রেড হাইলি। অ্যাপাচি ট্রেইন্ড পেশাদার খুনী। অ্যামবুশ করার পর ভূতের মত নিঃশব্দে হাওয়া হয়ে যায় অকুস্থল থেকে। টনি লুইস। গরিলা-সদৃশ চেহারা। খালিহাতে মানুষ খুন করতে ওস্তাদ। কোল হুইলক। এক ভাড়াটে বন্দুকবাজ দলের সর্দার। ভয় দেখিয়ে বশে রেখেছে একটা পুরো শহরকে। কেউ তার বিরুদ্ধাচারণ করলে নিস্তার নেই। জেমস জয়েস জানে শত্রু ঘাঁটিতে গিয়ে এদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে মোকাবেলা করতে হবে তাকে।
রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
এই উপন্যাসের নায়ক যতটা না মারমুখী, তারচেয়ে অনেক বেশি কৌশলী। পিস্তলে ভাল, তবে রাইফেল, ট্রাকিং আর গেরিলাযুদ্ধে আরো অনেক ভাল। ভিলেনও তাই। কাজেই বেশ টানটান উত্তেজনা পুরো বই জুড়ে।
অ্যাকশনে সমৃদ্ধ অন্যতম সেরা একটি ওয়েস্টার্ন। প্রতিটি পৃষ্ঠায় টানটান উত্তেজনা, কৌশল আর দক্ষতার মিশেলে খুবই সুখপাঠ্য একটি উপন্যাস, রওশন জামিলের শব্দচয়ন আর ভাষায় দক্ষতা ওয়েস্টার্ন টিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।
পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো হলিউডের কোন অ্যাকশন/থ্রিলার/ম্যানহান্ট মুভ্যি দেখছি।