Jump to ratings and reviews
Rate this book

মৎস্য মারিব খাইব সুখে

Rate this book
হাসপাতাল থেকে বের হয়েই ডাক্তার দেখল আকাশে থালার মতো বিশাল চাঁদ। একেবারে ভরা পূর্ণিমা। আলো থইথই করছে চরাচর জুড়ে। সে যে কাজে যাচ্ছে তার জন্য খুবই অনুপযুক্ত পরিবেশ। অন্তত তার হরর গল্প পড়ার অভিজ্ঞতা তাই বলে। দেশি বা বিদেশি সব গল্পেই হরর আবহাওয়া আনার জন্য অমাবস্যা বাধ্যতামূলক। সে এসব আবজাব সাত সতেরো ভাবতে ভাবতে যখন হেঁটে হেঁটে ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বরের মেইন রোডের মুখে এলো, তখন রাত দুইটা পার হয়ে গেছে। রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া নেই বললেই চলে। অল্প কিছু যা চলছে তা না চলার মতোই। বলা যায় সমস্ত তল্লাট বেশ নীরব নিথর হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। বত্রিশ নম্বরে ঢোকার মুখেই সে পকেট থেকে ফোন বের করে। তার জানা মতে নসিব আর তানজীম ভাই চলে এসেছে বেশ আগেই। তারই কাজ সামলে হাসপাতাল থেকে বের হতে লেট হয়ে গেছে।

নসিব এসেই কল দিয়েছিল, "ভাই, নামেন। আইজকা দাগনের লগে বিরাট একটা ফাডাফাডি হইব।"

160 pages, Hardcover

Published December 1, 2025

Loading...
Loading...

About the author

Siddiq Ahamed

15 books94 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (6%)
4 stars
13 (28%)
3 stars
12 (26%)
2 stars
7 (15%)
1 star
10 (22%)
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,744 reviews504 followers
January 4, 2026
এই গল্পে যুক্তি খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হবে।"মৎস্য মারিব খাইব সুখে" গুরুতরভাবে লেখা লঘু সাহিত্য। আমার পড়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো নিখাদ বিনোদন পাওয়া। লেখকের রসবোধ প্রখর। বিশেষত চরম দুর্যোগের মুহূর্তে তানজীম রহমানের মুখে দার্শনিক উদ্ধৃতিগুলো পড়ে খুবই মজা পেয়েছি। ক্লাইম্যাক্স প্রলম্বিত ও ক্লান্তিকর। এতো বিস্তারিত বর্ণনার দরকার ছিলো না। সব মিলিয়ে, বইটার সাথে ভালো সময় কেটেছে।
Profile Image for Aishu Rehman.
1,139 reviews1,153 followers
February 4, 2026
কে তুমি বৎস,
ধরিয়া মৎস্য,
বেচিয়া গঞ্জে,
অকুল ও কুঞ্জে,
না খাইয়া তাজা,
কেনো ভক্ষন করিয়াছো মেয়াদ উত্তীর্ণ গাঁজা?

মেয়াদ উত্তীর্ণ গাঁজার এফেক্ট কতরকম আর কি কি হতে পারে এই বই পড়ে আজকেই প্রথম তার স্বরুপ উন্মোচন করতে পারলাম। মজায় লাগলো। বৎস কে সেটা বুঝতে পারলেও সে কেন মেয়াদ উত্তীর্ণ গাঁজা সেবন করলেন তার ব্যাখ্যা আমি এই গল্পে পাইনি। তাই সোজা এক তারা।
Profile Image for Zerin Oyishi (Free Palestine).
32 reviews253 followers
January 2, 2026
'Never judge a book by its cover'

প্রচ্ছদ দেখে প্রলুব্ধ হয়ে গাঁটের পয়সা খরচ করে বইটা কিনে একদম মারা খেলাম।

বিশ গ্রাম গাঁজা পাতার সংস্পর্শে এসে মাগুর মাছের 'দাগন' হয়ে উঠার এই গাঁজাখুরি গল্প কেবলমাত্র পড়ে শেষ করেছি গুডরিডসে একতারা দেওয়ার জন্য।
Profile Image for K M Abrar.
30 reviews29 followers
December 25, 2025
ওয়াসি আহমেদ। পেশায় ডাক্তার এবং লেখক। কাজ করেন ঢাকার এক স্বনামধন্য হাসপাতালে। একুশে বইমেলায় দুই অগ্রজ তানজীম রহমান, জাহিদ হোসেনের সাথে প্রকাশিত হয়েছে তারও নতুন বই। তিনজনের বই ই বেস্টসেলার। মেলায় অটোগ্রাফ দিয়েই কুল পাচ্ছেন না তারা। এরই মাঝে অগ্রজ দুজন ওয়াসি আহমেদকে জানান তার জন্য সারপ্রাইজ আছে। দামি বইয়ের লোভে মেলা শেষে তিনি বের হয়ে আসেন তানজীম রহমান আর জাহিদ হোসেনের সাথে। কিন্তু দামি বইয়ের জায়গায় তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বাউলের মাঝে সাদা একটা মাগুর। মাগুর মাছ পেয়ে হতবিহ্বল ওয়াসি আহমেদ বাউল সাথে নিয়েই ওইদিন চলে যান হাসপাতালে তার নাইট ডিউটিতে। সেখানেই নিজের আগ্রহের কাছে হেরে গিয়ে এমন একটা কাজ করে বসেন যার জন্য ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং এসবের সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি নিজেও। কি এমন করেছিলেন ওয়াসি আহমেদ আর এই মাগুর মাছেরই বা বিশেষত্ব কি জানতে হলে পড়তে হবে সিদ্দিক আহমেদের অপন্যাস “মৎস্য মারিব খাইব সুখে”।

