ভাগ্যের সঙ্গে অসম জুয়া খেলায় নেমেছে নিকোলাস ড্রেইট। ওকে তাড়াতে চাইছে ওর চারপাশের র্যাঞ্জাররা - ড্রেইট বুঝতে পারছে এখন ওর এমন একজনকে দরকার পিস্তলে যার হাত চালু। তাই নবাগত এক লোক যখন সাহায্য করতে চাইলো ওকে ড্রেইট লুফে নিলো প্রস্তাবটা। নবাগত শুধু জানাল - ওর নাম হুয়ান কর্টেয।
রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
বইয়ের নাম: সন্ধান লেখক: রওশন জামিল সিরিজ: ওয়েস্টার্ন মূল: Sudden Takes A Hand By Oliver Strange প্রকাশ: ১৯৮৮ প্রকাশনী: সেবা। রিভিউ লেখক: হুজাইফা তুল ইয়ামান।
পথরুদ্ধ করা হলো নায়কের। পরিচয় জানতে চাওয়া হছছে তার। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডাশেষে পরিষ্কার হল ব্যাপারটা:- পথচারী আর পথরুদ্ধকারী একে অপররের শত্রু। অবধারিতভাবেই ড্র হলো এদের মাঝে। এবং মারা পড়ল ভিলেন। এরপরে বিস্ময় অপেক্ষা করছিল নায়কের জন্য। ভুপতিত আউট ল'র স্যাডল জুড়ে বসে আছে এক অপুর্ব সুন্দরী জুবতী! বদমাশটার দশাসই আকারের আড়ালে এতক্ষন অদৃশ্য হয়ে ছিল সে। বিরান বন্ধুর পথ। সঙ্গী এক অবলা নারী। মানবিকতার খাতিরেই তাকে নিয়ে ফের পথে নামল ড্রেইট: নিকোলাস জুনিয়র। এদিকে মেয়েটার মন জুড়ে আছে: ঘৃনা, অপছন্দ আর আত্বহংকার। চোখের সামনে খুন করতে দেখেছে সে লোকটাকে। তাও কিনা যে ব্যাক্তিটার মাধ্যমে স্বাধিনতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাছছিল তার তাকে। স্বভাবতই শত্রুচোখে দেখছে সে লোকটাকে। তার ইছছার কোন দামই দিছছে না লোকটা। এমন কি তার সৌন্দর্যও লোকটার নিস্পৃহভাবের উপর কোনরুপ প্রভাব ফেলছে না। এটাই তার আত্বহংকারে আঘাত করার কারন।
রাতেই পালানোর চেস্টা করল সে। বাধ্য হয়ে তার শরীরে স্পর্শ করল নিকোলাস ড্রেইট। প্রায়শ্চিত্তস্বরুপ পরদিনই এক লোকালয়ে পৌছেই বিয়ে করে ফেলল সে মেয়েটাকে।
এরপরে মেয়েটাকে ছেড়ে দিল তার স্বাধিন পথে! নিজের স্বামীবলের কিছুই খাটাছছে না সে। মেয়েটা চলে গেলও। আবার ফিরে আসল। বোঝা হয়ে গেছে তার:- সঙ্গী একজন তার দরকার। রুক্ষ বর্বর এ দেশে টিকে থাকার তাগিদেই। কিন্তু শর্ত আছে একটা:- তারা যে একে অপরের স্বামী-স্ত্রী- গোপন রাখা হবে ব্যাপারটা।
শুরুটা এভাবেই। সম্ভবত মূল বইয়ের দশ পাতারও কাহিনি না এটা। এতটুকু পড়ে ধারনা জন্মাতে পারে:- এটা একটা রোমান্টিক কাহিনি; এরপরে নায়ক কিভাবে নায়িকাকে জয় করে নিল সে গল্পই সম্ভবত বলা হয়েছে। আসলে বইটাকে যতটা না রোমান্টিক ঘড়নায় তার চাইতে বেশি মিস্ট্রি-থ্রিলার-ডিটেক্টিভ(!) ঘড়ানায় ফেলা যায়। সবার উপরে এটা একটা ফ্রন্টিয়ার পটভুমিতে রচিত ওয়েস্টার্ন উপন্যাস।
এবার ইকটু নজর ফেরানো যাক বিশ্লেষনের দিকে:- নিকোলাস ড্রেইট এ গল্পের নায়ক। কিন্তু বইটা সাবাডিয়া সিরিজের। সিরিজের তৃতীয় বই এটি। যদিও সাডেন সিরিজের সপ্তম বইয়ের অ্যাডাপ্টেশন এটা; কিন্তু মাহবুবদা যে আগেই মাঝখানের বেশ কয়েকটা কাহিনি এরফানে সিরিজে ঢুকিয়ে নিয়েছেন! (ডেথসিটি, সেই এরফান, সম্ভবত আবার এরফানও আর অ্যারিজোনায় এরফান)। সাডেন সিরিজ সম্পর্কে ধারনা থাকলেই বুঝবেন, এটাও সিরিজের গতানুগতিক প্লটে লেখা হয়েছে। এ সিরিজের প্রায় প্রতিটা বইয়ের কাহিনিতেই একটা মিল থাকে।
"-সাবাডিয়ার কোন বন্ধু বিপদে পড়ে। -সে তাকে সাহায্য করে। -আর একজন নায়িকা থাকে। -সে অবশ্যই তার বন্ধুর প্রেমিকা (ব্যাতিক্রম: বাথান। এটা সাবাডিয়ারই প্রেম কাহিনি)। -আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পটভূমিটা নতুন আর অপরিচিত একটা শহর।"
তবুও সন্ধান সিরিজের আর সবকয়টা বইকে ছাড়িয়ে গেছে। এর কারন: নিক আর রোজীর অসাধারন রসায়ন। এমন চমৎকার রোমান্টিক কাহিনি আমি দ্বিতীয়বার পড়িনি। আর নিকের ব্যাক্তিত্বও আর সব ওয়েস্টার্ন নায়ককে হার মানায়। সাবাডিয়া সিরিজের বই হওয়ার পরও সাবাডিয়ার চাইতে তার ভুমিকাই মুখ্য- ব্যাপারটা সম্ভব হল কি করে তা না হলে!
