#পাঠ_অনুভূতি
বইয়ের নাম: একটি শাড়ি ও কামরাঙ্গা বোমা
লেখক: ওবায়েদ হক
প্রকাশক: অরণ্যমন প্রকাশনী
যখন ছোট ছিলাম চাচা চৌধুরী পড়তাম, বিল্লু পড়তাম, সঙ্গে নন্টে ফন্টে, হাদা ভোদা। একটু বড় হয়ে ফ্যান্টম! ভাবতাম বুঝি সব গল্পরা এরকমই হয়,ছবি সহ। সাদা কাগজে ছাপা গল্প প্রথম পড়ি হয়তো স্কুলের প্রাইজ জিতে, মজার গল্পের বই ছিল সেটা। পরের বছর পুরস্কার পেলাম তথাকথিত "কিশোর সাহিত্য"। তখন ভেবেছিলাম হাসি, মজা আর এই এডভেঞ্চার এই হলো "গল্প"। বড় হলাম, বইয়ের তাক হলো, সিলেবাসেও গল্প এলো, সামাজিক, দুঃখের। শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সুনীল, শীর্ষেন্দু কত কত নাম শিখলাম। বুঝলাম এরকমও গল্পও হয়। জানতাম না। আর একটু বড় হলাম, হাতে এল ফেলুদা, শঙ্কু, অনুবাদে এল শার্লক হোমস, ড্রাকুলা আর কত শত। এরপর আর একটু পাকলাম, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বই নিয়ে আলোচনা হতো, ভেসে আসতো জর ফিকশন, সায়েন্স ফিক্সন, স্পেকুলেটিভ ফিকশন, জিও পলিটিক্যাল থ্রিলার আরো কত দাঁত ভাঙা নাম। এইভাবেই কোন একদিন হয়তো এই আজব নামের বইটা নজরে এসেছিল, একটু হেসেছিলাম, "এ আবার কি রকম নাম?" এই লেখার জনরা কী? সামাজিক, থ্রিলার, ভুত প্রেত, টল টেল নাকি....
দুরুদুরু বুকে কিনেই ফেললাম আর কিছুক্ষন আগে পড়ে শেষও করে ফেললাম।
না! কোন জরে জর্জরিত আমি জানি না। এই বই শুধুই গল্পের। নিটোল গল্প যাকে বলে। লেখক দক্ষ জাদুকরের মতো শুধু সহজ সরল কিছু শব্দ নিয়ে খেলে গেছেন। মানুষ কেটে দুভাগ করে দেবার মত কেরামতি দেখানো জাদু নয়, এক্কেবারে এক নিমিষে পয়সা ভ্যানিশ করার মতো "ম্যাজিক"। তবু নিজেকে বিজ্ঞ ভাবা "পাঠক" পাঁচ বছরের বাচ্চার মতো খিলখিল করে হেসে হাততালি দিয়ে উঠবে।
নিজের ভাষাজ্ঞান জাহিরের দায় নেই এই বইতে লেখকের। ক্লাস ফোরের বাচ্চার মতোই সহজ, সরল সে লেখনী। বাংলা ক্লাসে হঠাৎ করে লিখতে দেওয়া "আমি বড় হয়ে কি হতে চাই" রচনার মতোই স্বতস্ফূর্ত!
সেলাম লেখক আপনাকে। আমার হৃদয়ে আর ঘরের ছোট লাইব্রেরিতে আপনার জায়গা আজ থেকে পাকা হলো।