বিভীষিকাময় অতীত থেকে পালিয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে ইদির জলিল। আবেদন করেছে নাগরিকত্ব পাওয়ার। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাকে মুখোমুখি হতে হবে এক মনোবৈজ্ঞানিক সমীক্ষণ-সাইকোলজিক্যাল টেস্ট-এর। মাত্র পঁচিশটা প্রশ্ন। পাস করলেই পেয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণ-নিশ্চিত নাগরিকত্ব। ফেল করলে পরবর্তী ফ্লাইটেই তল্পিতল্পা সহ ফেরত পাঠানো হবে নিজ দেশে। আর এই টেস্টেই ইদির মুখোমুখি হলো এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের। সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলো সে। তার স্ত্রী আর পুত্রের দিকে অস্ত্র তাক করে রেখেছে আতঙ্কবাদীরা। যে কোনো একজনের জীবন বেছে নিতে হবে ইদিরকে। কে হবে সন্ত্রাসের বলি? কী হবে ইদির জলিলের পরিণতি?
Sylvain Neuvel dropped out of high school at age 15. Along the way, he has been a journalist, worked in soil decontamination, sold ice cream in California, and peddled furniture across Canada. He received a Ph.D. in linguistics from the University of Chicago. He taught linguistics in India, and worked as a software engineer in Montreal. He is also a certified translator, though he wishes he were an astronaut. He likes to tinker, dabbles in robotics and is somewhat obsessed with Halloween. He absolutely loves toys; his girlfriend would have him believe that he has too many, so he writes about aliens and giant robots as a blatant excuse to build action figures (for his son, of course).
ধরুন আপনার সামনে আপনার স্ত্রীকে হ*ত্যা করা হয়েছে। তার শরীর র*ক্তে ভেসে যাচ্ছে আর আপনি প্রশ্ন-উত্তর পর্ব খেলছেন। "কোন প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল ক্লাবের ডাক নাম 'দ্য গানার্স'?"
এবং আপনি টের পাচ্ছেন সব কিছু গোলক ধাঁধার মতো। এই টেস্ট থেকে আপনি বের হতে চাচ্ছেন, আপনার জন্য একের পর এক খু*ন হচ্ছে। অথচ আপনি খু*নগুলো করছেন না, করতে দিচ্ছেন না৷ কিছুক্ষণ পর আপনি দেখলেন আপনার স্ত্রী বেঁচে আছে। তাহলে এতক্ষণ কী চলছিলো!
বলছিলাম সিলভে ন্যুভেল এর "দ্য টেস্ট" বইয়ের কথা। বইটির শুরু হয় ইদির জলিলের নাগরিকত্ব পাওয়ার পরীক্ষায় বসা নিয়ে। যেখানে তাকে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পরীক্ষায় পাস করতে হবে। সাধারণ মানুষদের মতোই তিনি পরীক্ষা দিতে বসেন৷ এরপর হুট করে কতগুলো সন্ত্রাসী কেন্দ্রে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে রাখে। ইদিরকে বলা হয় ১৫ মিনিট পর পর দলনেতা খু*ন করবে, যাকে খু*ন করা হবে সেই মানুষটা ইদির না হলেও ইদিরকেই নির্বাচন করতে হবে। ডেন্টিস্ট ইদির ভয়াবহ বিপদে পড়ে যায়৷ কাকে রেখে কাকে বাঁচাবে সে! তার ভুলের জন্য তিদির এবং বাচ্চারাও বিপদে পড়ে যাচ্ছে। শেষমেষ প্রিয় স্ত্রী