সিদ্দিক আহমেদের নতুন বইয়ের ঘোষণা আসা মানেই পাঠকদের জন্য দারুন একটা ট্রিট। সিদ্দিক আহমেদ হিস্টোরিক্যাল ফিকশন বা মিথোলজিক্যাল ফিকশন জনরা নিয়ে কাজ করলেও এবারই মূলত প্রথম তিনি ডার্ক কমেডির সাথে হররের মিশেল ঘটিয়ে লিখেছেন “মৎস্য মারিব খাইব সুখে”। বইটার ঘোষণা আসার পর থেকেই এক্সপেকটেশন বেশিই ছিল। বই শেষ করে মনে হচ্ছে লেখক তার নিজের জনরার বাইরেও দারুন একটা কাজ করেছেন।
বইয়ের মূল চরিত্র ওয়াসি আহমেদ হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে হরর নিয়ে যেসব লেখকরা কাজ করছেন তাদেরও আনাগোনা দেখা যাবে চরিত্র হিসেবে। বিশেষ করে তানজীম রহমান, জাহিদ হোসেন এবং নসিব পঞ্চম জিহাদীকে। ভালো কথা লেখক নিজেও কিন্তু আছেন গল্পের চরিত্র হিসেবে।
“মৎস্য মারিব খাইব সুখে” বইটা সুখপাঠ্য। সিদ্দিক আহমেদের অন্যান্য লেখার মতো এটাও গতিশীল। বইটা বিশেষ করে বেশি ভালো লেগেছে সিরিয়াস মোমেন্টে হিউমারের ব্যবহারের জন্য। আর যাদের দিয়ে এসব কাজ করিয়েছেন লেখক (বিশেষ করে জাহিদ হোসেন এবং নসিব পঞ্চম জিহাদী) জানি না তাদের সাথে ভবিষ্যতে কোনোদিন দেখা হলে একই ভাবে তাকাতে পারবো নাকি। আর যারা সিদ্দিক আহমেদের মিথোলজিক্যাল ফিকশনের ফ্যান বইটা তাদেরও হতাশ করবে না। কেননা গল্পের হরর এনটিটিকে নিয়েও রয়েছে তার মিথলজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ডের পরিমিত আলোচনা।
আরাফাত করিমের করা প্রচ্ছদটা সেরা লেগেছে, গল্পের সাথে একদম মানানসই। আর আফসার ব্রাদার্সের অন্যতম সেরা প্রোডাকশন দিয়েছে বইটায়। যারা উইশলিস্টে বইটা রেখেছেন পড়ে ফেলতে পারেন।
আশা করি লেখকের এই জনরায় এটাই শেষ কাজ হবে না। তার কাছ থেকে এই জনরায় আরও কাজ চাই।
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
274 reviews16 followers
January 5, 2026
'যেমন খুশি তেমন সাজো' প্রতিযোগিতার নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। বাংলাদেশী হলে অবশ্যই শুনেছেন। কেনো প্রতিযোগিতাটাকে টেনে নিয়ে আসলাম? কারণ, এই বই পড়ার পরে আমার লেখকদের নিয়ে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করার ইচ্ছে হয়েছে। প্রতিযোগিতার নাম দিবো 'যেমন খুশি তেমন লিখো'।

'যেমন খুশি তেমন সাজো'-তে তারপরেও ভালোকিছু দেখা যায়। এই বইয়ে ভালো আছেটা কি, সেইটা বুঝার চেষ্টা এখনও চলছে। তবে, হাজার চেষ্টা করেও বইয়ের ভেতর থেকে কিছু পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। ভালো দিক শুধু ঐ প্রচ্ছদটাই। হ্যাঁ, বলছি, সিদ্দিক আহমেদের লেখা বই 'মৎস্য মারিব খাইব সুখে' বইয়ের কথা। অবশ্য বইয়ের নাম এইটার বদলে যদি 'গাঁজা টানবো লিখবো সুখে' হতো তবে বেশি স্যুট করতো। আমিও খুশি হতাম।

বইটার চরিত্রগুলার কথা বলতে গেলেও বিরক্তি আসে। এখনকার প্রায় প্রত্যেকটা রাইটারকে ছুঁয়ে আসার একটা চেষ্টা দেখিয়েছেন সিদ্দিক ভাই। ট্রিবিউট ভালো, তবে এহেন লেইমভাবে ট্রিবিউট দিয়ে বারোটা বাজানোর কোনো দরকার ছিলো বলে মনে হয় না। না আছে চরিত্রগুলার কোনো গভীরতা, না আছে প্রয়োজন। হুদাই যে যা পারছে এসে করছে।

কাহিনীর কথা আসলে বলার মতো রুচি নাই। কেকা আপাও এহেন অদ্ভুত চিন্তা করতে লজ্জা পেতেন হয়তো। একখানা মাগুর মাছ নাও, বিশ গ্রাম গাঁজার সংস্পর্শে আনো। ব্যাস, 'দাগন' রেডি। এবার লেখকগণ মিলে এ্যাভেঞ্জার্স টিম হয়ে যাও। তারপর 'দাগন'-কে হিসু দিয়ে প্রতিরোধ করো। এতো উচ্চমানের প্লট মাথায় আসে কিভাবে ভাই!

এবার আসি ডায়লগে। মনে করেন, ফেসবুকে যতোসব রিলস ভাইরাল হয়েছে তাদের থার্ড ক্লাস ডায়লগগুলা এক জায়গায় করে বইয়ে চালিয়ে দিন। ব্যাস! কাজ শেষ। জ্বি, হ্যাঁ। এই বইয়ে তাই-ই করা হয়েছে।
ইন্টেন্স সিচ্যুয়েশনে যেসব ডায়লগ আপনি পাবেন, তাতে বিরক্তি যে কোন উচ্চতায় যাবে সেটা না পড়লে বুঝবেন না। বারবার আজাইরা কৌতুক করার চেষ্টাতে হাসি তো আসেইনি বরং বিরক্ত হয়েছি বেশি।

বইয়ের ভালো দিক বলতে শুধু প্রচ্ছদটা। বাহারি প্রচ্ছদ বাদ দিয়ে কিচ্ছু নাই পুরা বইয়ে।

সবমিলিয়ে, কোনো পরিকল্পনা, কোনো শক্ত কাঠামো, কোনো সাহিত্যিক দায়বদ্ধতার বিন্দুমাত্র নাই। যারা গোছানো প্লট, মিনিংফুল ফ্যান্টাসি, কোয়ালিটিফুল ক্রিয়েচার হরর টাইপ কিছু আশা করছেন তারা স্কিপ করেন। আর যাদের হাতে অফুরন্ত সময় তারা পড়ে দেখতে পারেন। কিছু হোক বা না হোক, ধৈর্যের একখান পরীক্ষা হয়ে যাবে।

গেলাম!
Profile Image for নাঈম ইসলাম.
114 reviews5 followers
January 3, 2026
মৎস্য মা��িব খাইবো সুখে, বইটি হচ্ছে একটা অতিপ্রাকৃত এবং স্যাটায়ারের মিশেল বই
গল্পের নায়ক লেখক Wasee Ahmed ভাই তাছাড়া আমাদের দেশের নামকরা আরো তিনজন লেখকেও মূল চরিত্রে দেখা গেছে এই বইটা তে তারা হলেন নসিব পঞ্চম জিহাদী,জাহিদ হোসেন, এবং তানজীম রহমাম।

