নিষ্প্রদীপ অন্ধকারের কল্লোল ছিঁড়েখুঁড়ে কেউ উচ্চারণ করতে চাইছেন নিজেরই বিমূঢ় কণ্ঠস্বর। যে স্বরমালা ঢেকে রাখতে চেয়েছে অমেরুদণ্ডী ক্ষমতাচক্রের কুটিল কালগ্রন্থি। রক্ষী-পুরুষ। সময়ের রক্তদীপ হাতড়ে হাতড়ে তাদের সক্রিয় হতে হয় অসম্ভব বাধ্যতামূলক আত্মনিবেদনে। রক্তলালা, গুঁড়ো করোটি আর অশ্রুর অবিনাশী চুম্বনে জলের মতো ঘুরে ঘুরে আবর্তিত রক্ষী-পুরুষের জীবনবৃত্ত। ক্ষমতাচক্রের আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া নীল আর্তনাদ আর অসহায়ত্ব খেলা করে তাদের শীতার্ত শরীরে। মামুন হুসাইন রক্ষী-পুরুষ বিসম্বাদ: একটি ভয়ার্ত-মিথ্যার ক্ষমতা সম্পর্কিত গুণকথন উপন্যাসিকায় ছড়িয়ে দিয়েছেন ওই মর্মবিদীর্ণ মানবিক অনুভূতিমালা।
মামুন হুসাইন ৪ মার্চ ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন কুষ্টিয়া জেলা শহরের কমলাপুরে। শৈশব-কৈশোর কেটেছে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায়। পড়ালেখা করেছেন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে। ১৯৭৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে আইএসসি পাস করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এমবিবিএস করেন ১৯৮৫ সালে। এরপর বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন-এর অধীনে ডাক্তার হিসেবে সরকারি চাকুরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। মামুন হুসাইনের সাহিত্যে হাতেখড়ি আশির দশকে হলেও প্রাথমিক অবস্থায় তিনি সাহিত্যের ছোটকাগজগুলোতেই লিখতেন। বেশ পরে ১৯৯৫ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘শান্ত সন্ত্রাসের চাঁদমারি’ প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি প্রকাশের আগেই তিনি বাংলাদেশের গল্পধারায় সিরিয়াসধর্মী গল্পকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য মামুন হুসাইন ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
বইটি উত্তাল জুলাইয়ের দিনগুলোতে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আন্দোলনে পুলিশের কার্যক্রমের পাশাপাশি এর বাইরেও তাদের সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদ ও বন্দিদের প্রতি আচরণের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও আলোচনা পেয়েছি। তবে বর্ণনাভঙ্গি বেশ জটিল লেগেছে। বইয়ের নামটিই অনেকাংশে এর বিষয়বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।