তিদির ম*রেও যায়৷ গল্পের এখানেই শেষ? না, মোটেও নয়৷ তিদির বেঁচে যায়। তার শরীরে কোনো আঘাত নেই। পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বাইরে যেমন ছিলো তেমনই বসে আছে। অথচ সে ইদিরের চোখের সামনেই র*ক্তে ভেসে গিয়েছে এবং ইদির তখন পাগলের মতো সন্ত্রাসীদের হামলা করতে গিয়ে নিজেও মৃ*ত্যুর মুখে! কীভাবে এসব সম্ভব হয়েছে তার উত্তর খুঁজতে এবং নাগরিকত্বের এই অদ্ভুত টেস্ট সম্পর্কে জানতে পড়তে হবে "দ্য টেস্ট" বইটি।
বইয়ের প্রচ্ছদেই অনেক প্রশ্নের সমাধান রয়েছে, তবে সেটা বই শেষ করার পরই আপনারা বুঝতে পারবেন। এক বসায় পড়ে ফেলার মতো বই। টুইস্ট আর টুইস্টে ভরপুর বইটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। যদিও কয়েক জায়গায় প্রুফের সমস্যা পেয়েছি, পড়তে চোখে লাগছিলো। সে কষ্ট কমিয়ে দিয়েছে খালেদ নকীবের সাবলীল অনুবাদ৷ ছোটোখাটো পরিসরে ইরান থেকে লন্ডনে চলে আসা ইদির আর তিদিরের পরিবারের এই যাত্রা পাঠকের জন্য দুশ্চিন্তার হলেও বেশ উপভোগ্য। ইদির জলিলের এই যাত্রায় আপনাকে স্বাগতম।
বই: দ্য টেস্ট লেখক: সিলভে ন্যুভেল অনুবাদ: খালেদ নকীব প্রকাশনী: ঋদ্ধ প্রকাশ মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২ টি
বইয়ের নাম : দ্য টেস্ট লেখক : সিলভে ন্যুভেল অনুবাদক : খালেদ নকীব প্রকাশনী : ঋদ্ধ প্রকাশ : নভেম্বর ২০২৫ রেটিং : ২.৯/৫
ফ্রম 'ব্লার্ব': বিভীষিকাময় অতীত থেকে পালিয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়েছে ইদির জলিল। আবেদন করেছে নাগরিকত্ব পাওয়ার। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য তাকে মুখোমুখি হতে হবে এক মনোবৈজ্ঞানিক সমীক্ষণ-সাইকোলজিক্যাল টেস্ট-এর। মাত্র পঁচিশটা প্রশ্ন। পাস করলেই পেয়ে যাবে কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণ-নিশ্চিত নাগরিকত্ব। ফেল করলে পরবর্তী ফ্লাইটেই তল্পিতল্পা সহ ফেরত পাঠানো হবে নিজ দেশে। আর এই টেস্টেই ইদির মুখোমুখি হলো এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের। সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলো সে। তার স্ত্রী আর পুত্রের দিকে অস্ত্র তাক করে রেখেছে আতঙ্কবাদীরা। যে কোনো একজনের জীবন বেছে নিতে হবে ইদিরকে। কে হবে সন্ত্রাসের বলি? কী হবে ইদির জলিলের পরিণতি
লেখনী: অন্তত প্রথমার্ধ পর্যন্ত ২-৩টা ভালো মানের টুইস্ট ছাড়া কাহিনীতে ধরে রাখার মতো কোনো উপাদান পাইনি।এক প্রকার জোর করেই আগাতে হইছে।কী কী যে লেখা আছে মাথার উপর দিয়ে গেছে
শেষের দিকের কাহিনীটুকু ভাল্লাগছে;মেইনলি সাসপেন্স এর কারণে।
Overall,২টা প্লট টুইস্ট আর শেষের অংশের জন্যই কাহিনী নিয়ে বিরক্তি কিছুটা কমছে।ইউনিক প্লট উপভোগ করতে চাইলে পড়া যায়(উচিত না),না হলে...
অনুবাদ: অনুবাদ বইগুলোতে অপরিচিত অনেকশব্দ থাকে।এই বইতেও কিছু পাইছি।অনুবাদক সবগুলোরই ধারণা দিয়েছেন।বিষয়টা ভালোই লাগে।
উনার অনুবাদ প্রথম পড়লাম।ভালো ছিলো।কিছু শব্দের ব্যবহার মানানসই মনে হয়নি এই আরকি!