গল্পের শুরু ওয়াসী আহমেদ কে মাগুর মাছ উপহার দিয়ে যা
দেয় তানজীম এবং জাহিদ ভাই, এবং এই মাগুর মাছ কে কেন্দ্র করেই মূল গল্প এগিয়েছে, তবে আপনারা যারা দশগ্রীব, ধনুর্ধর,নটরাজ পড়েছেন,তারা জানেন Siddiq Ahamed ভাই মূলত এখন পর্যন্ত ইতিহাস আশ্রিত থ্রিলারই লিখে থাকেন।

এই বইটা কিন্তু তার পুরো বিপরিত সোজা কথা চিরচেনা সিদ্দিক ভাই কে আপনারা এই বইতে পাবেন না, কাজেই নটরাজ, দশগ্রীব মাথা থেকে সরিয়ে তারপর এই বই টা পড়াই মোক্ষম কাজ হবে, না হয় হতাশ হবেন।

এবং চিরচেনা সিদ্দিক ভাই কে এই বইতে না খুঁজে নতুন সিদ্দিক ভাই কে জানুন, সিদ্দিক ভাই যে শুধু গুরুগম্ভীর লেখাই লিখতে পারে না,বরং প্রয়োজনে এমন হাস্যরসাত্মক গল্প লিখতে পারে সেটা জানার জন্যে হলেও বইটা পড়েন।

১৬০ পৃষ্ঠার বই এর চাইতে বেশি বিস্তারিত আর লেখা যায় না তাহলে হয় তো পড়ার মজা টা হারিয়ে ফেলবেন,যদি হাস্যরসের সাথে অতিপ্রাকৃত ফিল চান তবে বইটা পড়তে পারেন

বই : মৎস্য মারিব খাইব সুখে

লেখা সিদ্দিক আহমেদ

প্রকাশনী Afsar Brothers
Profile Image for Taznina Zaman.
262 reviews76 followers
April 27, 2026
ভারি মজার একটা বই! অনেকদিন পরে কোন বই পড়ে এমন হাহা হিহি করে হাসতে পারলাম! 😁😁

এই বইটা হাতে নেয়ার সময় আমার মনের অবস্থা, স্বাস্থ্যের অবস্থা একটাও সুবিধার ছিল না। মাথা উদভ্রান্ত অবস্থা। একদম জিরো এক্সপেক্টেশন নিয়ে পড়তে বসেছিলাম। আল্লাহ আমাকে নিরাশ করেননি। বইটা পড়ে এত হেসেছি, এত মজা পেয়েছি যে মন থেকে সিদ্দিক ভাইয়ের জন্য দোয়া করে দিয়েছি। উনার লেখা একজন রোগীর মন ভালো করে দিয়েছে, এটা বিশাল বড় ব্যাপার।

এই বইটা আমি তখনই পড়তে বলবো যখন আপনি সিরিয়াস মুডে থাকবেন না। কিংবা আপনার আশেপাশে সব ঠিকঠাক চলছে, শান্তিতে আছেন সুখে আছেন তখনও না। যদি কখনো এমন হয়, মনের এমন অবস্থা যে না পারছেন কাঁদতে, কিংবা না পারছেন হাসতে। সেই সময়ে এই বই আপনার ভালো লাগবে, আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে।

এই চার মূর্তিকে নিয়ে আরেকটা উপন্যাস হলে মন্দ হয় না। ❤️❤️
Profile Image for Prodip Howlader.
8 reviews
December 28, 2025
গল্পের সূচনা হয় বইমেলার সেই চেনা, পরিচিত আবহ থেকে। প্রধান চরিত্র ওয়াসী আহমেদ যিনি পেশায় চিকিৎসক ও লেখক। বইমেলা শেষে সহযাত্রী লেখক তানজিম রহমান ও জাহিদ হোসেনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে সে পায় একটি সাদা মাগুর মাছ। আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ এই মাছটিই ধীরে ধীরে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। কারণ এটি কোনো সাধারণ মাছ নয়—এটি বহন করে এক অশুভ ও অদ্ভুত শক্তি, যা ইহকাল ও পরকালের মধ্যে অদৃশ্য সেতু তৈরি করতে সক্ষম। তবে সেই শক্তিকে সক্রিয় করতে প্রয়োজন গাজার রস অথবা নিখুঁতভাবে মাপা ২০ গ্রাম গাঁজা।রাতে হাসপাতাল ডিউটির কারণে ওয়াসী মাছটিকে সঙ্গে নিয়েই কর্মস্থলে যায়। নিছক কৌতূহল থেকে সে ফিশবোলের পানিতে গাঁজা মেশাতেই মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালজুড়ে নেমে আসে অস্বাভাবিক অন্ধকার। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর শুরু হয় ভয়াবহ বিভীষিকা। মাগুর মাছটি ফিশবোল থেকে অন্তর্ধান হয় এবং একে একে হাসপাতালের মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালটি পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে।চূড়ান্ত মুহূর্তে ওয়াসীর কাছের ছোট ভাই নসীব পঞ্চম জিহাদী হাসপাতালের কাচের দরজা ভেঙে ওয়াসী ও তার সহকর্মী সননকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে পানির প্রচণ্ড তোড়ে সেই রহস্যময় মাছটি হারিয়ে যায়।
কিছুদিন পর ধানমন্ডি লেকে আবার দেখা মেলে সেই অশুভ সত্তার। এবার তাকে ধ্বংস করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ওয়াসী আহমেদের সঙ্গে যুক্ত হয় নসীব পঞ্চম জিহাদি, জাহিদ হোসেন ও তানজিম রহমান। ধানমন্ডি লেকেই সংঘটিত হয় দাগনের সঙ্গে এক ভয়ংকর সংঘর্ষ, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একের পর এক অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

