অন্য সব কিছুর মতো মানুষও প্রকৃতিরই অংশ, কিন্তু তারা প্রকৃতির নির্বাচিত জীবনপ্রণালি ছেড়ে সভ্যতা নির্মাণ করেছে। তারা যখন অরণ্যের জীবন ছেড়ে এসেছিল, তখন তাদের সঙ্গে এসেছিল আরও কিছু পশুপাখি-প্রাকৃতিক জীবন ত্যাগ না করেই। কেন এসেছিল?
আচ্ছা, এমন কোনো কৃষকের সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছে, যিনি মনে করেন-তার ফসলে কেবল তারই নয়, অধিকার আছে পশু, পাখি এমনকি ইঁদুরেরও? কিংবা এমন কোনো মানুষের কথা জানেন, যিনি অরণ্যের গভীরে একা বেঁচে ছিলেন অনেকগুলো বছর? বাজারে গিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগলের চোখের ভাষা পড়তে চেয়েছেন কখনো? গভীর কোনো সত্যের সন্ধান করতে গেলে নীরবতার প্রয়োজন হয় কেন? স্পর্শকাতরতা আর সংবেদনশীলতা কি একই ব্যাপার? যিশুর ক্রুশ বহনের মিথ আমাদের কী বার্তা দেয়? বুদ্ধের নির্বাণ মানেই-বা কী? মানুষের অনন্ত অপেক্ষার শেষ কোথায়? সরল পথ কোনটা? কোথায় পাওয়া যায় সরলতা আর বিস্ময়ের সন্ধান? জীবন পূর্ণ হয় কীসে? কোনো কিছু কি নিখুঁত হতে পারে? অপরিশোধ্য ঋণ নিয়েই কি আমাদের চলে যেতে হবে?
এ রকম অজস্র বিষয় নিয়ে ভেবেছেন ‘আমাদের কালের সংবেদী কথাশিল্পী’ আহমাদ মোস্তফা কামাল। গভীর দরদ আর মায়াভরা হৃদয় নিয়ে তাকিয়েছেন জীবন ও জগতের দিকে। বৈঠকি ঢঙে, গল্পচ্ছলে, অনবদ্য প্রাঞ্জল ভাষায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন অচেনা সব চিন্তা ও দর্শনের সঙ্গে। ‘যৎসামান্য’ সেইসব অভিনব চিন্তার সারাৎসার।
আহমাদ মোস্তফা কামালের জন্ম মানিকগঞ্জে। তার বাবার নাম মুহাম্মদ আহমাদুল হক এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা আহমেদ। পাঁচ ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। মানিকগঞ্জের পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি, ১৯৮৮ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯২ সালে স্নাতক, ১৯৯৩ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে এম ফিল এবং ২০১০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পেশাগত জীবনের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।
লেখালেখির শুরু '৯০ দশকের গোড়া থেকেই। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘দ্বিতীয় মানুষ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে, এরপর আরো ছ’টি গল্পগ্রন্থ, ছ’টি উপন্যাস ও চারটি প্রবন্ধগ্রন্থ বেরিয়েছে। তাঁর চতুর্থ গল্পগ্রন্থ ‘ঘরভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য’ ২০০৭ সালে লাভ করেছে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই’ পুরস্কার, দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অন্ধ জাদুকর’ ভূষিত হয়েছে ‘এইচএসবিসি-কালি ও কলম পুরস্কার ২০০৯’-এ, তাঁর তৃতীয় উপন্যাস ‘কান্নাপর্ব’ ২০১২ সালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে লাভ করেছে ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩’।