সুবোধ সরকার যে কবিতা লিখে এলেন গত পঞ্চাশ বছর ধরে তা বিশেষজ্ঞদের মতে যতই ‘প্রতি-কবিতা’ হোক, সন্ধ্যা নামার আগে তাকে কবিতাই বলতে হবে। যে ইতিহাস মুছে চলেছে ক্ষমতা, তা কি হোয়াইটওয়াশ করলেই মুছে যাবে? জেনোসাইডের ভূমির ওপর গোলাপ লাগালেই কি মা তাঁর নিহত ছেলেকে ভুলে যেতে পারেন? একমাত্র কবিতাই পারে সভ্যতার শেষ সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রশ্ন করে যেতে। এই বইতেই রয়েছে অবচেতনের কবিতা। সুবোধ সরকারের কবিতা মানে সাম্প্রতিক অগ্নিকুণ্ড, আবার সুবোধ সরকারের কবিতা মানে ভলক্যানোর স্তব্ধতা। দিন প্রতিদিন থেকে উঠে আসা আগুন কখনও কখনও লেলিহান হয়ে ওঠে অবচেতনের ঝড়ে ও মর্মরে। এই নতুন লেখা কবিতা গ্রন্থে কবি খুঁজে চলেছেন হোয়াইটওয়াশের নীচে চাপা পড়া মানুষের চোখের জল । কেননা চোখের জলেই লেখা থাকে দুঃখের খাজুরাহ আর সৌন্দর্যের শ্রাবস্তী।
সুবোধ সরকার-এর জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৮, কৃষ্ণনগরে। শরণার্থী পরিবারের ছেলে। বাবা মারা যান যখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, পড়ান সিটি কলেজে। কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইস্তানবুল। স্ত্রী প্রয়াত কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ‘ভাষানগর’ পত্রিকা। সম্পাদনা: দিল্লির সাহিত্য অকাদেমির ইংরেজি জার্নাল ‘ইন্ডিয়ান লিটরেচার।’ পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১৩), বিনোদনশক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার এবং বাংলা আকাদেমির পুরস্কার। এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় পুরস্কার এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট। ২০১৬তে ফুল ব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এবং ৩৩টি দেশের কবি লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে অংশ নিয়েছেন। পুত্র রোরোকে নিয়ে কলকাতার সিরিটিতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির তিনি প্রথম সভাপতি।