হাসনাত আবদুল হাই পেশাগত জীবনে একসময় সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর সেই পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতায় সিকস্তি-পয়স্তি জমি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যে রাজনীতি, আইনের ফাঁক-ফোকর, দুর্নীতির প্রকৃতি ও স্বরূপ এই উপন্যাসে খুব ডিটেইলে ফুটে উঠেছে। এই দিক বিবেচনায় এটি শুধু উপন্যাস নয়, কিছুটা হ্যান্ডবুক বলেও বিবেচনা করা যায়। এবং এই উপন্যাসের সমস্যার শুরু এইখানে। এই ডিটেইল আনতে গিয়ে উপন্যাসের কাহিনীর প্রতি আর সুবিচার করা হয়নি। লেখক ক্যানভাস ঝুলিয়েছিলেন বড়, চরিত্র এনেছিলেন অনেক, কিন্তু সেখানে যথেষ্ট সময় দেননি। ফলে ১০৭ পৃষ্ঠার মধ্যে উপন্যাস শেষ করতে গিয়ে তাঁকে ব্যাপক তাড়াহুড়া করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস, সেশনজট, ছাত্র রাজনীতির চরিত্র বিশ্লেষণ; নাগরিক জীবনে বিভিন্ন বয়সী মানুষের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা ও তার প্রকৃতি - এমনসব বিষয় এই উপন্যাসে আনা জরুরী ছিল না। ফলে নগরের চরিত্রগুলোর যথাযথ বিকাশ যেমন হয়নি, কাহিনীগুলোও তেমন হুটহাট করে শুরু ও শেষ হয়েছে। এই উপন্যাসের সবচে' বড় সমস্যা এর ফরম্যাট। লেখক যদিও দাবী করেছেন যে, তিনি জাপানী 'নোহ্' নাটকের রীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে তা পুরোপুরি অনুসৃত হয়নি। বরং একটা বড় অংশে রিয়ালিজম, একটু ছোট অংশে ম্যাজিক রিয়ালিজম স্পষ্ট। ফরম্যাট নিয়ে এই দোলাচলে কিছু পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারে্ন। উপন্যাসের শুরুটা যে অহেতুক জটিলতা দিয়ে শুরু করা হয়েছে তাতে অনেক পাঠক নিরুৎসাহিত হবেন। মোটের ওপর উপন্যাসটির workmanship খুব ভালো কিছু নয়, যেটা পাঠকের প্রতি এক প্রকার অবহেলা বা অবজ্ঞার মতো ঠেকে। তাই আমার রেটিং ৩-এর বেশি উঠলো না।
“যেখানে জীবন মানে দুবেলা দু’মুঠো খাওয়া‚ এক টুকরো কাপড় পরে লজ্জা নিবারণ আর মাথার ওপর একটু ছায়া‚যেখানে এই রকম সাদামাটা আর সংক্ষিপ্ত জীবন সেখানে নতুন কিছুই ঘটে না। যা ঘটে বারবার ঘটে। যারা ঘটায় তারা একই মানুষ। যারা ঘটনার শিকার হয় তারাও একই মানুষ। কিছুই বদলায় না।”
সিকস্তি ও পয়স্তি উভয়ই ফার্সী শব্দ। সিকস্তি অর্থ “নদীতে জমি ভেঙ্গে যাওয়া” আর পয়স্তি অর্থ “নদীতে ভেঙ্গে যাওয়া জমি পুনরায় চরজমি হিসেবে উত্থিত হওয়া।”
সিকস্তি মানে ভাঙ্গন‚নদীর ভাঙ্গন‚ উপকূলের পরিবর্তন। নদীর পাড় ভাঙ্গে আবার অন্যস্থানে জেগে ওঠে। মালিকানা নিয়ে কলহ‚ সংঘর্ষ এখানে নিত্য-নৈমিত্তিকের ঘটনা। প্রভাবশালী চক্রের সাথে এখানে যুক্ত হয় প্রশাসনের হাত। দরিদ্র ভূমিহীন বঞ্চিত হয় অন্যভাবেও- জমি জরিপে‚ খাস জমি বন্দোবস্তে। ক্ষমতার বলয়ে নানা অভিসন্ধির কূটচালে বিপন্ন হয় তাদের স্বার্থ‚বিনষ্ট হয় জীবন।
‘সিকস্তি’ বৃহৎ অর্থে সমাজের চারিদিকের ভাঙ্গন। শিক্ষায় সন্ত্রাস‚রাজনীতিতে অস্থিরতা‚ মানবিক সম্পর্কের অবনতি‚ ন্যায়-নীতির বিপর্যয়‚ সুস্থ মূল্যবোধের অবক্ষয় এই ভাঙ্গনেরই নানা মাত্রা।
লেখক হাসনাত আবদুল হাই পেশাগত জীবনে একসময় সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর সেই পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতায় সিকস্তি-পয়স্তি জমি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যে রাজনীতি‚ আইনের ফাঁক-ফোকর‚ দুর্নীতির প্রকৃতি ও স্বরূপ এই উপন্যাসে অনেক বিস্তারিত ভাবে ফুটে উঠেছে। এই দিক বিবেচনায় এটি শুধু উপন্যাস নয়‚ অনেকটা হ্যান্ডবুক বলেও বিবেচনা করা যায়। এবং এই উপন্যাসের সমস্যার শুরু এইখানে। এই ডিটেইল আনতে গিয়ে উপন্যাসের কাহিনীর প্রতি আর সুবিচার করা হয়নি। লেখক হয়তো বড় প্লট ভেবে লেখা শুরু করেছিলেন‚ চরিত্র এনেছিলেন অনেক‚ কিন্তু সেখানে যথেষ্ট সময় দেননি। ফলে উপন্যাস শেষ করতে গিয়ে উনাকে অনেকটা তাড়াহুড়া করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস‚সেশনজট‚ প্রেম‚ ছাত্র রাজনীতির চরিত্র বিশ্লেষণ;নাগরিক জীবনে বিভিন্ন বয়সী মানুষের বিভিন্ন প্রকার সমস্যা ও তার প্রকৃতি এমনসব বিষয় এই উপন্যাসে আনা জরুরি ছিল না। ফলে নগরের চরিত্রগুলোর যথাযথ বিকাশ যেমন হয়নি‚ কাহিনীগুলোও তেমন হুটহাট করে শুরু হতেই শেষ হয়ে গিয়েছে। লেখক এইসব জায়গায় একটু সময় নিয়ে চরিত্র বিশ্লেষণ করে সাব-প্লট এগিয়ে নিতে পারতেন। লেখক শুধু উপকূলীয় এলাকার মানুষের টানাপোড়েন ‚ অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ‚জীবনপ্রবাহ নিয়ে প্লট এগিয়ে নিলে হয়তো আরও সুখপাঠ্য হতো।
‘সিকস্তি ’ উপন্যাস শেষ পর্যন্ত কি একটা এক্সপেরিমেন্ট! হয়তো এজন্যই উপন্যাস কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।লেখক বলেছেন “এই উপন্যাসের কোন কোন চরিত্র জাপানের ‘নো’ নাটকের রীতি অনুযায়ী একই সঙ্গে জীবিত ও মৃতের ভূমিকায় উপস্থাপিত হয়েছে‚ অবশ্য মুখোশ ছারাই।” কিন্তু উপন্যাসের একটা বড় অংশ রিয়ালিজমের উপর নির্ভর করে এগিয়ে ‚ অল্প কিছু অংশ ম্যাজিক রিয়ালিজম দেখা গেছে।যা শেষ পর্যন্ত এক্সপেরিমেন্ট মনে হয়েছে।