প্রাচীন মেসোপটেমীয় পুরাণে দাগন নামে এক ভয়ংকর সমুদ্র দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায় ;যার বাস জলের গভীর তলদেশে এবং যে ইহজগতের সীমানা পেরিয়ে মৃতদের লোকেও বিচরণ করতে পারে। দাগন ছিল এক নিষ্ঠুর অপদেবতা, যার হৃদয়ে মায়া বা দয়ার কোনো স্থান নেই। ‘মৎস্য মারিব খাইব সুখে’ উপন্যাসে সিদ্দিক আহমেদ এই দাগন চরিত্রটিকে নিজস্ব কল্পনায় নতুন রূপে নির্মাণ করেছেন।
পুরো উপন্যাস জুড়ে হরর ও হিউমারের এক চমৎকার মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়। যেখানে পাঠকের শিউরে ওঠার কথা, ঠিক সেখানেই অনিবার্যভাবে হাসির উপস্থিতি। ভয়ংকর ঘটনাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভারিক্কি করে তোলা হয়নি। বরং লেখক ভয় আর কমেডির মাঝামাঝি এক অদ্ভুত আনন্দে পাঠককে স্থির করে রাখতে চেয়েছেন। আর এখানেই তাঁর সাফল্য।
চেনা ছকের ভৌতিক উপন্যাসের গণ্ডি ভেঙে লেখক সিদ্দিক আহমেদ তাঁর স্বতন্ত্র ভঙ্গিতে গল্প বলেছেন। ফলে “মৎস্য মারিব খাইব সুখে” হয়ে উঠেছে এক ভিন্ন স্বাদের, শ্রুতিমধুর ও উপভোগ্য ডার্ক কমেডি জনরার উপন্যাস।
Profile Image for Afsan Ahmed .
55 reviews3 followers
February 7, 2026
লেখকের কথা মত এটা উপন্যাস নয় অপন্যাসই বটে।
Profile Image for Mueed Mahtab.
397 reviews
January 23, 2026
The conversations between the characters were funny and enjoyable. Sadly, that’s the only good thing about this book.

The story was very weak, the beginning was poor, the middle was boring and the ending had no impact. The only good part was the dialogue and how the characters talked to each other.

The book industry is growing but the quality seems to be falling. Seeing this book get 4–5 stars really makes me question what people are actually reading.

And before people say, “It’s about the genre”
I don’t read genres, I read books. I don’t research a genre to decide if I should like a book. If a book works, it’s good. If it doesn’t, it’s bad. It’s that simple. 2/5
Profile Image for Samsudduha Rifath.
458 reviews24 followers
January 28, 2026
মাগুর মাছের ঝোল আর এই বইয়ের প্রধান চরিত্র মাগুর। আগেরটা সাই-ফাই আর এটা পুরোদমে রম্য আর হররের মিশেল। হালকা ধাচের বইটা পড়ে মজা পেয়েছি বেশ। সিদ্দিক ভাই চার লেখককে যেভাবে তুলে ধরেছেন তাতে হাসি আসবে। ক্লাইমেক্সটা আরো দুর্দান্ত হতে পারত।
Profile Image for আশিকুর রহমান.
161 reviews28 followers
February 16, 2026
বইয়ের একমাত্র ইতিবাচক দিক দুর্দান্ত কাভারটা। নট রিকমেন্ডেড অ্যাট অল। সিদ্দিক আহমেদের হিস্টোরিকাল ফিকশন জনরায়ই মনোনিবেশ করা বেটার। হি ইজ গুড অ্যাট দ্যাট৷ নট অ্যাট দিস।
Profile Image for Rehnuma.
465 reviews24 followers
Read
January 5, 2026
❛FEAR stands for face everything and recover.❜

ভয় আমাদের আদিম এক অনুভূতি। আবার ভয়কে জয় করাও আদিম প্রবৃত্তির এক অংশ। কৌতূহলের কাছে ভয়ের পরাজয় কতবার হয়েছে তার হিসেব নেই।

মানুষের নানা আগ্রহ, শখের মাঝে অতিপ্রাকৃতের প্রতি আগ্রহ অন্যতম। তাই বলে এখন যা হবে সে একেবারে শখের দেখি কমতি নাই পর্যায়কে ছাড়িয়ে যাবে।

ওয়াসি একজন চিকিৎসক এবং লেখক। বইমেলার শেষদিনে বেশ জমজমাট অবস্থায় আছে তারা। দুই শ্রদ্ধেয়ভাজন ভাই জাহিদ এবং তানজীমও আছে মেলার স্টলে। নিজেদের বইতে স্বাক্ষর দিতে দিতে তারা হয়রান। ওয়াসিও আছে বেশ আনন্দেই। যদিও মেলার শেষে আবার হাসপাতালের ডিউটি আছে।
তো অগ্রজ ভাইদ্বয় তার জন্য সারপ্রাইজ গিফট এনেছেন। তাদের এমন উপহার মানেই বিশেষ কিছু। মনে মনে ওয়াসি খুব পুলকিত।

কিন্তু মেলা শেষে ফিশ বাউলের মধ্যে এমন সাদা মাগুর মাছ উপহার হিসেবে পেয়ে ওয়াসি বুঝছে না তার খুশি হওয়া উচিৎ নাকি বিরক্ত। মাছটা অ্যালবিনো জাতের নয়, একেবারে খাঁটি দেশী মাগুর।

গানে গানে আমরা জেনেছি, ❛গাঁ জার নৌকা পাহাড়তলী যায়..❜। তবে গাঁ জার স্বাদ যে মাগুর মাছ পর্যন্ত যাবে সেটা কে ভেবেছিল? শ্রদ্ধেয় ভাইদ্বয় বিশেষ এক পরীক্ষা করে অন্য জগতের সত্তাকে ডাকতে নাকি এই মাগুর মাছকে ২০ গ্রাম গাঁ জা গিলিয়েছে। এই জিনিস কেন তাকে উপহার হিসেবে দিতে হবে?

যাকগে উপহার নিয়ে সে ছোটে চারকোণা হাসপাতালে ডিউটিতে। হাসপাতালে ডাক্তার মানুষ এমন বাউলে সাদা মাছ নিয়ে ঢুকবেন বেশ দৃষ্টিকটু। তাই জ্যাকেট দিয়ে মাছ ঢেকে নিজের জায়গায় রেখে দিলো।

ডাক্তার সাহেব হলেও এদের সুখটানের অভ্যাস আছে। রোগীকে বারণ করলেও এরা নিজেরা আবার এসব স্বাদ নেয়। এখানেই শুরু হয় মাগুর মাছ নিয়ে কাহিনি। তানজীম ভাইয়ের কথা অনুযায়ী নিজে গাঁ জা নেবুলাইজ করার আগে বাউলের মধ্যে ঠিক ২০ গ্রাম মিলিয়ে দিয়েছিল। এরপরেই......