বানান: টাইপিং মিসটেক যা একটু ছিলো লাস্ট ১৫-২০ পেজে কয়েকটা ছিলো।তাছাড়া পুরো বইয়ে পাইনি
প্রোডাকশন ও প্রচ্ছদ: প্রোডাকশন এ বিল্ড কোয়ালিটি ঠিকঠাক তবে বাইন্ডিং কিছুটা ইলাস্টিক টাইপ।
“একমাত্র অপরাধী ছাড়া সবারই অবচেতনভাবে আইন প্রয়োগকারী অফিসারদের প্রতি এক ধরনের ইতিবাচক পক্ষপাতিত্ব দেখা যায়।”
আসলেই কি তাই? আমাদের দেশে দেখা যায় ঠিক তার উল্টোটা। এর কারণ হয়তো আইনপ্রয়োগকারীরা নিজেরাই অপরাধী। কে জানে! আমরা অনেকসময় হাহাকার করে বলে উঠি “মানব মন বড়ই অদ্ভুত”। সেই অদ্ভুত মানব মনের খানিকটা আলোকপাত হয়েছে “দ্য টেস্ট” নভেলাটিতে। মাত্র ৯২ পৃষ্ঠার এই গল্পটির প্রধান চরিত্র ইদির, ইরানিয়ান ডেন্টিস্ট, সঙ্গত কারণে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে এসেছেন। গল্পের শুরুটা হয় যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়ার পরীক্ষা দিয়ে। ২৫ টা প্রশ্ন, ৪৫ মিনিট সময়। কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই আবির্ভাব হয় একদল টেরোরিস্টের। যারা ইদির ও তার পরিবারসহ পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা সকলকে জিম্মি করে। একে একে খুন হতে থাকে মানুষজন, আর ইদির পরোক্ষভাবে দায়ী হতে থাকে। কিভাবে? জানতে হলে পড়তে হবে পুরো গল্পটা। শুধু এখানেই শেষ না, গল্পের একটা বড় টুইস্ট আছে, বাস্তবতা নিয়ে ধাক্কা দেওয়ার মতো টুইস্ট।
কেমন লেগেছে বইটা? Well, নভেলা হিসেবে ভালো, অল্প কথায় লেখক সিলভে ন্যুভেল দারুণ কিছু ব্যাপার তুলে ধরেছেন। মানুষের সাইকোলজি নিয়ে বেশ দারুণ কিছু জানা যায়। কোনঠাসা হয়ে গেলে যে মানুষ অভাবনীয় অকল্পনীয় কাজ করতে পারে সেটাই চমৎকারভাবে দিতে উঠেছে। কয়েকটা সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার নিয়ে আমি একমত না হলেও গল্প হিসেবে বইটা বেশ উপভোগ্য ছিল। আর সিমুলেশনের ধারণটা একেবারে নতুন না হলেও উপস্থাপনা ভালো ছিল। অনুকরণ মনে হয়নি। তবে Khaled Nakib ভাইয়ের ঝরঝরে অনুবাদকে সামান্য তেতো করে তুলেছে বানান ভুলের ব্যাপারটা। না, গ্রহণযোগ্য মাত্রার ভিতরেই ছিল। তবে শুরুতেই একটা হোঁচট খেয়েছিলাম কিনা তাই আ-কারের অনুপস্থিতি কিংবা double spacing চোখে পড়েছে বেশি। সেটা আমার মত খুঁতখুঁতে মানুষের চোখেই পড়বে। আপনি নির্দ্বিধায় উপভোগ করতে পারবেন।
প্রচ্ছদটা দারুণ হয়েছে। গল্পের সাথে মানানসই। একটা লাল রঙা কলম, একা বসে থাকা হতাশ একজন ব্যক্তি আর কিছু গুলি খাওয়া দেওয়ালের ছিদ্র। জাওয়াদ উল আলম মানানসই একটা প্রচ্ছদ করেছেন।
ছোট বই, পড়তে সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা। বছরের প্রথম পড়া হলো, সামনে ঋদ্ধ প্রকাশ Wriddho Prokashএর আরও বই পড়ব। আমার বিস্তারিত আলোচনা ভিডিওতে করার স্বভাব। সে ধারা বজায় থাকবে (The Brown Storyteller এ), সাথে আমার audience এর যারা long format এর ভিডিও দেখেন না তাদের জন্যই লেখা রিভিউ শুরু করলাম। Happy Reading