আবার কাহিনিতে ফিরে আসি:- নিকোলাস ড্রেইট ভাগ্যের সাথে লিপ্ত অসম এক জুয়াড়ি। শত্রুপরিবিস্ট এক এলাকায় র্যাঞ্চ গেড়েছে সে, যেখনাকার সবাই তাকে উছছেদ করতে উঠে পরে লেগেছে তার পিছনে। নেস্টর বলে গালি দেওয়া হয় তাকে।
নেহায়েত ভাগ্যের ফেরেই রোজী আর সাবাডিয়ার সাথে পরিচয় তার। আর এরপরেই পাল্টে যায় কাহিনির গতিপ্রকৃতি।
শহরের আইন প্রভাবশালী র্যাঞ্চারদের পকেটে, তারাই ব্যাস্তসমত হয়ে উঠে পরে লেগেছে নিককে তাড়াতে। নিকের শ্যাডো ভ্যালির পাশেই রয়েছে একটা মালিকহীন র্যাঞ্চ। উত্তরসুরীদের খোজ চালানো হছছে এর। আর ফোরম্যান ওদিক দিয়ে গরু বাছুর সব হাতানোর পাশাপাশি পুরো র্যাঞ্চটাই দখলের তালে আছে। কুলিন এক সুবেশি শয়তান। রোজী তাকে বন্ধুর চোখে দেখতে শুরু করেছিল, কিন্তু সেই যে মূল নাটের গুরু সেটা ওর জানা ছিল না!
আর কিছুই বলছি না। এবার বাকীটুকু পড়েই নিন না হয়!
[উল্লেখ্য: সন্ধান আমার প্রিয় ওয়েস্টার্ন। এক সপ্তাহ আগে পড়লেও ব্যাস্ততার জন্য রিভিউ লিখতে পারিনি এতদিন। আজ কপাল পুড়ে যাওয়া জ্বর নিয়ে মাথাব্যাথায় গলদঘর্ম অবস্থায় রিভিউ লিখতে বসেছি। আবার লেখালেখিতে ফিরে আসছি- সেটাই জানান দেবার জন্যে!]
সাবাডিয়া সিরিজের চতুর্থ বই এবং তৃতীয় গল্প। বরাবরের মতো হুয়ান কর্টেজ সাবাডিয়া তার বুদ্ধির খেলায় হারিয়ে দিয়েছে সবরকম কূটচাল। নিকোলাস ড্রেইট শ্যাডো ভ্যালীর দূর্ঘটনার পর কিনে নেয় এবং আর সব গরু ব্যাবসায়ীদের রোষানলে পড়ে যায়। কিন্তু নিকও ছেড়ে কথা বলার লোক নয়। ঘটনাক্রমে দেখা হয়ে যায় সাবাডিয়া আর তার সাগরেদ ল্যারির সাথে। তাদের বিচক্ষনতায় নিক উৎরে যায় এলাকার প্রভাবশালী র্যাঞ্চার গ্রেগরি কুলিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের শয়তানি।
নিকের হাত ধরে পটভূমিতে আসে স্বর্ণকেশিনী রোজি। সকলের নজর পড়ে তার উপর। দাবার চালের মতো ঘটনা এগিয়ে যেতে থাকে। সাবাডিয়ার অনুসন্ধিৎসু কার্যকলাপে উন্মোচন হতে থাকে একের পর এক রহস্য।
রওশন জামিল সাহেবের লেখা পড়তে বেশ ভালোই। গল্পের মাঝে তিনি তাঁর আলাদা এক ছোঁয়া রেখে যান। সব মিলিয়ে বলা যায় সুখপাঠ্য।
শেষ করলাম আরেকটি দুর্দান্ত সাবাডিয়া। এবারে বেশিরভাগ সময় সাবাডিয়াকে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাওয়া গিয়েছে। আর তার কাজ সুন্দর করে শেষ করেছে। আর এবারে ভিলেনটাকে একটু বেশি শক্তিশালী মনে হয়েছে বুদ্ধির খেলায়। দুর্দান্ত