মিথলজিক্যাল দুনিয়ায় ❛দাগন❜ এক দেবতা কিংবা অপদেবতা। মাছের এবং সমুদ্রের সাথে সম্পর্কিত। এর সাথে আবার প্রাচীন ফি লি স্তিনীদের প্রধান দেবতার সংযোগ আছে। গাঁ জার সেই প্রভাবে মাগুর মাছ পরাজগতের সেই দাগনকে সামন করে নিয়ে আসে। চলে তাণ্ডব। নিজে না দেখলে এই বস্তু বিশ্বাস করা কঠিন। ওয়াসি যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় সেটা বিশ্বাস করানো মুশকিল।

পিতৃপ্রদত্ত প্রাণটা কোনোমতে ছোটো ভাইসম নসিবের সাহায্যে রক্ষা পেলেও অনেক রহস্য থেকে যায়।

বেঁচে ফিরে দাগন সম্পর্কে সে জানতে পারে সিদ্দিকের কাছ থেকে। তার কলিগের স্বামী এবং তিনিও একজন লেখক। মিথলজি, সুপারন্যাচারাল এবং ভৌতিক অভিজ্ঞতা শুনে দাগন সম্পর্কে যা জানে বোঝা যায় বিপদ কাটেনি।

এই বিপদ থেকে উদ্ধার ওয়াসি কীভাবে পাবে? যদিও ভাই ব্রাদার থাকলে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব। কিন্তু সামনে দিনে ভাইদের সাথে বিপদ থেকে উদ্ধারের সময় তাদের অদ্ভুত আচরণ, আর প্রায় আবার জানটা চলে যাওয়ার যে ঘটনা ঘটবে সেগুলোর ব্যাখ্যা আছে?

এসব ঘটনায় জাহিদ ভাই তো রেগেই বলে দিয়েছেন শা লা মাগুরকে কাঁচা খাইয়া ফেলবে। দেখা যাক কতজন অদ্ভুত লেখক এবং একটি মাগুরের আড়ালে দাগনের ল ড়াইতে জিতে কে!




পাঠ প্রতিক্রিয়া:


❝মৎস্য মা রিব খাইব সুখে❞ সুলেখক সিদ্দিক আহমেদের লেখা ডার্ক সুপারন্যাচারাল এবং হিউমার যুক্ত এক উপন্যাস।

সিদ্দিক আহমেদের লেখা আমার পছন্দ। মিথলজি নিয়ে লেখা বইগুলো আমার বেশ লেগেছে। লেখক এবার তার কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে কমেডি, হিউমারযুক্ত এই উপন্যাস দিয়ে পাঠকের সামনে এসেছেন।

আজকাল উপন্যাসে পরিচিত চরিত্রকে নিজের মতো উপস্থাপন বা বাস্তব চরিত্রকে উপন্যাসে ঠাঁই দিয়ে রিয়েলিস্টিক করার ব্যাপারটা বেশ হচ্ছে। লেখকও এই উপন্যাসে এই বিষয়ের আশ্রয় নিয়েছেন। এরকম পড়তে আমার খুব একটা খারাপ লাগে না। লেখকদের অন্যভাবে জানা যায়। তবে বেশ কয়েকটা বই এরকম ধারায় পড়ার কারণে হয়তো এর বহুল ব্যবহার আমার তেমন একটা পছন্দ হয় না।

যাই হোক, লেখককে একেবারে নতুনভাবে এখানে পাওয়া গেছে। মিথের সাথে তিনি হরর, কমেডি আর জটিল মুহূর্তে হাস্যরসের উপাদান ভালোই এনেছেন।
কাহিনিতে নিজেও এসে গেছেন তবে নিজেকে কিছুটা আলগাই রেখেছেন। মূল চরিত্র হিসেবে ওয়াসি আহমেদকেই ব্যবহার করেছেন।

গল্পের গতি বেশ ভালো ছিল। শুরুতে অস্বীকার করব না আমার পড়তে খুব বিরক্ত লাগছিল। মনে হচ্ছিল অযথাই ভাঁড়ামি করছে। তবে গল্প এগিয়ে যাওয়ার পর হিউমারগুলো বেশ ভালো লাগছিল। আর মূল গল্পে ঢুকে যাওয়ায় তখন পড়তে ভালো লেগেছে। গল্পের সাথে হিউমার মানিয়ে গিয়েছিল।

গাঁ জা দিয়ে মাগুর মাছকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে অতিপ্রাকৃতের সাথে এর সংযোগ জুড়ে দেয়ার ব্যাপারটা আমার দারুণ লেগেছে। দাগনকে তিনি যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন। অতিপ্রাকৃত আবহ দারুণভাবে প্রকাশ হয়েছে।

কঠিন এবং জান যায় গা এমন মুহূর্তে তানজীম, জাহিদ কিংবা নসিবের করা হাস্যরস খুবই উপভোগ্য ছিল। সিরিয়াস মুহূর্তে এমন করা লোকের অভাব আছে কি? (অদ্ভুত জিনিস নামক সিরিজের মধ্যেই তো দেখলেন দুনিয়া কোলাপ্স করছে এদিকে এক রংধনু কয় তার নাকি মাইয়া ভাল্লাগে না!)

শেষের ঘটনাগুলো খুবই অ্যাবসার্ড ছিল অস্বীকার করার জো নেই। এরকম ঘটনা কেউ ঘটাতে পারে এটা ভাবনায় আসে না। তবে উপন্যাসে সবই ঘটানো জায়েজ।

শেষটা ভালো ছিল। তবে প্রশ্ন আমারও এসেছিল হাসপাতালে ঘটা ঘটনাটা এত বড়ো হলেও এক কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা যেভাবে দিয়েছে অনেকটাই অবিশ্বাস্য। যদিও বাঙালি এক টপিক নিয়ে বেশিদিন থাকে না।

সুপারন্যাচারাল এবং কিছুটা স্যাটায়ার ভিত্তিক ঘরানায় লেখা উপন্যাসটা পড়লে আপনি লেখককে ভিন্নভাবে চিনবেন। নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে ভিন্ন লেখার প্রয়াসকে আমি সবসময়ই পছন্দ করি।



প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:


প্রচ্ছদটা বেশ সুন্দর। সাথে পুস্তানিটাও খুবই দারুণ।

প্রকাশনী হয়তো মেলার তাড়ায় ছিল অথবা তাদের অলসতায় পেয়েছিল। না হয় বইয়ের সম্পাদনা, প্রুফ রিড যেটাই বলা হোক না কেন এর এমন করুণ দশা হতো না। শব্দে সমস্যা ছিল। ই/য় এর ব্যবহারে সমস্যা ছিল। বানানেও ভুল ছিল বেশ। সুন্দর বই পড়তে গেলে সম্পাদনার ঘাটতি পাঠের অভিজ্ঞতাকে সবসময়ই ব্যাহত করে।




❛তো কথা বলবো না আর মুখে,
কারণ, মৎস্য মা রিব খাইব সুখে!❜
Profile Image for Ashik.
242 reviews49 followers
April 24, 2026
সমস্ত বই জুড়ে কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর একটা চেষ্টা করে গেছেন লেখক সাহেব। কিন্তু অতি দুক্ষের সাথে বলতে হচ্ছে, সেই প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়েছে। হাসি তো আসেনি, উল্টো বিরক্তি এসেছে। স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল ক্রিঞ্জ ডায়লগ, সস্তা ভাঁড়ামো দিয়ে ভর্তি পুরো বই। লজিক নাহয় খুঁজলাম না, ঠিকঠাক গল্পটাই হয়নি অতি ভাঁড়ামো দেখাতে গিয়ে।
Profile Image for Subrata Das.
165 reviews19 followers
January 12, 2026
হরর কমেডি হিসেবে দারুণ লেগেছে।
Profile Image for নাহিয়্যান.
47 reviews2 followers
December 30, 2025
“জনপ্রিয়তা হলো ফালতু হাওয়া দিয়ে ফোলানো বেলুন। দেখতে বড়োসড়ো, কিন্তু মোক্ষম এক খোঁচাতেই চুপসে যায়! আর যাদের এই জনপ্রিয়তার নেশা, তারা হলো সেই শিশু, যারা হাতে বেলুন পেয়ে পাঁচ মিনিট খুশি থাকে, তারপর ফাটিয়ে বা হারিয়ে ফেলে! আসল সাহিত্যিক বোঝা যায় যখন সে কালোত্তীর্ণ লেখক হয়ে তখন।”

ওয়াস�� আহমেদ পেশায় একজন ডাক্তার। বিরাট বড় নামি-দামি এক হাসপাতালে চাকরি করেন। বইমেলা শেষ করে তাকে দেখা কর‍তে বলেন দুই অগ্রজ জাহিদ হোসেন এবং তানজীম রহমান। তার জন্য নাকি একটা সারপ্রাইজ আছে। সে ভেবেছিলো দামী কোনো বই তাকে গিফট দেওয়া হবে। কিন্তু আশায় গুড়ে বালি। বইয়ের বদলে তাকে দেওয়া হলো কাঁচের বোল এ করে একটি টকটকে সাদা মাগুর মাছ। এই মাগুর মাছ দিয়ে সে ঝোল রান্না করবে নাকি ভেজে খাবে ভেবে পায় না। রেগে গিয়ে দুই অগ্রজকে কিছু বলতে যাবে তখনই সে আবার নিজেকে শান্ত করে ফেলে। কারণ সে একজন ভদ্র সমাজের লোক। আর “ভদ্র সমাজে বাস করার অনেক জ্বালা।”

সে রাতে গিফটের মাগুর মাছ নিয়েই অফিসে চলে যায় ডাঃ ওয়াসি। কিন্তু তার ধারণাতে ছিলো না যে এক কালোরাত তার জন্য অপেক্ষা করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বেঘোরে মা*রা পড়ে হাসপাতালে থাকা অনেক স্টাফ এবং রোগী। সিআইডি অফিসার দায়া'র মত দরজা ভেঙ্গে নসিব পঞ্চম যদি তাকে বাঁচাতে না আসতো সে রাতেই হয়ত ডাঃ ওয়াসি’র সানডে মানডে ক্লোজ হয়ে যেত! মিশনে নামতে হবে তাকে। যা তার মাধ্যমে শুরু হয়েছে সেটা থামাতে হবে। কিন্তু প্রতিপক্ষ কে? একা পেরে উঠবে তো সে? তার সাথে যোগ দেয় জাহিদ হোসেন, তানজীম রহমান এবং নসিব পঞ্চম জিহাদী। সবার মনে একটাই কথা: “আইজ একটা বিরাড ফাডাফাডি হইব!”

বলছিলাম সিদ্দিক আহমেদ এর লেখা “মৎস্য মারিব খাইব সুখে” বইয়ের কথা। বইয়ের ঘোষণা যেদিন দেওয়া হয় সেদিন থেকে অপেক্ষায় ছিলাম। তার কয়েকটা কারণ আছে:
১. সিদ্দিক ভাইয়ের জনরা শিফট হওয়া। নটরাজ, ধনুর্ধর, দশগ্রীব এর মত হিস্টোরিক্যাল থ্রিলার ছেড়ে তিনি সম্ভবত প্রথমবারের মত সুপারন্যাচারাল জনরার গল্প লিখেছেন।
২. তিনি আবার হিউমার যোগ করেছেন।
৩. স্বনামধন্য কয়েকজন লেখককে মেইন ক্যারেক্টর হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এই পয়েন্টগুলো আমি আপাতত ব্যাখ্যা করতে যাব না। কারণ ছোট একটা বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়াতে যদি বেশি ব্যাখ্যা চলে আসে তাহলে গল্পের মজা নষ্ট হয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা আছে।

১৬০ পেজের বই। শেষ করতে ২ দিন সময় লেগেছে। এঞ্জয়েবল ছিল। লিখনশৈলী নিয়ে কিছু বলার নেই। সিদ্দিক আহমেদের লেখায় একটা গতি আছে। বাক্য বিন্যাস, শব্দ চয়ন ছিল বেশ ভালো। হিউমার এর পরিমাণও ছিল বেশ ভালো এবং উপভোগ্য।

যে এনটিটি’'র উপর গল্প লেখা হয়েছে সেটার বর্ণনা ছিল পরিমিত। গল্পের প্রধান চরিত্র ওয়াসি আহমেদ হলেও বাকি তিনজনকেও যথেষ্ট স্ক্রিন টাইম দিয়েছেন লেখক। ভালো লেগেছে এটা। বইয়ের ব্যাক কভারে বই নিয়ে কয়েকজন লেখকের হাস্যরসাত্মক কিছু ডায়লগ যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এই স্ট্র‍্যাটেজিটা আমার কাছে ভীষণ পছন্দ হয়েছে। প্রকাশক এবং লেখকদের তারিফ কর‍তে হয়। এতে বইয়ের প্রচারণা হয় ভালো। আমি চাইব অন্যান্য প্রকাশকও এই স্টাইলটা ফলো করুক।

শেষেরদিকে এসে জাহিদ হোসেন এবং নসিব পঞ্চম কে দিয়ে এমন কাজ করিয়েছেন, যা ছিল এবসার্ডিটির চুড়ান্ত সীমা। তো এই বইয়ের জন্য উপযুক্ত জনরা হলো “এবসার্ড সুপারন্যাচারাল।”

আচ্ছা একটা কথা বলে রাখি। এ বই পড়তে গেলে আগের সিদ্দিক আহমেদকে ভুলে যেতে হবে। আগের লেখা মাথায় রেখে এই বইকে জাজ করা যাবে না। অন্তত আমার মনে হয়েছে এটা।

আর লেখকের প্রতি অনুরোধ রইল এই ধরনের বই যেন সামনে আমাদের উপহার দেন। একটা ইউনিভার্স আশা করতেই পারি।

বই : মৎস্য মারিব খাইব সুখে।
লেখক : Siddiq Ahamed
প্রকাশনা : Afsar Brothers
প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম
Profile Image for Meheran Eshan.
15 reviews
December 30, 2025
"Mystery creates Wonder and wonder is the basis of Man's desire to understand."

▶️ •|- শতাধিক উপন্যাস পড়া হয়ে থাকলেও সিদ্দিক ভাই এর পারঙ্গম হাতে অতিপ্রাকৃত (supernatural), পরাবাস্তববাস (surrealism), ডার্ক কমেডি, ফ্যান্টাসি এবং সাসপেন্স এর সংমিশ্রণে রচিত "মৎস্য মারিব খাইব সুখে" এর মাধ্যমে আমার "অপন্যাস" এবং সিদ্দিক ভাইয়ের লেখা যুগপৎ পড়ার যাত্রার সূচনা ঘটে -|•

▶️ • সারসংক্ষেপ :-

"Fearness is a concept that exists in the mind of man, but nature does not recognize it."

ওয়াসি আহমেদ, পেশায় একজন চিকিৎসক এবং লেখক। জাহিদ হোসেন এবং তানজীম রহমান তার শ্রদ্ধাভাজন দুই কাছের বড় ভাই। লেখালেখির সুবাদে তাদের পরিচিয় এবং সম্পর্কে সুহৃদ। একুশে বই মেলার শেষদিন তারা সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য তানজীম আহমেদ গুরু-গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ এবং কালে-ভদ্রে দেখা দেন। অপরদিকে জাহিদ হোসেনের আবাসন সুদূর সিলেট। তাই সচরাচর তাদের সাক্ষাৎ হয়ে ওঠে না। যখনই দেখা হয়, তারা লেখক ওয়াসি আহমেদ কে সওগাত করেন। অনুরূপ মেলার শেষদিনের সাক্ষাতেও তারা ওয়াসি আহমেদ কে ভিন্নধর্মী উপহার দিয়ে চমক দেন।

"পানি ভর্তি বাউলের মাঝে শ্বেত বর্ণের একখানা মাগুর"। অ্যালবিনো জাতের না, দেশি মাগুর। এই মাগুরকে অন্য জগতের কোন সত্তাকে তলব করার জন্য মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো বলে এটি কৃষ্ণ বর্ণ থেকে শ্বেত বর্ণ ধারণ করে। বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন এই সফেদ মাগুরের অন্য জগতের সত্তা তলব করার বিশেষ পদ্ধতি পাঠকের চিত্তকে হতবিহ্বল করতে সক্ষম।

বীতশ্রদ্ধ হয়ে বাউল সহ মাগুরকে নিয়ে ওয়াসি আহমেদ মেলা থেকে সরাসরি হাসপাতালে চলে আসেন নাইট ডিউটিতে এবং সেখানে নিজের অবিমৃষ্যকারিতার কারণে গ্যাড়াকলের পতিত হন। যার ফল স্বরূপ তানজীম ভাই এবং জাহিদ ভাইয়ের দেওয়া সফেদ মাগুর "দাগন" হয়ে পশ্চাদ্ধাবন করে ওয়াসি আহমেদ কে।

▶️ •কে এই দাগন?

"There are more things in heaven and earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy."

মেসোপটোমিয়ান পুরাণ এর এক প্রাচীন সমুদ্রদেবতা, যার অস্তিত্ব জলের গভীরে, যে ইহজগতের গণ্ডি পেরিয়ে মৃতদের জগতে বিচরণ করে। "দাগন (Dagon)"। খুবই নৃশংস অপদেবতা, যে কাউকে কোন রকম রহম দেখায় না।

বাইবেলে দাগন-কে ফিলিস্তিনী (Philistine) এবং উত্তর-পশ্চিম সেমিটিক জাতিগোষ্ঠীর প্রধান বা শীর্ষস্থানীয় দেবতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যার শরীরের উপরিভাগ মানুষের মতো এবং নিচের অংশ মাছের লেজের মতো।

▶️ • কি তার রূপ? • মাগুর " দাগন" এর রূপ ধারণ করে কীভাবে? • শেষমেশ এই নৃশংস " দাগন" এর হাত থেকে কি ওয়াসি আহমেদ এর নিস্তার মেলে? • দাগন-যুদ্ধের নিষ্পত্তি আদোও কি সম্ভব? • তানজীম রহমান এবং জাহিদ হোসেন এই অভিযাত্রায় কেমন ভূমিকা রাখেন? - জানতে হলে পড়ুন, বাংলাদেশের "ড্যান ব্রাউন" খ্যাত সিদ্দিক আহমেদ এর প্রথম অপন্যাস "মৎস্য মারিব খাইব সুখে"।

আপাতত ‘Hasta la vista’ ... ... ...

............................................................
◾বই : মৎস্য মারিব খাইব সুখে।
◾লেখক : Siddiq Ahamed
◾জনরা : কসমিক হরর - স্যাটায়ার হরর।
◾প্রকাশনী : Afsar Brothers
◾প্রচ্ছদ : আরাফাত করিম
◾প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর, ২০২৫
◾পৃষ্ঠা : ১৬০
◾মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০৳
◾পার্সোনাল রেটিং : ⭐⭐⭐⭐.৫/৫
..............................................................
2 reviews
May 6, 2026
‘মৎস্য মারিব খাইব সুখে’। শুনে যে কেউ শুরুতে বিভ্রান্ত হতে পারেন। মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে, এটি হয়তো শৌখিন মৎস্যশিকারিদের কোনো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার ঝুলি। এমনকি প্রচ্ছদ দেখে বা বই এর জনারা জানা থাকলে কেউ কেউ আন্দাজ করতে পারেন—মাছ ধরতে গিয়ে হয়তো কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার গল্প এটি। কিন্তু এখানেই লেখক সিদ্দিক আহমেদ পাঠককে প্রথম ধাক্কাটি দেন।

গল্পের শুরুতেই আমরা পাই এক সমৃদ্ধ ও নাটকীয় প্রস্তাবনা। আমাদের অতি পরিচিত অমর একুশে বইমেলা, সুপরিচিত লেখক, প্রকাশক প্রশাসনীক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সরব উপস্থিতিতে লেখক এক অদ্ভুত মায়াজাল বুনেছেন। বইয়ের পেছনের মলাটে চোখ বোলালেই দেখা যায় একগুচ্ছ চেনা নাম—যারা এই বই এর গল্প প্রবাহের মাঝে তাদের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া কাল্পনিক(!) সব ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সোচ্চার হয়েছেন! সমকালীন এই প্রতিটি চরিত্রকে রসের মায়ায় মাখিয়ে লেখক অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, এমনকি বাদ দেননি নিজেকেও। লেখকের এই চমৎকার রসবোধ আমাকে শুরুতেই এক ভিন্ন মাত্রার বিনোদন দিয়েছে। লেখকদের এই ব্যতিক্রমী উপস্থাপন এবং তাদের বইয়ের নামের মজার ব্যবহার একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ ভৌতিক গল্পের আগে ‘মুড রিলিফ’ হিসেবে দারুণ কাজ করেছে।

একজন দক্ষ রাঁধুনি যেমন মাছের পিসগুলোকে অল্প আঁচে ভেজে মচমচে করে পরিবেশন করেন, লেখক ঠিক সেভাবেই ধাপে ধাপে রহস্য আর অলৌকিকতা পাঠকদের সামনে হাজির করেছেন। গল্পের মূল চরিত্র অনেক হলেও, প্রধান প্রোটাগনিস্ট হিসেবে তিনি যাকে বেছে নিয়েছেন, তার চারপাশের ভৌতিকতা সেই লেখকের নিজেরই সৃষ্�� গল্পের চরিত্রের মাধ্যমে আবর্তিত হয়েছে। এই যে বাস্তব আর কল্পনার এক অদ্ভুত মিশেল—তার পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত সাবলীল।

গল্পের আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো এর প্রেক্ষাপট। আমাদের অতি চেনা ঢাকার রাস্তাঘাট আর পরিচিত স্থানগুলোর মাঝেই হঠাৎ করে এক অলৌকিক জগতের উত্থান ঘটে, যা পাঠক হিসেবে নিজেকে গল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সহজ করে দেয়। সাধারণত ভৌতিক গল্প মানেই আমরা অমাবস্যার অন্ধকার খুঁজি, কিন্তু সিদ্দিক আহমেদ এখানে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, ভরা পূর্ণিমার আলোতেও তিনি তৈরি করেছেন হাড়হিম করা আতঙ্ক। বইটির ভাষা অত্যন্ত সহজবোধ্য হওয়া সত্ত্বেও এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য। পড়তে পড়তে মন বলে উঠে"আইজকা বিরাট একটা ফাডাফাডি হইব!"

ব্যস্ততার কারণে আমাকে দুই বসায় বইটি শেষ করতে হয়েছে, তবে এটি এমন এক টানটান উত্তেজনার বই যা এক বসাতেই শেষ করে ফেলা সম্ভব। বিষয়বস্তুর পাশাপাশি বইটির প্রকাশন কোয়ালিটিও খুব ভালো। চমৎকার প্রচ্ছদ ডিজাইন, উন্নত কাগজের মান, মজবুত বাইন্ডিং এবং মলাটের টেক্সচার ও ল্যামিনেশন, এই সব মিলিয়ে এটি একটি সংগ্রহে রাখার মতো বই। আফসার ব্রাদার্স সাম্প্রতিক সময়ে বই এর কোয়ালিটি ও প্রেজেন্টেশন খুবই আকর্ষনীক করছে। এই জন্য সাধুবাদ জানাই । যারা গতানুগতিক থ্রিলারের বাইরে গিয়ে একটু ভিন্ন স্বাদের অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতার খোঁজে আছেন, তারা নির্দ্বিধায় সংগ্রহ করে পড়ে নিতে পারেন ‘মৎস্য মারিব খাইব সুখে’।
Profile Image for Mridul.
4 reviews
February 28, 2026
সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছু না
Profile Image for Sajol Ahmed.
60 reviews2 followers
April 21, 2026
না পেলাম গল্প, না হরর, না কমেডি! হিউমার তো মেলা পরের বিষয়।
সস্তা ভাঁড়ামো ছাড়া আর কিছুই না।
Profile Image for Shahed Zaman.
Author 27 books257 followers
April 21, 2026
এক বসাতেই পড়ে শেষ করলাম। ছোট বই তবে মজা পেয়েছি। একটা ব্যাপার বুঝেছি যে সবার কাপ অফ টি এই বই হবে না। নিজে উইয়ার্ড ফ্যান্টাসি, অ্যাবসার্ডিটি এবং হররের ভক্ত বলেই আমার দারুন লাগল।
Profile Image for Asif Khan Ullash.
150 reviews12 followers
January 3, 2026
প্রচন্ড ফান রিড।
শীতের সকালে কম্বলমুড়ি দিয়ে, কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে পড়ার জন্য এক্কেবারে যথাযথ।

পুনশ্চঃ বইয়ের ভেতরের মালের সাথে প্রচ্ছদের গুরুত্বও এই বইয়ের কারণে বোঝা গেল। একই লেখকের "ধনুর্ধর" শেলফে পরে আছে কয়েক বছর ধরেই। পড়ব, পড়ব করেও পড়া হচ্ছে না। আর এই বইটা কেনার কদিনের মধ্যেই পড়ে ফেললাম, চমৎকার প্রচ্ছদটার জন্যই। পোস্টার বানিয়ে দেয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখার মত একটা প্রচ্ছদ। সেরা!
Displaying 1 - 23 of 23 reviews